হোম / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ২) যেভাবে শহীদ হলেন উসমান গনী রাঃ
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ২) যেভাবে শহীদ হলেন উসমান গনী রাঃ

আবূ মুয়াবিয়া লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের লেখাটি পড়ে নিন- যার হাতে প্রতিষ্ঠা পেল শিয়া মতবাদ

আব্দুল্লাহ বিন সাবা তার ইহুদী মতবাদ ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। সে হযরত আলী রাঃ এর নামে চিঠি লিখে বসরা ও কুফার সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। হযরত উসমান রাঃ সম্পর্কে খারাপ ধারণা ও শত্রুতা সৃষ্টি করতে থাকে।
এভাবে এক সময় একটি বড় দল তৈরী করে ফেলে। যাদের নিয়ে মদীনায় চলে আসে। হজ্বের সময় যখন মদীনার বড় বড় সাহাবাগণ এবং আমীর উমারাগণ হজ্বে চলে যান। সেই সময়কে বেছে নেয় হযরত উসমান রাঃ কে হত্যা করার জন্য।

চল্লিশ দিন পর্যন্ত হযরত উসমান রাঃ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন। মসজিদে আসাও বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন কি যে কুপ হযরত উসমান নিজের টাকা দিয়ে ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য ওয়াফক করে দিয়েছিলেন সেই কুপ থেকে পানি পান করারও তাকে সুুযোগ দেয়া হয়নি।

সে সময় মদীনার মুসলমানরা হযরত উসমান রাঃ এর কাছে আবেদন করতে থাকেন যে, আপনি আমাদের অনুমতি দিলে এ সমস্ত বিদ্রোহীদের আমরা সাফ করে ফেলবো। এ নিকৃষ্ট কীট থেকে পবিত্র মদীনাকে হিফাযত করবো।
কিন্তু পরম সহিষ্ণু ও ধৈর্যের পাহাড় উসমান রাঃ বললেনঃ না, এ হয় না। আমি উসমানের জন্য মদীনাতুর রাসূলে মুসলমানদের রক্ত ঝড়বে এ আমি চাই না। যে জমিনে নবীজীর পা মুবারক পড়েছে, সেই জমিন রক্তে লাল হোক এ আমি বরদাশত করতে পারবো না।

শামের গভর্ণর হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ হযরত উসমান রাঃ কে বললেন, যেহেতু আপনি মদীনায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে রাজী নয়, তাহলে আপনি শামে চলে আসুন। এখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ অনূকুল। শান্তি নিরাপত্তা বিরাজ করছে। এখানে চলে আসুন।

হযরত উসমান রাঃ এতে রাজী হলেন না। পরিস্কার জানিয়ে দিলেনঃ আমার প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতি বিজড়িত শহর ছেড়ে দেয়ার কল্পনাও আমি করতে পারি না। আমি মারা গেলেও এ পবিত্র শহর ছাড়বো না। [ইযালাতুল খাফা-২/২৪৩]

কতিপয় মুরুব্বী সাহাবায়ে কেরাম রাঃ যুবকদের হযরত উসমান রাঃ এর বাড়ি পাহাড়ার জন্য নিযুক্ত করেন। সেই সমস্ত যুবকদের মাঝে হযরত আলী রাঃ এর দুই ছেলে হযরত হাসান রাঃ এবং হযরত হুসাইন রাঃ ও ছিলেন। [আলআওয়াছেম মিনালকাওয়াছেম, কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবীকৃত, পৃষ্ঠা-১৪১, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৭/১৮১] বিদ্রোহীরা ঘরের উপরের দিকের দেয়াল ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। ৮২ বছরের বয়োবৃদ্ধ খলীফা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যার জামাতা। চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হন। হযরত উসমান রাঃ এর বিবি নায়েলার হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়। আঘাতের পর আঘাত করা হয়।

১৭ বা ১৮ই জিলহজ্জ ৩৫ হিজরী রোজ শুক্রবার সাবায়ী বাহিনীর হাতে চরম নিষ্ঠুরতম পদ্ধতিতে হযরত উসমান রাঃ শহীদ হন। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৭/১৮২, তারীখে তাবারী-৫/১২৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৫৩৬]

হায় আফসোস! আমরা শুধু কারবালার দুঃখজনক ইতিহাসই জানি। শুনেছি কারবালায় তিনদিন পানি বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু হযরত উসমান রাঃ এর যে চল্লিশ দিন পর্যন্ত পানি বন্ধ ছিল তা কি আমাদের জানা আছে? ওয়াজে বয়ানে, লিখনীতে আমাদের এ মর্মান্তিক ঘটনা কি সেভাবে আলোচিত হয় যেভাবে কারবালার ইতিহাস আলোচিত হয়? এ দ্বিমুখী নীতি কেন? তাহলে কি আমরা কারো প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আছি?

পরের লেখাটি পড়ুনহযরত উসমান রাঃ এর শাহাদতের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

উইঘুর মুসলিম নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহ নিশ্চুপ কেন?

রাশেদুল আলম একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আপনার বাড়িতে ঢুকে প্রিয়জনদের …