প্রচ্ছদ / আহলে হাদীস / কথিত আহলে হাদীসদের নতুন ফিরক্বা জামাআতুল মুসলিমীনের নতুন শরীয়ত!

কথিত আহলে হাদীসদের নতুন ফিরক্বা জামাআতুল মুসলিমীনের নতুন শরীয়ত!

লেখক– মুনাজিরে ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর ওকাড়বী রহঃ

অনুবাদঃ লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য কথা যে, ইসলাম একটি বৈশ্বিক বা সার্বজনীন ধর্ম। আর এ দ্বীনের প্রচার প্রসার পূর্ণ দুনিয়াতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের মাধ্যমে বিশেষ করে হানাফীদের মাধ্যমে হয়েছে। রাসূল সাঃ সিন্ধ ও হিন্দের বিজয়ের ভবিষ্যতবানী করেছিলেন। {নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ}
হিন্দকে হানাফীগণ বিজয় করেছে। লাখো কাফের তাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা সবাই সুন্নী হানাফী হয়েছেন। প্রায় এক হাজার বছর যাবত এ উপমহাদেশে ইসলামী রাজত্ব ছিল। আর কুরআন ও হাদীসের উপর ভিত্তিশীল ফিক্বহে হানাফী ছিল এ দেশের বিধি-বিধান। নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান গায়রে মুকাল্লিদ [মৃত্যু ১৩০৭ হিজরী] এ দ্রুব সত্যকে স্বীকার করে লিখেনঃ “ যখন থেকে এখানে ইসলাম আগমণ করেছে সে সময় থেকে হিন্দুস্তানের মুসলমানদের অবস্থার সারমর্ম হল, যেহেতু অধিকাংশ মানুষই বাদশাহের মাযহাবকেই পছন্দ করে থাকে, তাই তারা সে সময় থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত হানাফী মাযহাবের উপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এখনো আছে। আর এ মাযহাবের আলেম, ফাযেলগণই কাজী, মুফতী ও হাকিমের দায়িত্ব পালন করে থাকে। {তরজুমানে ওহাবিয়া-১০}

ইংরেজ শাসন

তারপর এখানে ইংরেজদের শাসন প্রতিষ্ঠা পায়। আর তারা এখানে মাযহাবী স্বাধীনতা তথা গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতের ভিত্তি স্থাপন করে। মাওলানা মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী গায়রে মুকাল্লিদ [মৃত্যু ১৩৩৮ হিজরী] নিজেই বলেন যে, “হে হযরতগণ! মাযহাব বিষয়ে এ স্বাধীনতা আর নিজস্ব মত আর নিজস্ব ইজতিহাদের প্রচলন ইউরোপ থেকে শুরু হয়। আর হিন্দুস্তানের প্রতিটি শহর, প্রতিটি বস্তি, প্রতিটি অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই অধিকাংশ হিন্দুদের হিন্দু, আর মুসলমানদের মুসলমান থাকতে দেয়নি। {ইশাআতুস সুন্নাহ-২৫৫}
এ গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভুপালের বিভাগীয় নেতৃত্ব তাদের উপর ন্যস্ত করা হয়। এ কারণেই নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভুপালী গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেন যে, “ভূপালের মাঝে সর্বদা মাযহাবী স্বাধীনতা [গায়রে মুকাল্লিদিয়্যত] প্রতিষ্ঠিত থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। যার বিশেষ ইচ্ছে ইন্ডিয়ার শাসকদের ছিল। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩}
তারপর তিনি বলেনঃ আমাদের নতুন মাযহাব সমূহ [হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ইত্যাদি] থেকে স্বাধীন মানসিকতার মাযহাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল মূলত ইংরেজদের কানুন মানা। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৫}
এ লোকেরা [গায়রে মুকাল্লিদ] দ্বীনের ব্যাপারে ঐ স্বাধীনতা পায়, যার ঘোষণা ইংরেজ সরকার জারি করেছে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে। যাদের অধিকাংশই হল দরবারের সভাসদ। {তরজুমানে ওহাবিয়া-৩২)
এসব দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত ইউরোপ থেকে এসেছে। আর ইংরেজদের পরিচালিত একটি আন্দোলন। নতুবা আল্লাহ তাআলার পাক কালাম আর রাসূল সাঃ এর ইরশাদের মাঝে কোথাও একথা পাওয়া যায় না যে, ইজতিহাদী মাসায়েলে গায়রে মুজতাহিদকে মুজতাহিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা, বা খারাপ মন্তব্য করাকে হাদীসের উপর আমল বলা হয়।

দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল

এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, হানাফীদের মেহনতে কোটি কাফেররা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত আন্দোলনের প্রথম ফল কি পাওয়া গেল?
মাওলানা মুহাম্মদ হাসান বাটালবী লিখেছেনঃ “পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা দ্বারা আমরা একথা জানতে পারি যে, যারা ইলমহীনতার কারণে মুজতাহিদে মুতলাক এবং মুতলাকানভাবে তাকলীদকে অস্বিকারকারী হয়ে যায়, তারা অবশেষে ইসলামকেই সালাম বলে বসে। তথা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। আর তাদের মাঝে কেউ কেউ হয়ে যায় খৃষ্টান। আর কেউ কেউ ধর্মহীন। যারা কোন দ্বীন বা মাযহাবের অনুসারীই থাকে না। আর শরীয়তের বিধান লঙ্ঘণ করাতো এ স্বাধীনতার প্রথম ফল। কাফের ও মুরতাদ হওয়ার অনেক কারণই দুনিয়াতে বিদ্যমান। তবে দ্বীনদারদেরকে বেদ্বীন হওয়ার জন্য ইলমহীনতার সাথে তাকলীদ ছেড়ে দেয়া বড় একটি কারণ। {ইশাআতুস সুন্নাহ-২/৫৪}
তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াল? আগে কফেররা মুসলমান হতে আসতো, আর এ গায়রে মুকাল্লিদ মতবাদের প্রভাবে মুসলমান কাফের হতে ছুটে চলছে।
দ্বিতীয় ফল কী দাঁড়াল? জনাব মাওলানা আব্দুল আহাদ জানপুরী গজনবী [মৃত্যু ১৩৪৭ হিজরী] গায়রে মুকাল্লিদ সাহেব লিখেনঃ নীচরী ফিরক্বা [যারা মুজেজা ও কারামাত অস্বিকার করে থাকে] কাদিয়ানী ফিরক্বা এবং চাকরালয়ী ফিরক্বা [যারা সুন্নতের অস্বিকারকারী] এ আহলে হাদীস থেকেই বের হয়েছে। {কিতাবুস তাওহীদ ওয়াস সুন্নাহ-১০২}
আর তৃতীয় ফলাফল এটা বের হয় যে, এ ফিরক্বাটি অল্প কয়েক বছরের মাঝে ছোট ছোট কয়েকটি ফিরক্বায় বিভক্ত হয়ে যায়। জনাব মাওলানা আব্দুল ওহাব সাহেব জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস সম্পর্কে বিস্তারিত এই বলেন যে,

১- জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা-১৩১৩ হিজরী।
২- কানফারেন্স আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩২৮ হিজরী।
৩- ফিরক্বায়ে সানায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৮ হিজরী।
৪- আমীরে শরীয়ত সূবা বাহার প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৫- ফিরক্বা হানাফিয়্যাহ আতায়িয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৩৯ হিজরী।
৬- ফিরক্বায়ে শরীফিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা ১৩৪৯ হিজরী।
৭- ফিরক্বায়ে গজনবিয়্যহ প্রতিষ্ঠা ১৩৫৩ হিজরী।
৮- জমীয়তে আহলে হাদীস প্রতিষ্ঠা ১৩৭০ হিজরী।
৯- মুহিউদ্দীন লাখয়ী ফিরক্বা প্রতিষ্ঠা ১৩৭৮ হিজরী। {খুতবায়ে আমারাত-২৬}

জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীস

এ সূচির শুরুতেই জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের নাম রয়েছে। এ ফিরক্বা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কি ছিল?
মাওলানা আতাউল্লাহ হানীফ বুঝানপুরীর ছাত্র প্রফেসর মুহাম্মদ মুবারক সাহেব লিখেনঃ জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের ভিত্তি কেবলমাত্র মুহাদ্দিসীনদের বিরোধীতার উপর রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য শুধু তাই নয়, বরং তাহরীকে মুজাহিদীন তথা সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহঃ এর আন্দোলনের বিরোধিতা করে ইংরেজদের খুশি করাকেও উদ্দেশ্য বানিয়েছিল। {উলামায়ে আহনাফ আওর তাহরীকে মুজাহিদীন-৪৮}
এ ফিরক্বাটির উদ্দেশ্য আশা করি আপনাদের সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে।

মাসউদী ফিরক্বা নামধারী জামাআতুল মুসলিমীন

এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা মাসউস সর্বপ্রথম গুরাবায়ে আহলে হাদীসের সদস্য ছিল। তখন নিজেকে আহলে হাদীস বলতো। সে কোন আলেম ছিল না। উর্দু অনুবাদ পড়ে পড়ে “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী জুতারে কয় আলমারী” টাইপ হয়ে উঠে।
আহলে হাদীস থাকা অবস্থায় সে একটি লিখিত বাহাস “তালাশে হক” নামে জামাআতে আহলে হাদীস করাচি থেকে প্রকাশ করে। দ্বিতীয় রেসালা “আত তাহকীক ফী জাওয়াবিত তাকলীদ” জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের পক্ষ থেকে প্রকাশ করে। এসব কিতাবের মাঝে মুজতাহিদীনদের শরীয়ত বিদ্রোহী আর তাদের মুকাল্লিদদের মুশরিক লিখেছে। সেই সাথে উক্ত গ্রন্থকে পূর্ববর্তীদের সাথে খারাপ ধারণা, এবং ইসলামের বড় আলেমদের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করার ভাগাড় বানায়।
আহলে হাদীস ফিরক্বার নিকট এমন ব্যক্তির খুবই কদর হয়ে থাকে। সে মুর্খ হওয়া সত্বেও তাই দলের মাঝে সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। সে দেখলো যে, জামাআতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের মাঝে প্রধান বা আমীর হওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। তার মনেও আমীর হওয়ার খাহেশ উঁকি ঝুঁকি দিতে লাগলো। কিন্তু তার এ অথর্বতা নিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস দলের আমীর হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না। এ কারণে সে ১৩৮৫ হিজরীতে গুরাবায়ে আহলে হাদীসের একটি অনুগামী দল বানায়। যার নাম দেয় “জামাআতুল মুসলিমীন”। দশ বছর পর্যন্ত এ নতুন ফিরক্বাটি গুরাবায়ে আহলে হাদীসের দেখাশোনায় বাকি থাকে। কিন্তু দশ বছর পর ১৩৯৫ হিজরীতে এসে এটি একটি নতুন স্বতন্ত্র ফিরক্বা হওয়ার ঘোষণা দেয়।

মুসলিম শব্দের নতুন অর্থ

মুসলমানদের মাঝে যে অর্থে “মুসলিম” শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই সাথে কুরআন ও হাদীসে যে অর্থে মুসলিম শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, সে অর্থ ছেড়ে দিয়ে এ ফিরক্বাটির প্রতিষ্ঠাতা মুসলিম শব্দের একটি নুতন অর্থ আবিস্কার করে। সে লিখেঃ “মোটকথা হল, মুসলমান তথা কোন ইমামের তাকলীদ পরিত্যাগকারীরা সর্বদা থাকে। অর্থাৎ “মুসলিমীন” অর্থ হল “গায়রে মুকাল্লিদীন”।
এ মুনফী ফিরক্বার পরিভাষা অনুপাতে সমস্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, মালেকী, হাম্বলীও শাফেয়ীগণ মুসলমানের কাতার থেকে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান আহলে হাদীসরাতো গায়রে মুকাল্লিদ। তারাতো মুসলমান বাকি থাকা উচিত। কিন্তু আফসোস! এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার তাদেরও মুসলমান গণ্য করে না। অথচ এরা গায়রে মুকাল্লিদ। এ কারণে আহলে হাদীস দলটিকে অমুসলিম বলে থাকে, যেহেতু তারা একটি পুস্তিকা লিখেছে, যার নাম হল “ইতাআতে আমীর”। উক্ত পুস্তিকাতে আমীরের অনুসরণ করাকে ফরজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তাদের নিকট আমীর ও ইমাম সমার্থবোধক। আমীর সে নিজেই। আহলে হাদীসরা যদিও গায়রে মুকাল্লিদ। তবু তারা মাসউদ আহমদ সাহেবকে অনুসরণ করা ফরজ মনে করে না। এ কারণে তারা অমুসলিম। এবার মুসলিমের অর্থ স্পষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান রাখে, কোন ইমামের তাকলীদও না করে, কিন্তু মাসউদের ঈমান না রাখে, তার আনুগত্বকে ফরজ মনে না করে, তাহলে সে ব্যক্তি কিছুতেই মুসলিম নয়।
এ অর্থে মুসলিম শব্দ না কুরআনে আছে, না হাদীসে এসেছে, না ইতিহাসের কিতাবে আছে। তাহলে কী দাঁড়াল? জামাআতুল মুসলিমীন এর অর্থ হল, চার ইমাম এর তাকলীদ ছেড়ে দিয়ে মাসউদ আহমদ সাহেবের আনুগত্ব ফরজ যারা মানে, তারা হল মাসউদী ফিরক্বা।
এর দ্বারা একথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যাচার করে থাকে যে, তাদের ফিরক্বার নাম নাকি কুরআনে আছে। যেমনিভাবে কুরআনে বিদ্যমান শব্দ “রাবওয়াহ” দ্বারা কাদিয়ানীদের “রাবওয়াহ” কিছুতেই ্উদ্দেশ্য নয়। কুরআনে কারীমের বিদ্যমান শব্দ “হিযবুল্লাহ” দ্বারা মাসউদ আহমদের নিকট মাসউদুদ্দীন উসমানী ফিরক্বা হিযবুল্লাহ উদ্দেশ্য নয়। তাহলে কুরআনে নাজিলের সাড়ে চৌদ্দশত পরে করাচীতে মাসউদ আহমদের বানানো বিদআতি ফিরক্বা কুরআন হাদীসের বিদ্যমান মুসলিম শব্দের মিসদাক কি করে হতে পারে?

মাসউদী ফিরক্বার দাওয়াত


যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে হাকীম মানে, কিন্তু মাসউদ সাহেবকে হাকীম ও আমীর না মানে সে মুসলিম হতে পারবে না।

যে ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর উপর ঈমান রাখে, কিন্তু মাসউদ আহমদকে আনুগত্ব করা ফরজ ইমাম না মানে, সে মুসলিম নয়।

যে দ্বীনে ইসলাম চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, যে ব্যক্তি এটাকে মানে, কিন্তু মাসউদ আহমদ সাহেব এর লিখিত কিতাবের উপর ঈমান না রাখে, সে মুসলিম নয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাদের নাম মুসলিম রেখেছেন। যাদের সিলসিলা চৌদ্দশত বছর যাবত চলে আসছে, তাদের মুসলিম মানা যাবে না, কেবল তারাই মুসলিম হবে যাদের ১৩৯৫ হিজরীতে মাসউদ আহমদ সাহেব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিপরীত মুসলিম নাম দিয়েছেন।

আহলে ইসলাম তথা মুসলমানরা একথা বলে থাকে যে, আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে মোহাব্বত রাখা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে মোহাব্বতের নিদর্শন। কিন্তু তাদের নিকট মোহাব্বতের ভিত্তি হল মাসউদী ফিরক্বায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার নাম। যে মুসলমান মাসউদী ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত হবে না, তাদের ফিরক্বার লোকেরা না সালাম দেয়, না তাদের সালামের জবাব দেয়।

সমস্ত আহলে ইসলাম আল্লাহ ও রাসূলের পর তাদের আকাবীর তথা বড়দের নিয়ে গর্ব করে থাকে, কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার গর্ব হল তাদের মুর্খ ইমামকে নিয়ে। এ কারণেই রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ শেষ জমানায় মুর্খদের নিজেদের দ্বীনী আমীর বানাবে, যে নিজেও গোমরাহ, আর অন্যদেরও গোমরাহ করবে। {বুখারী}
মোটকথা, মাসউদী ফিরক্বার ঈমান শুধুমাত্র মাসউদ আহমদ এর তোষামোদী করার উপর নির্ভরশীল।

নতুন দ্বীনের নতুন মাসআলা

ইসলামের শুরু লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্বশীল ব্যক্তিকে মুসলিম বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এ নতুন দ্বীনের মাঝে মুসলিম মানে হল, গায়রে মুকাল্লিদ মাসউদ আহমদ সাহেবকে ইমাম হিসেবে আনুগত্ব করা ফরজ মান্যকারীকে বলা হয়।

মুসলিম শব্দটি প্রথমে কাফেরদের বিপরীত শব্দ হিসেবে ব্যবহার হতো। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ [٣:٦٧

ইবরাহীম ইহুদী ছিলেন না, এবং খৃষ্টান ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন হানীফ তথা সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না। {সূরা আলে ইমরান-৬৭}

أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ [٣:٨٠

তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে? {সূরা আলে ইমরান-৮০}
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-

رُّبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ [١٥:٢

কোন সময় কাফেররা আকাঙ্খা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত। {সূরা হিজর-২}
এ কারণে মুসলমানরা সব সময় মুসলিম শব্দটি কুফরীর বিপরীতে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু নতুন এ মাসউদী দ্বীনের মাঝে মুসলিশ শব্দটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী ইত্যাদির বিপরীত ব্যবহার করা হয়। অথচ কুরআন ্ও হাদীস এবং মুসলমানদের মাঝে মুসলিম শব্দটি তাদের বিপরীতে ব্যবহার করা হয়নি।

কুরআনে কারীমে যখন আয়াতে কারীমা يوم تبيض وجوه নাজিল হয়, তখন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেনঃ যার চেহারা কিয়ামতের দিন আলোকিত হবে, তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এ আয়াতের তাফসীর করেছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত করে। {আদ দুররুল মানসূর-২/৬৩}
কিন্তু নতুন মাসউদী ফিরক্বার মতানুসারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত যাদের বলা হয়, তারা গায়রে মুসলিম এবং জাহান্নামী।

ইমাম ইবনে সিরীন [মৃত্যু-১১০ হিজরী] বলেনঃ প্রথম প্রথম হাদীসের সনদ জিজ্ঞেস করা হতো না, যখন ফিতনা হতে লাগল, তখন বলা হতো- রাবীদের নাম বল। যাতে করে আহলে সুন্নতের রাবীদের হাদীস গ্রহণ করা যায়, আর আহলে বেদআতের হাদীসকে পরিত্যাগ করা যায়। {সহীহ মুসলিম-১১}
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, খাইরুল কুরুনের লোকদের আহলে সুন্নত বলা হতো। আর সহীহ হাদীসের রাবীরাও আহলে সুন্নত। আর সুন্নতের বিপরীতমুখী দল হল আহলে বিদআত। মুসলিম নয়। যদি আহলে সুন্নত মুসলিম না হয়, তাহলে সমস্ত সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী গায়রে মুসলিম সাব্যস্ত হয়। তাহলে যেখানে আহলে বিদআতের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে অমুসলিমের বর্ণনা কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

এ নতুন ফিরক্বা যেমনিভাবে মুসলিম শব্দের অর্থ বিকৃত করেছে, ঠিক তেমনি মাযহাবের অর্থও বিকৃত করেছে। মাযহাবের অর্থ হল রাস্তা। যা গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। আমাদের মাযহাব হল হানাফী। যা আমাদের গন্তব্য মুহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত পৌছে দেয়।
আর মাসউদী ফিরক্বার মতে মাযহাব এর সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর ফিরক্বা মানে হল আলাদা হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তি গন্তব্য মুহাম্মদ সাঃ এর রাস্তা থেকে আলাদা হয়ে যায়, সে সুনিশ্চিতভাবে গন্তব্য থেকে হটে যায়।
এ কারণে মাযহাবের মাকসাদ হল গন্তব্য পর্যন্ত পৌছে দেয়া, আর ফিরক্বার মাকসাদ হল, গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাবেতো দূরে থাক, সে গন্তব্যে পৌঁছার মাযহাব তথা রাস্তা থেকেই হটিয়ে দেয়।
আপনি আগের পৃষ্ঠাগুলোতে এ ইতিহাস পড়েছেন যে, প্রথমে আহলে সুন্নত থেকে বেরিয়ে আহলে হাদীস নামে একটি ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বা থেকে বেরিয়ে গুরাবায়ে আহলে হাদীস নামে নতুন ফিরক্বা হয়। তারপর সে ফিরক্বাটি থেকে একটি নতুন ফিরক্বা জন্ম নেয়, যার নাম হল মাসউদী ফিরক্বা। এটি শুধু ফিরক্বা নয়, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা, ফিরক্বা থেকে ফিরক্বা।

হযরত মুয়াজ রাঃ থেকে প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে যে, যখন রাসূল সাঃ জিজ্ঞেস করলেন যে, যদি মাসআলা কুরআন ও হাদীসের কোথাও না পাও, তাহলে কী করবে? তখন হযরত মুয়াজ রাঃ বলেনঃ اجتهد برائى তথা আমি স্বীয় রায় দিয়ে ইজতিহাদ করবো।
এখানে হযরত মুয়াজ রাঃ ইজতিহাদের নিসবত তার নিজের দিকে করেছেন। আর রাসূল সাঃ একে নিষেধ করেননি। এ কারণে আহলে সুন্নতের অনুসারীরা ইজতিহাদের নিসবত মুজতাহিদের দিকে করে হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদি বলে থাকে। আর এ নিসবত কোন প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই মুসলমানদের মাঝে জারী রয়েছে। সেই সাথে এর সঠিকতার উপর ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত্ব স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বার অনুসারীরা ইজমাকে মানতে রাজি নয়। যদিও আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, মুসলমানদের পথ থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তি জাহান্নামী। আর রাসূল সাঃ জামাআত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু মাসউদী ফিরক্বা [বিদআতি ফিরক্বা] ইজমা থেকে বিচ্ছুৎ ব্যক্তিকে জাহান্নামী বলার বদলে মুসলিম বলতে লাগল।
আল্লাহ ও রাসূলের সাথে কি রকম স্পষ্ট বিরোধীতা।

চার ইমামগণের কারামাত

এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা যদিও মুজতাহিদ রহঃ গণকে শরীয়ত বিদ্রোহী বলে আখ্যা দেয়, কিন্তু এক স্থানে তার কলম থেকে সত্য বেরিয়ে এসেছে। তিনি লিখেনঃ এতে কোন সন্দেহ নেই যে, চার ইমাম যে মূলনীতির উপর মাসায়েলের ভিত্তি রেখেছেন সেসব মূলনীতি সুন্নত। কেননা, তারা মাসায়েলকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে সমাধান করেছেন। কুরআন ও হাদীস ছেড়ে দিয়ে অন্য কারো কথাকে দলীল বানাননি। সেই সাথে কুরআন ও হাদীস ছাড়া অন্যদের বক্তব্যকে দলীলও মনে করেননি। তাই তাদের এ পদ্ধতিটি সুনিশ্চিতভাবে সুন্নত ছিল। চারজনই সঠিক পথে ছিলেন। {সারমর্ম তালাশে হক-৮৮}
এ বক্তব্যে চার ইমাম রহঃ এর পদ্ধতিকে সুন্নত সাব্যস্ত করা হয়েছে। চারজনকেই হক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তাদের মাসায়েলকে কুরআন ও হাদীসের মাসায়েল বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারপরও তাদের কেন শরীয়ত বিদ্রোহী বলা হয়?
যখন তারা কুরআন ও হাদীসের আলোকে মাসআলা বলে থাকেন, তাহলে তাদের সেসব মাসাআলায় তাকলীদ করা কোন আয়াত বা হাদীসের আলোকে শিরক?
আসল কথা হল, যেমনিভাবে ইহুদী উলামারা হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার মসনদ নিজেরাই দখল করে নিয়েছিল। তেমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা নিজের কুপ্রবৃত্তিকে উপসনাযোগ্য বানিয়ে যাকে ইচ্ছে হালাল-হারাম বানিয়ে কুফরীকে ইসলাম আর ইসলামকে কুফরী বানিয়ে দেয়া তার বাম হাতে খেল বানিয়ে ফেলে।

শরীয়ত বিকৃতি

কুরআনে কারীম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশেষ গ্রন্থ। যা ভিন্ন ভিন্ন সাত কিরাতে উম্মতকে দেয়া হয়। কারীগণ এ কুরআনকে প্রসারকারী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুরআনের পরিবর্তে নতুন কুরআন আবিস্কারকারী নয়।
এখন যদি কোন মুর্খ এসব কারীদের ক্রুআন প্রণেতা সাব্যস্ত করে, তাহলে এটি তার মুর্খতার চূড়ান্ত চিত্র বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলার কুরআন, কুরআন মাজীদ, মাসহাফে উসমানী তথা উসমান রাঃ এর সংকলিত কুরআন আর কারী আসেম কুফী রহঃ এর কিরাত এ এসব কিছুই একই কিতাবের বিভিন্ন নাম। আলাদা কোন বস্তু নয়। প্রকাশভঙ্গি একাধিক, বস্তু একই।
এমনিভাবে সিহাহ সিত্তা সংকলকগণ হাদীস একত্র করেছেন। এসব হাদীসের ব্যাপারে একথা বলা যে, এসব রাসূল সাঃ এর হাদীস। একথা বলা যেমন ঠিক আছে, সেই সাথে একথা বলাও সহীহ যে, এসব বুখারীর হাদীস, বা তিরমিজীর হাদীস বা আবু দাউদের হাদীস। কেননা, আহলে ইসলামের নিকট মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীসের প্রণেতা নয়, বরং হাদীস প্রচার ও প্রসারকারী। এমনিভাবে এ ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতা চার ইমামগণের মাসায়েলকে কুরআনও হাদীস থেকে গৃহিত স্বীকার করেছেন। তাই কুরআন ও সুন্নাহের মাসায়েলকে মুজতাহিদ ইমামগণের দিকে নিসবত করে এসবকে ফিক্বহে হানাফী বলা ঠিক তেমন, যেমন রাসূল সাঃ এর হাদীসকে নাসায়ীর হাদীস বলা।
বক্তব্য বানানো, আর বক্তব্য প্রচার করার মাঝে আসমান ও জমীনের পার্থক্য। তাই মুজতাহিদ ইমামগণকে শরীয়ত বিকৃতিকারী বলা এমনি মুর্খতা, যেমন মুহাদ্দিসীনে কেরামকে হাদীসের প্রণেতা বলা, বা সাত কারীদের কুরআন প্রণেতা বলা মুর্খতা।
যে ফেরক্বার প্রতিষ্ঠাতার মুর্খতার এ অবস্থা! যে বক্তব্য প্রচার করা আর প্রণয়ন করার পার্থক্যটুকু বুঝে না, তার অনুসারীদের মুর্খতা কিরূপ হবে তা সহজেই অনুমেয়।

নিসবতী নাম

নাম পরিচয় আর পার্থক্য বুঝাতে হয়ে থাকে। নিসবত যত বড় হবে পরিচিতি তত কম হবে, আর নিসবত যত ছোট হবে, পরিচিতি তত বেশি স্পষ্ট হয়।
আপনি হজ্বে গেলেন। সেখানে আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেন! আমি বাংলাদেশী! প্রশ্নকর্তা ব্যক্তি আপনার পরিচিতি বুঝে যাবে। হজ্ব থেকে ফিরার সময়, ঢাকায় আপনাকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোথায় থাকেন? আপনি জবাবে বললেনঃ আমি বাংলাদেশী। তাহলে আপনার উত্তর শোনে প্রশ্নকর্তা হাসবে। কারণ, এখানকার সবাই বাংলাদেশী। এখানে যদি আপনি বলেন, আপনি গাজীপুরের অধিবাসী। তাহলে আপনার পরিচিতি হয়ে যায়।
এখন যদি কোন মুর্খ একথা বলে যে, লোকটি নিজের বাংলাদেশী পরিচয় রেখে নিজেকে গাজীপুরের পরিচয় দিয়েছে। তাই লোকটি আর বাংলাদেশী নয়।
তাহলে আপনি কী বলবেন? নিশ্চয় বলবেন যে, এ মুর্খ লোকটি একথাও বুঝেনি যে, গাজীপুর বাংলাদেশেরই অন্তর্ভূক্ত। গাজীপুরী বলার দ্বারা বাংলাদেশী হওয়াকে অস্বিকার করা নয়। বরং বাংলাদেশী হওয়াকে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে। এবার আপনি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করল, আপনি কোথায় থাকেন? জবাবে আপনি বললেন, বাংলাদেশে, বা গাজীপুরে। তাহলে প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য সফল হয়নি। হ্যাঁ, আপনি যদি আপনার থানা উদাহরণতঃ শ্রীপুর বলেন, তাহলে আপনার শ্রীপুর বলার দ্বারা আপনি গাজীপুরী এবং বাংলাদেশী হওয়ার পরিচয়কে আরো শক্তিশালী করে দিচ্ছে।
ঠিক তেমনিভাবে যখন আলী রাঃ এর ভন্ড অনুসারী রাফেজী কুকুর আমাদের জিজ্ঞেস করবে যে, আমরা কারা? তখন এ বিদআতিকে আমরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলি যে, আমরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত। এখানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়েছি। বরং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বলার দ্বারা আরো শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে যে, আমরা সাচ্চা পাক্কা মুসলমান। তারপর যদি আমাদের কোন হাম্বলী জিজ্ঞেস করেন যে, আপনি কে? তখন যেহেতু তাদের সাথে আমাদের মতভেদ হল ইজতিহাদপূর্ণ মাসআলায় তাই আমরা নিজেদের পরিচয় দিব হানাফী বলে। এ পরিচয় দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমরা আহলে সুন্নত নয়। কিংবা আমরা মুসলমান নয়। বরঞ্চ হানাফী শব্দের মাঝেই আহলে সুন্নত আর মুসলমান শব্দটি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
তাই এ ভ্রান্ত ফিরক্বার প্রতিষ্ঠাতার একথা বলা যে, আমরা মুসলমান নাম ছেড়ে দিয়ে হানাফী নাম ধারণ করেছি, এটা একটি পরিস্কার মিথ্যাচার এবং মুর্খতা।
এটা এমনি মুর্খতা যে, শ্রীনগরের পরিচয় দাতাকে একথা বলা যে, তুমি গাজীপুর আর বাংলাদেশের সাথে বিদ্রোহ ঘোষণা করে শ্রীপুরী হয়ে গেছো!
তাদের এ মুর্খতার বিষয়ে শুধু একথাই বলি যে, আল্লাহ তাআলা যখন কারো থেকে দ্বীন ছিনিয়ে নেন, তখন তার থেকে বুদ্ধি-বিবেকও ছিনিয়ে নেন। আমরা তাদের কাছে বারবার বলেছি যে, একটি আয়াত বা হাদীস পেশ করুন, যাতে সুন্নী বা হানাফী পরিচয় দিলে ব্যক্তি মুসলমানিত্ব থেকে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এর জবাবে তারা এমনভাবে চুপ মেরে যায়, যেমন صم بكم আয়াত যেন তাদের জন্যই নাজিল হয়েছে।

আরও জানুন

হজ্জ ও উমরার আমলঃ ফযীলত ও মর্যাদা

মাওলানা আব্দুল্লাহ ফাহাদ মুমিন বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, তিনি তাকে এমন কিছু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস