প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / দশে মুহররমে শিয়াদের মর্সিয়া মাতম মুসলিম উম্মাহর আকিদা বিশ্বাসে কি ক্ষতি করছে?

দশে মুহররমে শিয়াদের মর্সিয়া মাতম মুসলিম উম্মাহর আকিদা বিশ্বাসে কি ক্ষতি করছে?

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

শিয়াদের ধোঁকাবাজী

ক’দিন পরেই আসছে দশে মুহররম। পবিত্র আশুরা দিবস। প্রস্তুত শিয়া ধর্মাবলম্বীরা। মঞ্চস্ত করবে ইতিহাসের জঘন্য এক নাটকের। আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজী সাঃ এর প্রাণপ্রিয় দৌহিদ্র আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন হযরত হুসাইন রাঃ এর শাহাদত নিয়ে সাজাবে এক ঘৃণ্যতম নাটক।

হযরত হুসাইন রাঃ এর মর্মান্তিক শাহাদতে প্রতিটি মুসলমানদের হৃদয়ে ঝড় উঠেছে। মনের অজান্তে চোখের কোণে জমা করেছে বেদনাশ্রু। কিন্তু এ বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য করে শিয়া কাফেররা যে নাটক আর অপপ্রচারের ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে তা ইতিহাসে বিরল। এমন চালাকী আর ধুর্ততার সাথে মুসলমানদের মন মস্তিস্ক থেকে এমন কিছু বস্তুকে ঢুকিয়েছে আর এমন কিছু বিষয়কে মনে মগজে প্রবেশ করতেই দেয়নি যা ভাবতে গেলে রীতিমত গা শিউড়ে উঠে।

শিয়া কাফেরদের ঘৃণ্যতার মুখোশ খানিক উন্মোচন করাই আজকে এ প্রবন্ধের মাকসাদ।

১-    কারবালা কারবালা বলে ভুলে গেলাম আশুরার আসল ফযীলত

স্বার্থক কুফফারে শিয়া। স্বার্থক তাদের প্রোপাগান্ডা। মুহররমের দশ তারিখ মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে কারবালার ময়দান। যে ময়দানের সেই চিত্রই আমরা কল্পনা করি যেভাবে কল্পনা করতে শিখিয়েছে আমাদের শিয়াদের লিখিত মিথ্যা ইতিহাস। বিষাদ সিন্ধুর মত জঘন্য মিথ্যাচারে ভরপুর কুফরী কিতাবের মিথ্যার ভাগারকে স্মৃতিপটে এঁকে তুষ্টি লাভ করছি। প্রশান্ত করছি মনকে আশুরা মানেই কারবালা। আশুরা মানেই বিষাদ সিন্ধু বইয়ে চিত্রিত জঘন্য মিথ্যাচার নির্ভর অহেতুক নাটক। যা হযরত হুসাইন রাঃ এর মর্মান্তিক শাহাদতের মূল স্পিরিটকে করে দিচ্ছে ধুলায় ধুসরিত। কলংকিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে নবী দৌহিদ্রের মহান শাহাদতকে। ভুলে গেছি আশুরা মানেই শুধুই কারবালা নয়। এটি একটি মহান দিন। এ দিন শুধু কারবালার ঘটনার কারণে মহান নয়। এটি শুধু নবীজী সাঃ এর দৌহিদ্র জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত হুসাইন রাঃ এর শাহাদাতের কারণে মহানতার মর্যাদা লাভ করেনি।

এ দিন ফযীলতপূর্ণ শুধু কারবালার জন্য নয়। এ মাস ফযীলতপূর্ণ সেই সৃষ্টি লগ্ন থেকেই।

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ [٩:٣٦

নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। {সূরা তওবা-৩৬}

সেই পবিত্র চার মাস কি? যা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা হয়েছে? যে মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেদের উপর অত্যাচার করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে তা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ হয়েছে-

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو القَعْدَةِ، وَذُو الحِجَّةِ، وَالمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ، مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى، وَشَعْبَانَ “

হযরত আবু বাকরা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেন, সেদিন যেভাবে কাল [যমানা] ছিল তা আজও অনুরূপভাবে বিদ্যমান। বারমাসে এক বছর, তন্মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা জিলকদ, জিলহজ্ব ও মুহাররম ও মুযার গোত্রের রজব, যা জামাদিউস সানী এবং শাবান মাসের মধ্যবর্তী। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৬৬২, ৪৩৮৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৭৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৯৪৭}

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস প্রমাণ করছে মুহররম মাস ফযীলতপূর্ণ হয়েছে শুধু কারবালার ঘটনার জন্য নয়। বরং এটি ফযীলতপূর্ণ অনেক আগে থেকেই। বরং কারবালার ঘটনাটির তাৎপর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব আরো বুলন্দ হয়েছে এ মাসে এ ঘটনা সংঘটিত হবার কারণে। যদিও নবীজী সাঃ এর দৌহিদ্র শহীদ হওয়াও অনেক বড় ঘটনা। কিন্তু এর জন্য এ মাসকে উল্লেখযোগ্য মাস বলা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত ঘোষণার সম্পূর্ণ খেলাফ। সেই সাথে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্যকে ছোট করে দেখার নামান্তর।

এ মাসে পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এদিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে রাস্তা বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে পাড় করে দিয়েছেন। আর একই রাস্তা দিয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে ডুবিয়ে মেরেছেন। -সহীহ বুখারী ১/৪৮১}

এদিন রোযা রাখার প্রতি রাসূল সাঃ আকাংখা প্রকাশ করেছেন। এদিন রোযা রাখতে রাসূল সাঃ উৎসাহ প্রদান করেছেন।

صيام يوم عاشوراء أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله

সহীহ মুসলিম-১/৩৬৭, তিরমিজী-১/১৫৮।

আরেক হাদীসে এসেছে

صوموا عاشوراء وخالفوا فيه اليهود، صوموا قبله يوما أو بعده يوما

তথা তোমরা আশুরার দিনের রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য পরিত্যাগ কর। তাই তোমরা আগে বা পরে একদিন রোযা রাখ। {মুসনাদে আহমাদ-১/২৪১}

তাহলে বুঝা গেল আশুরার দিন শুধু কারবালার ঘটনার জন্য তাৎপর্যময় নয়। এটি ইহুদীদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিন তারাও রোযা রাখতো। রাসূল সাঃ তাই ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আগে বা পিছে একদিন রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিন শিয়াদের মর্সিয়া মাতম আর “কারবালা” “কারবালা” বলে চিৎকার আমাদের এ দিবসের আসল তাৎপর্যময়তা ভুলিয়ে দিয়েছে। ভুলিয়ে দিয়েছে এদিন ধৈর্য আর সবরের শিক্ষা গ্রহণ করে রোযা রাখার নববী নির্দেশকে। হা হুতাশ আর মাতম মর্সিয়াকে বানিয়ে দিয়েছে দ্বীন। অথচ রাসূল সাঃ এর নির্দেশ হল এ দিন রোযা রাখা। এদিন জঘন্য কাজকর্ম থেকে মুক্ত থাকা। এ পবিত্র মাসের পবিত্রতা বিনষ্ট না করা।

আফসোস মুসলিম উম্মাহের জন্য। শিয়াদের ফাঁদে পা দিয়ে আমরা এদিনের আসল তাৎপর্য ভুলে গেছি।

২-    হায় হাসান! হায় হুসাইন! বলে ভুলে গেলাম রাসূল সাঃ এর বাকি দৌহিদ্রদের!

শিয়া কুফফারদের আরেকটি সফলতা। আরেকটি ষড়যন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন হল “কারবালা” “কারবালা” হাসান আর হুসাইন রাঃ এর নাম বারবার উচ্চারণ করে আমাদের ভুলিয়ে দিয়েছে রাসূল সাঃ এর রক্ত সম্পর্কীয় বাকি দৌহিদ্রদের। আমাদের সমাজের কতজন মুসলিম পাওয়া যাবে যিনি রাসূল সাঃ এর সকল মেয়ে আর সকল নাতি নাতনিদের নাম বলতে পারে?

হাজার বছর ধরে শিয়ারা সারা পৃথিবীর মুসলিম জনপদে তাদের ঘৃণ্য হাতে লিখিত ঘৃণ্য ইতিহাসের ধুম্রজালে মুসলিম উম্মাহকে ডুবিয়ে রেখেছে। আফসোস হয়, আজ যদি কোন মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করা হয়, নবীজী সাঃ এর মেয়ে কয়জন? তারা বলবে একজন তথা হযরত ফাতিমা রাঃ।

যদি বলা হয়, রাসূল সাঃ এর নাতি কয়জন?

বলবে দুইজন হাসান আর হুসাইন রাঃ।

শিয়ারা আমাদের রাসূল সাঃ এর নাতিদেরও আমাদের থেকে ভুলিয়ে দিয়েছে। তাদের প্রোপাগান্ডা এবং প্রচারণার কারণে আমরা শুধু হযরত হাসান আর হুসাইন রাঃ কেই রাসূল সাঃ এর নাতি বলে জানি। রাসূল সাঃ এর রক্ত সম্পর্কীয় বাকি নাতিদের ভুলে গেলাম। নবীজী সাঃ এর পরিবারকে ভুলে গেলাম? এ কেমন উম্মত আমরা?

অথচ রাসূল সাঃ এর ৪জন নাতনী এবং ৫জন নাতি ছিল।

হযরত জয়নবের গর্বে হযরত আলী বিন আবুল আস রাঃ। তারপর দ্বিতীয় সন্তান হযরত উমামা রাঃ, যিনি হযরত ফাতিমা রাঃ এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী রাঃ এর দ্বিতীয় স্ত্রী হোন। তারপর আরেকজন ছেলে সন্তান ছিল যিনি নাম রাখার আগেই ইন্তেকাল করেন।

তাহলে রাসূল সাঃ এর মেয়ে হযরত জয়নব রাঃ এর একব  ছেলে এবং এক মেয়ে কি রাসূল সাঃ নাতি নাতনি নয়? কিন্তু আমরা কেন তাদের ভুলে গেলাম। কেন তাদের নাম আমাদের সন্তানরা জানে না? কেন আমাদের বয়ানে আমাদের বক্তৃতায় নবী পরিবারের এসব সদস্যদের আলোচনা গায়েব? কেন তাদের কথা আমরা জানিই না?

এ প্রশ্নের  জবাব একটিই। সেটি হল শিয়ারা হাসান রাঃ আর হুসাইন রাঃ এর মোহাব্বতের স্লোগান দিয়ে আমাদের নবীজী সাঃ এর পরিবারের বাকি সদস্যদের আমাদের চোখের আড়াল করে দিয়েছে। ভুলিয়ে দিয়েছে নবীজী সাঃ এর রক্তকে। নবীজী সাঃ এর দৌহিদ্রদের।

শুধু কি তাই? রাসূল সাঃ এর দ্বিতীয় মেয়ে হযরত রুকাইয়া রাঃ এর গর্ভে একজন ছেলে সন্তান হয়। যার নাম হযরত আব্দুল্লাহ বিন উসমান রাঃ।

হযরত ফাতিমা রাঃ এর গর্ভে প্রথম যে মেয়ে সন্তান হয়, তার নাম হযরত ফাতিমা রাঃ বড় বোনের নামে নাম রাখেন জয়নব। আরেক মেয়ে হলে  দ্বিতীয় বোনের নাম রাখেন রুকাইয়া। তৃতীয় মেয়ে হলে নাম রাখেন উম্মে কুলসুম। চতুর্থ হলেন ছেলে হযরত হাসান রাঃ। পঞ্চম হলেন হযরত হুসাইন রাঃ, ছষ্ঠ হলেন হযরত মুহসিন রাঃ।

এই আব্দুল্লাহ বিন উসমান রাঃ, এই মুহসিন রাঃ, এ জয়নব, রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুম রাঃ কি রাসূল সাঃ এর দৌহিদ্র নয়। নয় রাসূল সাঃ এর রক্ত?

তাহলে কেন তাদের নাম আমরা ভুলে গেলাম? কেন তাদের নাম আমাদের জানা নেই? কেন তাদের কথা আমাদের বয়ান, বক্তৃতা, লিখনী থেকে গায়েব? কেন তাদের নাম জানে না আমাদের মুসলিম সমাজ? জানেনা শিশুরা?

কে ভুলিয়েছে নবী পরিবারের এসব সদস্যদের? কে ইতিহাসের ধুম্রজালে হারিয়ে দিয়েছে নবী পরিবারের এসব সদস্যদের? রাসূল সাঃ এর আহলে বাইতদের?

কারা এত মারাত্মক দুশমন আহলে বাইতের?

ওরা তারাই যারা আজ আহলে বাইতের মেকি মোহাব্বতের নামে নাটক করে বেড়ায়। যারা আহলে বাইতের মোহাব্বতের নামে লোক দেখানো অশ্রু বিসর্জনের ড্রামা মঞ্চস্ত করে। এসব শিয়ারাই রাসূল সাঃ এর আহলে বাইতের এত বিশাল তালিকাকে আমাদের চোখের সামনে আসতে দেইনি। দেইনি তাদের নাম জানতে। মুসলিম উম্মাহের চোখকে ঘুরিয়ে দিয়েছে শুধু দুইজনের দিকে। বাকিদের হারিয়ে দিয়েছে ইতিহাসের ঘুর্ণাবর্তে।

নবী পরিবারকে ভুলিয়ে দেয়ার নাম আহলে বাইতের মোহাব্বত? নবীর আহলে বাইতের কথা বিস্মৃত করে দেয়ার নাম নবী পরিবারের অনুসারী? ধিক এ শিয়াদের! ধিক তাদের এ জঘন্য কার্যক্রমের।

৩-   কারবালা কারবালা চিৎকারে ভুলে গেছি ইসলামের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠাকারী শহীদদের!

হায় মুসলমান! হায় মুসলিম উম্মাহ! আমাদের ছেলেদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তুমি কি জান ইসলামের ইতিহাসে কারা শহীদ হয়েছে? কাদের রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত আজকের ইসলাম। কাদের শরীরের টুকরার উপর সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে আমার ইসলাম?

জানি অধিকাংশ ছেলেরাই জবাব দিবে হুসাইন রাঃ। আমাদের জপ হয়ে গেছে ইসলামের শহীদ একজন। শুধুই হুসাইন রাঃ।

অথচ এ ইসলাম নামক বৃক্ষটির শিকড়ে প্রথম রক্ত ঢেলেছেন জায়েদ বিন আবী আলা রাঃ, রক্ত ঢেলেছেন হযরত সুমাইয়া, শহীদ হয়েছেন খুবাইব বিন আদী, হযরত আতেকা, হযরত সাদ বিন রাবী, জাফরে তাইয়্যার, আমর বিন জুমু, তারিক বিন যিয়াদ, হুজাইফা সুহামী, সাঈদ বিন জুবায়েরের খুনে রাঙ্গা হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রের মাটি। শুহাদায়ে বদর, শুহাদায়ে ওহুদ, শুহাদায়ে খন্দক, শুহাদায়ে বনীল মুস্তালিক, শুহাদায়ে মুতা, শুহাদায়ে বনী লিহয়ান, শুহাদায়ে খায়বার, শুহাদায়ে সুলাহে হুদাইবিয়া, শুহাদায়ে হুনাইন, শুহাদায়ে ইয়ারমুকসহ রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় শহীদ হওয়া ২৫৬জন। হযরত আবু বকর রাঃ এর জমানায় শহীদ হওয়া দেড় হাজার সাহাবী। হযরত উমর রাঃ এর জমানায় শহীদ হয়েছেন চৌদ্দ হাজার সাহাবী। হযরত উসমান রাঃ এর জমানায় শহীদ হয়েছে ষোল হাজার সাহাবী, হযরত আলী রাঃ এর জমানায় বিভিন্ন জিহাদের শহীদ হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার সাহাবী ও তাবেয়ী। যাদের রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইসলাম।

যারা নিজেদের সন্তান এতিম করে, স্ত্রীকে বিধবা করে, নিজের জীবন উৎসর্গ করে কায়েম করেছেন কারবালার সেই দীপ্ত শহীদের প্লাটফর্ম। যে আজমতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে হকের জন্য, সত্যের জন্য, দ্বীনের জন্য বুক উঁচু করে শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন হযরত হুসাইন রাঃ।

আমরা সেসব শহীদদের কিভাবে ভুলে গেলাম? কিভাবে ভুলে গেলাম যিনি রাসূল সাঃ এর জায়নামাযে শহীদ হয়েছেন সেই মহান শহীদ হযরত উমর রাঃ কে? কেন শহীদের আলোচনার সময় সেই শহীদের নাম নেই না যিনি শহীদ হয়েছেন নবীজী সাঃ এর মদীনায়? কেন বলি না সেই শহীদের কথা যাকে আমার নবী তার পাক জবানে বলেছেন সাইয়্যিদুশ শুহাদা?

দুই শহীদের নাম নিয়ে বাকি শহীদের কথা না বলে কি সেসব শহীদদের অপমান করা হচ্ছে না? শহীদদের আলোচনা অনুষ্ঠানে শুধু কারবালার শহীদের আলোচনা করার দ্বারা কি আমরা একথা প্রমাণ করছি না যে, ইসলামে শহীদ শুধু একজন? আর কেউ শহীদ হয়নি?

হযরত হুসাইন রাঃ শহীদ হয়েছেন এতে আমরা মর্মাহত আবার গর্বিত। তিনি সত্যের জন্য শহীদ হয়েছেন। দ্বীনের জন্য জান কুরবান দিয়েছেন। তিনি অসত্য আর জুলুমের আস্ফালন রুখার জন্য জান কুরবান করেছেন। এটি নবীজী সাঃ এর শিক্ষা। দ্বীনের জন্য নিজের জানের নজরানা পেশ করা। এটি গর্বের বিষয়। মাতমের বিষয় কিছুতেই নয়।

কিন্তু শিয়াদের প্রোপাগান্ডা আর প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে আমরা কি করে নবীজী সাঃ এর সাথে শহীদ হওয়া সাহাবাদের ভুলে গেলাম? কি করে শুহাদাদের আলোচনায় তাদের কথা না বলে চুপ করে থাকি? কি করে ঐ শহীদের নাম আলোচনায় আনি না, যাকে নবীজী সাঃ বলেছেন যিনি দুনিয়ার সমস্ত শহীদদের সর্দার হবেন সেই হযরতে হামজা রাঃ কে?

হে মুসলিম ভাইরা! এ কেমন জুলুম করছি আমরা? শিয়াদের মত দুই শহীদের নাম নিয়ে সব শহীদকে ভুলে যাবেন না। ভুলে যাবেন না ইসলামের ইতিহাসের পাতায় পাতায় রক্তের ছুপ ছুপ দাগের কথা। ভুলে যাবেন না আমার নবীর দান্দানও শহীদ হয়েছিল। রক্তাক্ত হয়েছিল আমার নবীর সারা শরীরও।

আমাদের ইতিহাসের গলিতে গলিতে শহীদ। শুধু দুই শহীদের কথা বলে এসব শহীদদের অপমান করবেন না। শিয়াদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অপমান করবেন না ইসলামের বাকি মহান শহীদদের।

৪-    হুসাইন রাঃ এর শাহাদতের উপর মাতম মর্সিয়া শাহাদতকে অপমান করা হচ্ছে!

একবার ভেবে দেখুন! কারা ষড়যন্ত্র করে ইসলামের এ মহান শহীদ হুসাইন রাঃ এর মুবারক শাহাদতকে অপমান করছে? কারা শাহাদতের এ মহান মর্যাদাকে ভুলণ্ঠিত করছে?

ইংরেজদের থেকে এ উপমহাদেশে রক্ষা করার জন্য আমাদের মর্দে মুজাহিদরা লড়াই করেছেন। জানের নজরানা পেশ করেছেন। শহীদ হয়েছেন।

১৯৫২ তে ভাষার জন্য আমাদের বীররা শহীদ হয়েছে। শহীদ হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে।

প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারী আসে। আসে ১৬ ই ডিসেম্বর এবং ২৬ শে মার্চ।

গর্বের সাথে আমরা সেদিন স্মরণ করি আমাদের শহীদদের। সম্মান জানাই তাদের বীরত্বকে। পুরস্কৃত করি তাদের পরিবারকে। গর্বের সাথে সবাইকে শুনাই তাদের বীরত্বগাঁথা। উৎসাহ যুগাই সবাইকে তাদের পদাংক অনুসরণ করার জন্য।

কিন্তু সেদিন কি আমরা মাতম মর্সিয়ার আয়োজন করি? সেদিন কি হা হুতাশ করে শহীদদের মহান কর্মকে অপমান করি?

কেন করি না?

কারণ শহীদ হওয়া গর্বের বিষয়। শহীদ হওয়া সম্মানের বিষয়। ভাষা দিবসে, স্বাধীনতা দিবসে, বিজয় দিবসে হা হুতাশ করলে, হাহাকার করলে, মাতম মর্সিয়া করলে আরো কোন মায়ের সন্তান দেশের জন্য শহীদ হবার তামান্না পেশ করতো? শহীদ হবার জন্য উদগ্রীব হতো? শহীদ হওয়াকে নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থীর করার হিম্মত দেখাতো? কোন মা তার সন্তানকে দেশের জন্য জান কুরবান করতে দিতে সাহস পেত?

পেত না। অবশ্যই পেত না।

শহীদদের জন্য আমরা গর্ব করি। বীরত্ব প্রকাশ করি। তাদের ইজ্জত দেই। তাদের বীর গাঁথা শুনাই।

কিন্তু নবী পরিবারের উপর একি জুলুম করা হচ্ছে? তাদের রক্ত দান কি দেশের জন্য রক্ত দানের চেয়েও খারাপ হয়ে গেল? তাদের বীরত্ব কি দেশের জন্য ভাষার জন্য জান দেয়ার চেয়েও নিম্নমানের হয়ে গেল? শহীদ হওয়াতো গর্বের বিষয় ছিল। এটিতের অহংকারের বিষয় ছিল। এটাতো প্রতিটি মুসলিমের মনের তামান্না ছিল। এটাতো খোদ রাসূল সাঃ এর আকাংখা ছিল।

তাহলে এ মর্যাদাপূর্ণ শাহাদতকে মর্সিয়া মাতম দিয়ে কেন অপমান করা হচ্ছে?

কেন তাদের শহীদ হবার উপর আফসোস করা হয়? কেন তাদের রক্তকে অপমান করা হয়? কেন তাদের শাহাদতের উপর গর্ব প্রকাশ করা হয় না? কেন এভাবে দ্বীনের জন্য আরো শহীদ হবার প্রতি মুসলিম উম্মাহকে উৎসাহ প্রদান করা হয় না? কেন আমাদের হিম্মতহীন বানানোর জন্য মর্সিয়া মাতমের নাটক সাজানো হয়? কেন আমাদের যুবকদের দ্বীনের জন্য শহীদ হবার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে দেয়া হয়?

কার ইশারায় এসব করা হয়? কারা চায় মুসলিম যুবকদের মাঝে শহীদ হবার তামান্না খতম হয়ে যাক? কারা চায় ইসলামের জন্য শহীদ হবার মানসিকতা মুসলমানদের মাঝে না থাকুক? কারা চায় মুসলিম যুবক ভীত হয়ে ঘরে বসে থাকুক?

ওরা কারা? একবার ভেবে দেখার সময় কি এখনো আসেনি?

৫-    হায় হুসাইন! হায় আহলে বাইত! স্লোগানের আড়ালে আহলে বাইতদের ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র!

আহলে বাইত কি শুধু হযরত ফাতিমা রাঃ আর হযরত আলী রাঃ ও হযরত হাসান হুসাইন রাঃ আর কেউ আহলে বাইত নয়?

হযরত উমামা রাঃ, হযরত আলী বিন আবুল আস, হযরত আব্দুল্লাহ বিন উসমান, হযরত জয়নব বিন আলী, হযরত রুকাইয়া বিন আলী, হযরত উম্মে কুলসুম বিন আলী, হযরত মুহসিন বিন আলী, হযরত আয়শা রাঃ, হযরত হাফসা রাঃ, হযরত মায়মুনা রাঃ, হযরত খাদিজা রাঃ, হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ রাঃসহ রাসূল সাঃ এর সমস্ত স্ত্রীগণ কি আহলে বাইত নয়?

বাকি আহলে বাইতদের কে আহলে বাইত বলা থেকে আমাদের কে হঠিয়ে দিল? কে ভুলিয়ে দিল আরো আহলে বাইত আছেন? কে তিন চার আহলে বাইতের কথা শুনিয়ে বাকি আহলে বাইতদের আমাদের চোখের আড়াল করে দিল?

শাব্দিক অর্থে আহলে বাইত দেখলেও আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত হয় স্ত্রীগণ। সামাজিক অর্থে আহলে বাইতের অর্থ দেখলেও বুঝা যায় আহলে বাইত মানে স্ত্রীগণ। পবিত্র কুরআনেও আহলে বাইত মানে স্ত্রীগণকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। দেখুন সূরা হুদ-৬৯-৭৩, সূরা আহযাব-৩২,৩৩।

মুসলিম শরীফের হাদীসের মাধ্যমে হযরত ফাতিমা রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত হাসান ও হুসাইন রাঃ আহলে বাইত হবার প্রমাণ পাওয়া যায়। আর পবিত্র কুরআনের দ্বারা রাসূল সাঃ এর সহধর্মীনীগণ আহলে বাইত হওয়া প্রমাণিত হয়।

কিন্তু পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে যারা আহলে বাইত তাদের আহলে বাইতের কাতার থেকে কারা বের করে দিল? কেন আহলে বাইত শব্দ উচ্চারণ করার সময় আমাদের ব্রেইনে নবীজী সাঃ এর স্ত্রীগণের কথা আসে না? কারা আমাদের ব্রেইনকে এভাবে ওয়াশ করাল? কারা আহলে বাইতের স্লোগানের আড়ালে অধিকাংশ আহলে বাইতকে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে লুকালো? এ ষড়যন্ত্রের হোতা কারা?

ওরা তারাই যারা দশে মুহররমে আহলে বাইতের প্রতি ভুয়া মোহাব্বতের ধোঁয়া তুলে রাস্তা বন্ধ করবে। মানুষের চলাচলের রাস্তায় বাঁধা সৃষ্টি করবে। মর্সিয়া মাতমের নামে নাটক করে বেড়াবে। যারা আহলে বাইতের অধিকাংশ সদস্যের নাম ভুলিয়ে দেয় তারা আহলে বাইতের মুহাব্বতকারী কি করে হতে পারে? একবার ভেবে দেখার সময় কি এখনো মুসলিম উম্মাহের হয়নি?

৬-   মুহররমের মর্সিয়া মাতম সাজানো নাটক হবার প্রকাশ্য প্রমাণ!

যদি কোন ব্যক্তি অসুস্থ্য হয়, তাহলে তার পাশে বসে যদি তার আত্মীয়রা কাঁদে, প্রিয়জনরা মাতম করে। হা-হুতাশ করে। বিলাপ করে।
কিন্তু যখনি উক্ত ব্যক্তি মারা গেল তখন সবাই চুপ হয়ে গেল। কান্না বন্ধ করে দিল। আহাজারী বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেল। নিজ নিজ কাজে মগ্ন হয়ে গেল।
 
মৃত্যুর আগের আত্মীয়দের কান্নাকে আপনি কি বলবেন? স্বজনদের আহাজারীকে আপনি কি বলে আখ্যায়িত করবেন? প্রিয়জনদের বিলাপ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে?
 
মারা যাওয়ার আগে কান্না, আর মারা যাবার পর একদম চুপ। কোন আহাজারী নেই, কোন বিলাপ নেই, কোন শোকতাপ নেই। এটি কিসের আলামত? এটি কোন জিনিসের প্রতি ইংগিত করে?
 
মৃত্যুর পর চুপ হয়ে যাওয়া কি একথা প্রমাণ করে না যে, লোকটি কেন মারা যাচ্ছে না, এ শংকায় কাঁদছিল স্বজনরা। না জানি না মরে বেঁচে যায় লোকটি সেই ভয়ে কাঁদছিল প্রিয়জনেরা?
 
আসলে লোকটির প্রতি মোহাব্বতে নয় বরং তার মৃত্যু দেরী হচ্ছে বলে কাঁদছে তারা। এটাই কি বুঝা যাচ্ছে না কান্নার এ এ সুরত দিয়ে?
 
যদি মোহাব্বতেই কাঁদতো, যদি মৃত্যুর দিকে ধাবিত ব্যক্তির প্রতি দিলের টানেই কাঁদতো, তাহলেতো লোকটি মারা যাবার পর বেশি কাঁদত। কান্নার বাঁধ ভেঙ্গে যেতো। মৃত্যুর পর দিনের পর দিন কেঁদে যেতো। কিন্তু মৃত্যুর আগে কান্না অথচ মারা যাবার পর চুপ এটা কি বুঝায়? মৃতের প্রতি মোহাব্বত বুঝায় না বিদ্বেষ?
 
জাতির বিবেকের কাছে আমাদের প্রশ্ন!
 
একবার খেয়াল করে দেখুন! হযরত হুসাইন রাঃ মুহররমের এক তারিখ শহীদ হননি, কিন্তু সেদিন শিয়ারা “হায় হুসাইন” বলে মাতম করে। দুই তারিখেও শহীদ হননি, সেদিনও তারা “হায় হুসাইন” বলে মাতম করে। এভাবে নয় তারিখে তারা বেশি বেশি মাতম করে অথচ এদিনও হযরত হুসাইন রাঃ শহীদ হননি। আর দশ তারিখের সকালে খুব মাতম করে। অথচ তখনো তিনি শহীদ হননি।
 
যখন দশ তারিখের যোহরের পর হয়, যে যোহরের পর হযরত হুসাইন রাঃ শহীদ হয়েছেন, তখনি শিয়ারা কান্না বন্ধ করে ঘরে চলে যায়। মাতম বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়।
 
এর দ্বারা কি বুঝা যায়?
 
এসব মাতম আহাজারী হযরত হুসাইন রাঃ এর মৃত্যুতে করা আহাজারী? মৃত্যু শোকে করা মাতম?
 
যদি মৃত্যু শোকের মাতম হতো, তাহলে মৃত্যুর সময়ের পর চুপ কেন? তাদেরতো উচিত ছিল দশ তারিখের যোহরের পর থেকে কান্না বাড়িয়ে দেয়া। মাতম বাড়িয়ে দেয়া। দশ থেকে কমপক্ষে বিশ তারিখ পর্যন্ত আহাজারি করা। বুক চাপড়ানো। হা হুতাশ করে হুসাইন রাঃ এর মৃত্যুর উপর শোকতাপ করা।
 
কিন্তু এ কোন জালিয়াতি? এ কোন নাটক? মৃত্যুর আগে কান্নাকাটি। কিন্তু মৃত্যুর পর চুপ? মৃত্যুর সংবাদ আসার পর মাতম বন্ধ?
 
এসব নাটক কি প্রমাণ করে? এসব মাতম মোহাব্বতের মাতম? ভালবাসার হা হুতাশ? নাকি পুরো মুসলিম জাহানকে উল্লু বানানোর নাটক?

৭-    মর্সিয়া মাতমের আড়ালে কারবালার আসল খুনিদের লুকানোর অপচেষ্টা!

একবার ভাবুন। একবার ঠান্ডা মস্তিস্কে চিন্তা করুন। আপনার বাড়িতে আপনি আমাকে দাওয়াত করলেন। বারবার অনুরোধ করে নিয়ে গেলেন। লোক পাঠিয়ে নিয়ে গেলেন। যাবার পর আমাকে কিছু লোক হত্যা করলো। আপনার বাড়িতে হত্যা করল। আপনার ঘরে হত্যা করল। আপনার সামনে হত্যা করল। কিন্তু আপনার কিছু হয়নি। আপনি আমার সাথে রক্তাক্ত হননি। আপনি আমার সাথে জখমী হননি। আমার সাথে আপনার পরিবার ধ্বংস হয়নি।

তখন আমার পরিবার কাকে খুনি বলবে? কার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে? কার বিরুদ্ধে আদালতে মুকাদ্দমা ঠুকবে?

নিশ্চয় আপনার নামে। কারণ আপনি আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়েছেন। আমি আপনার ঘরে ছিলাম। আপনার হিফাযতে ছিলাম। আমাকে রক্ষা করতে আপনি এগিয়ে আসেননি। আপনি আমার সাথে শাহাদতবরণ করেননি। মানে আপনি আমাকে রক্ষা করেননি। আমার সাথে আপনি জখমী হননি। যদি আপনিও আমার সাথে রক্তাক্ত হতেন। আপনি আমার সাথে শহীদ হতেন, তাহলে আমার আত্মীয়রা বুঝতো আপনি খুনি নন। আপনি ষড়যন্ত্রকারী নন। অন্যরা এসে আমাকে খুন করেছে। কিন্তু আপনি যদি যখমী না হন। আপনি সম্পূর্ণ অক্ষত। অথচ আমি রক্তাক্ত। আপনার ঘরেই আমি শহীদ। কিন্তু আপনি সামান্য আঘাতও পাননি। তাহলে আমার পরিবার কি বলবে? কাকে খুনি সাব্যস্ত করবে? নিশ্চয় আপনাকে। আপনাকেই বলা হবে আপনি আমাকে ডেকে নিয়ে লোক দিয়ে খুন করিয়েছেন। আপনি নিজেও সেই খুনে শরীক। আপনি নিজেই ষড়যন্ত্রকারী। আপনিই হত্যাকারী।

এটাই কি স্বাভাবিক নয়? এটাই কি বাস্তবতা নয়?

এবার ফিরে তাকান কারবালার রক্তাক্ত প্রান্তরের দিকে।

কারা মুসলিম বিন ওকীলকে ডেকে আনল কুফায়? তখনকার কুফা কাদের আস্তানা ছিল? কারা হযরত হুসাইন রাঃ কে ১২শত চিঠি দিয়েছে কুফায় আসার  জন্য? কারা হযরত হুসাইন রাঃ কে আনার জন্য বারবার লোক পাঠিয়েছে? ৭০জনের প্রতিনিধি দল যারা হযরত হুসাইন রাঃ কে কুফায় আনার জন্য গিয়েছিল ওরা কারা?

পৃথিবী জানে। জানে শিয়ারাও। তারা ছিল সব শিয়া। তৎকালিন কুফা ছিল শিয়াদের আস্তানা। শিয়াদের কেন্দ্র। চিঠি লিখেছিল শিয়ারা। লোক পাঠিয়েছিল শিয়ারা। কুফায় হযরত হুসাইন রাঃ আসার পর তারা কোথায় ছিল? এসব মেকি মোহাব্বতের ধ্বজাধারীরা কেন শহীদ হয়নি তখন হযরত হুসাইন রাঃ এর সাথে?

কেন তাদের শরীর তখন রক্তাক্ত হয়নি? কেন হযরত হুসাইন রাঃ কে বাঁচাতে তারা এগিয়ে আসেনি? কেন একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থায় কাতরাতে কাতরাতে শহীদ হয়েছেন রাসূল সাঃ এর দৌহিদ্র? কেন সিসাঢালা প্রাচির হয়ে এসব আহলে বাইতের মোহাব্বতের দাবিদাররা এগিয়ে আসেনি। কেন বডিগার্ড হয়ে নিজের জানের নজরানা পেশ করে নবীজী সাঃ এর কলিজার টুকরাকে হেফাযত করেনি?

বাড়ি শিয়াদের। রাস্তা শিয়াদের। আস্তানা শিয়াদের। এলাকা শিয়াদের। দাওয়াতও দিয়েছে শিয়ারা। তাহলে সেখানে নবীর দৌহিদ্র শহীদ হয় কিন্তু কোন শিয়া রক্তাক্ত হয় না! কোন শিয়া মারা যায় না! কোন শিয়া জখমী হয় না এসব কি প্রমাণ করে? কি দলীল বহন করে?

একটাই প্রমাণ বহন করে শিয়ারাই খুন করেছে নবী দৌহিদ্রকে। শিয়ারাই দাওয়াত দিয়ে হত্যা করেছে আমাদের নবীর কলিজার টুকরাকে। ওরাই হযরত হুসাইন রাঃ এর হত্যাকারী। ওরাই নবী পরিবারকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রকারী।

আমাদের কথা না মানুন! নবীজী সাঃ এর দৌহিদ্রদের কথাতো মানবেন?

প্রথমে একটি বক্তব্য পড়ুন। আমাদের কিতাব থেকে নয়। শিয়াদের কিতাব থেকে। বইটার নাম “শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস”।  যার লেখক হলেন শেইখ আব্বাস কুম্মি। প্রকাশক ওয়াইজম্যান পাবলিকেশন্স। সহযোগিতায়ঃ কালচারাল কাুউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র, ইরান।

তাহলে পরিস্কার। বইটি শিয়াদের। ইরানী কালচারাল সেন্টারের সহযোগিতায় বের হওয়া বই।

এবার পড়ুন উক্ত বইয়ের প্রথম খন্ডের ৬১ পৃষ্ঠার বক্তব্যঃ

“ইমামের শিয়ারা (অনুসারীরা) সুলাইমান বিন সুরাদ খুযাঈর বাড়িতে জড়ো হলো মুয়াবিয়ার মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করতে, এবং আল্লাহর প্রশংসা এবং তাসবীহ করতে। সুলাইন উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন “মুয়াবিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং ইমাম হোসেইন (আ.) ইয়াযীদের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে অস্বীকার করেছেন ও মক্কায় চলে গিয়েছেন। তোমরা তার ও তার বাবার শিয়া (অনুসারী)। তাই যদি তোমারা তাকে সাহায্য করতে চাও ও তার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাও তাকে চিঠি লিখো এবং তাকে এ বিষয়ে জানাও। কিন্তু যদি তোমরা ভয় পাও যে তোমরা ঢিলেমী করবে এবং পিছু হটবে তাহলে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না (তাকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়ে)।” প্রত্যেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ করলো যে তারা তাকে সাহায্য করবে এবং তার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তার আদেশে এবং তাদের জীবনকে এগিয়ে দিবে কোরবান করতে। যখন সুলাইমান তা শুনলেন তিনি তাদেরকে আহবান জানালেন ইমামকে চিঠি লেখার জন্য তারা লিখলো।” [শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস-১/৬১]

এখানে পরিস্কার যে, শিয়ারা পরামর্শ করে হযরত হুসাইন রাঃ কে কুফায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তারাই চিঠি লিখেছে। তারা হযরত হুসাইনকে রেখে পালাবে না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

এবার আমরা হাকীকতে হাল দেখি!

হযরত হুসাইন রাঃ কুফাবাসীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেনঃ

“হে জনতা, তোমরা যেন ধ্বংস হও, দুর্দশাগ্রস্ত হও। তোমরা উৎসাহের সাথে আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে তোমাদের সাহায্য করার জন্য এবং আমরা তা করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু তোমরা এখন সে তরবারিগুলো কোষমুক্ত করেছো যা আমরা তোমাদের দিয়েছি এবং তোমরা আমাদের জন্য আগুন জ্বালিয়েছো যা আমরা তোমাদের ও আমাদের শত্রুদের জন্য জ্বালিয়েছিলাম। তোমরা তোমাদের শত্রুদের পক্ষ নিয়েছো এবং তাদের সাথে থেকে তোমাদের বন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হয়েছো, যদিও তারা তোমাদের সাথে ন্যায়পরায়ণ আচরণ করে নি, না তোমরা তাদের কাছ থেকে কোন দয়া ও সদয় আচরণ আশা কর। তোমাদের উপর শত দুর্ভোগ আসুক। তোমরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো। [শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস-১/১৯৯-২০০]

শিয়াদের মুজাদ্দিদ মোল্লা বাকের মাজলিসির গ্রন্থ বিহারুল আনোয়ার ২য় খন্ডের ১২ পৃষ্ঠা থেকে ১৭ নং পৃষ্ঠায় এসেছে হযরত জয়নব বিনতে আলী রাঃ, হযরত উম্মে কুলসুম বিনতে আলী রাঃ এর খুতবা, হযরত জায়নুল আবেদীন রাঃ এর খুতবা পড়ে দেখুন। সেখানে কি পরিস্কার ভাষায় তারা বলছেন-

হে কুফাবাসী! তোমরা আমাদের ডেকেছো, আর তোমরাই আমাদের হত্যা করেছো। তোমরাই মুসলিম বিন আকীলকে হত্যা করেছো। তোমরা এখন কান্নাকাটির ঢং করছো। অথচ তোমরাই আমাদের হত্যা করলে। নবী পরিবারকে ধ্বংস করলে। হাশরের ময়দানে আমাদের নানার কাছে কি জবাব দিবে? {বিহারুল আনোয়ার, লেখক শিয়া মোল্লা বাকের মাজলিসী, ২য় খন্ড-১২-১৭, শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস-২/১৯-২১]

তৎকালিন কুফা কাদের আস্তানা ছিল? কারা হযরত হুসাইন রাঃ কে ডেকে এনেছিল? যাদের এলাকা। যাদের বাড়ি তারাই দাওয়াত দিয়ে হত্যা করেছে একথা আমাদের কথা নয় কারবালার প্রান্তরে রক্তাক্ত হওয়া জখমীদের বক্তব্য। আহত হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য। তাও শিয়াদের লিখিত গ্রন্থে উদ্ধৃত বক্তব্য।

তারপরও কি বলবেন আমরা মিথ্যা বলছি? তারপরও বলবেন আমরা অপবাদ দিচ্ছি?

শিয়াদের লিখিত গ্রন্থ, কারবালার আহতদের স্বীকারোক্তি, তাদের খুতবা প্রমাণ করছে শিয়ারাই হযরত হুসাইন রাঃ এর হত্যাকারী। শিয়ারাই হযরত হুসাইন রাঃ এর কতলকারী। তারাই ষড়যন্ত্রকারী।

আর আজকে সারা পৃথিবীর মানুষকে উল্লু বানিয়ে তারাই আহলে বাইতের মোহাব্বতের নাটক করে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীর বুকে এর চেয়ে বড় ধোঁকাবাজী, এর চেয়ে বড় বাটপারী এর চেয়ে হঠকারী কান্ড আর নির্মম রসিকতা আর হচ্ছে কি না? তা আমাদের জানা নেই।

শিয়ারা কারবালা প্রান্তর রক্তাক্ত করার পর, ইতিহাসের জঘন্য হত্যাকান্ড চালানোর পর মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য সাজিয়েছে মাতমের নাটক। প্রতি বছর বুক চাপড়ে চাপড়ে সেই হত্যাকান্ডের প্রায়শ্চিত্ব করে বেড়াচ্ছে। কিয়ামত পর্যন্ত নিজেকে জখমী করে যাবে আর মৃত্যুর পরতো জাহান্নামের আজাব তাদের জন্য অপেক্ষা করছেই ইনশাআল্লাহ।

আহলে বাইতের খুনী, কারবালার নির্মম ঘটনার হোতা শিয়া কাফেরদের চক্রান্ত থেকে আল্লাহ তা’আলা আমাদের মুসলিম উম্মাহকে হিফাযত করুন। আমীন।

 

এটিও পড়ুন-

১০ই মহররমের মাতম-মর্সিয়া বন্দেগী না নাফরমানী?

আরও জানুন

হাশরের ময়দানে সকলকে মায়ের নাম ধরে ডাকা হবে?

প্রশ্ন আমাদের এলাকায় এক বাউল ভক্ত ব্যক্তি বলছে যে, হাশরের ময়দানে নাকি প্রত্যেক মানুষকে তার …

No comments

  1. Moh.Sharif Hossain

    দশে মুহররমে শিয়াদের মর্সিয়া মাতম মুসলিম উম্মাহর আকিদা বিশ্বাসে কি ক্ষতি করছে? atar pdp filer lekha gulu buja jai na. tai apnader distre akorshon korchi.nece link ta dilam.
    http://ahlehaqmedia.com/2160?print=pdf

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস