প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / নূরের আলোয় সুঁই পাওয়া হাদীসের তাহকীক এবং নূর দাবিদারদের অসাড় বক্তব্য

নূরের আলোয় সুঁই পাওয়া হাদীসের তাহকীক এবং নূর দাবিদারদের অসাড় বক্তব্য

প্রশ্ন

SAIFUR RAFMAN BHUIYAN

Assalamu alikum.
Someone told me hadith that one day hazrat ayesha r was sewing a cloth
and that time her lamp lose its light . So she lost her r sew and try
to find . In that time rasul sm came to room and ayesha r find the sew
with the light which was coming from the body of rasul sm.
Then my friend said this hadith proves that rasul sm made of noor. Plz
explain the hadith.

 

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

এ হাদীসটি যেসব কিতাবে বর্ণিত-

দালায়েলুন নাবাবিয়্যহ- ১/১১৩

তারীখে বাগদাদ ৩/৩১০

জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-৪৩১২২

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩৫৪৯২

ইবনে আসাকীর-৩/২১০

এবার আমরা হাদীসটি সনদের দিকে দৃষ্টি বুলাই

أخبرنا أبو محمد الحسين بن أحمد السمرقندي الحافظ بنيسابور أنا أبو إبراهيم إسماعيل بن عيسى بن عبدالله التاجر السمرقندي بها ثنا أبو الحسن علي بن محمد بن يحيى بن الفضل بن عبدالله الفارسي ثنا أبو الحسن محمد بن علي بن الحسين الجرجاني الحافظ بسمرقند ثنا مسعدة بن بكر الفرغاني بمرو وأنا سألته فأملى علي بعد جهد ثنا محمد بن أحمد بن أبي عون ثنا عمار بن الحسن ثنا سلمة بن الفضل عن محمد بن إسحاق بن يسار عن يزيد بن رومان وصالح بن كيسان عن عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها قالت الخ

উক্ত সনদটিতে মোটা দাগে তিনটি সমস্যা আছে। যথা-

উক্ত সনদের একজন রাবীর নাম মুসআদ বিন বকর আলফারগানী যিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবী আওন থেকে।

এবার দেখুন মুহাদ্দিসীনে কেরাম তার ব্যাপারে কী মন্তব্য করেছেন-

مسعدة بن بكر الفرغانى عن محمد بن أحمد بن أبى عون بخبر كذب

মুসআদ বিন বকর আলফারগানী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবী আওন থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যুক। ১-তানযীহুশ শরীয়াতিল মারফুআ আনিল আহাদীসিশ শানিয়াতিল মাওজুআহ, রাবী নং-৩২৭

২-লিসানুল মিযান, রাবী নং-৮১

৩- মিযানুল ইতিদাল-৪/৯৮, রাবী নং-৮৪৬৪

এ বর্ণনাটির সূত্রে আরেকজন রাবী হলেন- সালামা বিন ফজল।

দেখুন মুহাদ্দিসীনে কেরাম তার সম্পর্কে তার সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন-

ইমাম বুখারী রহঃ তারীখে কাবীরে তার সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন-

2044 – سلمة بن الفضل أبو عبد الله الابرش الرازي الانصاري، سمع محمد بن إسحاق، روى عنه عبد الله بن محمد الجعفي، عندهمناكير، يقال مولاهم، مات بعد التسعين، وهنه علي.

সালামা বিন ফজল আবু আব্দুল্লাহ আলআবরাশ রাজী আলআনসারী মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে হাদীস শুনেছে। তার থেকে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আলজুফী হাদীস বর্ণনা করেছে। তার কাছে অনেক মুনকার হাদীস ছিল। তাকে এগুলোর সর্দার বলা হতো। তিনি মারা গেছেন নব্বই এর দশকের পর। তিনি হযরত আলী রাঃ এর কুৎসা গাইতেন। {তারীখে কাবীর, রাবী নং-২০৪৪}

ইবনে হিব্বান রহঃ বলেনঃ

سلمة بن الفضل الأبرش أبو عبد الله الكندي يروي عن ابن إسحاق روى عنه عمار بن الحسن والناس مات بعد التسعين ومائة يخالف ويخطىء

সালামা বিন ফজল আলআবরাশ আবু আব্দুল্লাহ আল কিন্দী ইবনে ইসহাক থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে আম্মার বিন হাসান অনেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি নব্বই এর দশকে ইন্তেকাল করেন একশত নব্বই হিজরীর পর। তিনি অনেক উল্টো বলেছেন এবং ভুল করেছেন। {আস সিক্বাত লিইবনে হিব্বান-৮/২৮৭}

আলী বিন মাদিনী রহঃ বলেন যে,

ما خرجنا من الري حتى رمينا بحديث سلمة

আমরা রায় শহর থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বেরিয়ে আসিনি যতক্ষণ না আমাদের দিকে সালামার এর হাদীস আসা শুরু করে। {আল জরহু ওয়াত তাদীল লিইবনে আবী হাতেম-৪/১৬৯}

সালামা বিন ফজলের কাছে অনেক মুনকার হাদীস আছে। আর তার মাঝে আছে অনেক সমস্যা। {আজ জুআফাউস সাগীর লিল বুখারী-১/৫৫}

সালামা বিন ফজল হল জঈফ। {আজ জুআফা ওয়াল মাতরুকীন লিননাসায়ী-১/৪৭}

সালামা বিন ফজল এর ব্যারে ইবনে আদী বলেনঃ তাকে ইবনে রাহুয়া জঈফ বলেছেন। আরো বলেছেন যে, তার হাদীসে বেশ কিছু মুনকার বিষয় রয়েছে। {আলমাজরূহীন লিইবনে হিব্বান-১/৩৭৫}

আবু জুরআ থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন রায় অধিবাসী। লোকেরা তার প্রতি আগ্রহী ছিল না তার ভুল সিদ্ধান্ত ও জুলুমের কারণে। আর আবু জুরআ ইংগিত করেছেন যে, তার কথায় মিথ্যা রয়েছে। {তাহযীবুল কামাল-১১/৩০৭}

তৃতীয় আরেক জন রাবী হলেন, আনআনা বিন ইসহাক। তিনি ছিলেন মুদাল্লিস।

উল্লেখিত কারণে উক্ত হাদীসটিকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম জঈফ বলেছেন। বরং বাতিল ও মিথ্যা বানোয়াট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে এ হাদীসের মৌলিকত্বকে অস্বিকার করার জো নেই। কারণ রাসূল সাঃ এর চেহারা চাঁদ সুরুজের চেয়ে সুন্দর ও প্রোজ্জ্বল ছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই। যা বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। যেমন-

وَكَانَ كَثِيرَ شَعْرِ اللِّحْيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَجْهُهُ مِثْلُ السَّيْفِ قَالَ لاَ بَلْ كَانَ مِثْلَ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ

হযরত জাবের বিন সামুরা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ এর দাড়ি ছিল অনেক। আর চেহারা ছিল তরবারীর মত [চমকদার] তিনি বলেন, না, না বরং তার চেহারা ছিল সূর্য ও চাঁদের মত দেদীপ্যমান। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬২৩০, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬২৫৭, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৭৪৫৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০৯৯৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩২৪৬৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-১৪১৯}

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّ الشَّمْسَ تَجْرِي فِي وَجْهِهِ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাঃ এর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি। যেন সূর্য তার চেহারায় ভাসতো। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৪৩, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩৬৪৮, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৩০৯}

অন্য হাদীসে এসেছে যে,

عن أنس قال لما كان اليوم الذي دخل فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم المدينة أضاء منها كل شيء . فلما كان اليوم الذي مات فيه أظلم منها كل شيء .

হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ যখন মদীনায় যেদিন মদীনায় প্রবেশ করলেন তখন মদীনার প্রতিটি বস্তু আলোকিত হয়ে গেল। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন তখন মদীনার প্রতিটি বস্তু আধাঁরিভূত হয়ে গেল।{সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩১, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩৬১৮, সহীহ ইবেন হিব্বান, হাদীস নং-৬৬৩৪, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৩৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩৮৩০, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৭১, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১২৮৯}

উল্লেখিত হাদীসগুলো একথাই প্রমাণ বহন করে যে, রাসূল সাঃ এর চেহারা ছিল চমকদার সুন্দর। দীপ্যমান চাঁদ সূর্যের মত আলোকিত। এতে কোন সন্দেহ নেই। রাসূল সাঃ আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। সবচে’ সুন্দরতম ও উজ্জলতম ব্যক্তিত্ব রাসূল সাঃ। এসব বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু কথা হল এসব হাদীস কি একথা প্রমাণ করছে যে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরী? এসব হাদীসের কোথাও কি একথা আছে যে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরী? তিনি আলোকিত। তিনি নূর ছিলেন। কিন্তু নূরের তৈরী ছিলেন একথা কোথায় বলা হল? নূর হওয়া এক জিনিস আর নূরের তৈরী হওয়া আরেক জিনিস। সামনে এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচনা হবে।

নূর হলেই নূরের তৈরী হওয়া শর্ত নয়

 

আল্লাহ তাআলা নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়

আল্লাহ তাআলা নূর একথা স্পষ্ট ভাষায় পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-

اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ [٢٤:٣٥]

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের নূর তথা জ্যোতি। [সূরা নূর-৩৫]

কুরআন নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়

وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ ۙ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [٧:١٥٧]

এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। [সূরা আরাফ-১৫৭]

 

وَكَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا ۚ مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَٰكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِي بِهِ مَن نَّشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا ۚ وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ [٤٢:٥٢]

এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেশতা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না, কিতাব কি এবং ঈমান কি? কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যাদ্দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন। {সূরা আশশোরা-৫২]

হেদায়াত নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়

الر ۚ كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ [١٤:١

আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে নূরের [আলোর] দিকে বের করে আনেন-পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে। {সূরা ইবরাহীম-১}

চাঁদ নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়

هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا [١٠:]

তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়,আর চন্দ্রকে নূর [স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে]। {সূরা ইউনুস-৫}

যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নূর, কিন্তু নূরের তৈরী নয়। কুরআনে কারীম নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়। হেদায়াত নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়। চাঁদ নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়। ঠিক তেমনি রাসূল সাঃ অবশ্যই নূর কিন্তু নূরের তৈরী নয়।

মাটির তৈরী হয়ে নূর হওয়া প্রশংসা নূরের তৈরী হয়ে নূর হওয়া প্রশংসা নয়

মাটির তৈরী মানুষ চাঁদ সূর্যের মত দীপ্যমান হওয়া প্রশংসা না নূরের তৈরীর দীপ্যমান হওয়া প্রশংসা?

নূরের তৈরী বস্তুতো আলোকিত হবেই। এতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে? এটা প্রশংসার কী আছে? এটাতো স্বাভাবিক ব্যাপার। এটাতো নূরের স্বাভাবিক অবস্থা। কোন বস্তুর স্বাভাবিক অবস্থা কি উক্ত বস্তুর বিশেষ বৈষিষ্ট্য বা উল্লেখযোগ্য হয় না যা উক্ত বস্তু থেকে হওয়া স্বাভাবিক নয় তা প্রকাশিত হওয়া উক্ত বস্তুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়?

বিজ্ঞ পাঠকের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ একটু ভেবে দেখবেন।

রাসূল সাঃ নূরের তৈরী হলে উল্লেখিত হাদীসের কোনটিই আর রাসূল সাঃ এর প্রশংসা বা বিশেষ গুণ হিসেবে আর বাকি থাকে না।  কারণ তখন তা একটি স্বাভাবিক বিষয়। নূরের তৈরী বস্তু আলোকিত হবে, অতিশয় আলোকিত হবে। চাঁদ সূর্যের মত দীপ্যমান হবে এটা প্রশংসা হিসেবে বলার কী হল? এটাতো স্বাভাবিক।

প্রশংসা আর বৈশিষ্টতো তখন হবে, যখন মাটির তৈরী মানুষ থেকে নূরের মত ঝলক বিচ্ছুরিত হওয়া দেখা যায়, চাঁদ সূর্যের মত দীপ্যমান আলো বিকির্ণিত হতে দেখা যায়।

আমরা রাসূল সাঃ কে মাটির তৈরী বিশ্বাস করে রাসূল সাঃ কে নূরের মত প্রোজ্জ্বল আলো বিচ্ছুরণকারী ও আলোকোচ্ছটাময় অবয়বকে রাসূল সাঃ এর বৈশিষ্ট হিসেবে স্বীকার করি।

আর রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরী হিসেবে বিশ্বাস করেন, তারা রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরী বলে রাসূল সাঃ এর বিকির্ণিত নূরের ঝলককে স্বাভাবিকতার স্তরে নামিয়ে আনে। যা সুষ্পষ্টই রাসূল সাঃ এর বৈশিষ্ট্যকে খাটো করার হীন চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, হিরা জহরত ও পাথর খন্ড আবার সাধারণ পাথর ও পাথর। কিন্তু এক পাহাড় সাধারণ পাথর মিলে যেমন একটি হিরা জহরতের সম মর্যাদায় পৌঁছতে পারে না, তেমনি সকল মাটির তৈরী মানুষ রাসূল সাঃ মাটির তৈরী হলেও তার সমমর্যাদায় কখনোই পৌঁছতে পারেনি, কখনো পৌঁছতে পারবেও না।

হযরত হামজা রাঃ এর গুণ হল আসাদুল্লাহি ওয়া আসাদু রাসূলিহি। তথা আল্লাহ ও তার রাসূলের সিংহ।

তেমনি হযরত আলী ছিলেন শেরে খোদা তথা আল্লাহর বাঘ।

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারী।

এসকল ক্ষেত্রে হযরত হামজা মাটির মানুষ হয়ে সিংহ হওয়ার বৈশিষ্ট। মাটির তৈরী মানুষ না হয়ে সিংহ হওয়া বৈশিষ্ট নয় বরং তাকে অপমান করা।

তেমনি হযরত আলীকে মাটির তৈরী মানুষ মেনে বাঘ মানা তার বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মাটির তৈরী মানুষ না মেনে শুধু বাঘ মানা তাকে অপমান করা।

একইভাবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে মাটির তৈরী মানুষ মেনে তাকে আল্লাহর তরবারী মানা তাকে সম্মানিত করা। পক্ষান্তরে তাকে মাটির তৈরী মানুষ না মেনে শুধু তরবারী বলা তাকে অপমান করা।

ঠিক তেমনি রাসূল সাঃ কে মাটির তৈরী মানুষ মেনে নূর বিশ্বাস করা রাসূল সাঃ কে সম্মান ও মর্যাদাবান  করা হয়। মাটির তৈরী মানুষ বিশ্বাস না করে নূরের তৈরী বিশ্বাস করাটা তাঁর [মাটির তৈরী হয়েও বিচ্ছুরিত নূরের অধিকারী হওয়ার] মর্যাদাকে অস্বিকার করা।

আশা করি পাঠকদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

নূর দাবিদার ভাইদের কাছে আমাদের প্রশ্ন ও বিনয়াবনত আবেদন

রাসূল সাঃ নূর একথা কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। একথা যে ব্যক্তি অস্বিকার করবে সে কুরআন ও হাদীস অস্বিকারকারী হিসেবে কাফের। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

কিন্তু রাসূল সাঃ নূরের তৈরী একথার কোন ভিত্তি কি আছে?

যদি থাকে তাহলে হয়তের কুরআনে কারীমের আয়াত দ্বারা দেখান কোথায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরী বলে সম্বোধন করেছেন? একটি আয়াত দেখান। তিনি নূর এ আয়াত নয় [কারণ তিনি যে, নূর একথা কেউ অস্বিকার করে না। যেমন কুরআন, হেদায়াত, চাঁদ ও হেদায়াত নূর একথার কেউ অস্বিকার করে না]। তিনি নূরের তৈরী এ বক্তব্য সম্বলিত একটি আয়াত দেখান।

যদি দেখাতে না পারেন, তাহলে অন্তত একটি সহীহ হাদীস পেশ করুন, যাতে রাসূল সাঃ বলেছেন তিনি নূরের তৈরী।

যদি তাও না পারেন, তাহলে অন্তত একটি হাসান পর্যায়ের হাদীস পেশ করুন যাতে রাসূল সাঃ নিজেকে মাটির তৈরীর বদলে নিজেকে নূরের তৈরী বলে দাবি করেছেন।

যদি তাও না পারেন, তাহলে অন্তত একটি জঈফ হাদীস হাদীসের কিতাবের আরবী উদ্ধৃতি ও মুহাদ্দিসীনদের বক্তব্যসহ দেখান, যাতে রাসূল সাঃ নিজেকে নূরের তৈরী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

যদি কোনটিই না পারেন, তাহলে রাসূল সাঃ এর ইজ্জত ও মহানত্বের প্রমাণবাহী নূর হওয়াকে নূরের তৈরী বলে রাসূল সাঃ এর একটি মহান মর্যাদাকে খাটো করার ঘৃণ্য মানসিকতা থেকে বিরত থাকুন। রাসূল সাঃ এর এতবড় একটি গুণকে শুধুই মিথ্যা কথার ফানুসে উড়িয়ে দিয়ে কোটি রাসূলপ্রেমীদের মনে আর কষ্ট দিবেন না। রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরী বললে তাঁর নূর হওয়া যে আর কোন বৈশিষ্টই বাকি থাকে না। তাই এরকম নবীবিদ্বেষী মনোভাব পরিহার করার উদাত্ব আহবান আপনাদের প্রতি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের রাসূল সাঃ কে ভালবেসে তার হাতে হাউজে কাউসারের পানি পান করার তৌফিক দান করুন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্তর জানতে হলে পড়ুন-

নূরের আলোয় সুঁই পাওয়া হাদীসের তাহকীক এবং নূর দাবিদারদের অসাড় বক্তব্য

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নূরের তৈরী?

রাসূল সাঃ কি আল্লাহর নূরের তৈরী?

রাসূল সাঃ এর নূর ও প্রথম সৃষ্টি বিষয়ক হাদীসের তাহকীক

সূরা মায়িদার ১৫ নং আয়াত দ্বারা কি নবীজী নূরের তৈরী প্রমাণ হয়?

নূর  বিষয়ে আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর উপর মিথ্যা অপবাদের জবাব

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামী ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

আরও জানুন

ব্যাংকের সুদের টাকায় নির্মিত মসজিদে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: mohammad harun বিষয়ঃ mosjid o eid gah nirman posonge প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। যদি …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস