হোম / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ৪) হযরত আয়শা রাঃ ও মুয়াবিয়া রাঃ কেন বাইয়াত হননি?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

ইসলামের ইতিহাস পাঠঃ (পর্ব- ৪) হযরত আয়শা রাঃ ও মুয়াবিয়া রাঃ কেন বাইয়াত হননি?

আবূ মুয়াবিয়া লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের লেখাটি পড়ে নিন- উসমান রাঃ এর শাহাদতের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি

অধিকাংশ সাহাবাগণ রাঃ হযরত আলী রাঃ এর হাতে বাইয়াত হননি। হাজারো সাহাবাগণ, এবং হযরত আয়শা রাঃ এবং হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এবং তাদের অনুসারীগণ কেউ হযরত আলী রাঃ এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেননি।

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহঃ হযরত আলী রাঃ এর খিলাফতের বিষয়ে লিখেছেনঃ

 أنهم ظنوا أن الخلافة لم تنعقد لعلى، فإن أهل الحل والعقد لم يباعوه عن اجتهاد ونصيحة للمسلمين (إزالة الخفا عن خلافة الخلفاء، باب عائشة وطلحة والزبير أخطأوا خطأ اجتهاديا فى خلافة على-4/428)

(হযরত আয়শা রাঃ, হযরত তালহা রাঃ ও হযরত যুবায়ের রাঃ) মনে করতেন যে, হযরত আলী রাঃ এর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ, মদীনার নেতৃস্থানীয় কেউ হযরত আলী রাঃ এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেননি। তাদের ইজতিহাদ এবং মুসলমানদের কল্যাণকামীতার উদ্দেশ্যে। [ইযালাতুল খাফা, আরবী সংস্করণ-৪/৪২৮]

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহঃ লিখেছেনঃ

وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ الْخُلَفَاءَ الثَّلَاثَةَ اتَّفَقَتْ عَلَيْهِمُ الْمُسْلِمُونَ، وَكَانَ السَّيْفُ فِي زَمَانِهِمْ مَسْلُولًا عَلَى الْكُفَّارِ، مَكْفُوفًا عَنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ. وَأَمَّا عَلِيٌّ فَلَمْ يَتَّفِقِ الْمُسْلِمُونَ عَلَى مُبَايَعَتِهِ، بَلْ وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ تِلْكَ الْمُدَّةَ، [وَكَانَ السَّيْفُ فِي تِلْكَ الْمُدَّةِ] مَكْفُوفًا عَنِ الْكُفَّارِ مَسْلُولًا عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ، (منهاج السنة النبوية، زعم الرافضي بأن المنصور ابتدع ذكر الخلفاء الراشدين في خطب الجمعة-4/75

একথা সকলেই জানেন যে, নিশ্চয় প্রথম তিন খলীফার খিলাফতের উপর সকল মুসলমানদের ঐক্যমত্ব ছিল। আর তাদের জমানায় তলোয়ার শুধু কাফেরদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত হয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত হয়নি। কিন্তু হযরত আলী রাঃ এর খিলাফতের বাইয়াতের উপর সকল মুসলমান ঐক্যমত্ব ছিল না। বরং সে সময় ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আর সে সময় তলোয়ার কাফিরদের বিরুদ্ধে বন্ধ ছিল, কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত ছিল। [মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ-৪/৭৫]

সিদ্ধান্ত হয় যে, সরাসরি মদীনা যাওয়া যাবে না। বরং সাবায়ীরা যে এলাকাগুলো থেকে তাদের সদস্য সংগ্রহ করে মদীনায় উসমান রাঃ কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে সেখান থেকেই অভিযান শুরু করতে হবে। অর্থাৎ প্রথমে কুফা ও বসরা অধীনত করতে হবে। কুফা ও বসরায় হযরত তালহা রাঃ এবং হযরত যুবায়ের রাঃ এর অনেক অনুসারী ছিলেন। তাদেরকে সাথে নিয়ে সংগঠিতভাবে সাবায়ীদের উৎখাত করে উসমান রাঃ এর হত্যাকা-ের কিসাস নেয়া হবে। হযরত উসমান রাঃ এর ভক্তগণ এবং যারা সাবায়ীদের মদীনা দখলের কারণে অসন্তুষ্ট ছিলেন এমন এক বাহিনীও মক্কায় এসে হযরত আয়শা রাঃ এর সাথে সংযুক্ত হন।

হযরত আয়শা রাঃ সকলকে নিয়ে বসরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। [তারীখে তাবারী, উর্দু,-২/৪৭/৪৮]

হযরত আলী রাঃ যখন খলীফা হয়ে গেলেন। অপরদিকে হযরত আয়শা রাঃ প্রথমে হযরত উসমান রাঃ এর হত্যাকারীদের কিসাস নেবার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। তার সাথে যোগ দেন শামের আমীর হযরত মুয়াবিয়া রাঃ।

এহেন পরিস্থিতিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হযরত উসমান রাঃ এর খুনীরা হযরত আলী রাঃ এর দলে শামিল হয়ে যায়।
বাংলা ভাষায় অনূদিত শিয়াদের একটি বই হল, ‘বেলায়েতের দ্যুতি’। এ বইটার একটি শিরোনামই যথেষ্ঠ মনে করছি এ বিষয়টির সত্যায়নের জন্য। বইটার ৩৪৮ নাম্বার পৃষ্ঠায় শিরোনাম করা হয়েছে ‘হযরত আলীর (আঃ) হাতে বিপ্লবীদের বাইয়াত’। যা পরিস্কার প্রমাণ করে হযরত উসমান রাঃ এর খুনীরা হযরত আলী রাঃ এর দলে শামিল হয়ে যায়।

এখানে একটি কথা পরিস্কারভাবে বুঝে রাখতে হবে যে, হযরত আলী রাঃ অবশ্যই হযরত উসমান রাঃ এর খুনের বদলা নিতে চেয়েছেন। কিন্তু তার সদিচ্ছা ছিল এই যে, প্রথমে এ বিশৃংখল পরিবেশকে শান্ত করতে হবে। এক খলীফার অধীনে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে মজবুত করতে হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে খুনীদের বিচার করা হবে। কিন্তু তিনি চারিদিক থেকে উসমান রাঃ এর খুনীদের ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

এখানে এ বিষয়টিও পরিস্কারভাবে বুঝে রাখতে হবে যে, হযরত আয়শা রাঃ এবং হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এবং তালহা ও যুবায়ের রাঃ প্রমূখগণ হযরত আলী রাঃ এর খলীফা হবার বিরোধী ছিলেন না। তার হাতে বাইয়াত হতেও অস্বিকৃতি জানাননি। বরং অন্যদেরকে তাদের হাতে বাইয়াত হতে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু তাদের দাবী ছিল, প্রথমে হযরত উসমান রাঃ এর হত্যাকারীদের বিচার হবে। খুনীরা বর্তমান খলীফার আশপাশে আরামে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে এটা তারা মেনে নিতে চাননি। [তারীখে তাবারী, উর্দু-৩/১১৩-১১৪]

হযরত আলী রাঃ এর পাঠানো দূতের বক্তব্যের জবাবে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ যে জবাব দিয়েছিলেন, তা পরিস্কারভাবে আলী রাঃ এর বিরোধীতার মূল রহস্য খুলে দেয়ঃ

أرأيتم قتلة صاحبنا؟ ألستم تعلمون أَنَّهُمْ أَصْحَاب صاحبكم؟ فليدفعهم إلينا فلنقتلهم بِهِ، ثُمَّ نحن نجيبكم إِلَى الطاعة والجماعة.

তোমরা কি উসমান রাঃ এর হত্যাকারীদের ব্যাপারে জানো না? তোমরা কি জানো না যে, হযরত উসমানের হত্যাকারীরাই তো তোমাদের খলীফার সঙ্গী। ঐসব খুনীদের আমাদের হাতে সোপর্দ করে দাও, যেন উসমান হত্যার কিসাস স্বরূপ আমরা তাদের হত্যা করতে পারি। তারপর আমরা আমীরের আনুগত্ব করতে এবং জামাতের একতাকে বেছে নেবো। [তারীখে তাবারী, আরবী-৫/৬, উর্দু- ৩/১৯৮]

পরের লেখাটি পড়ুনএকটি ভুল বুঝাবুঝি এবং অবশেষে সন্ধিচুক্তি

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

প্রচলিত মিলাদ কিয়ামের হুকুম কী?

প্রশ্ন From: Md. Siddik বিষয়ঃ Milad/Qiam প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। হুজুর! দাঁড়িয়ে মিলাদ পড়া কি …