প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-২)

ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-২)

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন

অজ্ঞতা নং-৩

কবি হাসান মাহমুদ লেখেন:

“আসলে পরকীয়ার মৃত্যুদণ্ডের বিধান এসেছে ইহুদী-কেতাব ডিউটেরোনমি থেকে”। [শারিয়া কি বলে-২৮]

উত্তর

পরকিয়া তথা বিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি রজম করে মৃত্যুদণ্ডের আইন কোন ইহুদী খৃষ্টান কিতাব থেকে আসেনি। এটি এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

خُذُوا عَنِّي، فَقَدْ جَعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا، الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ، وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ، الثَّيِّبُ جَلْدُ مِائَةٍ، ثُمَّ رَجْمٌ بِالْحِجَارَةِ، وَالْبِكْرُ جَلْدُ مِائَةٍ، ثُمَّ نَفْيُ سَنَةٍ»

তোমরা আমার নিকট থেকে জেনে নাও যে, আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারীদের ব্যাপারে পন্থা বাতলে দিয়েছেন। বিবাহিত পুরুষ বিবাহিত নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করলে এবং অবিবাহিত পুরুষ অবিবাহিতা নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। (সুতরাং শাস্তি হল যে,) বিবাহিতকে একশ’ বেত্রাঘাত করা হবে অতঃপর প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে। আর অবিবাহিতকে একশ’ বেত্রাঘাত করা হবে অতঃপর এক বছরের জন্য দেশান্তর করা হবে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯০]

সুতরাং এ আইনকে বাতিল করার জন্য ইহুদী খৃষ্টান কিতাব থেকে আনা হয়েছে দাবী করাটা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য।

 

অজ্ঞতা নং-৪

কবি হাসান মাহমুদ লিখেন:

“এবারে কোরাণ থেকে শেষ প্রমাণ। সুরা আন-নূর, আয়াত ২৬ ও ৩।

“দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য ও দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য … ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী বা মুশরিকা নারীকেই বিবাহ করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী বা মুশরিক পুরুষই বিবাহ করে।”

অর্থাৎ ব্যভিচারী পুরুষ-নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তাদের লাশের সাথে লাশের বিয়ে দিতে হয়। সেটা সম্ভব নয়। কোরাণ একেবারে নীরব হলেও না হয় কথা ছিল, যে কোন আইন বানাবার সুযোগ ছিল। কিন্তু কোরাণে তো ব্যভিচারীদের বিয়ের কথা বলা আছে”।  [শারিয়া কি বলে আমরা কি করি-২৮]

উত্তর

কবি সাহেব কবিতা রেখে ইসলামী আইন গবেষণার নামে এমন হাস্যরস্যের সৃষ্টি না করলেই পারতেন।

কুরআনের আয়াতে খাবীছাত অর্থ তিনি নিয়েছেন বিবাহিত যিনাকারী। কারণ, একমাত্র বিবাহিত যিনাকারীকেই রজম করে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান আরোপিত হয়েছে। অবিবাহিত যিনাকারীকেতো রজম করা হয় না।

যেহেতু তিনি রজমের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতায় উক্ত খাবিছাত শব্দ সম্বলিত আয়াত দলীল দিচ্ছেন। সুতরাং পরিস্কারই তিনি খাবিছাত অর্থ বিবাহিত যিনাকারী নিয়েছেন।

প্রশ্ন হল, খাবিছাত অর্থ শুধুমাত্র “বিবাহিত যিনাকারী” এমন অর্থ তিনি কোত্থেকে আবিস্কার করেছেন?

আয়াতে মূলত কী আছে?

الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ [٢٤:٢٦]

অপবিত্র নারীগণ অপবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং অপবিত্র পুরুষগণ অপবিত্র নারীদের উপযুক্ত। পবিত্র নারীগণ পবিত্র পুরুষদের উপযুক্ত এবং পবিত্র পুরুষগণ পবিত্র নারীদের উপযুক্ত। [সূরা নূর-২৬]

এখানে অপবিত্র নারী বা পুরুষ বলে অসচ্চরিত্র বুঝান হয়েছে কথা ঠিক। কিন্তু এর দ্বারা শুধুই বিবাহিত যিনাকারীকে খাস করার কোন সুযোগ নেই।

কারণ, অবিবাহিত ব্যক্তি যিনা করলেও সে অপবিত্র।

সুতরাং এ আয়াত দিয়ে বিবাহিত যিনাকারীর রজমের শাস্তির বিধান রহিত করার যৌক্তিকতা দেখানো আহমকী বৈ আর কী?

কারণ, এখানে অবিবাহিত যিনাকারী ও যিনাকারীনী আরেকজন যিনাকারীকে পছন্দ করে এটা ধরাটাই যৌক্তিক।

আর সূরা নূরের ৩ নং আয়াত দ্বারাও যিনাকারী ও যিনাকারীনী বলে বিবাহিত যিনাকারী ও বিবাহিত যিনাকারীনীকে খাস করার সুযোগ নেই। কারণ, এখানে অবিবাহিত যিনাকারীও উদ্দেশ্য।

সুতরাং বিবাহিত যিনাকারীকে যিনার অপরাধে রজম করে হত্যা করা হলে তাকে লাশের সাথে বিয়ে দিতে হবে, নতুন করে কুরআন বিরোধী আইন বানানো হয়েছে দাবী করা আহমকী বৈ আর কী?

বিবাহিত যিনাকারী যদি আরেক বিবাহিতের সাথে যিনা করে। তাহলে উভয়কেইতো যিনার অপরাধে হত্যা করা হবে। তখন লাশের সাথে লাশের বিয়ে দিতে হবে এমন উদ্ভট দাবী করতে পারেন কবি সাহেব।

দুইজনই লাশ হয়ে গেলে বিয়ে হবে কিভাবে?

এর মানে একথা পরিস্কার যে, আয়াতে খাবিছাত ও যিনাকারী বলে অবিবাহিত যিনাকারী ও যিনাকারীনী উদ্দেশ্য।

রজমের শাস্তিযোগ্য অপরাধী অবিবাহিত যিনাকারী উদ্দেশ্য নয়।

সুতরাং কবি সাহেবের মোটা বুদ্ধির যুক্তি অযৌক্তিক হিসেবেই সাব্যস্ত হয়।

আর যদি ধরাও হয় যে, এখানে বিবাহিত যিনকারী উদ্দেশ্য। তাহলে এর উত্তর সামনের ৫ নং অজ্ঞতার চলে আসছে। সেটি হল, শুধুমাত্র যিনা করলেই কিন্তু রজমের শাস্তি প্রয়োগ হয় না। বরং সেটি আদালতে প্রমাণ করতে হয়।

প্রমাণ না হবার কারণে যিনা করার পরও অপরাধী বেচে যেতে পারে।

সুতরাং উক্ত আয়াতদ্বয়ে উক্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।

শুধুমাত্র বিবাহিত যিনাকারী ও যিনাকারীনীকে খাস করার সুযোগ নেই।

অজ্ঞতা নং-৫

কবি হাসান মাহমূদ বিবাহিত যিনাকারীর শাস্তি প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল সাব্যস্ত করতে আরো লেখেন:

“আরও একটা অকাট্য প্রমাণ দেখুন। সারা জীবন এত কষ্ট করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার পর মুসলমানের প্রতি স্বয়ং নবীজীর সর্বশেষ নির্দেশ কত গুরুত্বপূর্ণ ! সেই বিদায় হজ্ব-এর ভাষণে তিনি বলেছেন, “স্ত্রী অশ্লীল কর্মে অর্থাৎ জ্বেনায় লিপ্ত হইলেই কেবল তাহাকে হালকা মারধর করা যাইবে, মারাত্মকভাবে নয়” − বিধিবদ্ধ ইসলামি আইনের ৩য় খণ্ড ৮৫২ পৃষ্ঠা।

না, ব্যাভিচারিণীর মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেননি আল্লাহর রসুল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর নির্দেশ উপেক্ষা করে, কোরাণের নির্দেশ উপেক্ষা করে শারিয়ায় অনেক আইনের মত এ আইনও ঢোকানো হয়েছে”।  [শরিয়া কি বলে-২৮]

উত্তর

কথিত কবি সাহেব বিবাহিত আমরা জানি। তিনি কেন এতোটা মরিয়া হয়ে বিবাহিত যিনাকারীকে রজমের শাস্তি থেকে বাঁচাতে চাচ্ছেন তা আমাদের স্বন্দিগ্ধ করে তুলছে।

আল্লাহ তাআলা ওনাকে যাবতীয় পাপকর্ম থেকে মুক্ত রাখুন।

যাইহোক। কোন বিধান সম্পর্কে আপত্তি তুলতে হলে আসলে উক্ত বিধানের খুঁটিনাটি যাবতীয় বিষয়াদী জানার পরই আপত্তি তোলা জ্ঞানী মানুষের কাজ। আর আপত্তি যদি উক্ত আইনটি বাতিল বলার মত স্পর্শকাতর ও কঠিন বিষয় হয়, তখনতো পড়াশোনার পরিধি আরো বিস্তৃত করেই এমন সঙ্গীন অভিযোগ করা উচিত।

কিন্তু কবি সাহেব নিজেকে বিরাট গবেষক ও পণ্ডিত ভাব ধরলেও আসলে গবেষণার “গ” ও তিনি আয়ত্ব করতে পারেননি।

তিনটি কথা আগে বুঝুন:

ক)

ইসলামী শরীয়তের যেকোন হদ তথা শাস্তি বিধানের সম্পর্ক হল, যখন তা ইসলামী রাষ্ট্রের কাজীর সামনে পেশ হবে তখনি কেবল হদ তথা শাস্তিবিধান প্রয়োগ হবে।

খ)

যতক্ষণ পর্যন্ত তা কাজীর কাছে পেশ করা না হবে ততক্ষণ কোন হদ বা শাস্তি বিধান প্রয়োগ হবে না।

কারণ, রাষ্ট্র নির্ধারিত বিচারক ছাড়া কারো জন্য হদ বা ইসলামী দণ্ডবিধি প্রয়োগের অধিকার নেই।

গ)

শুধুমাত্র আদালতে পেশ হলেই হদ বা শাস্তি বিধান প্রয়োগ হয়ে যাবে না। বরং এর জন্য নির্ধারিত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াও শাস্তি বিধান প্রয়োগ হবে না।

সামান্যতম সন্দেহ হলেই উক্ত হদ বাতিল হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি কোন বিষয়ে ইসলামী আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আর প্রমাণ পেশ হয়ে যায়, তাহলে হদ তথা শাস্তি বিধান থেকে বিরত থাকার অধিকার কারো নেই।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ادْفَعُوا الْحُدُودَ مَا وَجَدْتُمْ لَهُ مَدْفَعًا»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হদ্দ প্রতিরোধ করবে, যে যাবত তা প্রতিরোধের কোন অজুহাত পাও। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৫৪৫]

أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَا: «لَيْسَ الْحَدُّ إِلَّا فِي الْكَلِمَةِ الَّتِي لَيْسَ لَهَا مَصْرَفٌ، وَلَيْسَ لَهَا إِلَّا وَجْهٌ وَاحِدٌ»

মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এবং আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ বলেন, হদ্দ তখনি কায়েম করা হবে, যখন এছাড়া একটি সুযোগও আর বাকি না থাকে। [মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১৩৭২৬]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ، خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بِلَادِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর নির্ধারিত হদ্দসমূহের মধ্য থেকে কোন হদ্দ কার্যকর করা, চল্লিশ রাত মহান আল্লাহর কোন জনপদে বৃষ্টিপাত হওয়ার চেয়ে উত্তম। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৫৩৭, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৪৯০৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৩৯৭]

 

এবার বুঝা সহজ যে, কেউ কোন অপরাধ করলেই রাষ্ট্র তাকে তৎক্ষণাৎ হদ্দ জারি করে দিবে না।  বরং সেই অভিযোগ ইসলামী আদালতে পেশ হতে হবে। তারপর এর উপর যথাযোগ্য দলীল প্রমাণ পেশ করা হবে।

সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও হদ্দ কায়েম করা যাবে না।

যখন সব প্রমাণ উপস্থাপিত হয়ে যাবে। তারপরই হদ্দ কায়েম করবে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বিচারক।

বিচার আদালতে না গেলে তার উপর হদ্দ কায়েম হয় না।

সুতরাং বুঝা গেল যে, হাদীসে বর্ণিত যিনাকারী স্ত্রীকে প্রহারের বিষয়টি ততক্ষণ পর্যন্তের জন্য প্রযোজ্য যে, যখন তা আদালত পর্যন্ত না গড়ায়।

তাই এটিকে দিয়ে যিনার হদ্দ জারী না করার দলীল পেশ করা ইসলামের দণ্ডবিধি বিষয়ে অজ্ঞতা ছাড়া আর কী হতে পারে?

যিনার হদ্দ বিষয়ে আমরা কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদীস দেখে নেই:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْىُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ ‏”‏

উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পথ বের করে দিয়েছেন। অবিবাহিত অবিবাহিতার সাথে ব্যভিচার করে একশ বেত্রাঘাত কর এবং এ বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর বিবাহিত বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করেলে একশ বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ (করে হত্যা করবে)। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯০, ইফাবা-৪২৬৭]

عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ جَالِسٌ عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ قَرَأْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا فَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوْ الاِعْتِرَافُ

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্য ধর্ম সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে آيَةُ الرَّجْمِ (ব্যাভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ব্যাভিচারের জন্য) রজম (এর হুকুম বাস্তবায়িত) করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ একথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাচ্ছিনা। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এই ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যাভিচারের শাস্তি رجم (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) এর হুকুম বাস্তব বিষয়। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভ প্রকাশ পায়, অথবা (সে নিজে) স্বীকার করে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯১, ইফাবা-৪২৭১]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ أَتَى رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَنَادَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي زَنَيْتُ ‏.‏ فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَتَنَحَّى تِلْقَاءَ وَجْهِهِ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي زَنَيْتُ ‏.‏ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى ثَنَى ذَلِكَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ دَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ أَبِكَ جُنُونٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَهَلْ أَحْصَنْتَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ ‏”‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। তখন তিনি মসজিদের মধ্যে ছিলেন। সে তখন উচ্চস্বরে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ব্যভিচার করেছি। তখন তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে তখন তিনি যে দিকে চেহারা ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন সে দিকে গিয়ে তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ব্যাভিচার করেছি। তখনও তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এইভাবে সে চারবার পর্যন্ত স্বীকারোক্তি করল!

সে যখন চারবার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকালেন এবং বললেন, তোমার মাথায় কি পাগলামী আছে? সে বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯১, ইফাবা-৪২৭৩, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২৭০]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ ‏”‏ أَحَقٌّ مَا بَلَغَنِي عَنْكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي قَالَ ‏”‏ بَلَغَنِي أَنَّكَ وَقَعْتَ بِجَارِيَةِ آلِ فُلاَنٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ ‏.‏ ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ পৌছেছে তা কি সত্য? তিনি বললেনঃ আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কি সংবাদ পৌছেছে? তখন তিনি বললেন, আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি অমূক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যাভিচার করেছ। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন (অর্থাৎ স্বীকারোক্তি করলেন)। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি আদেশ জারি করলেন এবং তাঁকে তখন পাথর মারা হল। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯৩, ইফাবা-৪২৭৮]

عِمْرَانَ، بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ جُهَيْنَةَ أَتَتْ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَى فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ فَدَعَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِيَّهَا فَقَالَ ‏”‏ أَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ فَائْتِنِي بِهَا ‏”‏ ‏.‏ فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ تُصَلِّي عَلَيْهَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَقَدْ زَنَتْ فَقَالَ ‏”‏ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ تَوْبَةً أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ تَعَالَى ‏”‏

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করল। সে বলল, হে আল্লাহর নাবী! আমি ‘হদ্দ’ (শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি) এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, তাকে ভালভাবে সংরক্ষণ করে রেখো। পরে সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো।

এরপর আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি (শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হল। এরপর তিনি তার ব্যাপারে (শাস্তি কার্যকর করার) আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হল। পরে তিনি তার উপর (সালাত) আদায় করলেন। তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নাবী! আপনি তার (জানাযার) সালাত আদায় করলেন অথচ সে তো ব্যাভিচার করেছে! তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তাওবা করেছে, যদি তা মদিনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবাকারী কখনও দেখেছো। সেতো নিজের জীবন আল্লাহর ওয়াস্তে প্রদান করেছে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯৬, ইফাবা-৪২৮৪]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، الْجُهَنِيِّ أَنَّهُمَا قَالاَ إِنَّ رَجُلاً مِنَ الأَعْرَابِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ لِي بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ الْخَصْمُ الآخَرُ وَهُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ نَعَمْ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ قُلْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ وَإِنِّي أُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَوَلِيدَةٍ فَسَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْوَلِيدَةُ وَالْغَنَمُ رَدٌّ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ إِلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَتْ ‏.‏

আবূ হুরায়রা এবং যায়িদ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, এক পল্লীবাসী (বেদুঈন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি অমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর এক ব্যক্তি যে তার চেযে অধিক বুদ্ধিমান ছিল বলল, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, এবং (এর আগে) আমাকে (কথা বলার) অনুমতি প্রদান করুন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বলো। লোকটি বললো, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে কর্মচারী ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ) এর শাস্তি আরোপিত হবে। সুতরাং আমি একশ, ছাগল ও একটি দাসী তার বিনিময় প্রদান করলাম। এরপর আমি এ ব্যাপারে আলেমগণের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তারা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ) এর হুকুম কার্যকর হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ, সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিষ্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনাইস (রাঃ) (একজন সাহাবা) তুমি আগামীকাল প্রত্যুষে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে (এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবে।) যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) করবে।

রাবী বলেনঃ পরদিন প্রত্যুষে তিনি মহিলার কাছে গেলেন (এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন।) সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার প্রতি শরীয়তের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯৭, ইফাবা-৪২৮৬]

عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِيَهُودِيٍّ وَيَهُودِيَّةٍ قَدْ زَنَيَا فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى جَاءَ يَهُودَ فَقَالَ ‏”‏ مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ عَلَى مَنْ زَنَى ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا وَنُحَمِّلُهُمَا وَنُخَالِفُ بَيْنَ وُجُوهِهِمَا وَيُطَافُ بِهِمَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ‏”‏ ‏.‏ فَجَاءُوا بِهَا فَقَرَءُوهَا حَتَّى إِذَا مَرُّوا بِآيَةِ الرَّجْمِ وَضَعَ الْفَتَى الَّذِي يَقْرَأُ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ وَقَرَأَ مَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا وَرَاءَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ وَهْوَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُرْهُ فَلْيَرْفَعْ يَدَهُ فَرَفَعَهَا فَإِذَا تَحْتَهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُمَا فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَقِيهَا مِنَ الْحِجَارَةِ بِنَفْسِهِ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একজন ইয়াহুদী পুরুষ এবং একজন ইয়াহুদী মহিলাকে আনা হল, যারা ব্যভিচার করেছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তাওরাত কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি কি পাও? তারা বলল, আমরা উভয়ের মুখমন্ডলে কালি লাগিয়ে দেই এবং উভয়কে বিপরীতমুখী করে উটের উপর আরোহণ করিয়ে পরিভ্রমণ করাই। (এই হল তাওরাত বর্ণিত শাস্তি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তোমরা তাওরাত কিতাব আনয়ন কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। যখন رجم (আলোচনার) এর নিকটবর্তি হল তখন যে যুবকটি পাঠ করছিল সে তার হাত آيَةِ الرَّجْمِ (পাথর নিক্ষেপের আয়াত) এর উপর রেখে দিল। এবং তার সামনের ও পিছনের অংশ পাঠ করলো। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন, বললেন, আপনি তাকে নির্দেশ করুন সে যেন আপন হাত উঠিয়ে ফেলে। সে তার হাত উঠিয়ে নিল। দেখা গেল যে, এর নিচেই آيَةِ الرَّجْمِ (পাখর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে।

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। উভয়কে পাথর মারা হল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন যে, যারা তাদের পাথর মেরেছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, পুরুষটি মহিলাটিকে পাথরের-আঘাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে (অর্থাৎ ভালবাসার আকর্ষণে নিজেই পাথরের আঘাত গ্রহণ করছিল)। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৯৯, ইফাবা-৪২৮৮]

جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ رَجَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ وَرَجُلاً مِنَ الْيَهُودِ وَامْرَأَتَهُ

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের একজন পুরুষ এবং একজন ইয়াহুদী পুরুষ ও তার (যিনাকৃত) নারীর ব্যাপারে (ব্যভিচারের জন্য) পাথর নিক্ষেপ করার শাস্তি কার্যকর করেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭০১, ইফাবা-৪২৯৩]

যেখানে আমরা বিবাহিত যিনাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবার আদেশ নবীজী থেকে পেয়েছি। সেই সাথে নবীজী একাধিক যিনাকারীকে রজম করার নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে বিশুদ্ধ হাদীসে পেয়েছি। সেখানে উক্ত আইনকে নবীজীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বানানো আইন বলা, আল্লাহ ও নবীর নির্দেশনা ব্যতীত শরীয়তে প্রবেশ করানো আইন বলা চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কী?

এসব পাগল গবেষক থেকে আল্লাহ তাআলা উম্মতকে হেফাযত করুন।

৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

আরও জানুন

অহংকার না হলে টাখনুর নিচে জামা ঝুলিয়ে পরিধান করলে কোন সমস্যা আছে?

প্রশ্ন From: Mohammad Alauddin বিষয়ঃ টাখনুর নিচে কাপড় পড়া প্রশ্নঃ আবু যর রা. বলেন, রাসূল-সাল্লাল্লাহু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস