প্রচ্ছদ / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া এবং ফরজ গোসলের পর নামাযের জন্য অজু করার প্রসঙ্গে

ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া এবং ফরজ গোসলের পর নামাযের জন্য অজু করার প্রসঙ্গে

প্রশ্ন

ASSALAMUALAIKUM,

KAMON ACCEN ?

1) FOJORER NAMAZE IMAM FOROJ NAMAZ SORU KORLE SUNNATH PORA JAVE,, ? (((FOJORER FOROJ NAMAZER JAMAT COLA KALIN SUNATH PORE NEVO NAKI JAMATE AGAY SORIK HOBO ?  ))))

2) Jodi karo upor gosul foroj hoi r shy botsor ki botsor dore foroj gosul na kore sadaron bave gosul korlo, tate ki shy povitro hoiye jave..?

foroj gosuler somoi sodo foroj adai korle ta diye ki namaz hoiye jave…?

((((NOTE : uporer ae 2 ta bisoy ami oi din amar student der bocilam… je hadise acce jamat cola kalin onno kono namaz nai… tai fojor er jamat soru hole jeno jamat agay pore ney… r foroj gosuler foroj mene gosul na korle povitro howwa jai na..  foroj gosuler foroj adai korle povitro howwa jai but ta diye namaz quran pora jai na… namaz quran porte oju kora lagbe.. ae kotha sune ek vai bollo je ami naki ri8 bolini ,, kono mufti k jigges korte… apni jodi quran hadis diye sothik somadan ta bole den tobe ALLAH apnake er uttam bodla dan korben… inshaAllah.

উত্তর

وعليكم السلام ورحنة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

১ম প্রশ্নের জবাব

ফজরের সুন্নত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফজরের নামাযের ফরজ শুরু হয়ে গেলেও যদি সুন্নত পড়ে জামাত পাবার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আগে সুন্নত আদায় করে নিবে। তারপর জামাতে শরীক হবে।

عبد الله بن أبى موسى عن أبيه : حين دعاهم سعيد بن العاص دعا أبا موسى وحذيفة وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم قبل أن يصلى الغداة ثم خرجوا من عنده وقد أقيمت الصلاة فجلس عبد الله الى أسطوانة من المسجد فصلى الركعتين ثم دخل في الصلاة فهذا عبد الله قد فعل هذا ومعه حذيفة وأبو موسى لا ينكران ذلك عليه فدل ذلك على موافقتهما إياه (شرح معانى الأثار، كتاب الصلاة، باب الرجل يدخل المسجد والإمام في صلاة الفجر ولم يكن ركع أيركع أو لا يركع، رقم الحديث- 2037

আব্দুল্লাহ বিন মুসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা সাঈদ বিন মুসা হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ, হযরত হুযায়ফা রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ কে ডাকলেন ফজরের নামাযের আগে। তারপর তারা বের হলেন তার [সাঈদ বিন মুসা রাঃ] নিকট থেকে এমতাবস্থায় যে, [ফজরের] নামায দাঁড়িয়ে গেছে। তখন আব্দুল্লাহ মসজিদের এক স্তম্ভের কাছে বসে গেলেন। তারপর দুই রাকাত [ফজরের সুন্নাত] নামায পড়লেন। তারপর নামাযে [ফরজের জামাতে] শরীক হলেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ একাজটি করলেন। সাথে ছিলেন হুযায়ফা ও আবু মুসা রাঃ। কিন্তু তাদের কেউ এটা বারন করেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ বহন করে যে, তারাও এতে রাজি ছিলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৭}

عن أبى إسحاق عن عبد الله بن أبى موسى عن عبد الله : انه دخل المسجد والإمام في الصلاة فصلى ركعتي الفجر (رقم الحديث-2038)

আব্দুল্লাহ বিন আবী মুসা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব ছিলেন নামাযে, তখন তিনি [আগে] ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৮}

এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত দলীল জানতে পড়ুন- ফজরের জামাত চলা অবস্থায় দুই রাকাত সুন্নত নামায পড়া বিষয়ে দলীল জানতে  চাই!

২য় প্রশ্নের জবাব

কারো উপর গোসল ফরজ হলে, গোসলের ফরজসহ গোসল না করলে উক্ত ব্যক্তি পবিত্র হবে না। সেই হিসেবে সে যত নামায পড়বে তার কোন নামাযই গ্রহণীয় হবে না। কারণ নামায হবার জন্য পবিত্র হওয়া আবশ্যক।

বাকি কথা হল গোসল করার সময় ব্যক্তি কোন ফরজটি ত্যাগ করেছে তা দেখতে হবে। যে ফরজটি ত্যাগ করেছে, যদি তা পরবর্তীতে ধুয়ে নেয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি পবিত্র হয়ে গেছে বলে সাব্যস্ত হবে।

যেমন কোন ব্যক্তি ফরজ গোসল করল। কিন্তু নাকে পানি দিল না। তাহলে তার ফরজ গোসল হয়নি। কিন্তু সে নামায আদায় করার যখন ইচ্ছে করল, তখন সে অজু করল। আর অজুতে নাকে পানি প্রবেশ করাল। এতে করে তার গোসলটি পূর্ণ হয়ে সে পবিত্র হয়ে যাবে। তাই তার নামায আদায় করা শুদ্ধ হবে।

আর গোসলের যে তিন ফরজ রয়েছে। যথা নাকে পানি দেয়া, মুখে পানি দেয়া এবং সমস্ত শরীরে পানি প্রবেশ করানো। এ তিনটি কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করলেই অজু হয়ে যায়। তাই নামায আদায়ের  জন্য আলাদা অজু করা  জরুরী নয়।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ [٥:٦]

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথাকে মাসাহ কর। আর পদযুগল গিটসহ ধৌত {সূরা মায়িদা-৬}

সারকথা

উপরোক্ত প্রশ্নের  জবাব বুঝে থাকলে আপনি নিশ্চয় বুঝে গেছেন আপনি কী কী ভুল তথ্য প্রদান করেছেন?

তবু পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করে দেয়া হচ্ছে-

১-

ফজরের জামাত শুরু হলে সুন্নত পড়তে পারবে না, আপনার এ  বক্তব্যটি ভুল ছিল।

২-

গোসলের ফরজ আদায় করে গোসল করার পর নামায আদায় করার জন্য আবার অজু করা জরুরী মর্মের আপনার বক্তব্যটি ভুল ছিল।

জাযাকাল্লাহ।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

 

আরও জানুন

পাকিস্তানী সুন্নী নামধারী পীর তাহের শাহ ও তার দলের আকীদা বিশ্বাস কি সঠিক?

প্রশ্ন আসসালামুআলাইকুম, হুজুর আমি আপনার বয়ান, ওলীপুরি,চরমোনাই  এবং দেওবন্দি হুজুরদের বয়ান শুনি। সাধারন শিক্ষিত হলেও …

No comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *