প্রচ্ছদ / ইসলামী আইন/শরয়ী শাস্তিবিধান / ইসলামী শরিয়া বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-৬) প্রসঙ্গ নারী সাক্ষী

ইসলামী শরিয়া বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-৬) প্রসঙ্গ নারী সাক্ষী

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন

সাক্ষী না থাকায় অপরাধী মুক্ত?

হাসান মাহমুদ লিখেন:

মনে করুন কোন মা-বোনের চোখের সামনে খুন বা ডাকাতি হল, সেখানে আর কেউ নেই। শারিয়া-আদালতে মামলা গেল, মা-বোন সাক্ষী দিতে গেলেন। কিন্তু শারিয়ায় তাঁদের চাক্ষুষ সাক্ষ্য নেয়া হবে না। কারণ আইনটা হল − “খুনীর অপরাধ প্রমাণের জন্য কমপক্ষে দুইজন পুরুষ সাক্ষীর প্রয়োজন হইবে” ।

একটু পর লেখেন:

রোকেয়া হলে বা শামসুন্নাহার হলে সাতজন মেয়েদের সামনে যদি জ্বেনা হয় তবে অপরাধীরা সবার সামনে অট্টহাসি হাসতে হাসতে পগার পার হয়ে যাবে।

পরের পৃষ্ঠায় এক স্থানে লেখেন:

কল্যাণপুরে মা’কে বেঁধে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের একমাত্র সাক্ষী হল মেয়ের মা, ধর্ষক হল স্থানীয় তিন লোক। এখন এই মামলা যদি শারিয়া কোর্টে ওঠে তবে শারিয়ার আইন অনুযায়ী এক নারীর সাক্ষ্যে ধর্ষকদের শাস্তি দেয়া সম্ভব নয়। গ্রামের নির্জন ধানক্ষেতে ধর্ষিতা অভাগিনীদের একলা সাক্ষ্যেও সম্ভব নয়। এ-ধরনের আরো বহু ঘটনা আমাদের দলিলে আছে। কোনো কোনো দেশে এ-আইন বদলানো হয়েছে, পাকিস্তানে এখনো হয়নি। [শারিয়া কি বলে-২৯]

উত্তর

হাসান মাহমুদ সাহেবের এক অঙ্গে কত রূপ তা বুঝাই মুশকিল। একটু আগে তিনি অহেতুক এবং হাস্যকর সব যুক্তির অবতারণা করে নারীকে ব্যভিচার করা হলে উক্ত লম্পটকে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করার হদ্দকে বাতিল করার জন্য অনেক কসরত করলেন।

সেখানে তার নারী অধিকারের কথা মনে থাকেনি।

কিন্তু এখানে এসে হঠাৎ তিনি নারী বান্ধব হয়ে গেলেন। এটা তার ভণ্ডামী ছাড়া আর কী বলা যায়?

এবার আসুন মূল কথায়।

আসলে প্রশ্ন করার আগে। অভিযোগ উত্থাপন করার আগে আমরা আগেই বলেছি যে, উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে পরিপূর্ণ পড়াশোনা করা উচিত। তারপর মন্তব্য করা উচিত।

ইসলামী শরীয়তে আদালতে দণ্ড প্রদানের দু’টি স্তর রয়েছে। যথা-

১- হুদুদ।

২-তা’জীর।

হুদুদ মানে হল, যেসব অপরাধের শাস্তির কথা কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টভাবে পরিমাণ ও সীমাসহ উল্লেখ করা আছে।

আর তা’জীর হল, যে অপরাধের শাস্তির পরিমাণ ও সীমা কথা স্পষ্ট শব্দে কুরআন বা হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি।

এসব ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত সংশ্লিষ্ট বিচারককে অবস্থার প্রেক্ষিতে তা’জীর করার অধিকার প্রদান করে।

যেহেতু হদ্দ এর মাধ্যমে কাউকে হত্যা, হাত কর্তন, পাথর মেরে হত্যার মত কঠিনসব বিষয়াদী জড়িত।

তাই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ادْرَءُوا الحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ، فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ، فَإِنَّ الإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي العَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي العُقُوبَةِ

আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাধ্যানুযায়ী তোমরা মুসলমানদেরকে দণ্ড প্রদান পরিহার করে চল। কোন প্রকার সুযোগ থাকলে তাকে দণ্ড থেকে পরিত্রাণ দাও। কেননা ইমাম শাস্তি প্রদানে ভুল করার চাইতে মাফ করে দেয়ার ভুল উত্তম। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪২৪, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৮২৯৪]

قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «لَئِنْ أُعَطِّلَ الْحُدُودَ بِالشُّبُهَاتِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُقِيمَهَا بِالشُّبُهَاتِ»

হযরত উমর রাঃ বলেন, সন্দেহের বশে হদ্দ বাতিল করে দেয়া আমার কাছে পছন্দনীয় সন্দেহ সত্বেও হদ্দ কায়েম করার চেয়ে। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৮৪৯৩।

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ مُعَاذًا، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، وعُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، قَالُوا: «إِذَا اشْتَبَهَ عَلَيْكَ الْحَدُّ، فَادْرَأْهُ»

হযরত আমর বিন শুয়াইব, তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত মুয়াজ রাঃ, হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ, হযরত উকবা বিন আমের রাঃ প্রমূখও বলেছেন যে, যখন হ্দ্দ বিষয়ে সন্দেহ হয়, তখন তা পরিহার কর। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৮৪৯৪]

رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الصَّحَابَةِ فِي  «دَرْءِ الْحُدُودِ بِالشُّبُهَاتِ»

হযরত উম রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত ইবনে মাসঊদ রাঃ এবং অন্যান্য সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত যে, সন্দেহ হলে হদ্দ কায়েম করা যাবে না। [সুনানুস সগীল লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৫৮৮]

عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «ادْفَعُوا الْحُدُودَ بِكُلِّ شُبْهَةٍ»

ইমাম যুহরী বলেন, হদ্দকে সকল সন্দেহ থেকে মুক্ত রাখো। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৮৪৯৭]

এখন প্রশ্ন হল, যদি কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠে। কিন্তু তার উপর হদ্দ কায়েমের মত প্রমাণ না থাকে, তাহলে তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে?

এমন কথা কে বলছে?

নারীদের সাক্ষ্যর মাধ্যমে হদ্দ কায়েম করা না গেলেও অপরাধীকে বন্দী করা, বেত্রাঘাত করাসহ অন্যান্য শাস্তি কাযী প্রদান করতে পারে।

সুতরাং এমন বেহুদা “সাতজন মেয়েদের সামনে যদি জ্বেনা হয় তবে অপরাধীরা সবার সামনে অট্টহাসি হাসতে হাসতে পগার পার হয়ে যাবে” বলার মানে কি?

হদ্দ কায়েমের সাক্ষী না থাকায় অপরাধীকে শাস্তি দেয়া সম্ভব নয় এমন ভাবাটাইতো শারিয়া আইন সম্পর্কে চূড়ান্ত জাহালত।

শুধুমাত্র হদ্দ প্রয়োগ না করা গেলেও তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে, তার অপরাধ মার্জনা হয়ে এমন ধারণা করা অজ্ঞতা ছাড়া আর কী?

 

শারিয়া আইনের কারণে নারীরা জেল হাজতে?

হাসান মাহমুদ লেখেন:

শারিয়ার একটা মারাত্মক আইন হল ধর্ষণের সাক্ষী। এ-আইনে অবৈধ সম্পর্ক এবং ধর্ষণ এ-দু’টোকেই প্রমাণ করতে লাগবে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অথবা চারজন বয়স্ক পুরুষ মুসলিমের চাক্ষুষ সাক্ষ্য (পাকিস্তানে শারিয়া আইনের ১৯৭৯-এর অর্ডিন্যান্স নম্বর ৭, ১৯৮০ সালের এর অর্ডিন্যান্স নম্বর ২০ দ্বারা সংশোধিত)। এই আইন নিয়ে বহু সেমিনার, কন্ফারেন্স, বহু নিবন্ধ হয়েছে, এর পাল্লায় পড়ে পাকিস্তানে হাজারো মা-বোন বহু বছর ধরে জেলখানায় বন্দি আছেন কারণ তাঁরা ধর্ষণের চারজন চাক্ষুষ সাক্ষী আদালতে হাজির করাতে পারেননি। মাত্র ২০০৬ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেণ্ট মুশাররফ এক হাজার নারীকে মুক্তি দিয়েছেন (‘ভোরের কাগজ’ ৯ জুলাই ২০০৬)।

এত বছরের জেলের ফলে এই হতভাগিনীদের জীবন ধ্বংস হল, এর জন্য দায়ী এই শারিয়া আইন। [শারিয়া কি বলে-৩০]

উত্তর

ধর্ষিতা তার স্বপক্ষে সাক্ষী পেশ না করতে পারায় সে জেলখানায় যাবে কেন? এটা কোন শারিয়া আইনে আছে? এমন গাঁজাখুরী কথা আপনি কোত্থেকে আবিস্কার করেছেন?

চারজন সাক্ষীর কথা কারো বানানো কথা নয়। হদ্দ তথা ধর্ষককে শরীয়ত নির্ধারিত হদ্দ প্রয়োগ করাতে কমপক্ষে চারজন সাক্ষী লাগবে। এটা কুরআনের কথা।

وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِن نِّسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ ۖ [٤:١٥]

আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। [সূরা নিসা-১৫]

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ [٢٤:٤]

যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।  [সূরা নূর-৪]

সুতরাং ধর্ষণের অভিযোগ করলেই নির্ধারিত সাক্ষী ছাড়া কারো উপর হদ্দ কায়েম করা যাবে না। কারণ, এমন হলে, এ সুযোগ অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করার দোষে রাষ্ট্র দোষী হয়ে যেতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে হদ্দ প্রয়োগ করা না হলেও যদি অন্যান্য আলামাতের মাধ্যমে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়, অপরাধীকে বেত্রাঘাতসহ বন্দী করা হতে পারে। যার অধিকার শারীয়া নিযুক্ত বিচারকের এখতিয়ারে রয়েছে।

নারী পুরুষের সাক্ষ্য সমান?

হাসান মাহমুদ একজনের বক্তব্য নিজের মত হিসেবেই উল্লেখ করে লেখেন:

“সামর্থ্য, ভুলিয়া যাইবার সম্ভাবনা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, সত্যভাষণ বা মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে নারীপুরুষের কোনই ভেদাভেদ নাই। কোরাণে এমন কিছুই নাই যা দিয়া ওইরকম ধরা যাইতে পারে। সুতরাং, নরনারীর সাম্য ছাড়া অন্য কিছু বলিবার কোন যুক্তিই নাই”। [শারিয়া কি বলে-৩০]

উত্তর

পুরুষ ও নারী। আল্লাহ তাআলা আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বতন্ত্র দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। পুরুষের দায়িত্ব বাহিরে। আর নারীদের দায়িত্ব ঘরে।

অন্য শব্দে বললে পররাষ্ট্রনীতি পুরুষের আর স্বররাষ্ট্রনীতি নারীর।

এ কারণে বাহিরে সংঘটিত বিষয়ের সাক্ষ্য প্রমাণে পুরুষকে দায়িত্বশীল এবং ঘরে সংঘটিত বিষয়ের দায়িত্বশীল নারীকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

যেমন নারীঘটিত বিষয়ের নির্ধারণে কেবলমাত্র নারীই একমাত্র সাক্ষী হতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষ সাক্ষী হবার মর্যাদা রাখে না।

হত্যাকাণ্ড বিষয়ে সাক্ষী শুধু পুরুষ হতে পারবে এ সংক্রান্ত আয়াতে কারীমায় এসেছে।

এর কারণ, এ সংক্রান্ত নারীরা সাধারণত ভীতু হবার কারণে তাদের সাক্ষ্য অনুপাতে হদ্দের মত কঠিন বিধান আরোপ করা হয় না। যদিও তা’জীর প্রয়োগ হবে নারীদের সাক্ষ্যর মাধ্যমে।

عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: ” مَضَتِ السُّنَّةُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْخَلِيفَتَيْنِ مِنْ بَعْدِهِ: أَلَّا تَجُوزَ شَهَادَةُ النِّسَاءِ فِي الْحُدُودِ “

ইমাম যুহরী রহঃ বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে নিয়ে কখনোই হদ্দের বিষয়ে নারীর সাক্ষ্য গ্রহণীয় ছিল না। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৮৭১৪]

এছাড়া লেনদেন সংক্রান্ত মাসআলাও যেহেতু পুরুষকেন্দ্রীক। এ কারণে এখানে দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যকে মূল বানানো হয়েছে।

সেই সাথে দুইজন নারীর সাক্ষ্যকে এক পুরুষের সাক্ষ্যের সমান বলা হয়েছে।

وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا ۚ وَلَا تَسْأَمُوا أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰ أَجَلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَىٰ أَلَّا تَرْتَابُوا ۖ [٢:٢٨٢]

দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। [সূরা বাকারা-২৮২]

বিবাহ, তালাক, গোলাম আযাদকরণ এবং ইদ্দত, ওয়াকফ ইত্যাদি বিষয়েও এক পুরুষের সমান দুই নারীর সাক্ষ্য ধরা হয়েছে। কারণ, এসবে লেনদেনসহ অনেক কিছু এতে জড়িত। এ কারণে এতেও দুই নারীর সাক্ষ্যকে এক পুরুষের সাক্ষ্যর সমান ধরা হয়েছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে একজন পুরুষের সমান নারীর সাক্ষ্যর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে:

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ [٢٤:٦]

وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ [٢٤:٧]

وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ [٢٤:٨]

وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ [٢٤:٩]

এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।

এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।

এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী;

এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। [সূরা নূর-৬-৯]

তাহলে দেখা গেল যে, ক্ষেত্রে ও অবস্থাভেদে কোথাও এককভাবে শুধু নারীর সাক্ষ্যই গ্রহণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও নারীর সাক্ষ্যকে পুরুষের সাক্ষ্যের সমান সাব্যস্ত করা হয়েছে। আবার কোথাও নারীর সাক্ষ্যকে পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক সাব্যস্ত করা হচ্ছে।

সুতরাং ঢালাওভাবে নারীকে  সাক্ষ্য দেবার মর্যাদা দেয়া হয়নি বলা অসত্য কথা। স্রষ্টা তার সৃষ্টির হাকীকত ও পরিস্থিতি অনুপাতেই যথার্থ ও কার্যকরী বিধানই আরোপ করেছেন।

পরের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

আরও জানুন

আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন একথার অর্থ কী?

প্রশ্ন Md Samsuddoha Sharif আমার জানার বিষয় হলো ঃ হযরত, আল্লাহ তাআলা শেষ রাতে ১ম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস