হোম / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ৩) হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাতের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ৩) হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাতের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি

আবূ মুয়াবিয়া লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের লেখাটি পড়ে নিন- যেভাবে শহীদ হলেন উসমান গনী রাঃ

হযরত উসমান রাঃ এর ইন্তেকালের খবর বিদ্যুৎ গতিতে পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল।
সমস্ত মুসলমানগণ দিল থেকে চাচ্ছিলেন যে, দ্রুত নতুন খলীফা নির্বাচিত হয়ে যাক। যাতে করে বিরূপ পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়। শান্তি ও শৃংখলা ফিরে আসে।

সবচে’ বেশি চিন্তায় পড়ে যায় হযরত উসমান রাঃ এর হত্যাকারীরা। তাদের চিন্তায় আসে যদি খলীফা তাদের মর্জি মুতাবিক না হয়, তাহলে তাদের সকলকে হযরত উসমান রাঃ এর হত্যার কিসাসে হত্যা করা হবে।
আমীরুল মু’মিনীন নির্বাচনে ৩জন বড় সাহাবীর দিকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। একজন হলেন হযরত আলী রাঃ, দ্বিতীয়জন হলেন হযরত যুবায়ের রাঃ, তৃতীয় হলেন হযরত তালহা রাঃ।

কিন্তু তিনজন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করতে অস্বিকৃতি জ্ঞাপন করেন।

হযরত আয়শা রাঃ হজ্বের সফরে মক্কায় অবস্থান করছিলেন। সাহাবাগণের এক বিরাট জামাতও মক্কায় অবস্থান করছিলেন। এরই মাঝে হযরত উসমান রাঃ কে হত্যা করা হয়।

হযরত আয়শা রাঃ হজ্জ শেষ করে মদীনায় ফিরছিলেন তখন পথিমধ্যে হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদাতের সংবাদ পান। তখন তিনি মদীনায় যাবার ইচ্ছা মুলতবী করে মক্কায় থেকে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সাথে হযরত উসমান রাঃ কে হত্যার কিসাস নেবার প্রতিজ্ঞা করেন। [তারীখে তাবারী, উর্দু-৩/২য় পর্ব, পৃষ্ঠা-৪৭]

আব্দুল্লাহ বিন সাবা ও তার অনুগত বাহিনী মদীনার উপর পরিপূর্ণভাবে কব্জা করে রেখেছিল। সে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ভয় দেখিয়ে হযরত আলী রাঃ কে খিলাফতের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করে।

হযরত আলী রাঃ বলেনঃ

لما اراده الناس على البيعة بعد قتل عثمان رضى الله عنه: دعونى والتمسوا غيرى، (الى ان قال) وإن تكرتمونى فأنا كأحدكم، ولعلى اسمعكم وأطوعكم لمن وليتموه أمركم، وأنا لكم وزيرا، خير لكم منى أميرا (نهج البلاغة، رقم الباب-৯২، صفحة-১৩৬، دار الكتاب المصرى، القاهرة)

উসমান (রাঃ) এর হত্যার সময় যখন জনগণ আমিরুল মোমিনের হাতে বায়াত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন তিনি বলেনঃ আমাকে ছাড়ো, অন্য কারো অনুসন্ধান কর।………… যদি তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও তবে আমি তোমাদের একজনের মতই হব। তোমাদের কর্মকা-ের ভার অন্য কাউকে দিলে আমিও তাকে মেনে চলবো এবং তার কথা শ্রবণ করবো। আমি তোমাদের প্রধান হওয়া অপেক্ষা উপদেষ্টা হওয়াকে অধিকতর ভাল মনে করি। [নাহজুল বালাগাহ আরবী-১৩৬, বাংলা অনুবাদ- ১১৪, খুতবা নং-৯১, র‌্যামন পাবলিশার্স ঢাকা]

অবশেষে অপারগ অবস্থায় হযরত আলী রাঃ খিলাফতের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

যখন লোকেরা তার হাতে বাইয়াত হবার জন্য আসতেছিল তখন তিনি তাদেরকে বললেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ সমস্ত সাহাবা রাঃ যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমার ঐশী ঘোষণা এসেছে, তারা আমার হাতে বাইয়াত না হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এ মসনদে আরোহন করবো না।

এ ঘোষণা শুনে বিদ্রোহীরা বদরী সাহাবাগণ রাঃ কে তলোয়ার ধরে ধরে বাইয়াত হতে বাধ্য করে।

মদীনার অবস্থা যখন সাবায়ী বিদ্রোহীদের পুরো কবজায়, তখন হযরত তালহা রা ও যুবায়ের রাঃ পালিয়ে মক্কায় এসে হযরত আয়শা রাঃ কে মদীনার অবস্থা তুলে ধরেন। জানান যে, হযরত আলী রাঃ কে জোরপূর্বক সাবায়ীরা খলীফা নির্বাচন করেছেন। চারিদিকে সাবায়ীদেরই আধিপত্ব। সাবায়ীরা তলোয়ারের জোরে সাহাবাগণকে হযরত আলী রাঃ এর হাতে বাইয়াত হতে বাধ্য করছে। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৭/৫৩৬, হাদীস নং-৩৭৭৭৫]

পরের লেখাটি পড়ুনআয়শা রাঃ ও মুয়াবিয়া রাঃ কেন বাইয়াত হননি?

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

উইঘুর মুসলিম নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহ নিশ্চুপ কেন?

রাশেদুল আলম একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আপনার বাড়িতে ঢুকে প্রিয়জনদের …