প্রচ্ছদ / খাদ্য-দ্রব্য / কাঁচা পেয়াজ খেয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

কাঁচা পেয়াজ খেয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: আব্দুল্লাহ
বিষয়ঃ পিয়াজ

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম।
শরিরে পিয়াজ ব্যবহার করা। তার পর তা ধুয়ে ফেলা। কিন্তু কিছুটা গন্ধ আসে পিয়াজের। এখন কি নামাজে কোনো সমস্যা হবে? কেননা পিয়াজের ঘ্রাণে নাকি ফিরিশতা  আসেনা। তা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পেঁয়াজ প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা জায়েজ আছে। কিন্তু দুর্গন্ধ থাকা অবস্থায় তা সহ মসজিদে গমণ করা নিষেধ। কিন্তু এভাবে নামায আদায় করলে নামায আদায় হয়ে যাবে।

তাই দুর্গন্ধ দূর করে মসজিদে গমণ করবে। অথবা কাঁচা পেয়াজ ব্যবহার না করে পেয়াজ সিদ্ধ করে ব্যবহার করতে পারেন।

 

أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الثُّومُ وَالْبَصَلُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَشَدُّ ذَلِكَ كُلِّهِ الثُّومُ أَفَتُحَرِّمُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ كُلُوهُ وَمَنْ أَكَلَهُ مِنْكُمْ فَلاَ يَقْرَبْ هَذَا الْمَسْجِدَ حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهُ مِنْهُ

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রসুন এবং পেয়াজ সম্পর্কে আলোচনা হয়। সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দুটির মধ্যে রসুনে তেজ বা ঝাঁঝ বেশী, আপনি কি একে হারাম মনে করেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা খাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি তা খাবে, এর দুর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন মসজিদে না আসে। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৩৭৮০]

عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ أَكَلْتُ ثُومًا فَأَتَيْتُ مُصَلَّى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ سُبِقْتُ بِرَكْعَةٍ فَلَمَّا دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رِيحَ الثُّومِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ ‏”‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبْنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا ‏”‏ ‏.‏ أَوْ ‏”‏ رِيحُهُ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمَّا قَضَيْتُ الصَّلاَةَ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَتُعْطِيَنِّي يَدَكَ ‏.‏ قَالَ فَأَدْخَلْتُ يَدَهُ فِي كُمِّ قَمِيصِي إِلَى صَدْرِي فَإِذَا أَنَا مَعْصُوبُ الصَّدْرِ قَالَ ‏”‏ إِنَّ لَكَ عُذْرًا ‏

মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রসুন খাওয়ার পর মসজিদে গমন করি, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন। এ সময় এক রাক’আত নামায শেষ হয়েছিল। যখনই আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুনের গন্ধ পান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় শেষে বলেনঃ যে ব্যক্তি এ গাছ (পেয়াজ, রসুন) হতে কিছু খাবে, সে যেন ততক্ষণ আমাদের কাছে না আসে, যতক্ষণ না সে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়। আমার সালাত আদায় শেষে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্‌র শপথ! আপনি আপনার হাতখানা আমাকে দিন। এরপর আমি তাঁর হাত নিজের জামার নীচ দিয়ে আমার বুকের উপর রাখি। এ সময় আমার সীনা বাঁধা ছিল। তখন তিনি বলেনঃ তোমার তো উযর আছে, (অর্থাৎ প্রয়োজনের তাগিদে তুমি রসুন, পেয়াজ খেতে পার)। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৩৭৮৩]

خِيَارِ بْنِ سَلَمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ الْبَصَلِ، فَقَالَتْ إِنَّ آخِرَ طَعَامٍ أَكَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامٌ فِيهِ بَصَلٌ

খিয়ার ইবন সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আইশা (রাঃ)-কে পেয়াজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে খাদ্য গ্রহণ করেন, তাতে পেয়াজ মিশ্রিত ছিল, (অর্থাৎ রান্না করা পেয়াজ)। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৩৭৮৬]

عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ وَقَالَ ‏”‏ مَنْ أَكَلَهُمَا فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏”‏ إِنْ كُنْتُمْ لاَ بُدَّ آكِلِيهِمَا فَأَمِيتُوهُمَا طَبْخًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ يَعْنِي الْبَصَلَ وَالثُّومَ

কুররা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’টি গাছ (পেয়াজ ও রসুন) হতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ দুটি জিনিস খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। তিনি আরো বলেনঃ যদি কোন কারণবশত তোমাদের তা খেতে হয়, তবে তোমরা তা রান্না করে এর দুর্গন্ধ দূর করে খাবে। রাবী বলেনঃ তা হলো রসুন ও পেয়াজ। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৩৭৮৪]


وكذلك ألحق بذلك بعضهم من بفيه بخر، أو به جرح له رائحة، وكذلك القصاب والسماك والمجذوم والأبرص أولى بالإلحاق، وصرح بالمجذوم ابن بطال، ونقل عن سحنون: لاأرى الجمعة عليه، واحتج بالحديث. وألحق بالحديث: كل من آذى الناس بلسانه في المسجد، وبه أفتى ابن عمر، رضي الله تعالى عنهما، وهو أصل في نفي كل ما يتأذى به (عمدة القارى-6\146)

ويحرم فيه السؤال…. وأکل نحو ثوم
قوله : (وأکل نحو ثوم) أي کبصل ونحوه مما له رائحة کريهته للحديث الصحيح …. ولا يختص بمسجده عليه الصلاة والسلام بل الکل سواء لرواية ’’ مساجدنا ‘‘ بالجمع ، خلافًا لمن شذّ ، ويلحق بما نص عليه في الحديث کل ما له رائحة کريحته ماکولا أو غيره (رد المحتار-1\661)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মুসলমানের জন্য কাফেরের সাথে বিবাহ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: সারওয়ার বিষয়ঃ অমুসলিম বা কাফের এর সাথে সম্পর্ক করা যাবে কি না?? প্রশ্নঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস