প্রচ্ছদ / দিফায়ে ইসলাম / “সিদ্দীকে আকবর” কি হযরতে আলী নাকি আবু বকর সিদ্দীক?

“সিদ্দীকে আকবর” কি হযরতে আলী নাকি আবু বকর সিদ্দীক?

প্রশ্ন

মুহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম

কচুয়া, চাঁদপুর।

হুযুর নিন্মোক্ত হাদীসটি দেখিয়ে কেউ কেউ বলছে, সিদ্দীকে আকবার একমাত্র হযরত আলী রা.।

وقد روي ابن ابى شيبة عن عبد الله بن نمير عن العلاء بن صالحة عن المنهال بن عمرو عن عباد بن عبد الله الأسدي، قال: سمعت علي بن ابى طالب يقول: أنا عبد الله و أخو رسوله، وأنا الصديق الاكبر، لا يقولها غيرى الا كذاب، ولقد صليت قبل الناس سبع سنين.

এর ভিত্তিতে তারা বলছে, “আবু বকর রা. কে সিদ্দীকে আকবার বলা যাবে না।” অথচ আমরা আলেম-ওলামাদের মুখে আজীবন শুনে এসেছি, সিদ্দীকে আকবার হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.। এ বিষয়ে একটু ক্লিয়ার করবেন প্লিজ। আবু বকর সিদ্দীক রা. কে সিদ্দীকে আকবার বলা ভুল কিনা? আর সঠিক হলে কিভাবে সঠিক? একটু জানাবেন প্লিজ। খুব জরুরী।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি একাধিক কিতাবে আসছে।

যেমন-

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১২০।

সুনানুল কুবরা লিননাসায়ী, হাদীস নং-৮৩৩৮।

মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-৪৫৮৪।

এ বর্ণনাটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মন্তব্যগুলো দেখে  নেইঃ

ইমাম জাহাবী রহঃ বলেন, এটা হযরত আলী রাঃ সম্পর্কে স্পষ্ট মিথ্যাচার। [মীযানুল ই’তিদাল-২/৩৬৮]

ইবনুল জাওযী রহঃ বলেন, এটা মওজূ তথা বানোয়াট। [মুউযূআতে ইবনুল জাওযী-২/৯৮]

ইবনু তাইমিয়া রহঃ বলেন, এটা মওজূ তথা জাল বর্ণনা। [মিনহাজুস সুন্নাহ-৭/৪৪৩]

ইবনে কাসীর রহঃ বলেন, এটি মুনকার। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৩/২৫]

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ বলেন, এটা মুনকার। [আল মুনতাখাব মিনাল ইলাল লিলখাল্লাল-১৬৭]

সুতরাং বুঝা গেল যে, এটি একটি জাল ও বানোয়াট রেওয়ায়েত। এর কোন ভিত্তি নেই।

সুতরাং এর মাধ্যমে দলীল পেশ করাই অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়।

আবু বকর রাঃ কে সিদ্দিকে আকবার বলাতে কোন সমস্যা নেই। তবে এর মানে এই নয় যে, আর কেউ সিদ্দীক নয়।

নবীজীর প্রতিটি সাহাবীই সিদ্দীক। তবে আবু বকর রাঃ এর মাঝে এ গুণের প্রাবল্য ছিল। তাই তাকে সিদ্দীকে আকবার বলা হয়।

সেই হিসেবে হযরত আলী রাঃ ও অবশ্যই সিদ্দীক। তবে সিদ্দীকে আকবার সিফাতটি হযরত আবূ কবর রাঃ এর ক্ষেত্রেই উম্মতে মুসলিমা প্রয়োগ করে থাকেন।

কারণ, তাকে এ গুণবাচক নামটি দিয়েছেন স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

যেমন নবীজীর প্রতিটি সাহাবীইতো হক ও বাতিলের মাঝের পার্থক্যকারী। কিন্তু এ গুণটির প্রাবল্য ছিল উমর রাঃ এর মাঝে। তাই তাকে উমরে ফারূক বলা হয়।

যে কারণে আবূ বকর রাঃ কে সিদ্দীক এবং সিদ্দীকে আকবার বলা হয়!

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয় স্বজনদের বাইরে স্বাধীন ও প্রাপ্ত বয়স্ক, সম্ভ্রান্ত এবং প্রভাবশালী হওয়া সত্বেও তিনিই নবীজীর দ্বীনকে প্রথম তাসদীক করেন।

হযরত আলী রাঃ সহ যতজনকেই দ্বীনের দাওয়াত দেয়া হয়েছে, সবাই এ দাওয়াত বিষয়ে কোন না কোন প্রশ্ন বা সংশয় প্রকাশ করেছে। তারপর মুসলমান হয়েছে।

কিন্তু আবূ বকর রাঃ এমন সাহাবী যিনি কোন প্রকার সংশয় ছাড়া নবীর দাওয়াত শুনেই নবীকে তাসদীক করে মুসলমান হয়ে যান। [উয়ূনুল আছার-১/৯৫, সীরাতে ইবনে হিশাম-১/২৩২]

مَا دَعَوْتُ أَحَدًا إِلَى الإِسْلامِ إِلَّا كَانَتْ فِيهِ عِنْدَهُ كَبْوَةٌ وَنَظَرٌ وَتَرَدُّدٌ إِلَّا مَا كَانَ مِنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي قُحَافَةَ مَا عَكَمَ عَنْهُ حِينَ ذَكَرْتُهُ لَهُ وَمَا تَرَدَّدَ فِيهِ

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই আবু বকরকে সিদ্দীক উপাধী প্রদান করেন।

عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَعِدَ أُحُدًا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ، فَقَالَ: «اثْبُتْ أُحُدُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ، وَصِدِّيقٌ، وَشَهِيدَانِ»

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, উমর, ‘উসমান (রাঃ) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি নড়ে উঠল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উহুদ! থামো তোমার উপর একজন নাবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। [সহীহ বুখারী,  হাদীস  নং-৩৬৭৫]

পুরো উম্মতে মুসলিমা আবু বকরকে সিদ্দীক হিসেবে জানে। তার গুণবাচক উপাধী হল সিদ্দীকে আকবর। সুতরাং এ বিষয়ে অহেতুক সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা দূরভিসন্ধিমূলক।

এসব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা জরুরী।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

নারীকে শুধু সন্তান জন্ম আর স্বামীর তৃপ্তির জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে?

ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস