প্রচ্ছদ / পরিবার ও সামাজিকতা / আমেরিকায় ভেঙ্গে পড়ছে বৈবাহিক বন্ধন ব্যবস্থা!

আমেরিকায় ভেঙ্গে পড়ছে বৈবাহিক বন্ধন ব্যবস্থা!

মাহিন মোর্তাজা অনিক

ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ আমরা এ ব্যাপারে কম-বেশি অবগত যে, ইউরোপ-আমেরিকা তথা পশ্চিম-বিশ্বে বিয়ের হার কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বিয়ের সমখ্যা কমেই চলেছে। বিশেষ করে সেসব দেশের যুবকেরা কোনও নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। একইসাথে সারাবিশ্বে, বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বে, দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে বিবাহ-বিচ্ছেদের হার। এমনকি, কিছু সূত্রমতে, আমেরিকার ৫০% বিয়েই শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়ায়। মূলধারার মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমগুলোতে এইসব বিষয়ে গঠনমূলক বিশ্লেষণ দেখা যায় খুব কম। এ ব্যাপারে সাধারণত নারীপক্ষের স্বার্থ ও দৃষ্টিকোণ থেকেই আলোচনা হয়, যেখানে নারীসমাজ, আইনব্যবস্থা ও সিস্টেমকে দায়মুক্ত রেখে পুরুষদের উপরই সব দায় চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ এভাবে কমে যাওয়ার কারণকে পুরুষের স্বার্থ ও দৃষ্টিকোণ থেকে একটু বিশ্লেষণ করা যাকঃ

পশ্চিম বিশ্ব তথা ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, দুইজন ব্যক্তি একে অপরের সহিত বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দিন থেকে বিবাহ-বিচ্ছেদের দিন পর্যন্ত, তাদের মধ্যে অধিক উপার্জনশীল ব্যক্তিটি যেই পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের মালিক হবেন, বিচ্ছেদের পর অপরজন অল্প-উপার্জনশীল বা উপার্জনহীন ব্যক্তিটি সেই অর্থ ও সম্পদের অর্ধেক পাওয়ার অধিকার রাখেন। এখন বলাই বাহুল্য, সিংহভাগ বিয়েতেই স্বামীই হন উপার্জনশীল ব্যক্তি, স্ত্রী সাধারণত উপার্জনের জন্য স্বামীর উপর নির্ভরশীল থাকেন। সুতরাং সাধারণত বিচ্ছেদের পর স্বামীর দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের অর্ধেক অনায়াসেই পেয়ে যান স্ত্রী। স্ত্রীরা চাইলে তাদের আইনত প্রাপ্য এই অর্থ-সম্পদ আদায়ের জন্য স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তথা বাড়ি, গাড়ি, জমিজমা বা বাণিজ্যিক সম্পত্তিও দাবি করতে পারেন। এবং সাধারণত নারীরা বিবাহ-বিচ্ছেদের সময় নগদ অর্থের চেয়ে বরং স্বামীর বাড়ি-গাড়ি নিজের মালিকানাধীন করতেই অধিক আগ্রহী হন, এবং অনায়াসে তা পেয়েও যান। ফলে, বিচার ব্যবস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানেই স্বামী তথা পুরুষদের বাড়ি-গাড়ি কেড়ে নিয়ে তা স্ত্রী তথা নারীদের দিয়ে দেয়া হয়। বিগত কয়েক দশকে পশ্চিম-বিশ্বে, বিশেষত আমেরিকায় নারীদের মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ দ্রুতহারে বেড়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হল এই বিবাহ-বিচ্ছেদ ব্যবস্থা। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারীদের তালিকাগুলোতেও দেখা যায়, বেশিরভাগ নারীই তাদের সম্পদের মালিক হয়েছেন বিবাহ-বিচ্ছেদের মাধ্যমে! অপরদিকে বিবাহ-বিচ্ছেদে নিজের পৈতৃক বাড়ি বা নিজের উপার্জনে ক্রয় করা বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে বহু পুরুষ আশ্রয়হারা হয়ে দিশেহারা জীবন-যাপনে বাধ্য হন।

বিবাহিত জীবনে উপার্জিত অর্ধেক সম্পদ ও অর্থ হারিয়েই শেষ নয়, বিচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে প্রাক্তন স্ত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের খোরপোশ (Alimony) দিতেও আইনগতভাবে বাধ্য হন পুরুষরা। এছাড়াও প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে সন্তান থাকলে সাধারণত সন্তানদেরকে হস্তান্তর করা হয় তাদের মায়ের কাছে, তারপর প্রতি মাসে তাদের বিচ্ছেদ-কৃত বাবার থেকে আদায় করে মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয় বিশাল অঙ্কের Child Support, যা বাচ্চার জন্য সাধারণত প্রয়োজনীয় খরচের তুলনায় অনেকটা বেশিই হয়ে থাকে। আর খোরপোশের পাশাপাশি এই Child Support এর অর্থ যথেচ্ছ ব্যবহার করার পূর্ণ ক্ষমতা পেয়ে যায় বাচ্চার মায়েরা। সেখানে তারা আসলেই বাচ্চার জন্য পুরো অর্থ ব্যবহার করলো কি না বা কতটুকু ব্যবহার করলো – সেটার হিসাব-নিকাশ দেয়ার কোনও আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। উল্টো এই অর্থগুলো দিতে কোনও রকম হেরফের হলেই প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারে প্রাক্তন স্ত্রীরা, যার ফলাফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাক্তন স্বামীকে কারাবন্দি হতে হয়। আর ঐ স্ত্রী-সন্তানদের জন্য বরাদ্দ করা হয় শেল্টার-হোম। এতটা ত্যাগ স্বীকারের পরও বাবা তার সন্তানের সাথে কতক্ষণ দেখা করতে পারবেন বা আদৌ দেখা করতে পারবেন কি না, সেই ক্ষমতা পুরোপুরি থাকে বাচ্চার মায়ের হাতে। তাছাড়া বাচ্চারা মায়ের কাছেই বড় হয় বিধায় মা কর্তৃক বাবার বিরুদ্ধে সন্তানের মনে ছোটবেলা থেকেই বিদ্বেষপূর্ণ মানসিকতা গড়ে তোলার ঘটনাও দৈনন্দিন চিত্র। এরকম একপেশে ডিভোর্স আদায় করাও নারীদের জন্য অত্যন্ত সহজ, একরকম বিনা দায়েই আদায় করা যায় বলা চলে। প্রায় প্রতিটি বিবাহ-বিচ্ছেদ ও তারপরের চিত্র এরকমই হয়। বাবার কাছে সন্তান হস্তান্তর বা উভয়ের Shared Custody-ও হয়, কিন্তু তা ঘটে অনেক কম।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন স্ত্রী সম্পূর্ণ বিনা দায়ে তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তাকে সম্পূর্ণরূপে কোণঠাসা করে অনায়াসে নিজের আখের গুছিয়ে নিতে পারছেন। এমতাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক জীবন কেমন হতে পারে? বাস্তবচিত্রে বর্তমানে পশ্চিম-বিশ্বের বেশিরভাগ পরিবারেই নারীরা রীতিমত ‘শাসক’এর ভূমিকায় থাকেন, দায়িত্বহীন ক্ষমতা ধারণ করেন। সংসারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে স্ত্রীর কথাই শেষ কথা। কোনও ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রীর মত-বিরোধ বা মনোমালিন্যের ক্ষেত্রে স্বামী আপোষ না করলে সাধারণত যা করেন স্ত্রীরাঃ -হুমকি-ধামকি, ইমোশনাল ম্যানিপুলেশন। -স্বামীর উপর অবাধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। কারণ ওসব দেশে পারিবারিক সহিংসতার আইন ও বিচার এবং সামাজিক সমর্থন সবসময় একপেশেভাবে নারীর পক্ষে থাকায় পুরুষেরা নির্যাতিত হলেও বিচার পান না, উল্টো সামাজিক সম্মানহানির শিকার হতে হয়। -স্বামীকে যথাসাধ্য রাগিয়ে দিয়ে বা নিজেই নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে স্বামীকে নারী নির্যাতনের আসামী হিসেবে ফ্রেম করার চেষ্টা। কারণ এই মামলার আসামী বানাতে পারলেই স্বামীর সম্মান, সামাজিক অবস্থান, ক্যারিয়ার – সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া যায়। -বিভিন্নভাবে স্বামীর সম্মানহানির চেষ্টা করা। -স্বামীর সাথে যৌনমিলনে সম্পূর্ণ বিরত হয়ে যাওয়া। -প্রকাশ্যেই পরকীয়া করা। কারণ ওসব দেশে কোনও বিবাহিত ব্যক্তি পরকীয়া করলে তার বৈবাহিক সঙ্গী তার বিরুদ্ধে কোনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন না, পরকীয়া সেখানে সম্পূর্ণ বৈধ। অপরদিকে এরকম পরিস্থিতিতে স্বামীর কিন্তু আইনগত, পারিবারিক বা সামাজিক কোনও আশ্রয়ই নেই। উল্টো আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামান্যতম উগ্র আচরণ করে ফেললেই স্ত্রীর এক ইশারায় নিশ্চিত হাজতবাস। ফলে যা হয়, স্ত্রীরা চাইলেই নিজের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রেখে স্বামীর জীবনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন। বর্তমান যুগে পশ্চিমা সমাজের বেশিরভাগ স্ত্রী সেটাই করেন। সেই সুযোগ পরিপূর্ণরূপে তাদেরকে দিয়ে দিচ্ছে দেশগুলোর আইন-কানুন, বিচারব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা ও নারীবাদিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল। স্বামী তথা পুরুষেরা নীরবে সহ্য করে যান, এটাকেই নিয়ম হিসেবে মেনে নেন। অনেকে আত্মহত্যাও করেন।

আরেকটি কথা, যেটি না বললেই নয়ঃ ধর্মীয়ভাবে বিয়ে নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ ও দায়িত্বপূর্ণ একটি পবিত্র সুন্দর সম্পর্ক। বর্তমানে পশ্চিমা সমাজের সিংহভাগ মানুষের জীবনযাত্রার সাথে ধর্মের দূরত্ব বিশাল, যা স্মরণকালীন অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মত বিয়ের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় মূল্যবোধ একেবারেই হ্রাস পেয়েছে, যার কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি ও স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ, সম্মানবোধ ও গুরুত্ববোধ অনেক কমে গেছে। তাছাড়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তাদের সমাজের বর্তমান প্রজন্ম যেসব ধ্যানধারণা, মূল্যবোধ ও জীবনবোধ ধারণ করছে, তা প্রথাগত বৈবাহিক সম্পর্কের সাথে প্রায়ই সাংঘর্ষিক হচ্ছে। ফলে বিয়ের হার কমে যাচ্ছে ও তালাকের হার বেড়ে যাচ্ছে।

তাহলে দেখাই যাচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের একজন পুরুষ যদি বিয়ে করেন তবে তাকে অনেক কিছুই হারানোর সমূহ ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে, যা তার জীবনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এতটা চড়া মূল্যের বাজি রাখার বিপরীতে একজন পশ্চিমা পুরুষের কী পাওয়ার আছে বৈবাহিক জীবন থেকে? বিবাহিত জীবন ও অবিবাহিত জীবনকে পাশাপাশি রেখে দেখা যাকঃ

বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে মানুষের প্রধানতম প্রাপ্তি হল যৌন চাহিদা পূরণ। পশ্চিমা সমাজে বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই কিশোর-কিশোরীদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক শুরু হয়। পূর্ণবয়স্কদের প্রেমের ক্ষেত্রে বিয়ের দায় ছাড়া লিভ টুগেদার ও নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক অতি সাধারণ ব্যাপার। তাছাড়া চাহিদা অনুযায়ী যৌনকর্মীও সহজেই পাওয়া যায়। আধুনিক Dating Apps ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এগুলো এখন আরও সহজ। কোনও কমিটমেন্ট ছাড়াই, একদিনের খাবারের মূল্যে পছন্দমত একজন সুন্দরী তরুণীকে দিয়ে সেদিনের মত যৌন চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। ইচ্ছামত সঙ্গী পরিবর্তনও করা যাচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন অবিবাহিত পুরুষের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য বিয়ের চেয়ে অনেক সহজতর কিছু পন্থা পশ্চিমা সমাজে সামাজিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সুতরাং বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষেরা যে বিয়ের প্রতি যৌন চাহিদাগত আকর্ষণ অনেক কম অনুভব করেন, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

মানসিক প্রশান্তি ও জীবনযাত্রায় একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী, বিয়ের অন্যতম প্রধান প্রাপ্তি। বিভিন্ন সামাজিক ও নৈতিক প্রভাবকের কারণে পশ্চিমা সমাজের বৈবাহিক জীবনে এই বিশ্বততা আজ তলানিতে ঠেকেছে, যার মধ্যে সামাজিক রক্ষণশীলতার বিলুপ্তি ও ইন্টারনেট-মিডিয়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। পরকীয়া, সহিংসতা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক শীতলতা, ইনসিকিউরিটিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে বেশিরভাগ বিবাহিত নর-নারী। প্রথাগত বৈবাহিক সম্পর্কে পুরুষ ও নারীর যেমন আলাদা ভূমিকা ও আলাদা সম্মান ছিল, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা এক প্রকার লোপ পেয়েছে ও বিশেষত্ব হারিয়েছে। স্ত্রীর থেকে প্রথাগত ‘স্ত্রী’ সুলভ আচরণ প্রত্যাশা করাও আজ পশ্চিমা সমাজে পুরুষদের জন্য নিন্দনীয় বলে গণ্য হয়। স্ত্রীরা চাইলেই নির্ভার দায়-দায়িত্বহীন ও সাংসারিক জবাবদিহিতাহীন জীবনযাপন করতে পারছেন, অপরদিকে স্বামীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার কঠোরতা সামাজিক ও আইনগতভাবে দিন দিন বেড়েই চলেছে। পান থেকে চুন খসলেই স্বামী তথা পুরুষের মুন্ডুপাতের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের যুবকেরা দ্রুতই বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে ও অবিবাহিত থেকে একক ‘স্বাধীন’ জীবন বেছে নিচ্ছে।

বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের বাবা হিসেবে তার পাশে থাকাই পশ্চিমা সমাজের পুরুষদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এমনিতেও বর্তমানে পশ্চিমা যুবক-যুবতীরা সন্তান জন্মদানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। একজন অবিবাহিত পুরুষ চাইলেই ফস্টার হোম থেকে কোনও এতিম শিশূর দায়িত্ব নিতে পারছেন। ‘সারোগেট মাদার’এর মত ব্যবস্থার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। ফলে বিয়ের প্রতি আগ্রহ এসব কারণেও কিছুটা কমছে।

সর্বোপরি বলা যায়, বিয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষদের বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই, যা অবিবাহিত অবস্থায় তারা পেতে পারেন না। বরং, একটু এদিক-সেদিক হলেই হারানোর আছে অনেককিছু। ফলশ্রুতিতে পুরুষেরা বিয়ে করার আগ্রহ দ্রুত হারিয়ে ফেলছে।

আমাদের সমাজের জন্যও পশ্চিমা সমাজ সংক্রান্ত এই সমস্যাটি প্রাসঙ্গিক এই কারণেই যে, আমরা সবকিছুতেই পশ্চিমা সমাজের দ্বারা সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত। পশ্চিমা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও ডিভোর্সের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ও পুরুষদের জন্য বিয়ে করা দিনে দিনে কঠিনতর হচ্ছে। যেসকল প্রভাবকের কারণে পশ্চিমা সমাজে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার বেশিরভাগই আমাদের দেশেও আজ বিদ্যমান। অতএব, সাধু সাবধান!

আরও জানুন

পেনশনের টাকা কি শুধু স্ত্রী পাবে নাকি সকল আত্মীয়রা পাবে?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার একটি প্রশ্ন। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক পেরেশানীতে আছি। কারণ, কয়েকজন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস