প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / “আল্লাহ একজন আছেন আমি বিশ্বাস করি না” স্বামীর এমন কথার কারণে ঈমান ও বিয়ের হুকুম কী?

“আল্লাহ একজন আছেন আমি বিশ্বাস করি না” স্বামীর এমন কথার কারণে ঈমান ও বিয়ের হুকুম কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম। মুফতি সাহেব!

আমার নাম সুমি। আমি ঢাকা থাকি। আমার রনি নামের এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে আমরা লুকিয়ে বিয়ে করি একটি মাদ্রাসা গিয়ে। বিয়ের পর কয়েকদিন ভালই চলছিল।

2015 সালের পর নানা কারনে ঝগড়া লেগেই থাকত। আমার ও তার নানা পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিকভাবে অনেক প্রেশারে থাকত। তাই মাঝে মাঝে কুফরী কথা বলত। যেমন “আল্লাহ একজন আছেন আমি বিশ্বাস করি না। আল্লাহ থাকলে আমার জীবনে এমন হত না। আমি ধর্মকে বিশ্বাস করি না” ইত্যাদি ইত্যাদি।

2016 সালের 28 ফেব্রুয়ারি আমার সাথে রনির অনেক বেশী ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি রনিকে খুব চাপাচাপি করি তালাক দেয়ার জন্য। রনিও আমাকে রাগের মাথায় এক সাথে “এক তালাক” করে 3 বার তালাক দেয়। (আমার মনের প্রবল ধারণা )।

এভাবে মাঝে মাঝে রনি আমাকে তালাক দিত। (আমার সঠিক মনে নাই কত দিন)।

এই ঘটনার পরও তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল।

আমি 2018 শেষে সিলেট চলে আসি। এখন তার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক নাই। তবে হটাৎ ফোনে কথা হয়। এখন আমার জানার বিষয় হলোঃ-

1.রনির সাথে আমার বিয়ের সম্পর্ক আছে কি না।

2.তার কুফরী কথার কারণে বিয়ে কি আগেই ভেংগে গেছে না তালাক দেয়ার পর ভাংছে।

3.তালাক দেয়ার সময় বাসায় কেউ ছিল না। মানে কুনো সাক্ষী ছিল না। শুধু আমি আর রনি। তাহলে কি তালাক হবে বা হইছিল।

(কারন সিলেট দরগাহ মাদ্রাসার মুফতী সাহেব বলছেন আমাকে রনি তালাক দিসে তার জন্য সাক্ষী লাগবে)

4.রনি যে আমাকে তালাক দিল তাতে কি আমি তার সাথে আবার সংসারজীবন করতে পারব কি না। অথবা আমি কি অন্য কোথাও বিয়ে করতে পারব কি না।

  1. অন্য কোথাও বিয়ে করতে কি করতে হবে।

 

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি রনি সাহেব উপরোক্ত কুফরী কথা আল্লাহ ও ইসলাম বিষয়ে বলে থাকেন, তাহলে এর দ্বারা তার ঈমান চলে গেছে। নতুন করে মুসলমান হওয়া এবং নতুন করে বিবাহ দোহরানো তার উপর আবশ্যক ছিল।

যেহেতু তার কোনটিই সে করেনি। তাই আপনাদের বিবাহ বাকি নেই। সুতরাং পরবর্তীতে প্রদান করা তালাকগুলো ধর্তব্যই হবে না।

যদি রনি সাহেব কালিমা পড়ে নতুন করে মুসলমান হন, তাহলে আবার নতুন করে বিয়ে করলে রনির সাথে ঘর সংসার করা আপনার জন্য বৈধ হবে।

এছাড়া যেহেতু ইদ্দতও শেষ হয়ে গেছে, তাই অন্যত্র বিয়ে করারও আপনার সুযোগ রয়েছে।

والإستهزاء على الشريعة كفر (شرح العقائد-168)

مِنْ باتو بِحُكْمِ خَدًّا كارميكتم فَقَالَ: خَصْمُهُ مِنْ حُكْم خَدًّا نِدًّا نَمْ، أَوْ قَالَ: أَنْ ينجا حُكْم نرود، أَوْ قَالَ: اينجا حُكْم نيست، أَوْ قَالَ: خداي حاكمي رانشايد، أَوْ قَالَ: اينجا يواست حُكْم كَنِدِّ فَهَذَا كُلُّهُ كُفْرٌ (الفتاوى الهندية، كتاب السير، الباب التاسع، مطلب موجبات الكفر أنواع-2\258، جديد-2\271)

مسلم قال: أنا ملحد يكفر، ولو قال: ما علمت أنه كفر لا يعذر بهذا (الفتاوى الهندية، كتاب السير، الباب التاسع، مطلب موجباتت الكفر أنواع-2\279، 2\289)

من رضى بكفر نفسه فقد كفر (الفتاوى التاتارخانية، كتاب أحكام المرتدين، الفصل الأول-7\283، رقم-10493)

من أتى بلفظة الكفر مع علمه أنها لفظة الكفر عن اعتقاد، فقد كفر، وإن لم يعتقد أو لم يعلم أنها لفظة الكفر، ولكن أتى بها عن اختيار، فقد كفر عند عامة العلماء رحمه الله تعالى، ولا يعذر بالجهل، (المحيط البرهانى، كتاب السير، الفصل الثانىوالأربعون، المجلس العلمى، بيروت-7\397، رقم-9178)

وارتداد أحدهما فسخ فى الحال، وهذا قول أبى حنيفة وأبى يوسف، وقال محمد: إن كانت الردة من المرأة، فكذالك، وإن كانت من الزوج فهى فرقة بطلاق (تبيين الحقائق-2\622، مجمع الأنهر، بيروت، دار الكتب العلمية-1\546، رد المحتار-4\366)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

শিয়া ছেলের সাথে সুন্নী মতাদর্শী মেয়ের বিবাহের হুকুম কী?

প্রশ্ন 1) আমার বড় ভাইয়ের ছোট মেয়ে শিয়া আকিদার একটা ছেলের সাথে প্রেম করে কয়েক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *