প্রচ্ছদ / আহলে হাদীস / লা মাযহাবী বা গায়রে মুকাল্লিদীনঃ এক অঙ্গে কত রূপ! [১ম পর্ব]

লা মাযহাবী বা গায়রে মুকাল্লিদীনঃ এক অঙ্গে কত রূপ! [১ম পর্ব]

 লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

৬ ই জুন ২০১৪ ঈসাব্দ। শুক্রবার। গ্রামের বাড়ি থেকে এলাম মাত্র। মাথাটা ধরে আছে। মাদরাসায় পরীক্ষা পরদিন। অনেক কাজ বাকি। কাজে যখন ব্যস্ত। ঠিক তখনি হাজির ৫ জন দ্বীনী ভাই। দুইজন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী। আর তিন জন গায়রে মুকাল্লিদ।

দ্বীন শিখার নামে ইলম ঝাড়ার মানসিকতা নিয়ে এসেছে বাহাস করতে লা মাযহাবী তিনজন। একজন গুরু। আর দুইজন শিষ্য।

সময় নেই। তবু সময় দিলাম। কিন্তু আফসোস! জাহিল যখন নিজেকে জ্ঞানী মনে করতে থাকে, তখন যা হয় তাই হল। আমার মূল্যবান অনেক সময় নষ্ট করে গেল। কিন্তু আসলে কী পেলাম! ওরা কী নিয়ে গেল তা রহস্যই রয়ে গেল।

পিতৃ পরিচয়হীন অনাথ শিশুর যেমন কোন মৌলিক পরিচয় থাকে না। থাকে না কোন সুনির্দিষ্ট নাম। যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঠাঁই খুঁজে নেয়। যাকে তাকে অভিভাবক বানিয়ে বসে। যাকে তাকে পিতার আসনে বসিয়ে আশ্রয় খুঁজে। তেমনি হয়েছে লা-মাযহাবীদের অবস্থা। কখনো বলে, তারা মুহাম্মদী। কথনো বলে রাসূল সাঃ এর মুকাল্লিদ। কখনো বলে আহলে হাদীস। কখনো বলে শুধু মুসলিম। কখনো বলে আহলে হাদীস আন্দোলন কর্মী। কখনো বলে জমিয়তে আহলে হাদীস আন্দোলন কর্মী। কখনো বলে শুব্বানে আহলে হাদীস। কখনো বলে মানে শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীস। বিপদে পড়ে আবার বলে ইজমা মানি। গ্যাঁড়াকলে পড়লে বলতে থাকে কিয়াস ও মানে। কারো অন্ধ অনুসরণের চিত্র ফুটে উঠলে বলে তাকলীদও মানে। তবে একজনের নয় যখন যাকে ইচ্ছে তাকে মানে। যখন যাকে ইচ্ছে খারাপ যাকে ইচ্ছে গলার মালা বানিয়ে নিবে। নিজের মতাদর্শী যে কাউকে যেকোন সময় ভ্রান্ত বলতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করবে না। একজনকে মেনে মাযহাবীরা শিরক করলেও ওরা যখন তখন যাকে তাকে মানলেও মুশরিক হয় না। এ এক আজব দল!

এ লা-মাযহাবী জামাত ভ্রান্ত হবার সবচে বড় দলীল হল, তাদের কোন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ নেই।

যখনি বলা হবে কুরআন মানেন?

বলবেঃ হ্যাঁ মানি।

যদি বলা হয়, কুরআনের সব আয়াত মানেন?

বলবে সব আয়াত মানা যায় না।

যদি বলা হয় বুখারী মানেন?

বলবে- মানি।

যদি বলা হয়, বুখারীর সব হাদীস মানেন?

বলবে না, কিছু হাদীসে সমস্যা আছে। সব মানি না।

যদি বলা হয়, আপনাদের বড়দের লেখা এমন কোন কিতাব আছে কি যেটিকে আপনারা নির্ভরযোগ্য মনে করেন?

বলবে, না, এমন কোন গ্রন্থ নেই।

যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, এমন কোন হাদীসের কিতাব কি আছে, যার সব বিষয় আপনারা মানেন?

বলবে না, এমন কোন হাদীসের গ্রন্থ নেই।

এরকম শিকড়হীন, ব্যক্তিত্বহীন অভিশপ্ত জামাত পৃথিবী কোনদিন দেখেছে কি না? আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। যে মতাদর্শে কেউ দিক্ষীত হলে সে এমন মিথ্যুক ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায় যে, তার কোন কথাই আর দলীলযোগ্য থাকে না। সে যত গ্রন্থই লিখুক না কেন তার গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য থাকে না।

তাহলে আমরা কেন এ অভিশপ্ত জামাতে শরীক হতে যাবো? যেখানে প্রবেশ করে কোন গ্রন্থ লিখলে আর তা বিশ্বস্ত থাকে না। না গ্রন্থ বিশ্বস্ত থাকে, না ব্যক্তি বিশ্বস্ত থাকে। অথচ বিপরীতে চার মাযহাবে অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যাতে মাযহাবের অনুসারীরা হাজার বছর ধরে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্যতার সার্টিফিকেট দিয়ে আমল করে আসছে।

গায়রে মুকাল্লিদ বা লা-মাযহাবী এক অতি ধুরন্ধর এক শ্রেণীর বিভ্রান্তিকর দলের নাম। এক অঙ্গে তাদের কতরূপ, কত চাল, কত মতবাদ হতে পারে তা ভূক্তভোগী আশা করি সবাই জানেন। ওরা কখনোই এক স্থানে থাকে না। হুট করে একটিকে বিশ্বস্ত, আবার হুট করেই তা অবিশ্বস্ত সাব্যস্ত করতে দ্বিধা করবে না। আমি অনেক গায়রে মুকাল্লিদ তথা লা-মাযহাবী দেখেছি। কিন্তু কাল দেখলাম ওদের আরেক ঝলক। গিরগিটির মত মানুষও যে মুহুর্তে রং বদলাতে পারে তা লা-মাযহাবীদের না দেখলে কেউ বিশ্বাস করার কথা নয়।

গিরগিটির মানুষ্য মুর্তি দেখলাম কাল। কথার ফাঁকে ফাঁকে বুঝতে গেলাম এ ফিরক্বা পুরো দ্বীনকে কতটা খেলনার বস্তু ছেলেখেলা বানিয়ে নিচ্ছে। দ্বীনকে করে তুলছে সন্দিহান।

চলুন দেখি লা-মাযহাবীদের এক অঙ্গে বহুরূপের চিত্র।

পরিচয় পর্ব শেষে জানতে চাইলাম- আপনারা [৩ লা মাযহাবী] কখন থেকে দ্বীন অনুসরণ শুরু করেছেন?

১ম লা মাযহাবী- আমি ২০০৬ থেকে সালাত ইত্যাদি শুরু করি। সেই সাথে ভিডিও দেখে ইন্টারনেট থেকে মাধ্যমে দ্বীন শিখতে শুরু করি। তারপর আস্তে আস্তে বুঝতে পারি আমি ভুলের মাঝে আছি। তাই এখন সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে চেষ্টা করি।

২য় লা-মাযহাবী- আমিও শুরু থেকে নামায পড়তাম। তারপর ২য় লা-মাযহাবীর দাওয়াতে এখন সহীহ হাদীস অনুপাতে আমল করি।

আমি- আচ্ছা! আপনারা আগের আমল পাল্টালেন কেন? কি সমস্যা তাতে?

১ম লা-মাযহাবী [সেই গুরু এই তিনজনের লা-মাযহাবী কাফেলার] আসলে আমি যখন ইন্টারনেটে বিভিন্ন লেখা পড়তে শুরু করি, তারপর বিভিন্ন স্কলারদের ভিডিও দেখতে থাকি, তখন আমার ভুল ভাঙ্গে। আমি বুঝতে থাকি আমি ভুলের উপর আছি। তাই পড়াশোনা করতে শুরু করি। এক মাসআলায় হাদীস দেখি। তারপর দলীলের ভিত্তিতে যে মতটিকে মনে হয় তা শক্তিশালী সেটার ব্যাপারে বর্তমানের বা আগের বড় বড় ব্যক্তিদের মতামত দেখি তারপর সেটির উপর আমল করতে শুরু করি।

আমি- আচ্ছা! তাহলে কী দাঁড়াল? প্রথমে আপনি আপনার নিজের জ্ঞান অনুপাতে মাসআলার দলীল খুঁজেন, তারপর যেটিকে শক্তিশালী মনে হয়, সেটির অনুপাতে বড় কারো বক্তব্য আছে কি না? তা দেখেন তারপর সেটিকে আমল করতে শুরু করেন এইতো?

১ম লা-মাযহাবীঃ না, না, আমি আগে সবার দলীল দেখি। তারপর দেখি কার দলীল কেন শক্তিশালী। অন্যের দলীলটি কেন দুর্বল। তারপর যখন দেখি একজনের দলীল আরেকজন খন্ডন করতে পারছে না, তখন সেটিকে গ্রহণ করে তার স্বপক্ষে বড়দের উক্তি দেখে আমল করি।

আমি- কথাতো তাই দাঁড়াল, যা আমি বললাম। আমি কি বলেছি বলুনতো? আমিতো বললাম, আপনি দলীল তালাশ করেন। মতভেদকারী উভয়ের দলীল দেখেন। তারপর আপনার গবেষণা অনুপাতে যেটিকে হক মনে হয়েছে সেটিকে হক ধরে এক স্বপক্ষে বড় কারো উক্তি খুঁজে সেটির উপর আমল করতে থাকেন। যার পুরো ভিত্তিটাই আপনার চিন্তা ও গবেষণার পরিধির উপর নির্ভরশীল। তাই না?

১ম লা মাযহাবী- না, না, আমিতো দলীল দেখে নেই। তাই আমার গবেষণার পরিধির উপর নির্ভরশীল থাকছে কিভাবে?

আমি- আরে ভাই! আমি কি একথা বলেছি যে, আপনি দলীল দেখেননি? আমি কি বলছি সেটি কেন আপনি শুনছেন না? আমিতো বলছি, আপনি দলীল দেখেন। তারপর সেই দলীলের মাঝে যার দলীল শক্তিশালী মনে হয় সেটি মানেন। আমিতো বলিনি আপনি দলীল দেখেন না।

১ম লা মাযহাবী- হ্যাঁ, এভাবে বলেন, দলীলের ভিত্তিতে। শুধু ধারণা বা গবেষণার পরিধি নয়।

আমি- আমি একবারও কি বলেছি আপনার গবেষণার পরিধি শুধু? দলীলের ভিত্তিতে আপনি প্রধান্য দেন একথা কি বলিনি? অযথা কথা বলে কেন সময় নষ্ট করেন?

আচ্ছা, তাহলে আপনার কথার ফলাফল কী দাঁড়াল? আপনি আপনার ইলমের দৌড় অনুপাতে যেটিকে প্রাধান্য মনে হয়, সেটিকে প্রাধান্য দেন সেই সাথে বর্তমান কোন বড় আলেমের সমর্থন জোড়ে নেন।

১ম লা মাযহাবী- না, না শুধু এমনিতে প্রাধান্য দেই না। দলীল হিসেবে দেই। যেমন আমি আগে মনে করতাম অযু ছাড়া কুরআন ধরা যায়, তারপর যখন দেখলাম এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাঃ একটি চিঠি লিখলেন। যাতে অন্য ভাষায় কুরআন লিখা ছিল। তখন তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন আয়াতাংশ কোন কাফির স্পর্শ না করে, তখন থেকে আমি আমার মতকে পাল্টিয়ে ফেলেছি। এখন বলি অজু ছাড়া কুরআন ধরা যায় না। তাহলে আমি শুধু অনুমানের উপর নির্ভর করে বা আমার ইলমের দৌড়ের উপর নির্ভর করে কোন কিছু বলি নাতো। ভুল হলে শুধরে নেই।

আমি- ভাইরে! আমি আপনাকে বলছি কি? আপনি যা বলছেন এসব দ্বারা দাঁড়াচ্ছে কি? আপনার ইলমের দৌড় অনুপাতে আপনি আগে বলতে অজু ছাড়া কুরআন ধরা যায়, তারপর আপনার ইলমের পরিধি বেড়েছে তারপর বলতে লাগলেন অজু ছাড়া কুরআন ধরা যায় না, তাহলে কি হল?

আপনি প্রথমত যে মত দিয়েছেন তা ছিল আপনার পড়াশোনার পরিধি অনুপাতে। তারপর যখন পড়াশোনার পরিধি বাড়ল তখন প্রথম মতটি পাল্টে দিলেন তাই না?

১ম লা মাযহাবী- হ্যাঁ।

আমি- আমিতো আপনাকে একথাটিই বলতে চাচ্ছি যে, আপনি আপনার পড়াশোনা আর গবেষণা অনুপাতে দলীল দেখে একটিকে প্রাধান্য দেন। কিন্তু আপনি মুখে তা বলে আবার এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন বুঝতি পারছি নাতো? কারণ কি? আপনি যেটা বলছেন, যেভাবে আমল করছেন বলে আপনি নিজেই বলছেন, সেটির খুলাসা বলতে আপনার দ্বিধা হচ্ছে কেন? আর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই স্থানে আসার মানে কি?

এবার ২য় লা-মাযহাবী কথা বলে উঠল। এ লোক পুরো মজলিসে শুধু অযথা কমেন্ট এবং দৃষ্টি ঘুরানো ও অহেতুক আলাপে সময় নষ্ট করার পিছনে ব্যয় করেছে। তার গুরু তথা ১ম লা মাযহাবী যেখানে ধরা খেয়ে যাচ্ছে দেখে সেখানেই সে অন্য প্রসঙ্গ টানার চেষ্টা করে বেড়িয়েছে, কিংবা নিজেই হাল ধরা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে।

২য় লা-মাযহাবিটি বলতে লাগল- আমরাতো কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করে থাকি। তিনি যাচাই বাছাই করে যেটিকে শক্তিশালী দলীল হিসেবে পেয়েছেন সেটিকে মানছেন। আমিও তাই করি।

অনেক রাগ হচ্ছিল আমার। এরা আসলে চায় কি? কথা বুঝে না? নাকি ন্যাকামি করে আমাকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে? এ কোন ফিরক্বা হে? একই কথা বারবার বলছে। আবার আমি যখন বলে দিচ্ছি, তখন সেই কথাই বলছে কিন্তু আবার নতুন করে কথা জোড়ার অপচেষ্টা করছে। বহুকষ্টে মনকে শান্ত করে বললাম- আরে ভাই! আপনাদের কথারতো আমি কোন মাথামুন্ডু বুঝতে পারছি না। আপনারা বারবার একই কথা কেন বলছেন? আপনারা যে কথা বলছেন আমিতো সেই কথারই সারমর্ম বলছি। আপনি দলীলের ভিত্তিতে একটিকে প্রাধান্য দেন। আমিতো একথা অস্বিকার করিনি। কিন্তু সেই প্রাধান্যটা দিয়ে থাকেন আপনার পড়াশোনা অনুপাতে সেটি কেন মানছেন না? অথচ একথাই আপনি বলছেন বারবার। আপনি নিজেই বললেন, অজু ছাড়া কুরআন ধরা জায়েজ মনে করতে দলীলের ভিত্তিতে। তারপর আরেক দলীল পেয়ে পূর্বের কথা ছেড়ে দিয়েছেন। তাহলে কি দাঁড়াল? আপনি দলীল যা পান সে হিসেবে একটিকে প্রাধান্য দেন। তারপর ভিন্ন দলীল পেলে তা বর্জন করেন। সেই হিসেবে কোন মত প্রাধান্য দেয়ার আপনার উসুল হল, আপনার পড়াশোনার পরিধি আর দলীল সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের পরিধি এইতো?

১ম লা-মাযহাবী- না, আমি সব দলীল দেখে তারপর একটিকে দলীল হিসেবে প্রধান্য দেই। অল্প কিছু না।

আমি- সব দলীল দেখতে পারলে আপনি এক সময় একটি তারপর আরেকটি মত কেন পোষণ করছেন?

১ম লা-মাযহাবী- আসলে আমিতো সবার দলীল দেখি ফাতওয়াগুলোতে তাতে সব দলীলই থাকে। তাই সেখান থেকে যেটার ক্ষেত্রে দলীল শক্তিশালী দেখি সেটিকে মানি।

আমি- আপনি যে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছেন সেটির প্রমাণ হল, সহজ কথাকে বারবার ঘুরানোর চেষ্টা করছেন। আর যা বলছেন তাই মানছেন না। নিজেই বলছেন সব দলীল দেখেন, আবার নিজেই আগে বললেন এক সময় একটি মানতেন, তারপর আরেক দলীল দেখে পাল্টে গেলেন। তাহলে সব দলীল দেখলেন কোথায়? আরেকটি বিষয়, আপনিতো মাযহাবের মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে দলীল দেখে দলীল হিসেবে একটি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আপনি হানাফী ফিক্বহের কয়টি কিতাবের নাম জানেন? কয়টি কিতাব থেকে আপনি দলীল যাচাই করেন?

১ম লা-মাযহাবী- আমিতো আরবদের ফাতওয়া দেখি। তাতে সব দলীলই থাকে। সেখান থেকে দেখে, ভিডিও দেখে, ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তারপর প্রাধান্য দেই।

আমি- তাহলে আপনার কোন বক্তব্যকে প্রাধান্য দেয়ার ভিত্তি হল, বর্তমান ফেতনার যুগের অনির্ভযোগ্য আরব শায়েখদের ফাতওয়া, নেটে থাকা অনির্ভযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ভিডিও ইত্যাদি তাই না?

১ম লা-মাযহাবী- কেন? তারাতো দলীল ভিত্তিক কথা বলেন। সেসব যাচাই করে মানি।

আমি বুঝে গেলাম। এ খুব ঘাগু। একে বুঝানো সম্ভব নয়। নিজের কথার ঘুরপাকেই বারবার ঘুরে ঘুরে বিভ্রান্তির জাল ছড়াতে চাচ্ছে। আমি তাই আমার কাছে থাকা বুখারীর একটি আরবী নুসখা তার সামনে পেশ করে বললাম- দেখুনতো এটি কি কিতাব?

১ম লা-মাযহাবী- এসব দেখবো কেন? এসব দেখার দরকার কি?

আমি- আপনি মুজতাহিদদের দলীল যাচাই করে থাকেন। দলীল শক্তিশালী হলে মানেন, নতুবা বাতিল করে দেন। তাহলে আপনাকে দলীল সাব্যস্ত করতে হলে হাদীস দেখতে হয় না। হাদীসে আসলে কি আছে তা জানতে হয় না? তো আপনি বুখারীর প্রথম পৃষ্ঠাটি একটু ইবারত পড়ে অনুবাদ করুনতো।

একথা শুনে একসাথে জ্বলে উঠল উভয় লা-মাযহাবী। বলতে লাগল- এসব দেখতে হবে কেন? আমরা অনুবাদ দেখি।

আমি বললাম ২য় লা মাযহাবীকে- আপনি আরবী পড়তে জানেন?

২য় লা মাযহাবী- পারি। তবে অর্থ জানি না।

১ম লা মাযহাবী বলল- আমিও পারি না।

আমি- আপনি আরবীই পড়তে জানেন না। মানে হল মূল হাদীসে কি আছে তা আপনি জানেনই না, সেখানে মুজতাহিদদের কথাকে যাচাই করে চলেন হাদীসের সহীহ জঈফ ইত্যাদি দেখে এমন উদ্ভট কথাতো জীবনেও শুনিনি।

আপনি কি করে বুঝেন অনুবাদটি সঠিক। অনুবাদতো ভুলও হতে পারে। আচ্ছা আপনি একটু বুখারীর প্রথম পৃষ্ঠাটি অনুবাদ করে শুনানতো। বুঝে নেই আপনি কি অনুবাদ বুঝে মুজতাহিদদের দলীলকে যাচাই করেন।

১ম লা মাযহাবী- দেখুন! আমরা অন্ধ অনুসারী নই। এখন অনুবাদ জানা খুবই সোজা। আমি একাধিক অনুবাদ দেখি। আর একাধিক অনুবাদ দেখে যে কেউ বুঝে যাবে আসল অনুবাদটি কি হবে? তাই ভুল অনুবাদ করে কেউ পাড় পাবে না। একাধিক অনুবাদ দেখে অনুমান করা যায়, এখানে কোন অনুবাদটি সঠিক।

আমি- আচ্ছা। তাহলে আপনি কুরআন ও হাদীস একাধিক অনুবাদ দেখে একটি অনুবাদকে নিজের বুঝ অনুপাতে কিয়াস করে ঠিক করে আমল করে থাকেন। তাহলেতো আপনার মতবাদ কাইয়্যাস তথা কিয়াস নির্ভর হয়ে গেল কুরআন ও হাদীসের দলীল নির্ভর রইল কোথায়? পুরাইতো কিয়াস নির্ভর।

 

২য় পর্ব

আরও জানুন

হাদীস ও আছারে সাহাবার আলোকে ‘ইস্তিস্কা’ বা বৃষ্টি প্রার্থনার পদ্ধতি

মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ ‘ইস্তিসকা’ মানে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। অনাবৃষ্টিকালে বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে একাকী কিংবা সমবেতভাবে আল্লাহ তাআলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস