প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রমাণিক নিরসন [২য় পর্ব]

সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রমাণিক নিরসন [২য় পর্ব]

প্রথম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন

ভূমিকা

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، خاتم النبيين لا نبي بعده، وأسأله تعالى أن يصلي ويسلم ويبارك على سيدنا ومولانا ونبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد :

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ বিগত শাবান-রমযান ১৪৪০ হি. (এপ্রিল-মে ২০১৯ ঈ.) সংখ্যায় ‘সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় কখন শুরু? একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর’ শিরোনামে এই প্রবন্ধের প্রথম অংশ পড়েছেন। আলহামদু লিল্লাহ এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, সুবহে সাদিক একটি প্রাকৃতিক ও প্রকাশ্য আলামত, যা নির্ভর করে মূলত ‘আইনী মুশাহাদা’ তথা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের উপর। আর চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণে এটাই প্রমাণিত যে, সূর্য যখন দিগন্তের ১৮° নিচে পৌঁছে তখন থেকেই সুবহে সাদিক শুরু হয়ে যায়। এটা ফুকাহায়ে কেরাম ও মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী- সকলের নিকট একটি স্বীকৃত ও স্বতঃসিদ্ধ  বাস্তবতা।

প্রবন্ধের ঐ অংশে ফুকাহায়ে কেরামের উদ্ধৃতি ছাড়াও পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল শ্রেণির জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অধিক পরিমাণে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি পরিষ্কার যে, সুবহে সাদিকের উদয়কে ১৫° পর্যন্ত বিলম্বিত ভাবা- এটা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ এবং শাস্ত্রজ্ঞদের স্পষ্ট ফায়সালার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর পক্ষে যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটা দশম শতাব্দীর একজন লেখক আবদুল আলী বিরজান্দী রাহ.-এর বিচ্ছিন্ন একটা ইবারত। লেখক সেটা কোন্ কিতাবে পেয়েছেন এবং এটি কার বক্তব্য- কিছুই জানা নেই। অর্থাৎ বিরজান্দীর এই ইবারত আগের কোন্ কিতাবে আছে এবং তার প্রবক্তা কে- সেটা অজ্ঞাত। বিষয়বস্তুর বিচারেও তা বাস্তবতা, পর্যবেক্ষণ ও শাস্ত্রজ্ঞদের সুস্পষ্ট বক্তব্য- এই সবকিছুর বিপরীত। দুঃখের বিষয়, পরবর্তী কোনো কোনো লেখক ভুলবশত এই ইবারত তাদের কিতাবে নকল করে দিয়েছেন। ব্যস, এই ভুলই আহসানুল ফাতাওয়ার দাবির দলীল। তাঁর দাবি- সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে থাকতে সুবহে সাদিক হয় না; বরং ১৫° নিচে থাকতে হয়। কোনো সন্দেহ নেই, এটা কারো ভুলের উপর দাঁড় করানো একটা ব্যক্তিগত মত বৈ কিছু নয়।

প্রয়োজন ছিল, বিরজান্দীর কিতাবে এই বিচ্ছিন্ন ও অজ্ঞাত উদ্ধৃতি কীভাবে এল এবং তার ভুল বোঝার উৎস কী- সেটা তাহকীক করা। তা না করে আহসানুল ফাতাওয়ায় এই বিচ্ছিন্ন কথাকেই গ্রহণ করা হয়েছে। আর যে বিষয়টি বাস্তবেই স্বীকৃত এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ও আমলে মুতাওয়ারাছ তথা উম্মতের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারার মাধ্যমে প্রমাণিত, সেটাকে ভুল এবং ইজমাপরিপন্থী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিজের ভুলের কারণ না খুঁজে উল্টো সহীহ মতের অনুসারীদের প্রতি অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা বিভিন্ন কারণে ভুল বুঝাবুঝির শিকার হয়েছেন। জানা নেই, হযরতকে কেন এই অবাস্তব দাবি করতে হল। আফসোস, এই অবাস্তব দাবি প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (অ্যাস্ট্রোনমি)-এর কিছু পরিভাষা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন, আর আশ্চর্য সব ভুলের শিকার হতে লাগলেন। তম্মধ্যে মৌলিক ও কঠিন ভুল দু’টি-

এক

তিনি বলেন, ‘পুরনো ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারীগণ (যারা ১৮°-এর হিসাব অনুযায়ী ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করেছেন) জোডিয়াকাল লাইটকে সুবহে কাযিব মনে করার কারণে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন’। অথচ জোডিয়াকাল  লাইট তো সুবহে কাযিবই। একে সুবহে কাযিবই বলতে হবে। এখানে বিভ্রান্তির কিছুই নেই।

দুই

তিনি এও বলেন, ‘পুরনো ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারীগণ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটকে সুবহে সাদিক মনে করার কারণে ভুলের শিকার হয়েছেন’। আর তাঁর ধারণায় অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট সুবহে সাদিক নয়, বরং সুবহে কাযিব। অথচ বাস্তবতা হল, বিজ্ঞানীরা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট-এর যে পরিচয় দিয়েছে সে হিসাবে তা সুবহে সাদিক বৈ অন্য কিছু নয়।

হযরত রাহ. বাস্তবতার এবং শাস্ত্রজ্ঞদের সুস্পষ্ট ভাষ্যসমূহের বিরোধিতা করে যে দাবি করেছিলেন (অর্থাৎ সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে থাকতে সুবহে কাযিব শুরু হয় আর ১৫° নিচে থাকতে সুবহে সাদিক শুরু হয়) সেটার পক্ষে তো অন্তত বিরজান্দীর একটি ভুল দাবি ও তার উল্লেখ করা একটি বিচ্ছিন্ন ইবারত হলেও পেশ করেছেন- যদিও তার উদ্ধৃতি ও প্রবক্তা অজ্ঞাত। কিন্তু অ্যাস্ট্রোনমির আলোচনায় তিনি যে দাবি করেছেন, অর্থাৎ ‘জোডিয়াকাল  লাইট সুবহে কাযিব নয় আর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট সুবহে সাদিক নয়, বরং সুবহে কাযিব’; অতঃপর মারাত্মক এই দুই ভুলের সমর্থনে আরো যত অবাস্তব কথা বলেছেন- সেগুলোর পক্ষে তিনি কারো কোনো বক্তব্য উল্লেখ করতে পারেননি। তাঁর নিকট পুরো অ্যাস্ট্রোনমি ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে কোনো বিচ্ছিন্ন ও অজ্ঞাত উদ্ধৃতিও ছিল না, যেটাকে তিনি তার মতের সমর্থনে পেশ করবেন । বরং এখানেও তিনি আসলে বিরজান্দীর ভুল এবং তার অজ্ঞাত উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করেছেন। এই ভুল ধারণার ভিত্তিতে যেভাবে তিনি ফুকাহায়ে কেরামের এবং পুরোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুস্পষ্ট বক্তব্যগুলোর (যে কয়টা তিনি পেয়েছেন) ভুল ব্যাখ্যা করেছেন, সেভাবে একই ভুল ধারণার ভিত্তিতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষাদ্বয় (জোডিয়াকাল লাইট ও অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট)-এর ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। অতএব বিরজান্দীর ভুলই যদি তাঁর দাবির একমাত্র ভিত্তি হয় তবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের নাম নেওয়ারই বা কী প্রয়োজন ছিল?!

আল্লাহ তাআলা জাযায়ে খায়ের দান করুন প্রিয় মাওলানা মুহাম্মাদ ফয়যুল্লাহকে। তিনি মাশাআল্লাহ অ্যাস্ট্রোনমির মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে শাস্ত্রজ্ঞদের অনেক সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যেগুলোতে স্বীকৃত বাস্তব বিষয়টিরই বর্ণনা আছে। অর্থাৎ জোডিয়াকাল লাইট সুবহে কাযিব আর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট সুবহে সাদিক।

প্রবন্ধের এই অংশে শুধু এ বিষয়টিই আলোচনা করা হয়েছে। বাস্তব কথা হল, যত উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। এই উদ্ধৃতিগুলো আহসানুল ফাতাওয়াতে অ্যাস্ট্রোনমির আলোচনায় যেসব ভুল ও অবাস্তব দাবি আছে সেগুলোর স্পষ্ট ও দলীল নির্ভর খণ্ডন। আসলে এরপর অতিরিক্তি কিছু বলার ও লেখার প্রয়োজন ছিল না। তবু প্রবন্ধকার এ বিষয়ে আরো আলোচনা করেছেন এবং জোডিয়াকাল লাইট ও অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট বিষয়ে হযরতের প্রসঙ্গত আরো যেসব ভুল হয়েছে সেগুলোও আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রবন্ধের এই অংশের দ্বিতীয় কিস্তি ইনশাআল্লাহ সামনে প্রকাশিত হবে। আহসানুল ফাতাওয়ার অবশিষ্ট আলোচনা এবং তাতে বিদ্যমান অন্যান্য উদ্ধৃতির বিষয়ে দলীল নির্ভর পর্যালোচনা ইনশাআল্লাহ প্রবন্ধের তৃতীয় অংশে হবে। সেই অংশটি দীর্ঘ হওয়ায় সম্ভবত একাধিক কিস্তিতে প্রকাশ করতে হবে। প্রবন্ধের চতুর্থ অংশ ঐসকল লেখকের বক্তব্য পর্যালোচনার জন্য, যারা আহাসানুল ফাতাওয়ার তাসামুহ (ভ্রম)-কে আহসানুল ফাতাওয়ার তাসামুহসমূহেরই ভিত্তিতে প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টায় লেগে আছেন। প্রবন্ধের শেষ অংশ ইনশাআল্লাহ সুবহে সাদিক, সুবহে কাযিব ও শাফাকে আবয়ায ইত্যাদির মুশাহাদা ও পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে হবে। সবশেষে হবে উপসংহার। والله الموفق والمعين

প্রবন্ধের প্রথম অংশ প্রকাশিত হবার পর যেমন লম্বা বিরতি দেয়া হয়েছে, এই অংশের দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশিত হবার পরও ইনশাআল্লাহ তেমনি লম্বা বিরতি থাকবে। এই আলোচনা কিংবা তার কোনো উদ্ধৃতি বা বক্তব্যের বিষয়ে কারো কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। ইনশাআল্লাহ তার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

প্রবন্ধের প্রথম অংশ প্রকাশিত হবার পর আলহামদু লিল্লাহ তা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং তার ভালো প্রভাবও প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষত এ দেশের একজন বড় ব্যক্তিত্ব ফোন করে আমাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং বলেছেন, এই প্রবন্ধ পড়ে আমার মত পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটি কিতাবাকারে প্রকাশ করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা পুরো প্রবন্ধটিকে কবুল করুন। একে হক প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বানান  এবং এর বরকতে এই বিষয় নিয়ে হওয়া সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করে দিন। প্রবন্ধকারকে আমাদের পক্ষ থেকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। তার ইলম-আমলে বরকত দান করুন এবং তাকে আফিয়াতের সঙ্গে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন- আমীন।

আরযগুযার

বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

(গুফিরা লাহু)

২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪১ হি.

বুধবার রাত

الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد :

সুবহে সাদিক কখন শুরু হয়- এ প্রশ্নের উত্তর মাসিক আলকাউসারের এপ্রিল-মে ’১৯ সংখ্যায় বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রমাণের জন্য আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আশ্রয় নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি তো পুরনো মাসআলা। কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে এর হেদায়েত রয়েছে। ফিকহ-ফতোয়ার কিতাবে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে। সালাফের আমলে এর প্রায়োগিক রূপ-রেখা বিদ্যমান। উপরন্তু মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ শত শত বছর আগেই তাদের শাস্ত্রীয় ভাষায় বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন এবং এ অনুযায়ীই যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহ্র আমল চলে আসছে। আর তাদের এসব বক্তব্যের ভিত্তিই হল মুশাহাদা তথা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ (observation)। দীর্ঘদিন নিখুঁতভাবে মুশাহাদার মাধ্যমেই তারা ১৮° তে সুবহে সাদিকের কথা বলেছেন। বিষয়টিই তো এমন যে, মুশাহাদাই এর মূল ভিত্তি। অতএব এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের উন্নতির এ যুগেও এমন কোনো সম্ভাবনা নেই যা পূর্বের মুসলিম বিজ্ঞানী ও উলামায়ে উম্মতের অসংখ্য মুশাহাদাকে ভুল সাব্যস্ত করবে। বাস্তবতাও তাই। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুযায়ীও সুবহে কাযিব হয় ১৮°-এর আগে। আর ভোর বা ফজর শুরু হয় ১৮° -এ। ফিকহের পরিভাষায় যার নাম সুবহে সাদিক।

সূর্যোদয়ের আগে ভোরের সময় পূর্ব আকাশে এবং সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যার সময় পশ্চিমাকাশে যে আলো দেখা যায় আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে উভয়টির নাম, Twilight । ভোরের টোয়াইলাইটকে বিশেষভাবে ফধহি-ও বলা হয়। আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের আরবী পরিভাষায় টোয়াইলাইটকে الشفق বলা হয়। এই টোয়াইলাইট তিন প্রকার। 1. Civil Twilight 2. Nautical Twilight 3. Astronomical Twilight|। সূর্য যখন দিগন্তের ৬° নিচে থাকে ঐ সময়ের আলোর নাম হল Civil Twilight । ১২° নিচে থাকে যখন তখনের আলোর নাম Nautical Twilight । আর Astronomical Twilight হল ঐ আলো, যা সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে থাকা অবস্থায় দেখা যায়। টোয়াইলাইটের এ বিবরণ সবার নিকট স্বীকৃত। দেখুন-

Explanatory supplement to the astronomical ephemeris and the American ephemeris and nautical almanac, Issued by  H. M. Nautical Almanac Office. 1961. p. 399; Philips Astronomy Encyclopedia p. 417; Encyclopedia of space and Astronomy (by joseph a. angelo, jr.) p.621; lights in the sky by Michael Maunder, Springer-Verlag London Limited 2007. p. 45; Norton’s Star Atlas and Reference Handbook  (Epoch 1950) p.38; The Encyclopaedia Britannica. vl. 27 p. 492 Eleventh Edition (1910–11).

টোয়াইলাইটের এ তিন প্রকারের মধ্যে ভোরের সময় পূর্ব দিগন্তে সর্ব প্রথম এবং সন্ধ্যার সময় পশ্চিম দিগন্তে সর্বশেষে দেখা যায় অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আরবী পরিভাষায় যার নাম الشفق الفلكي।

ভোরের সময় টোয়াইলাইটের আগ মুহূর্তে পূর্ব আকাশে এবং সন্ধ্যার সময় টোয়াইলাইটের পরপরই পশ্চিমাকাশে উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে আরেকটি আলো প্রকাশিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম Zodiacal light । জ্যোতির্বিজ্ঞানের আরবী পরিভাষায় যার নাম الضوء البروجي।

টোয়াইলাইট ও জোডিয়াকাল লাইট

সম্পর্কিত আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আলোচনা অধ্যয়ন করলে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না যে, তাদের জোডিয়াকাল লাইট সুবহে কাযিব ও শাফাকে কাযিব এবং অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট হল সুবহে সাদিক ও শাফাকে আবয়ায। যা ভোরের সময় ১৮° তে শুরু হয় এবং সন্ধ্যার সময় ১৮° তে শেষ হয়।

কিন্তু আহসানুল ফাতাওয়াতে বলা হয়েছে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট হল সুবহে কাযিব। আর জোডিয়াকাল লাইটের সাথে সুবহে কাযিবের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সুবহে কাযিবের অনেক আগে প্রকাশ হয়।

১৮°-এ সুবহে সাদিক প্রমাণিত হওয়ার জন্য আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রয়োজন না থাকলেও এই বাস্তবতা বিরোধী উক্তিটির খ-নের জন্য এক্ষেত্রে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের বক্তব তুলে ধরা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।

জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে আহসানুল ফাতাওয়াতে বলা হয়েছে-

وسط اگست تا وسط اكتوبر ميں مشرق كى طرف صبح كاذب سے كافي پهلے زوڈيكل لائٹ ظاهر هوتى هے، جس كا صبح سے كوئي تعلق نهيں۔ اسى طرح يه روشنى مغرب كى طرف وسط فروري تا وسط اپريل ميں ظاهر هوتى هے. جارج ايبل نے اپنى كتاب “ايكس  پلورشن آف دي يونورس”مطبوع ১৯৬৪ ع ميں زوڈيكل لائٹ سے متعلق لكھا هے كه : ্রاسے بعض اوقات صبح كاذب بھی كها جاتا هےগ্ধ۔ اس سے يه غلط فهمى هو سكتى هے كه اسكے بعد ظاهر هونيوالى اسڑونوميكل ٹوائيلايٹ صبح صادق هوگى۔ … غرضيكه زوڈيكل لائٹ كا اصطلاح شريعت سے كوئي تعلق نهيں، بلكه قوس قزح  كى طرح ايك انعكاسي روشنى هے جو سال بھر ميں صرف دو ماه وسط اگست تا وسط اكتوبر ميں بعض مقامات پر نمودار هوتى هے اور اسڑ ونوميكل ٹوائيلايٹ سے كافي پہلے بالكل ختم هو جاتى هے۔

(আহসানুল ফাতাওয়া ২/১৭৮-১৮০)

আহসানুল ফাতাওয়ার অন্যত্র বলা হয়েছে-

ان اوقات ميں ايك وقت  اسڑونوميكل ٹوائيلايٹ كهلاتا هے، اس وقت آفتاب افق سے اٹھاره درجه نیچے هوتا هے، قديم وجديد ماهرين فلكيات اس پر متفق هے كه اسوقت سے قبل مكمل اندھيرا هوتا هے .. اس كے بعد متصل صبح كاذب شروع هوتى هے۔

(আহসানুল ফাতাওয়া ২/১৬০)

এখানে তিনি একাধারে অনেকগুলো দাবি করে গেছেন, যার সবগুলোই বাস্তবতা বিরোধী।

১. জোডিয়াকাল লাইট সুবহে কাযিবের বেশ আগে প্রকাশ হয়।

২. অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের অনেক আগেই জোডিয়াকাল লাইট শেষ হয়ে যায়।

৩. জোডিয়াকাল লাইট বছরে কেবল দু’মাস দেখা যায়। তাও কেবল কোনো কোনো এলাকায়।

(অথচ কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমন কথা বলেননি। বরং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে (tropics)  জোডিয়াকাল লাইট সারা বছরই দেখা যাওয়া সম্ভব। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশিতব্য আগামী কিস্তিতে দেখুন।)

৪. অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের পরই সুবহে কাযিব শুরু হয়। অর্থাৎ তিনি বলতে চাচ্ছেন, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট সুবহে সাদিক হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। (নাউযু বিল্লাহ)

৫. জর্জ ও. অ্যাবেল (George O. Abell)-এর বক্তব্য, ‘জোডিয়াকাল লাইটকে সুবহে কাযিবও বলা হয়।’ (যা শতভাগ সত্য ও স্বতঃসিদ্ধ)। এর ব্যাপারে এ দাবি করা যে, এখান থেকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটকে সুবহে সাদিক বলা হয়েছে।

কিন্তু এসব দাবির স্বপক্ষে আহসানুল ফাতাওয়ার এই পুরো আলোচনায় কোনোই প্রমাণ দেওয়া হয়নি। একাধারে শুধু দাবির পর দাবিই করা হয়েছে। আর বর্তমানেও যারা এ কথাগুলো বলে যাচ্ছেন, তাদের কাছেও আহসানুল ফাতাওয়ার এ দাবিগুলোই সর্বোচ্চ দলীল। এর বাইরে তাদের কাছে কোনো দলীল পাওয়া যায় না।

সুবহে কাযিবের পরিচয় তো স্বীকৃত একটি বিষয়। ফজরের পূর্ব মুহূর্তে আকাশে উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে যে আলো দৃশ্যমান হয় তাই সুবহে কাযিব। হাদীস শরীফে যেটিকে- بَيَاضُ الْأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ (দিগন্তের দৈর্ঘে প্রকাশিত লম্বা আলো) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এটিকে ذَنَبُ السَّرحانِ (নেকড়ের লেজ) দ্বারা পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

আহসানুল ফাতাওয়া-এর দাবি অনুযায়ী অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের পর যদি সুবহে কাযিব শুরু হয় তাহলে এর আলো দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু আহসানুল ফাতাওয়ার এই পুরো আলোচনায় অ্যাস্ট্রোনমির কোনো একটি বই থেকেও এর কোনো প্রমাণ পেশ করা হয়নি। বর্তমানে যারা এর অনুসরণ করে থাকেন, তাদের কাছে আমাদের সবিনয় আরজ, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের আলো যে দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে প্রকাশ হয়- এ ব্যাপারে অ্যাস্ট্রোনমির বই থেকে অন্তত দু-একটি প্রমাণ হলেও পেশ করুন।

এমনিভাবে তাতে যে দাবি করা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইট সুবহে কাযিবের বেশ আগে প্রকাশ হয় এবং অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়- এ ব্যাপারেও জ্যোতির্বিজ্ঞানের বই থেকে কোনো প্রমাণ বা উদ্ধৃতি কিছুই তাতে নেই। আমরা এরও প্রমাণ চাচ্ছি।

তেমনি জোডিয়াকাল লাইটের পর দৃশ্যমান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটকে যারা সুবহে সাদিক বলেন জর্জ ও. অ্যাবেলের বক্তব্য থেকে তাদের বিভ্রান্তি কীভাবে হয়েছে এবং তা বিভ্রান্তি কেন- এর কোনো ব্যাখ্যা এবং এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ কিছুই তিনি উল্লেখ করেননি।

অথচ বাস্তবতা হল, জোডিয়াকাল লাইটই সুবহে কাযিব এবং অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট হল সুবহে সাদিক। আর জোডিয়াকাল লাইটই যখন সুবহে কাযিব তাই একথা বলা যে, সুবহে কাযিবের অনেক আগে তা দেখা যায়- এটি সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিরোধী কথা। বরং ভোর বেলা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট (সুবহে সাদিক) শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায়। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট স্বীকৃত বিষয়। জোডিয়াকাল লাইট অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাটের অনেক আগে শেষ হয়ে যায়- এমন ধারণা যেমন বাস্তবতা বিরোধী তেমনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুস্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিশ্বাকোষ, আন্তর্জাতিক মানের ডিকশনারি, জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রামাণ্য গ্রন্থ ও বিভিন্ন অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের বক্তব্য থেকে এর সুস্পষ্ট কিছু প্রমাণ সামনে তুলে ধরা হল।

হাদীসে বর্ণিত সুবহে কাযিবের পরিচয় এবং আহসানুল ফাতাওয়ার পূর্বোক্ত দাবিগুলো স্মরণে রেখে আমরা সামনে উদ্ধৃত জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্যগুলো মিলিয়ে দেখে নিই, এর দ্বারা কী প্রমাণিত হয়।

এখানে লক্ষণীয় যে, সামনের উদ্ধৃত বক্তব্যগুলোর পুরো অনুবাদ তুলে ধরলে যেহেতু কলেবর অনেক বেড়ে যাবে তাই তাদের বক্তব্য থেকে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মূল কথাগুলোই কেবল বাংলায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

আহসানুল ফাতাওয়াতে যেহেতু জর্জ ও. অ্যাবেলের প্রসঙ্গ এসেছে তাই প্রথমে তার উক্ত বই থেকে পুরো বক্তব্যটি উল্লেখ করা হল।

জর্জ ও. অ্যাবেলের বক্তব্য

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি (লস এঞ্জেলস)-এর অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের প্রধান জর্জ ও. অ্যাবেল (George O. Abell) (১৯২৭-১৯৮৩ ঈ.)। জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে তার পুরো বক্তব্য হল-

The zodiacal light is a faint glow of light along the zodiac (and ecliptic). It is brightest along those parts of the ecliptic nearest the sun and is best seen in the west in the few hours after sunset or in the east before sunrise. Under the most favorable circum stances, the zodiacal light rivals the Milky Way in brilliance. It is sometimes called the “false dawn” because of its visibility in the morning hours before twilight actually begins.

The zodiacal light has the same spectrum as the sun, which shows it to be reflected

sunlight. Gas molecules and atoms cannot be numerous enough in space to scatter enough sunlight to contribute appreciably to the zodiacal light. Not only are molecules inefficient scatterers of light, but what light they do scatter (that is, reflect helter-skelter) is mostly blue and violet light of short wavelength-the blue daylight sky comes from the scattering of sun light by air molecules. The present interpretation of the zodiacal light, then, is that the interplanetary dust is concentrated most heavily in the plane of the ecliptic. The dust reflects enough sunlight to produce the faint glow along the zodiac.

দেখুন-

Exploration of the Universe p.377; (third edition) George O. Abell. university of California, los angeles (© 1964, 1969, 1975 by Holt, Rinehart and Winston)

তার এ বক্তব্যটির প্রথম অংশে তিনি বলেছেন-

‘জোডিয়াকাল লাইট হল, জোডিয়াক (ও ইক্লিপটিক) বরাবর লম্বা হাল্কা আলোর একটি আভা। ইক্লিপটিক-এর যে অংশগুলো সূর্যের নিকটবর্তী সে স্থান থেকে এটি সূর্যাস্তের কিছু সময় (দেড়-দুই ঘণ্টা) পর পশ্চিম দিকে কিংবা সূর্যোদয়ের কিছু সময় (দেড়-দুই ঘণ্টা) আগে পূর্ব দিকে সবচেয়ে ভাল দেখা যায়। সর্বাধিক অনুকূল পরিবেশে মিল্কিওয়ে থেকে আরো উজ্জ্বল থাকে। যেহেতু এটি ভোররাতে টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগে প্রকাশ হয় তাই একে কখনও ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব) বলা হয়।’

এখানে লক্ষণীয় যে, ইক্লিপটিক হল সূর্যের পথ। যে পথে সূর্য আকাশে পরিক্রমন করে থাকে। আর জোডিয়াক হল, ইক্লিপটিক-এর উত্তরে বা দক্ষিণে ৮° পরিমাণ বিস্তৃত এক বেল্ট বা অঞ্চল। যার ভেতর দৃশ্যমান গ্রহগুলো অবস্থিত। এর থেকে সহজেই অনুমেয় যে, সূর্য সকালে উপর দিকে যে পথ ধরে উঠে থাকে জোডিয়াকাল লাইটও আকাশে ঐ বরাবর লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান হয়।

জর্জ ও. অ্যাবেল এরপর বলেছেন, জোডিয়াকাল লাইট মূলত সূর্যেরই আলো। তবে এই আলো আকাশে সূর্য থেকে সরাসরি দৃশ্যমান হয় না। বরং ইক্লিপটিক-এ বিদ্যমান interplanetary dust আন্তগ্রহ ধূলিকণায় প্রতিবিম্বিত হয়ে দৃশ্যমান হয়।

তার বক্তব্যের সারাংশ তাহলে এই দাঁড়ায় যে, জোডিয়াকাল লাইট সূর্যের আলো। তা দেখা যায় ভোররাতে টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে। এই আলো জোডিয়াক ও ইক্লিপটিক বরাবর আকাশে উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান হয় এবং এই আলো থেকে সূর্যের দূরত্ব অনেক কম থাকে। আর ফজরের পূর্বমুহূর্তে আকাশে উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান আলো-ই ফিকহের পরিভাষায় সুবহে কাযিব। হাদীস শরীফে যেটিকে  بَيَاضُ الْأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ (দিগন্তের দৈর্ঘে প্রকাশিত লম্বা আলো) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তো জর্জ ও. অ্যাবেল জোডিয়াকাল লাইটের যে পরিচয় দিয়েছেন এর থেকেই স্পষ্ট যে, এটি সুবহে কাযিব বৈ কিছু নয়। এত কিছু বলার পর এটি যে ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব) স্পষ্টভাবে তা না বললেও বোঝার কোনো বাকি থাকে না। তারপরও তিনি বলেছেন-

It is sometimes called the “false dawn” because of its visibility in the morning hours before twilight actually begins.

‘ভোর বেলা টোয়াইলাইট পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগে যেহেতু এটি দেখা যায় তাই এটিকে কখনো false dawn (সুবহে কাযিব)ও বলা হয়।’

তার এ কথা থেকে আরো স্পষ্ট যে,  জোডিয়াকাল লাইটই সুবহে কাযিব। এবং তা দেখা যায় সকালবেলা টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই; টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার অনেক আগে নয়। যেমনটি আহসানুল ফাতাওয়াতে দাবি করা হয়েছে।

জর্জ ও. অ্যাবেলের বক্তব্যে জোডিয়াকাল লাইটের যে পরিচয় এসেছে অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের থেকে এরচে’ আরো অনেক সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন পরিচয় পাওয়া যায়। যার দ্বারা কোনো রকম সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, এটিই সুবহে কাযিব। সামনে এমন আরো কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরা হল।

Outlines of Astronomy

ইংল্যান্ডের প্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-এর তখনকার প্রেসিডেন্ট Sir John Herschel (১৭৯২-১৮৭১ঈ.) বলেন-

We shall conclude this chapter by the mention of two phenomena, which seem to indicate the existence of some slight degree of nebulosity about the sun itself, and even to place it in the list of nebulous stars. The first is that called the zodiacal light, which may be seen any very clear evening soon after sunset, about the months of March, April, and May, or at the opposite seasons before sunrise, as a cone or lenticularly-shaped light, extending from the horizon obliquely upwards, and following generally the course of the ecliptic, or rather that of the sun’s equator.

দেখুন-

Outlines of Astronomy, p. 657-8, by Sir John F. W. Herschel, Bart., K.H; London:

Longmans, Green and Co. 1878

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইট প্রকাশ হয় soon after sunset সূর্যাস্তের অল্প সময় পরই, or at the opposite seasons before sunrise তেমনি সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে।

জোডিয়াকাল লাইটের আকার ও ধরন সম্পর্কে উল্লেখ হয়েছে, এটি cone (শঙ্কু) আকারে দিগন্তের উপর লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, পড়হব হল জ্যামিতিক একটি আকারের নাম। বাংলায় যাকে বলে শঙ্কু আকার। সহজে এটিকে পিরামিড আকারও বলা হয়। কোন্ আইসক্রিম বা মুলা-গাজরের সরু অংশটিকে উপর দিক করে ধরলে যে আকার তৈরি হয় এটিই cone আকার।

Elements Of Astronomy

আমেরিকান প্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ঝরসড়হ ঘবপিড়সন (১৮৩৫-১৯০৯ ঈ.)। ইউনাইটেড স্টেটস নেভাল অবজারভেটরির নটিকাল আলমানাক (Nautical Almanac) অফিসের তখনকার পরিচালক। তার বক্তব্যে জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় এভাবে এসেছে-

If we look at the western sky on a clear evening of winter or spring just after the end of twilight, we shall see a very faint, soft column of light extending along the region of the ecliptic, and gradually fading away as we look further from the horizon. The same appearance may be seen in the eastern horizon before daybreak, in the summer and autumn. This appearance is called the zodiacal light, because it extends along the region of the zodiac.

দেখুন-

Elements Of Astronomy, p.101, By Simon Newcomb

এখানে স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে যে, দিগন্তের উপরের দিকে লম্বা আকারে দৃশ্যমান জোডিয়াকাল লাইটের এই আলো প্রকাশ হয়- just after the end of twilight অর্থাৎ টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। একইভাবে এটি দেখা যায় ভোর বা ফজরের আগ মুহূর্তে পূর্ব দিগন্তে।

Astronomy

আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রফেসর Robert H. Baker (১৮৮৩-১৯৬৪ ঈ.) এবং ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির লিয়ান্ডার ম্যাককরমিক অবজারভেটরির ডিরেক্টর   Laurence W. Fredrick কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই বইটিতে জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় এভাবে এসেছে-

The faint triangular glow of the zodiacal light in the sky is best seen in middle northern latitudes in the west after nightfall in the spring and in the east before dawn in the autumn. In corresponding southern latitudes it is best seen after sunset in September and before sunrise in March. Broadest near the horizon, where it is then 30° or more from the sun, it tapers upward to a distance of 90° from the sun’s place below the horizon.

Because the glow is almost symmetrical with respect to the ecliptic, it reaches a higher altitude and is easier to observe at those seasons when the ecliptic is most inclined to the horizon.

In the tropics, where the ecliptic is more nearly perpendicular to the horizon, the zodiacal light is visible throughout the year in both the evening and morning.

দেখুন-

Astronomy, Ninth Edition. p. 263. By Robert H. Baker (Late Professor of Astronomy at the University of Illinois)  & Laurence W. Fredrick (Director, Leander McCormick Observatory, University of Virginia). Published Van Nostrand Reinhold Company. © 1971 by Litton Educational Publishing, Inc.

এখানে খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, ত্রিভুজাকার এই আভা উত্তর মধ্য অক্ষাংশে বসন্ত কালে সন্ধ্যার পর পশ্চিম দিকে এবং শরতে ভোর হওয়ার আগে পূর্ব দিকে ভালভাবে দেখা যায়। তেমনি দক্ষিণ-মধ্য অক্ষাংশে এটি সেপ্টেম্বর মাসে সূর্যাস্তের পরে এবং মার্চ মাসে সূর্যোদয়ের আগে ভালোভাবে দেখা যায়। তবে গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলে (tropics) জোডিয়াকাল লাইট সন্ধ্যা ও সকাল উভয় বেলা সারা বছর জুড়েই দেখা যাওয়া সম্ভব। আর এই আলোটি ঊর্ধ্বাভিমুখী হয়ে থাকে।

এখানে উল্লেখ্য যে, tropics বা গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চল হল, বিষুবরেখা (equator) থেকে ২৩.৫° উত্তর ও ২৩.৫° দক্ষিণ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির ভেতর অবস্থিত অঞ্চল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এই অঞ্চলগুলোতে জুডিয়াকাল লাইট পুরো বছরই দেখা যায়।

Introduction to Astronomy

আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী, মিশিগান ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রফেসর Dean B. Mclaughlin (১৯০১-১৯৬৫ ঈ.) বলেন-

On very clear and dark nights the zodiacal light often can be seen just after the end of twilight or just before dawn. Sky illumination from city lights completely obliterates it, as does moonlight, and even Venus can disturb its visibility. It has no definite boundaries, yet its rough outline is that of towering cone of faint, diffuse illumina tion, tapering upward. Its axis lies along the ecliptic and it extends 30° or more above the horizon. At the horizon the glow has a width of 15° or more. Because of the angle the ecliptic makes with the horizon, the zodiacal light is best seen in middle northern latitudes on early spring evenings or autumn mornings. The very best views of it are obtained in the tropics, preferably from a darkened ship in mid ocean, when it is a spectacular sight. The rising of this luminous cone in the morning causes the so-called “false dawn”.

দেখুন-

Introduction to Astronomy, p. 217; by Dean B. Mclaughlin, The University of Michigan (Houghton Mifflin Company 1961)

এখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট প্রকাশ হয় just after the end of twilight or just before dawn অর্থাৎ সন্ধ্যায় টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এবং Dawn তথা ভোর বা ফজর শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই। এর ধরন হল, upward উপরের দিকে লম্বা। it extends ৩০° or more above the horizon দিগন্তের উপরে এর উচ্চতা ৩০° বা তার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এরপর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, এটিই false dawn (সুবহে কাযিব)।

The Data Book of Astronomy

ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ব্রিটিশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট Sir Patrick Moore (১৯২৩-২০১২ ঈ.)।  জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে তার বক্তব্য-

The Zodiacal Light may be seen as a faint cone of light rising from the horizon either after sunset or before sunrise. It extends away from the Sun, and is generally observable for only a fairly short period after the Sun has set or before it rises.

দেখুন-

The Data Book of Astronomy p. 255, by Patrick Moore

(institute of physics publishing bristol and philadelphia)

এখানেও বলা হয়েছে যে, cone আকারে ঊর্ধ্বাভিমুখী এই আলো সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের পর দিগন্তে দৃশ্যমান হয়।

The Light of the Night Sky

নিউইয়র্কের রাটগার্টস ইউনিভার্সিটি ও হাওয়াই ইউনিভার্সিটির শিক্ষক F.E. Roach এবং Bernice P. Bishop মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী Janet L. Gordon কৃত জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই বইটিতে আছে-

The zodiacal light can be observed without twilight contamination after astronomical twilight or before astronomical dawn, when the Sun is more than 18° below the horizon. Most observers have limited their measurements to elevations at least 10° above the horizon. Thus, if the ecliptic is vertical for the observer, the closest observation to the Sun is 28°.

দেখুন-

The Light of the Night Sky, P. 40, by F.E. Roach and Janet L. Gordon. D. Reidel Publishing Company, Dordrecht-Holland/Boston U.S.A. First printing: December 1973

এখানে একেবারে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট পর্যবেক্ষণ (observation) করা যায় সন্ধ্যারাতে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের পরপরই এবং ভোররাতে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের আগ মুহূর্তে। সূর্য যখন দিগন্ত থেকে ১৮° -এর বেশি নিচে থাকে। আর এই আলোর উচ্চতা দিগন্তের উপর সর্বনিম্ন ১০° পরিমাণ হয়ে থাকে।

এই বক্তব্য থেকে একথা পরিষ্কার যে, ভোরে জোডিয়াকাল লাইট অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের আগ মুহূর্তে প্রকাশ হয় এবং দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান জোডিয়াকাল লাইটের এই আলো ১৮ ডিগ্রিতে দেখা সম্ভব নয়; বরং তা প্রকাশ হয় ১৮ ডিগ্রির আগে।

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে,  بَيَاضُ الْأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ দিগন্তের দৈর্ঘে লম্বালম্বিভাবে প্রকাশিত আলো তথা সুবহে কাযিব ১৮° বা এর পর দেখা সম্ভব নয়।

A Survey of Radial Velocities in the Zodiacal Dust Cloud

লন্ডনের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী Brian Harold May রচিত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানী স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে আছে-

The Zodiacal Light, conveniently abbreviated to ‘ZL’, is the name given to a diffuse cone of light seen in the Western sky in the evening, from around the end of twilight, and in the Eastern morning sky just before dawn. In the latter incarnation it has been called the ‘False Dawn’.

দেখুন-

A Survey of Radial Velocities in the Zodiacal Dust Cloud, p.18, by Brian Harold May (Astrophysics Group Department of Physics Imperial College, London) Published by Springer, 233 Spring St New York, NY 10013, USA

এ বইটিতেও খুবই স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট cone (শঙ্কু) আকারে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান একটি আলো, যা সন্ধ্যাবেলা পশ্চিমাকাশে দেখা যায় টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার অল্প পরই। তেমনি ভোরে পূর্বাকাশে এটি দেখা যায় just before dawn ভোর বা ফজর শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। এবং এটিকে ঋধষংব উধহি (সুবহে কাযিব) বলা হয়।

Ice Ages and Astronomical Causes Data, spectral analysis and mechanisms

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর Richard A. Muller এবং অস্ট্রিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লায়েড সিস্টেমস এনালাইসিস-এর  ডিরেক্টর Gordon MacDonald -এর যৌথভাবে লিখিত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানী স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে বলা হয়েছে-

Under ideal conditions, the zodiacal light can be as bright as the Milky Way, It is about 10 degrees wide but that is the full-width at half-maximum the band is visible over a width of about 30 degrees. It is also known as the “false dawn”, since it occurs above the horizon at the same location where the sun will rise, which leads some people to guess, incorrectly. that sunrise is imminent.

দেখুন-

Ice Ages and Astronomical Causes Data, spectral analysis and mechanisms, p. 215. by

Richard A. Muller and Gordon MacDonald. First published 2000 Springer Verlag London Ltd এখানেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট হল false dawn (সুবহে কাযিব)।

Cosmic Challenge

The Ultimate Observing List for Amateurs

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রফেসর Philip S. Harrington -এর এই বইটিতে আছে-

Interplanetary dust particles typically range between 10 and 100 micrometers across, which is smaller than the width of a human hair, although some may be a meter or more in size.

Seeing them from Earth is out of the question. Or is it? While we can’t hope to see a single particle, we can enjoy their collective presence in the night sky immediately after sunset or right before dawn. When sunlight strikes these uncountable grains of dust, we can see their combined glow in the sky. Since most of this material lies along the ecliptic, just as the planets do, we call this phenomenon the zodiacal light.

With proper conditions, the zodiacal light can be seen as a very dim, wedge-shaped cone of light rising above the western horizon about 60 to 90 minutes after sunset and for about the same length of time above the eastern horizon before sunrise. The glow, however, is much dimmer than the Milky Way’s hazy band, so dark conditions are a must. Any hint of moonlight, light pollution, clouds, or haze will obscure it completely.

… My first encounter with the zodiacal light was in April 1986 when I was in Florida’s Everglades National Park to view Halley’s Comet. As I enjoyed the darkening evening sky, scanning with my binoculars what for me are far-southern skies, I couldn’t help but notice the western sky staying brighter long after twilight should have ended. Only later did it dawn on me, if you’ll pardon the pun, that this wasn’t a protracted sunset at all; this was the zodiacal light.

That same confusion, incidentally, led the twelfth-century Persian astronomer Omar Khayyam to refer to it as a “false dawn” when he saw it in the morning sky. It also struck me as an extended sunset when I next saw it years later at the Winter Star Party.

দেখুন-

Cosmic Challenge, The Ultimate Observing List for Amateurs, p. 76. Philip S. Harrington, Cambridge University Press, First published 2011

এখানে তিনি প্রথমে বলেছেন, জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায় সূর্যাস্তের অল্পক্ষণ পরই (immediately after sunset) এবং ভোর বা ফজরের ঠিক আগ মুহূর্তে (right before dawn)। এরপর আরো স্পষ্ট করে বলেছেন যে, cone (শঙ্কু) অর্থাৎ উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারের এই আলোটি প্রকাশ হয় পশ্চিমাকাশে সূর্যাস্তের প্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট পর। সূর্যোদয়ের পূর্বে একই পরিমাণ সময়ের ব্যবধানে এটি দৃশ্যমান হয় পূর্বাকাশে। ভোরের জোডিয়াকাল লাইটকে ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞানী উমর খৈয়াম (১০৪৮-১১৩১ঈ.) ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব) আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেছেন যে, ১৯৮৬ সালে ফ্লোরিডার এভারগ্ল্যাড্স জাতীয় উদ্যানে সন্ধ্যায় টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার পর নিজে জোডিয়াকাল লাইট পর্যবেক্ষণ করেছেন।

Interplanetary Dust

ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের দুইজন প্রফেসর Stan Dermott I Bo Ä. S. Gustafson এবং জার্মানির দুইজন বিজ্ঞানী Eberhard Grün ও Hugo Fechtig -এ চারজনের রচিত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানী স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে আছে-

Zodiacal light appears, to the naked eye, as a faint solar colored cone of light above the western horizon in the evening about one hour after sunset, or above the eastern horizon in the morning before sunrise.

দেখুন-

Interplanetary Dust, p. 57. Springer-Verlag Berlin Heidelberg 2001

এতে বলা হয়েছে যে, উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান কোন-আকৃতির এই আলো পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের ঘণ্টাখানেক পর, একইভাবে ভোরের বেলা পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয়ের ঘণ্টাখানেক আগে দৃশ্যমান হয়।

Astrophotography for the Amateur

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত Michael A. Covington -এর এই বইটিতে উল্লেখ হয়েছে-

The easiest of these to observe is the zodiacal light, a glow that extends to the east and west of the sun along the ecliptic (the line in the sky that corresponds to the plane of the earth’s orbit) and is visible after sunset and before sunrise. Near the sun,

… The best way to confirm that what you’re looking at is the zodiacal light, and not the last vestige of twilight or the first sign of dawn, is to observe at a time when there is no twilight or dawn to be seen. The duration of astronomical twilight that is, the length of time to wait after sunset in order to get a completely dark sky, or the length of time before sunrise that the sky begins to lighten depends on your latitude and the time of year.দেখুন-

Astrophotography for the Amateur, pp. 28-29. Second edition; by Michael A. Covington Cambridge University

Press 1999

এখানেও বলা হয়েছে, ইক্লিপটিক বরাবর লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান জোডিয়াকাল লাইট দেখা সম্ভব সূর্যাস্তের পর ও সূর্যোদয়ের আগে। তারপর আরো স্পষ্ট ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে যে, এটি পর্যবেক্ষণের সময় হল, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের পূর্ব মুহূর্তে; দিগন্ত যখন ফধহি তথা ভোরের আলো মুক্ত থাকে।

বইটির ২৯ নং পৃষ্ঠায় আরো সুনির্ধারিতভাবে উল্লেখ হয়েছে-

the zodiacal light is visible when the sun is more than 18 below the horizon.

অর্থাৎ সূর্য যখন দিগন্ত থেকে ১৮° -এর বেশি নিচে থাকে জোডিয়াকাল লাইট তখনই দেখা সম্ভব।

এ কথা থেকে স্পষ্ট যে, দিগন্তের উপরে লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান এই আলো ভোর বেলা ১৮° বা তার পর দেখা যায় না।

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে,  بَيَاضُ الْأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ দিগন্তের দৈর্ঘে লম্বালম্বিভাবে প্রকাশিত আলো তথা সুবহে কাযিব ১৮° বা এর পর দেখা সম্ভবই নয়।

The Environment of the Earth

Francis Delobea -এর এই বইটিতে আছে-

The observation of the zodiacal light is another indirect method of studying micro meteorites. This light is observed after sunset in the tropics, towards the West, in the form of a pyramid-shaped glow whose luminosity decreases as the Sun goes further below the horizon. …

The zodiacal light is never visible when the Sun is less than 18° below the horizon, for then it is drowned in the light of the Sun.

দেখুন-

The Environment of the Earth p.110. by Francis Delobeau. 1st edition 1971, D. Reiadel publishing company, holland

এখানেও এসেছে, পিরামিড আকারের এই আলো সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিকে দেখা যায়। সূর্য দিগন্তের যত নিচে যেতে থাকে এর আলোও তত হ্রাস পেতে থাকে। তবে সূর্য দিগন্ত থেকে ১৮°-এর কম নিচে থাকলে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান এই আলো দেখা সম্ভব নয়। একই দৃশ্য পূর্ব দিকেও (সূর্যোদয়ের পূর্বে) দেখা যায়। অর্থাৎ উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারের এই আলো ভোর বেলা সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে আসার আগে দেখা যায়। এরপর দেখা সম্ভব নয়।

এই বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট যে, দিগন্তের দৈর্ঘে ঊর্ধ্বাভিমুখী সুবহে কাযিব ১৮° বা তার পর দেখা সম্ভবই নয়।

Exploring Ancient Skies

(An Encyclopedic Survey of Archaeoastronomy)

কানাডার ক্যালগারি ইউনিভার্সিটির প্রতœতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর David H. Kelley এবং ফিজিক্স ও অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের প্রফেসর Eugene F. Milone কর্তৃক রচিত, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানি স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে আছে-

Sunlight reflected from this dust is visible just after sunset or before sunrise along a tapered cone pointing upward from the horizon, along the ecliptic. It is called zodiacal light. It is best seen at the times of year when the ecliptic rises most steeply from the horizon. This means early evening in spring, and before dawn in the fall.

দেখুন-

Exploring Ancient Skies (An Encyclopedic Survey of Archaeoastronomy) p.138. by David H. Kelley (Professor Emeritus, Department of Archaeology); Eugene F. Milone (Professor, Department of Physics and Astronomy The University of Calgary Canada). Springer Science+Business Media, Inc. 2005

এই বইটিতেও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে যে, দিগন্তের উপর পড়হব আকারের ঊর্ধ্বাভিমুখী এই আলো দেখা যায় সূর্যাস্তের পরপরই এবং সূর্যোদয়ের পূর্ব মুহূর্তে। এতে আরো বলা হয়েছে, এটি ভালোভাবে দেখা যায়, বসন্তে সন্ধ্যা হওয়ার পরপরই এবং শরতে ফধহি তথা ভোর বা ফজর হওয়ার আগ মুহূর্তে।

100 Things to See in the Night Sky (From Planets and Satellites to Meteors and Constellations, Your Guide to Stargazing)

আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমার, জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রসিদ্ধ ম্যাগাজিন স্কাই এন্ড টেলিস্কোপ এর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর Dean Regas। তার এই বইটিতে আছে-

Zodiacal light: What Is It?

Almost 1,000 years ago the Persian poet Omar Khayyam in his book of poetry, The Rubaiyat, wrote his most famous line: “A jug of wine, a loaf of bread and thou beside me singing in the wilderness.” But elsewhere Khayyam made a poetic allusion to a mysterious false dawn. It took astronomers centuries to figure out what he was writing about, and it makes a rare treat to witness. The event is called the zodiacal light. …

This warm, subtle zodiacal light fooled late night stargazers into thinking the dawn was about to break even though daybreak was still hours away.

How to Find It?

To see this zodiacal light, you will need to view the sky during or near a New Moon and be far from city lights. If you can see the Milky Way clearly, then you may have a chance to see it. Face cast a few hours before sunrise. The zodiacal light will look like a dim, cone-shaped patch of powdered sugar that extends from the horizon to about one-third of the way up in the sky. It’s also called the false dawn because it will give you the illusion that dawn is about to break, even though sunrise is still hours away.

দেখুন-

100 Things to See in the Night Sky (From Planets and Satellites to Meteors and

Constellations, Your Guide to Stargazing) by Dean Regas. P.199. Adams Media: New York London Toronto Sydney New Delhi (An Imprint of Simon & Schuster, Inc.) ©2017

এই বইটিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক হাজার বছর আগে ফার্সি কবি (ও জ্যোতির্বিদ) ওমর খৈয়াম (১০৪৮-১১৩১ ঈ.) তার কবিতায় ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব) -এর দিকে যে ইঙ্গিত করেছিলেন এটিই জোডিয়াকাল লাইট। এটি কোন-আকৃতির আলোর একটি আভা। যা সূর্যোদয়ের কিছু সময় (দেড়-দুই ঘণ্টা) আগে দেখা যায়। এটিকে ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব) এজন্য বলা হয় যে, এটি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ মনে করতে পারে যে, ভোর হয়ে গেছে। অথচ সূর্যোদয়ের এখনো কিছু সময় (দেড়-দুই ঘণ্টা) বাকি।

Cruise Ship Astronomy and Astrophotography

অ্যাস্ট্রোনমির প্রফেসর, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা (ঘঅঝঅ)-এর জেপিএল সোলার সিস্টেমের অ্যাম্বাসেডর Gregory I. Redfern । আন্তর্জাতিক প্রকাশনী স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত তার এই বইটিতে আছে-

The Zodiacal Light

Next up in our parade of sky and sea glows is the zodiacal light, also known as the “false dawn” or “false dusk.”

দেখুন-

Cruise Ship Astronomy and Astrophotography. by Gregory I. Redfern (NASA JPL Solar System Ambassador Ruckersville, VA, USA) P.230. Springer Nature Switzerland AG 2018

এখানে উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট false dawn (সুবহে কাযিব) false dusk (শাফাকে কাযিব) নামেও পরিচিত।

কয়েকটি ডিকশনারি থেকে উদ্ধৃতি

International Dictionary of Geophysics : seismology, geomagnetism, aeronomy, oceanography, geodesy, gravity, marine geophysics, meteorology, the earth as a planet and its evolution

রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (আরএএস)-এর স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানী Keith Runcorn (১৯২২-১৯৯৫ ঈ.) সহ বিভিন্ন দেশের মোট ১১ জন বিজ্ঞানী কর্তৃক সম্পাদিত এবং কয়েকশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত আন্তর্জাতিক মানের এই ডিকশনারিটিতে জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় এভাবে এসেছে-

The zodiacal light is an outer extension of the solar corona which can be observed at distances of more than 20° from the Sun. It appears as cone of light above the eastern or western horizon when the zenith distance of the Sun is not less than 108°…..

দেখুন-

International Dictionary of Geophysics, V. 2 P.1686. Runcorn, S K (Ed). Pergamon Press 1967

এখানেও খুবই স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে যে, এটি cone (শঙ্কু) আকারে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তে তখনই দৃশ্যমান হয় সূর্য যখন দিগন্ত থেকে ১৮° -এর বেশি নিচে থাকে।

এই বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট যে, এটিই সুবহে কাযিব এবং তা ১৮° -এ হয় না; বরং তা দেখা যায় ১৮° -এর আগে।

Dictionary of Geophysics, Astrophysics, and Astronomy

জিওফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ও অ্যাস্ট্রোনমি বিষয়ে ৫০ জন বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে রচিত Richard A. Matzner কর্তৃক সম্পাদিত এই ডিকশনারিটিতে আছে-

zodiacal light: A band of diffuse light seen along the ecliptic near the sun immediately after sunset or before sunrise. It is created by sunlight reflecting off the interplanetary dust particles, which are concentrated along the ecliptic plane.

… The zodiacal light is the name given to the band of light seen close to the sun while gegenschein is the term applied to the same band of light located 180◦ from the sun.

দেখুন-

Dictionary of Geophysics, Astrophysics, and Astronomy p.514 by Richard A. Matzner (Editor).

এই ডিকশনারিটিতেও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ হয়েছে যে, ইক্লিপ্টিকের যে অংশটি সূর্যের নিকটবর্তী এই বরাবর উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারে এটি সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর অথবা সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে প্রকাশ হয়।

Oxford Dictionary of Astronomy

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত অ্যাস্ট্রোনমির এই ডিকশনারিটিতে আছে-

zodiacal light: A faint diffuse glow, comparable in intensity to the fainter parts of the Milky Way, produced by the reflection of sunlight from zodiacal dust particles in the ecliptic plane. From temperate latitudes, the zodiacal light is best seen on spring evenings about 90 min after sunset, or in the autumn about 90 min before sunrise; at these times, the ecliptic, along which the light appears to extend for some 60° to 90°, lies at a steep angle relative to the horizon.

দেখুন-

Oxford Dictionary of Astronomy. p.522. Oxford University Press 1997.

এখানেও উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট সূর্যেরই আলো; এটি সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট আগে এবং সূর্যাস্তের প্রায় ৯০ মিনিট পর দেখা যায়।

cambridge illustrated dictionary of Astronomy

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত অ্যাস্ট্রোনমির এই ডিকশনারিটিতে উল্লেখ হয়েছে-

zodiacal light: A faint cone of light in the sky extending along the ecliptic. It is visible on clear moonless nights in the west following sunset, and in the east just before sunrise.

দেখুন-

cambridge illustrated dictionary of Astronomy. p. 391.

cambridge university press.

এখানেও এটিই বলা হয়েছে যে, ইক্লিপ্টিক বরাবর উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে প্রকাশিত cone (শঙ্কু) আকারের এই আলো পশ্চিম দিকে সূর্যাস্তের পর এবং পূর্ব দিকে সূর্যোদয়ের আগে দেখা যায়।

Dictionary of Astronomy

অ্যাস্ট্রোনমির এই ডিকশনারিটিতেও আছে-

zodiacal light: A permanent phenomenon that can be

seen as a faint glow, especially at tropical latitudes, on a clear moonless night in the west after sunset and in the east before sunrise. It is shaped like a slanting cone and extends from the horizon, tapering along the direction of the ecliptic, and visible for maybe 20°.

দেখুন-

Dictionary of Astronomy. p.532. Edited by John Daintith, William Gould (The Facts On File Science Library New York. Fifth Edition)

এটিতেও বলা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইটের আলো দিগন্তের উপর cone (শঙ্কু) আকারে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান হয় এবং তা সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রকাশ হয়।

The Penguin dictionary of astronomy

এই ডিকশনারিটিতেও প্রায় একই কথা  বলা হয়েছে। তাতে আছে-

Zodiacal Light. A cone-shaped faint glow seen along the ecliptic, with its base on the horizon. In the tropics, the Zodiacal Light may be seen throughout the year. In the middle latitudes, it is visible in the west at sunset during spring, and in the east before dawn in autumn, when the inclination of the ecliptic to the horizon is at maximum.

দেখুন-

The Penguin dictionary of astronomy,  P. 237. by AkeWallenquist (Author), Edited and translated from the Swedish by Sune Engelbrektson. Penguin books LTD 1966

The Macmillan dictionary of astronomy

Valerie Illingworthসম্পাদিত অ্যাস্ট্রোনমির এই ডিকশনারিটিতেও একই কথা  এসেছে। তাতে উল্লেখ হয়েছে-

zodiacal light A permanent phenomenon that can be seen as a faint glow, especially at tropical latitudes, on a clear moonless night in the west after sunset and in the east before sunrise. It is shaped like a slanting cone and extends from the horizon, tapering along the direction of the ecliptic, and visible for maybe 20°.

দেখুন-

The Macmillan dictionary of astronomy. p.424. Valerie Illingworth (Editor). 2nd edition (1985) Market House Books Ltd

القاموس الفلكي الحديث

সিরিয়ার বিজ্ঞানী ড. সায়ির বাসমাহ জী কর্তৃক অ্যাস্ট্রোনমির আরবী এই ডিকশনারিটিতে আছে-

ضوء بروجي zodiacal light:

وهج باهت (له شكل مثلث ضوء الخافت) على طول دائرة البروج، ناتج من انعكاس ضوء الشمس على جزئيات الغبار بين الكوكبية في منظومتنا الشمسية. وينتشر أحيانا من الأفق إلى الأعلى مع مسير الشمس، ويشاهد عادة في السماء الغربية في فصل الربيع أو الخريف بعيد غروب الشمس أو قبيل شروقها.

দেখুন-

القاموس الفلكي الحديث (د. سائر بصمه جي) ص ৪৯৩.

এখানেও পূর্বের মত একই কথা উল্লেখ হয়েছে। জোডিয়াক বরাবর লম্বালম্বি আকারে দৃশ্যমান এ আলো সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর এবং সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে প্রকাশ হয়।

কয়েকটি এনসাইক্লোপিডিয়ার উদ্ধৃতি

Encyclopedia of Astronomy and Astrophysics

অ্যাস্ট্রোনমি ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের উপর সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য এনসাইক্লোপিডিয়া। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ Paul Murdin ও তার সাথে আরো ৩৩ জন সহযোগীর সম্পাদনায় এবং প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে প্রস্তুতকৃত সুবিশাল এই বিশ্বাকোষে উল্লেখ হয়েছে-

Zodiacal Light A faint cone-shaped glow in the night sky stretching along the ecliptic, … it is visible at all times from the tropics. From temperate latitudes it is best seen about an hour and a half before sunrise in the fall or the same time after sunset in the spring, for at these times the ecliptic makes its greatest angle with the horizon.

এখানে স্পষ্টভাবে এসেছে যে, cone (শঙ্কু) অর্থাৎ উপরের দিকে লম্বালম্বি আকারের এই আলো সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে এবং সূর্যাস্তের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দেখা যায়।

এই বিশ্বাকোষটিতে Interplanetary Dust -এর আলোচনায় জোডিয়াকাল লাইটকে false dawn (সুবহে কাযিব) নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আছে-

The 11th century Persian poet, astronomer and mathemetician, Omar Khayyam alluded to this ‘false dawn’ in his Rubaiyat.

অর্থাৎ একাদশ শতাব্দীর ফার্সি কবি, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদ ওমর খৈয়াম তার রুবাইয়াতে এই false dawn (সুবহে কাযিব) -এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

দেখুন-

Encyclopedia of Astronomy and Astrophysics (Editor-in-Chief: Paul Murdin; Particle Physics and Astronomy Research Council, British National Space Centre) NY and London: Nature Publishing Group and Institute of Physics Publishing Co. 2001.

The Encyclopaedia Britannica

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে প্রায় তিন পৃষ্ঠাব্যাপী দীর্ঘ একটি আর্টিকেল রয়েছে। এর নির্বাচিত কিছু অংশ এই-

zodiacal light: a faint illumination of the sky, sur-rounding the sun and elongated in the direction of the ecliptic on each side of the sun. … In the tropics, where the ecliptic is nearly perpendicular to the horizon, it may be seen after

the end of twilight on every clear evening, and before twilight on every clear morning, unless blotted out by moon-light. It then presents a nearly vertical wedge-shaped form, the base of which extends 150 or 20° on each side of the point at which the ecliptic intersects the horizon. … From this statement of the conditions it will be seen that the tropical zone is the most favourable for observation, and that the most favourable hour of the day at which the light can be seen must always be the earliest after sunset and the last before sunrise. Practically this is when twilight is first ended in the evening, and about to begin in the morning.

দেখুন-

The Encyclopaedia Britannica. vl. 28 p. 998 Eleventh Edition (1910–11).

এখানে উল্লেখ হয়েছে, গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলে জোডিয়াকাল লাইট প্রতিটি পরিষ্কার ভোরে টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগে এবং প্রতিটি পরিষ্কার সন্ধ্যায় টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার পর দেখা যায়।

এরপর আরো দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ হয়েছে-

and that the most favourable hour of the day at which the light can be seen must always be the earliest after sunset and the last before sunrise.

অর্থাৎ জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায় সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পরই এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে। কেবল এ দুই মুহূর্তই এটি দেখার সর্বাধিক অনুকূল সময়।

এরপর আরো বলা হয়েছে যে-

Practically this is when twilight is first ended in the evening, and about to begin in the morning.

অর্থাৎ কার্যত এটি সন্ধ্যায় টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার পরপরই হয় এবং ভোরে টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগেই।

Encyclopedia of the Solar System

এর ৬২১ পৃষ্ঠায় এসেছে-

Zodiacal light is a prominent light phenomenon that is visible to the human eye in the morning and evening sky in nonpolluted areas.

অর্থাৎ জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায় সন্ধ্যা ও ভোরের আকাশে।

এরই ৯৩৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ হয়েছে যে, এটি দেখা যায় পশ্চিম দিকে টোয়াইলাইটের পর এবং পূর্ব দিকে ফধহি তথা ভোরের পূর্বমুহূর্তে।

Zodiacal light Diffuse glow seen on the Earth in the west after twilight and in the east before dawn, that appears wedge-shaped and lies along the ecliptic. It is widest near the horizon and is caused by the reflection of sunlight from the myriads of interplanetary dust particles concentrated in the ecliptic plane.

দেখুন-

Encyclopedia of the Solar System (Academic Press is an imprint of Elsevier. Second edition 2007)

Philips Astronomy Encyclopedia

ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ব্রিটিশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট Sir Patrick Moore (১৯২৩-২০১২ ঈ.) কর্তৃক সম্পাদিত অ্যাস্ট্রোনমির এই এনসাইক্লোপিডিয়াটিতে জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় এভাবে এসেছে-

zodiacal light: Faint, diffuse conical skyglow seen extending along the ecliptic soon after twilight ends at sunset, or before dawn begins to brighten the sky ahead of sunrise. The zodiacal light is comparable in brightness to the Milky Way, and it is best seen from temperate latitudes in the spring evening sky about 90 minutes after sunset, or in the autumn morning sky about 90 minutes before sunrise. At these times, the ecliptic is steeply inclined relative to the western or eastern horizon respectively. From lower latitudes – between the tropics and the equator – viewing conditions for the zodiacal light are favourable throughout the year.

দেখুন-

Philips Astronomy Encyclopedia. p.445 Sir Patrick Moore (general editor).

এখানেও প্রথমে এসেছে যে, পড়হব (শঙ্কু) আকারে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান জোডিয়াকাল লাইটের এ আলোটি সূর্যাস্তের পর টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার অল্পক্ষণ পরই দেখা যায়। তেমনি সূর্যোদয়ের পূর্বে dawn তথা ভোর (ফজর) শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই প্রকাশ হয়। তারপর আরো স্পষ্ট করে উল্লেখ হয়েছে যে, এটি সূর্যাস্তের প্রায় ৯০ মিনিট পর এবং সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট আগে দৃশ্যমান হয়।

আর নিম্ন অক্ষাংশে (গ্রীষ্মম-ল এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্যে) জোডিয়াকাল লাইট দেখার জন্য পরিস্থিতি সারা বছর অনুকূল থাকে।

Larousse Encyclopedia Of Astronomy

ফ্রান্সের দু’জন জ্যোতির্বিজ্ঞানী  খঁপরবহ জঁফধীঁ (১৮৭৪-১৯৪৭ ঈ.) ও G. De Vaucouleurs (১৯১৮-১৯৯৫ ঈ.) কর্তৃক ফরাসী ভাষায় রচিত অ্যাস্ট্রোনমির এই এনসাইক্লোপিডিয়াটি, যার ইংলিশ অনুবাদ করেছে আরো তিনজন বিজ্ঞানী এবং অনুবাদ পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোনমির প্রফেসর Z. Kopal । এটিতে আছে-

The Zodiacal Light appears as a very diffuse, faint patch of

luminosity, in the shape of an immense cone (its true shape is that of a spindle — two cones placed together base to base) rising more or less obliquely into the sky above the fading twilight; alternatively, it is to be seen in a similar attitude above the eastern horizon before sunrise.

দেখুন-

Larousse Encyclopedia Of

Astronomy, p. 292. by Lucien Rudaux and G. De Vaucouleurs (Translated by Michael Guest, F.R.A.S. and John B. Sidgwick and revised by Z. Kopal, Professor of Astronomy at the University of Manchester from Larousse ‘astronomie. first published in France. © Paul Hamlyn Limited 1959)

এটিতেও বলা হয়েছে যে, কোন-আকারের এ আলো সন্ধ্যায় দেখা যায় টোয়াইলাইট বিলীন বা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর। একইভাবে এটি দেখা যায় সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে।

Van Nostrand’s Scientific Encyclopedia

আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানী স্প্রিঙ্গার থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান বিষয়ক এই এনসাইক্লোপিডিয়াটিতে উল্লেখ হয়েছে-

Zodiacal Light. A faint glow that extends along the ecliptic or zodiac from the vicinity of the sun. The zodiacal light is so faint that it is completely masked by moonlight. It may best be observed in the western sky in the spring after the sunset twilight has completely disappeared, in the eastern sky in the fall just before the morning twilight appears, or during a total solar eclipse.

দেখুন-

Van Nostrand’s Scientific Encyclopedia. p. 3381. Eighth Edition. Authors: Considine, Douglas M., Considine, Glenn D. 1995 by Springer Science Business Media New York

এখানেও স্পষ্টভাবে এসেছে যে, জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায়, সন্ধ্যা বেলায় টোয়াইলাইট সম্পূর্ণ অদৃশ্য হওয়ার পরপরই এবং ভোরে টোয়াইলাইট দৃশ্যমান হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে।

অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারসমূহের বক্তব্য

অ্যাস্ট্রোনমি পিকচার অব দি ডে (APOD) I APODAR

জ্যোতির্বিজ্ঞানের সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট Astronomy Picture of the Day (APOD)। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা National Aeronautics and Space Administration (NASA)এবং মিশিগান টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত পরিসেবামূলক একটি ওয়েবসাইট। যাতে একজন পেশাদার জ্যোতির্বিদ দ্বারা রচিত একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ প্রতিদিন মহাবিশ্বের একটি চিত্র বা ফটোগ্রাফ প্রদর্শিত হয়।

এপিওডি শুরু হওয়ার পর থেকে এক বিলিয়নেরও বেশি চিত্র সরবরাহ করেছে। এটি বিশে^র অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়ে থাকে। এর আরবী সংস্করণের নাম হল apodar (Astronomy Picture of the Day: ARabic)। আরবী অনুবাদের এ প্রকল্পটি আলজেরিয়ার অ্যাস্ট্রোনমি সঙ্ঘ جمعية الشعري لعلم الفلك الجزائرية (Sirius Astronomy Association) -এর অংশ।

নাসা (NASA)  ও মিশিগান টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এপিওডি-এর এ ওয়েবসাইটটিতে অনেকগুলো বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে এসেছে যে, জোডিয়াকাল লাইট-ই ভধষংব ফধহি (সুবহে কাযিব)। এপিওডি-এর এ সম্পর্কিত কয়েকটি বক্তব্য; সাথে apodar থেকে এর আরবী অনুবাদ সামনে তুলে ধরা হল।

এপিওডি-এর একটি বক্তব্য-

Zodiacal Light before Dawn:

Explanation: You might not guess it, but sunrise was still hours away when this nightscape was taken, a view along the eastern horizon from a remote location in Chile’s Atacama desert.

Stretching high into the otherwise dark, starry sky the unusually bright conical glow is sunlight though, scattered by dust along the solar system’s ecliptic plane . Known as Zodiacal light, the apparition is also nicknamed the “false dawn”. …

দেখুন-

https://apod.nasa.gov/apod/ap140911.html

apodar থেকে এর আরবী অনুবাদ-

ضوء بروجي قُبيل الفجر

قد لا تستطيع أن تحزر ماهيتها، لكن شروق الشمس كان لا يزال بعيدا بساعات قبل التقاط هذا المشهد الليلي، وهو منظر يمتد على طول الأفق الشرقي من موقع بعيد في صحراء أتاكما بالتشيلي (Chile’s Atacama desert) عبر سماءٍ مظلمة مرصَّعة بالنجوم، يمتدّ وهج مخروطي ساطع غير عادي يتمثل في ضوء الشمس المبعثر بواسطة الغبار على طول المستوى الكسوفي للمنظومة الشمسية، وهو ما يعرف بـ الضوء البروجي، ويُلقّبُ هذا الشبح أيضا بـ “الفجر الكاذب”. …

দেখুন-

https://www.apodar.com/apod/2014-09-11/

এপিওডি-এর আরেকটি বক্তব্য-

Zodiacal Light and the False Dawn

Explanation: Is it dawn or false dawn? During certain times of the year, the horizon near the rising Sun will begin to glow unusually early. This early glow does not originate directly from the Sun, but rather from sunlight reflected by interplanetary dust. Called zodiacal light, the glowing triangle of light may be mistaken, for a while, for a sunrise, and so may be called a false dawn. Pictured above, two false dawns were recorded in time lapse movies each spanning about five hours from the perch of the highest observatory in the

world: Mount Saraswati near

Hanle, India. At its brightest, the rising zodiacal triangle on the left glows brighter than even the central disk of our Milky Way Galaxy visible as the diagonal band moving left to right across the frame.

দেখুন-

https://apod.nasa.gov/apo

d/ap120116.html

apodar থেকে এর আরবী অনুবাদ-

الضوء البروجي والفجر الكاذب

كيف تميز بين الفجر الكاذب والصادق؟ خلال بعض أوقات السنة، يبدأ الضوء بالظهور في الأفق عند الفجر قبل وقته المعتاد. هذا الضوء ليس ناتجا عن ضوء الشمس مباشرة، وإنما من انعكاس ضوئها من الغبار بين كوكبي. الاسم العلمي لهذا الوهج ذي الشكل المثلثي هو الضوء البروجي، وقد يلتبس على الرائي بأنه ضوء طلوع الفجر، لذا سمي الفجر الكاذب. في هذا الفيديو، تم تسجيل الفجر الكاذب مرتين في سلسلة صور تغطي كل منها حوالي خمس ساعات، وقد التُقطت من أعلى مرصد في العالم في قمة ساراسواتي في هانلي الهندية عند ذروة لمعانه، يفوق وهج الفجر الكاذب وهج القرص المركزي لمجرتنا درب التبانة، والظاهر كحزمة قطرية تتحرك من اليسار لليمين في المشهد.

https://www.apodar.com/apod/2012-01-16/

লক্ষণীয় যে, এখানে জোডিয়াকাল লাইটের অপর নাম যেমন false dawn ও সুবহে কাযিব উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি dawn -এর আরবী নাম উল্লেখ হয়েছে সুবহে সাদিক। আর ভোরের টোয়াইলাইটের অপর নামই ফধহি। অতএব apodar কর্তৃক ডোন -এর এই অনুবাদ থেকে এটিও প্রমাণিত হয় যে, টোয়াইলাইটই সুবহে সাদিক, যার শুরু অংশের নাম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট।

দ্বিতীয়ত, পূর্বে যেসব অ্যাস্ট্রোনমির বইয়ের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে এর অনেকগুলোতেই এসেছে, জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায় before Dawn বা just before dawn অর্থাৎ ডোন শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। অতএব apodar কর্তৃক ডোন-এর এই অনুবাদ অনুযায়ী অ্যাস্ট্রোনমির বইগুলোর ঐ কথার অর্থ দাঁড়ায়, জুডিয়াকাল লাইট দেখা যায় সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে।

এপিওডি-এর আরো কয়েকটি বক্তব্য দেখুন : Zodiacal Light and the False Dawn :

https://apod.nasa.gov/apod/ap070925.html

Zodiacal Light and the False Dawn :

https://apod.nasa.gov/apod/ap040825.html

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি.-এ অবস্থিত বিশে^র অন্যতম বৃহৎ একটি অলাভজনক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি (National Geographic Society)। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত False Dawn (সুবহে কাযিব) ও জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে একটি লেখার নির্বাচিত অংশ এই-

“False Dawn” This Week: Zodiacal Light Easier to See

… Since the light appears close to dawn in the fall, the phenomenon was often mistaken in antiquity for the light of the rising sun, and it became known as the false dawn.

“Knowing the difference between this false dawn and the real dawn is important for the timing of prayers in the Islamic world,” said Geza Gyuk, an astronomer with the Adler Planetarium in Chicago.

But the unusual shape of the light should help sky-watchers tell the difference.

“It will look like a mostly vertical column or pyramid, in contrast to the horizontal true dawn,” Gyuk said. “Look for a soft, triangular, pearly glow that precedes the sun and sunrise.” …

It’s possible to see the zodiacal light year-round, but for mid-northern latitudes, the ecliptic sticks up almost vertical to the horizon during spring and fall, making the light easier to distinguish from the horizontal glow of sunrise or sunset.

দেখুন-

https://www.nationalgeographic.com/news/2010/9/100909-science-space-zodiacal- light- pyramid-skywatching/

এই লেখাটির শিরোনামই হল, False Dawn (সুবহে কাযিব) তথা জোডিয়াকাল লাইট এই সপ্তাহে দেখতে আরও সহজ’। এই শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট যে, জোডিয়াকাল লাইটই সুবহে কাযিব। তারপর লেখাটিতে আরো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে, যেহেতু এই আলো ভোর বা ফজরের খুব কাছাকাছি সময়ে শুরু হয় তাই এটি সূর্যোদয়ের আলো তথা ভোর হয়ে যাওয়ার  বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এজন্য এটি ÔFalse Dawn (সুবহে কাযিব) হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। শিকাগোর অ্যাডলার প্ল্যানেটেরিয়ামের এক জ্যোতির্বিদ গিজা গিউক Geza Gyuk বলেছেন, “ইসলামী বিশ্বে নামাযের সময় নির্ধারণের জন্য এই False Dawn (সুবহে কাযিব) এবং real dawn (সুবহে সাদিক)-এর মধ্যে পার্থক্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিগন্তের সমতলে প্রশস্ত  real dawn (সুবহে সাদিক) থেকে ভিন্ন রকম উল্লম্ব কলাম বা পিরামিডের মতো দেখায়। নরম, ত্রিভুজাকার মুক্তার আলোকের মত এই আলো সূর্যোদয়ের পূর্বে সন্ধান করুন।”

তারপর আরো উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইট সারাবছরই দেখা সম্ভব। তবে মধ্য-উত্তর অক্ষাংশে বসন্ত ও শরৎ এই দুই কালে ইক্লিপটিক যেহেতু দিগন্তের উপর খাড়াভাবে থাকে তাই ঐ অঞ্চলগুলোতে জোডিয়াকাল লাইট এ দুই মৌসুমে  সহজভাবে দেখা যায়।

রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অব কানাডা

কানাডার জাতীয় অ্যাস্ট্রোনমি প্রতিষ্ঠান, Royal Astronomical Society of Canada  (RASC)। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে আছে-

The Sky This Month-September 2012

… Another product of the Equinox is the zodiacal lights

also known as the ‘false dawn’. For the two week period after the 14th when the moon is not a hindrance, scan the eastern skies before dawn breaks. This faint glow can appear about 45 degrees above the horizon and is sunlight illuminating the dusty debris of the plane of the

solar system.

দেখুন-

https://www.rasc.ca/news/sky-month-september-2012

রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অব কানাডা-এর এই বক্তব্যটিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ হয়েছে যে, জোডিয়াকাল লাইটের অপর নাম false dawn (সুবহে কাযিব)। এটি দেখা যায় dawn তথা ভোর বা ফজর শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে।

ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমি

আমেরিকার হাওয়াই ইউনিভার্সিটি (University of Hawaii)-এর একটি শাখা Institute for Astronomy। তাদের ওয়েবসাইটে Louise Good নামক এক বিজ্ঞানীর একটি লেখায় জোডিয়াকাল লাইট প্রসঙ্গে এসেছে-

Zodiacal Light Visible in April

(Zodiacal light 95 minutes before sunrise on Mauna Kea. Photo by Miloslav Druckmüller. © 2011 Miloslav Druckmüller, Shadia Habbal.)

On a clear night in April, if you go to a very dark place, you may be able to see the zodiacal light, a faint glow produced by sunlight reflected off of tiny dust particles in the ecliptic, the plane of Earth’s orbit projected onto the celestial sphere. To find the zodiacal light, look for Jupiter in the western sky after sunset. A cone of light will rise from the western horizon about 80 to 120 minutes after sunset.

দেখুন-

https://www2.ifa.hawaii.edu/newsletters/article.cfm?a=635&n=51

এই লেখাটির শুরুতে আকাশ থেকে ধারণকৃত জোডিয়াকাল লাইটের একটি ছবি দেওয়া আছে। এর ক্যাপশনে উপরের ব্রাকেটের কথাগুলো লেখা আছে। তাতে বলা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইটের এই ছবিটি ধারণ করা হয়েছে মৌনা কিয়া (হাওয়াই-এর একটি পাহাড়ের নাম) থেকে সূর্যোদয়ের ৯৫ মিনিট পূর্বে।

লেখাটির শেষ বাক্যটিতে আছে, cone আকারের এই আলো পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের প্রায় ৮০ থেকে ১২০ মিনিট পর প্রকাশিত হয়।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি

আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি (West Virginia University)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি লেখায় জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় এভাবে এসেছে-

zodiacal light and the gegenschein

… The zodiacal light is a faint, roughly triangular shaped glow of light extending away from Sun. The spectrum of the zodiacal light is the same as the solar spectrum, reinforcing the deduction that it is merely sunlight reflected by dust in the plane of the planets. In September and October, because the ecliptic is more nearly perpendicular to the horizon at sunrise, the zodiacal light extends more nearly vertically from the horizon and we have a better opportunity to see it shortly before sunrise than when it lies along the horizon and is lost in the dust and haze of Earth’s atmosphere. ….

You should begin looking for the zodiacal light before the beginning of astronomical twilight, the time when sunlight first begins to be in the sky. Astronomical twilight begins about 1 1/2 hours before sunrise, so if you are up a little before then, if the sky is clear, and you can get away from any lights, you might look to the east and try to locate this triangular glow of light extending up to 35 or 40 degrees from the horizon, slanting slightly to the right. Near the horizon it may be more than 15 degrees wide, narrowing to about 5 degrees, and under ideal conditions may be as bright as the brightest parts of the Milky Way. When seen early in the morning it is sometimes called the false dawn, followed later by the true dawn.

দেখুন-

http://www.as.wvu.edu/~jel/skywatch/skw9810h.html

এই লেখাটিতে প্রথমে বলা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইট দেখার ভালো সময় হল, shortly before sunrise সূর্যোদয়ের অল্প আগে। তারপর সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার আগে আপনার জোডিয়াকাল লাইট সন্ধান করা উচিত। আর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট শুরু হয় সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে। তাই আপনি যদি তার একটু আগে উঠে থাকেন এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং আপনি যে কোনও আলো থেকে দূরে যেতে পারেন তবে আপনি পূর্ব দিকে এই ত্রিভুজাকার আলোককে সনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারেন।

ফারমার্স আলমানাক

Farmer’s Almanac । ১৮১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত প্রাচীন একটি বার্ষিক আমেরিকান সাময়িকী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা উভয় দেশের জন্য দীর্ঘ পরিসরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরবরাহ করে । Joe Rao কর্তৃক লিখিত এই সাময়িকীটির একটি আরটিকেলে আছে-

What is the Zodiacal Light or “False Dawn”?

Why It’s Called False Dawn?

I’m not the first to mistake the Zodiacal Light for the onset of morning twilight.  Countless others before me have been fooled as well.  In fact, the Persian astronomer,

mathematician, and poet, Omar Khayyam (1048-1131) made reference to it as a “false dawn” in his one long poems, The Rubaiyat. ….

Best Time To View Zodiacal Light

The best time to see the

Zodiacal Light is when the ecliptic appears most nearly vertical to the horizon.  For those in the Northern Hemisphere, the best morning view in the eastern sky comes from late September into the early part of November; and in the western evening sky after sunset from early February to late March.

For northerners at this particular time of the year, it is just before morning twilight begins (about 90 minutes before sunrise), that the Zodiacal Light should appear at its brightest and most conspicuous.

To the discerning eye, its diffuse shape resembles almost a tilted cone, wedge or slanted pyramid.  At the base of the cone, the light may extend some 20° to 30° along the horizon.  At its best, the display can approach or even equal the Milky Way in brightness, but yet it is so faint that even a small amount of atmospheric haze can obscure it.  On exceptionally clear nights, the tapering cone might be seen to stretch more than halfway up into the sky.

দেখুন-

What is the Zodiacal Light or “False Dawn”?

এই লেখাটিতে কয়েকবারই বলা হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইটই False Dawn (সুবহে কাযিব)। আরো উল্লেখ হয়েছে, পিরামিড আকারে দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দৃশ্যমান এই আলো সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট আগে ভোরের টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকাশিত হয়।

আর্থ স্কাই (earthsky)

আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠান, যা নিয়মিত মহাকাশ, মহাজগৎ, বিশ্বা ও প্রকৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে। তাদের ওয়েবসাইটে আছে-

How can I see the zodiacal light?

… In autumn, the zodiacal light can be seen in the hour before true dawn begins. Or, in spring, it can be seen for up to an hour after all traces of evening twilight leave the sky. Unlike true dawn or dusk, though, there’s no rosy color to the zodiacal light. The reddish skies at dawn and dusk are caused by Earth’s atmosphere, while the zodiacal light originates far outside our atmosphere.

দেখুন-

https://earthsky.org/astronomy-essentials/everything-you-need-to-know-zodiacal- light-or-false-dawn

এখানে অনেক স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ হয়েছে, true dawn (সুবহে সাদিক) হওয়ার আগে এক ঘণ্টার ভেতর জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায়। তেমনি গোধূলির টোয়াইলাইটের চিহ্ন আকাশ ছেড়ে যাওয়ার পরে এক ঘণ্টা অবধি এটি দৃশ্যমান থাকে।

তাদের আরেকটি বক্তব্যে আছে, পশ্চিম দিকে দৃশ্যমান জোডিয়াকাল লাইটের অপর নাম (false dusk) এবং ফজরের পূর্বে পূর্ব দিকে প্রকাশিত এই আলোর অপর নাম ঋধষংব উধহি (সুবহে কাযিব)।

the zodiacal light is a cone of eerie light at the sunrise or sunset point on the horizon, before dawn breaks or after twilight ends. No matter where you are on Earth, you’ve got the best chance of seeing it in the west in late winter or early spring (false dusk). Your best chance to see it in the east before dawn is late summer or early autumn (false dawn).

দেখুন-

https://earthsky.org/astronomy-essentials/everything-you-need-to-know- zodiacal-light-or-false-dusk

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার

مركز الفلك الدولي (International Astronomical Center)। মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। প্রায় সব মুসলিম দেশের অনেক বিজ্ঞানীই এর সদস্য। বিভিন্ন দেশের বিশ্বাবিদ্যালয়গুলোর জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রফেসর, আঞ্চলিক বিভিন্ন অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার ও অবজারভেটরির সদস্য ও প্রধানগণ তাতে রয়েছেন।

সুবহে সাদিকের সময়ের ব্যাপারে এই সংস্থা থেকে মুসলিম বিশে^র ১৭ জন বিজ্ঞানীর স্বাক্ষর সম্বলিত একটি বক্তব্য আমাদের এই লেখার প্রথম কিস্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। যার শিরোনাম হল-

باتفاق المتخصصين: لا صحة للقول بأن موعد الفجر المبين في التقاويم متقدم عن الوقت الحقيقي لطلوع الفجر الصادق.

অর্থাৎ, ‘বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত : ক্যালেন্ডারে প্রদত্ত ফজরের সময় সুবহে সাদেক হওয়ার আগে- এ কথা ভুল।’

তাদের এই বক্তব্যটিতে সুবহে কাযিব সম্পর্কে এসেছে-

وتجدر الإشارة إلى أن الفلكيين العاملين في شؤون مواقيت الصلاة يعرفون الفجر الكاذب جيدا، وأن تأكيدهم بأن الفجر يطلع ما بين الزاوية ১৮ و ১৯ إنما هو للفجر الصادق، فالفجر الكاذب ظاهرة فلكية معروفة عند المسلمين وعند غيرهم وهو يظهر قبل الزاوية ১৯ بكثير، وقد علم ذلك بالرصد المستفيض سواء من قبل المسلمين أو غير المسلمين المهتمين بالظواهر الفلكية بشكل عام. وبالتالي إن توهم البعض أن قول الفلكيين الموقتين بأن الفجر يطلع على الزاوية ১৯ أو ১৮ لالتباس الفجر الكاذب عليهم هو قول لا يصح.

দেখুন-

http://www.icoproject.org/fajer.html

যারা ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে কাযিব হওয়ার দাবি করে থাকেন এবং একথা বলেন যে, যারা ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের কথা

বলে, তারা সুবহে সাদিক ও সুবহে কাযিবের পার্থক্য বুঝে না; অন্যরাও না বুঝেই তাদের অনুসরণ করে- সরাসরি তাদের এ কথাই বলিষ্ঠভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তাদের এ বক্তব্যে।

এ বক্তব্যটিতে তারা বলেছেন, সুবহে কাযিব ১৯ ডিগ্রির অনেক আগে শুরু হয়। এটি মুসলিম ও অমুসলিম বিজ্ঞানীদের ব্যাপক মুশাহাদা তথা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ (observation) দ্বারা প্রমাণিত একটি বিষয়। সুতরাং এ ধারণা করা যে, যারা ১৮ বা ১৯ ডিগ্রিতে ফজরের সময় হওয়ার কথা বলেছেন তারা সুবহে সাদিক ও সুবহে কাযিব- এ দুটির পার্থক্য না বোঝার কারণে এ কথা বলেছেন- এ কথা সম্পূর্ণ ভুল।

কাতার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার

مركز قطر لعلوم الفضاء والفلك কাতার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার কর্তৃক প্রণিত  জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনলাইন ডিকশনারী (المعجم الفلكي), যা তাদের ওয়েবসাইটে আছে, তাতে উল্লেখ হয়েছে-

الشفق الفلكي Astronomical Twilight:

هي الفترة التي تصبح فيها الشمس أسفل أفق الراصد ১৮ درجة، وهذه النقطة تعتبر الحد الفاصل بين الظلام والنور، أو يظهر عندها الخيط الأبيض من الأسود ويحدد على أساسها موعد صلاة الفجر، وكذلك صلاة العشاء عندما تكون الشمس أسفل الأفق ১৮ درجة بعد غروبها.

দেখুন-

المعجم الفلكي

এখানে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে, الشفق الفلكي বা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট ১৮ ডিগ্রিতে শুরু হয়। আর তখনই ফজর ও এশার নামাযের ওয়াক্ত হয়। এবং কুরআনের বর্ণিতالخيط الأبيض (সাদা সুতা) অর্থাৎ সুবহে সাদিক তখনই প্রকাশ হয়।

সিরিয়ান অ্যামেচার অ্যাস্ট্রোনমারস এসোসিয়েশন

সিরিয়ান অপেশাদার জ্যোতির্বিদ সঙ্ঘ syrian amateur astronomers association جمعية هواة الفلك السورية -এর প্রকাশিত একটি বুলেটিনে জোডিয়াকাল লাইটই যে সুবহে কাযিব তা এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-

ما هو الفجر الكاذب أو الشفق البرجي؟

الفجر الكاذب هو عبارة عن توهج واضح يشاهد في الشرق قبل شروق الشمس أو في الغرب بعد غروبها، وينجم هذا التوهج عن انعكاس ضوء الشمس عن الدقائق الغبارية الموجودة في مستوى المجموعة الشمسية. وهو يدعى أيضاً بالشفق البرجي لأنه يمتد على دائرة البروج، أي يظهر بشكل مثلث متطاول ممتد على مسار الشمس وعمودي على خط الأفق. أما تسميته بالفجر الكاذب فهي لأنه يظهر قبل الفجر الحقيقي في الصباح. فالفجر الحقيقي هو خط ضوئي مواز لخط الأفق وليس عمودياً عليه، ويظهر بعد الفجر الكاذب بحوالي ربع ساعة.

দেখুন-

النشرة الشهرية، جمعية هواة الفلك السورية، السنة الثالثة، العدد ৩৭، تشرين الثاني ২০০৯م

এখানে খুবই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, الشفق البرجي (জোডিয়াকাল লাইট) ও সুবহে কাযিব সম্পূর্ণ এক জিনিস। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর সুবহে সাদিক হয়।

অ্যারাব সাইন্টিফিক কমিউনিটি অর্গানাইজেশন

কাতারে অবস্থিত আরব বিশে^র বিজ্ঞানীদের একটি সংস্থা منظمة المجتمع العلمي العربي Arab Scientific Community Organization (arsco)। তাদের ওয়েবসাইটে কুয়েত মহাকাশ যাদুঘরের পরিচালক খালিদ জুমআনের বক্তব্য এভাবে এসেছে-

ظاهرة ضوء البروج أو الفجر الكاذب أكثر وضوحاً هذه الأيام

إن راصدي السماء على موعد قبيل شروق الشمس هذه الفترة مع ظاهرة ضوء البروج. أن ضوء البروج هو ضوء  ينتشر في الفضاء نتيجة لانعكاس وتشتت ضوء الشمس في السماء بسبب جزئيات الغبار الكوني العالقة في الفضاء، وفي رأي علمي آخر أن هذا الغبار الكوني من بقايا المذنبات والكويكبات التي تدور حول الشمس، وهي  تسبح خارج نطاق الغلاف الجوي للأرض وليس  بداخله.

ويعتبر أفضل وقت لرصد ضوء البروج بوضوح هو قبيل الفجر، في الفترة ما بين المنتصف من شهر سبتمبر إلى بداية شهر أكتوبر، علماً بأن هذه الظاهرة الضوئية لا تُرى إلا في المناطق المظلمة من جهة الشرق في السماء المعتمة والخالية من ضوء القمر، ويظهر ضوء البروج على شكل توهج ضوئي مثلث الشكل يكون أحياناً أكثر لمعاناً من نهر المجرة أو ذراع مجرة التبانة كما يطلق عليه فلكياً.

إن ظاهرة ضوء البروج تلقب أيضاً بالفجر الكاذب الذي يظهر قبيل الفجر الصادق وشفق الشروق في جهة الشرق، كما يظهر أيضاً مرة أخرى بُعَيْد شفق الغروب من جهة الغرب. والفجر الكاذب ظاهرة ضوئية تتشكل خارج نطاق الغلاف الجوي، على العكس من الفجر الصادق الذي يتشكل بسبب الغلاف الجوي. وعلى الرغم من أن ظاهرة الفجر الكاذب الضوئية أو ظاهرة ضوء البروج الفلكية كانت معروفة لدى المسلمين قبل أكثر من ১৪০০ عام، مع دقة وصحة الحساب الفلكي لكل من صلاة الفجر والمغرب والعشاء بسبب تطور وتقدم الحساب الفلكي لديهم،  إلّا أن علم الفلك الحديث (الغربي) لم يلاحظها ويشرحها ويحدد مواعيدها إلا عام ১৬৯০م.

الكاتب : خالد الجمعان

مدير متحف الفضاء الكويتي

দেখুন-

http://arsco.org/article-detail-892-5-0

তার এ বক্তব্যটিতেও সুস্পষ্টভাবে এসেছে যে, জোডিয়াকাল লাইটেরই অপর নাম সুবহে কাযিব। জোডিয়াকাল লাইট বা সুবহে কাযিব দৃশ্যমান হয় সুবহে সাদিক বা ভোরের টোয়াইলাইটের অল্প আগে। তেমনি এটি দেখা যায় গোধূলির টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার পর পশ্চিম দিকে। আর সুবহে কাযিব মুসলমানদের কাছে ১৪ শ বছর থেকে পরিচিত হলেও পশ্চিমা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এর সন্ধান, পরিচয় ও ব্যাখ্যা প্রদান করে ১৬৯০ ঈসাব্দে  এসে।

তার এ বক্তব্য থেকে জোডিয়াকাল

লাইট ও সুবহে কাযিব এক প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি এও প্রমাণিত হয় যে, ভোরের টোয়ালাইটই সুবহে সাদিক।

অ্যারাব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি এন্ড স্পেস সাইন্সেস

জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত আরব লীগের অধীন আরবের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান الاتحاد العربي لعلوم الفضاء والفلك Arab Union for Astronomy And space Sciences । তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বক্তব্যে আছে-

ضوء البروج يزين سماء الوطن العربي:

تعتبر الفترة الحالية  من سبتمبر والأشهر المقبلة أوقات مناسبة لرصد ضوء البروج أو ” الفجر الكاذب” بسماء الوطن العربي وكامل النصف الشمالي من الكرة الأرضية نظرا لأن دائرة البروج تقع تقريبا بشكل مستقيم بالنسبة للأفق الشرقي. …

ضوء البروج هرمي الشكل له لون ”الحليب” يشاهد باتجاه الأفق الشرقي قبيل ظهور الفجر الصادق بحوالي ساعة أو نحو ذلك،  ولكن يجب أن يكون الراصد في موقع مظلم تماما بعيد عن أضواء المدن التي تطمس الأضواء الطبيعية في السماء.

ويمكن رؤية ضوء البروج لمدة تصل ৬০ دقيقة قبل بداية إنبثاق ضوء الفجر الصادق ، ولذلك فإن البحث عن ضوء البروج يكون بحوالي ৮০ الى ১২০ دقيقة قبل شروق الشمس.

দেখুন-

« ضوء البروج » يزين سماء الوطن العربي

এই বক্তব্যটিতেও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইটই সুবহে কাযিব এবং এটি প্রকাশ হয় সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার পূর্বে ঘণ্টাখানেকের ভেতর। অতএব এটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে সূর্যোদয়ের প্রায় ৮০ থেকে ১২০ মিনিট পূর্বে।

এই প্রতিষ্ঠানেরই এক সদস্য হানী আযযালী‘ (هاني الضليع)। আলজাযীরা অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়াতে الفجر الصادق، حقيقته وطريقة رصده শিরোনামে তার একটি আরটিকেল রয়েছে। তাতে সুবহে কাযিবের পরিচয়ে তিনি বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানে এটি জোডিয়াকাল লাইট নামে পরিচিত।

الفجر الكاذب : فالفجر الكاذب أو ما يعرف في علم الفلك بالفجر البروجي Zodiacal Light هو ضوء أبيض اللون يظهر في السماء على شكل قوس أشبه بذنب الثعلب.

তার এই লেখাতেই এ কথাও আছে, الشفق الفلكي (Astronomical twilight) হল সুবহে সাদিক এবং তা ১৮ ডিগ্রিতে প্রকাশ পায়। বক্তব্যটি এই-

الشفق : ويقسم الشفق في الفلك إلى ثلاثة أنواع أولها الشفق الفلكي، وهو أول ضوء شمسي وقت الفجر ناحية الشرق، أو آخر ضوء وقت العشاء ناحية الغرب، يتشتت في الغلاف الجوي حين تصبح الشمس تحت الأفق بزاوية انخفاض قدرها ১৮ درجة، وهو ما اصطلح عليه بأنه وقت الفجر الصادق ويؤذن به في معظم أرجاء الكرة الأرضية، ويمكن عنده رؤية النجوم الخافتة جدا، كما يمكن القول بأن الليل سائد.

দেখুন-

https://www.aljazeera.net/encyclopedia/conceptsandterminology/2016/6/28/الفجر-الصادق-حقيقته-وطريقة-رصده

কুয়েত কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ

কুয়েতের কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ, যা ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ফজরের সময় সংক্রান্ত তাদের একটি ফতোয়ায় আছে-

طلوع الفجر الصادق يتحقق عندما يصل قرص الشمس تحت الأفق الشرقي ১৮ درجة، وهو المعبر به بالشفق الفلكي، وهو المستعمل في دخول وقت الفجر في دولة كويت. …

দেখুন-

مجموعة الفتاوى الشرعية ১৯৩/১.

এই ফতোয়াটিতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সুবহে সাদিক হয় ১৮ ডিগ্রিতে। যাকে الشفق الفلكي (অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট) নামে ব্যক্ত করা হয়।

অতএব তাদের এই ফতোয়া থেকেও এটি স্পষ্ট যে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট সুবহে সাদিক; সুবহে কাযিব নয়।

সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স

মিসরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান- المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية (supreme council for islamic affairs) -এর লাজনাতুল কুরআনি ওয়াস সুন্নাহ কর্তৃক লিখিত কুরআনুল কারীমের সংক্ষিপ্ত তাফসীর গ্রন্থে আছে-

وما الفجر الكاذب سوى الضوء البروجي الذي يبلغ أقصى شدته عندما تكون الشمس منخفضة عن الأفق بأكثر من ১৮.৫ درجة قوسية.

দেখুন-

المنتخب في تفسير القرآن الكريم، لجنة القرآن والسنة في المجلس الأعلى للشؤون الإسلامية في  القاهرة، ص ৫১১.

এখানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ হয়েছে যে, সুবহে কাযিব জোডিয়াকাল লাইট ছাড়া আর কিছু নয়। সূর্য যখন দিগন্ত থেকে ১৮.৫ ডিগ্রির বেশি নিচে থাকে তখন এটি চূড়ান্তে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ ১৮.৫ ডিগ্রিতে এটি নিঃশেষ হয়ে যায়।

মিনাত তাফসীরিল ইলমী লিলকুরআনিল কারীম

মিসরের প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী ও ভূতাত্ত্বিক গবেষক প্রফেসর ড. যাগলূল রাগিব আননাজ্জার। কুরআনের বৈজ্ঞানিক তাফসীর বিষয়ক লিখিত তার কিতাব من التفسير العلمي للقرآن الكريم -এ বলেছেন, সুবহে কাযিবেরই অপর নাম হল জোডিয়াকাল লাইট। তিনি বলেন-

والفجر فجران: فجر كاذب وفجر صادق. والفجر الكاذب يعرف باسم النور البروجي zodiacal light ل لوقوعه عند دائرة البروج على الأفق الشرقي للأرض.

আর সুবহে সাদিকের অপর নাম বলেছেন, dawn এবং شفق الصباح morning twilight

দেখুন-

من التفسير العلمي للقرآن الكريم، للأستاذ الدكتور زغلول راغب محمد النجار، ص ২২৫-২২৬.

এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে,

পূর্বোক্ত অ্যাস্ট্রোনমির বই ও অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারসমূহের বক্তব্যে উল্লেখ হয়েছে, জোডিয়াকাল লাইট দেখা যায় before Dawn বা just before dawn অর্থাৎ ডোন শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। অতএব ডোন-এর এই আরবী নাম অনুযায়ী অ্যাস্ট্রোনমির ঐসব বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, জুডিয়াকাল লাইট দেখা যায় সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে।

স্যার জেমস রেডহাউস-এর গবেষণা

ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ স্যার জেমস উইলিয়াম রেডহাউস Sir James William Redhouse (১৮১১-১৮৯২ ঈ.)। সুবহে কাযিব নিয়ে তিনি বিষদ গবেষণা করেছেন। ১৮৭৮ সালে On the Natural Phenomenon Known in the East by the Names Sub-hi-Kazib- শিরোনামে সুবহে কাযিবের উপর ১১ পৃষ্ঠাব্যাপী তার প্রথম গবেষণাপত্র রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে তিনি প্রমাণ করেন যে, মুসলিমদের সুবহে কাযিব ও ইউরোপিয়ানদের জোডিয়াকাল লাইট একই জিনিস।

এই লেখাটিতে তিনি বলেছেন-

It is four or five years that I have gradually acquired a feeling that this ‘False Dawn’ can be no other than our ‘Zodiacal Light’.

‘চার বা পাঁচ বছর হবে আমি ধীরে ধীরে এই অনুভূতি অর্জন করেছি যে, এই False Dawn (সুবহে কাযিব) আমাদের জোডিয়াকাল লাইট ব্যতীত আর কিছু হতে পারে না।’

এই লেখাটিতে তিনি আরো বলেন-

The Zodiacal Light will therefore be visible before dawn, before the true dawn.

অর্থাৎ জোডিয়াকাল লাইট true dawn (সুবহে সাদিক)-এর পূর্বে দেখা যায়।

তার পূর্ণ লেখাটি পাঠ করার জন্য দেখুন-

The Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland, New Series, Vol. 10, No. 3 (Jul., 1878), pp. 344-354.

রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে তার এই পত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর তখনকার বিভিন্ন বিজ্ঞানীর কাছে এর কপি পাঠানো হয় এবং এ সম্পর্কে তাদের মতামত চাওয়া হয়। এবং তাদের কাছে এই প্রশ্ন করা হয়-

What is the European name of the phenomenon called ‘false dawn’ and ‘wolf′s tail’? and Is any author known who has given the Western equivalent to those Eastern names?

অর্থাৎ সুবহে কাযিব ও নেকড়ের লেজ (সুবহে কাযিবের পরিচয়ে হাদীসে বর্ণিত  ذَنَبُ السَّرحانِ) নামে পরিচিত বিষয়টির ইউরোপীয়ান নাম কী? এবং এমন কোনো লেখক কি জানেন যে, পশ্চিমা পরিভাষায় এই নামগুলোর সমতুল্য কী তা উপস্থাপন করেছেন?

তারা এর যেসব উত্তর প্রেরণ করেছেন সেগুলো একত্র করে জেমস রেডহাউস আরেকটি পত্র তৈরি করেন। সেটিও রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয়। যার শিরোনাম-

Identification of the ‘False Dawn’ of the Muslims with the ‘Zodiacal Light’ of Europeans.

‘ইউরোপীয়দের জোডিয়াকাল লাইটের সাথে মুসলমানদের সুবহে কাযিব সনাক্তকরণ’।

সেখানে তারাও জেমস রেডহাউসের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, জোডিয়াকাল লাইট আর সুবহে কাযিব একই বিষয়। তাদের কেউ এর ভিন্ন কোনো উত্তর প্রদান করেননি। সাড়ে সাত পৃষ্ঠা দীর্ঘ এই পত্রটি পড়ার জন্য দেখুন-

The Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland, New Series, Vol. 12, No. 2 (Feb., 1880) pp. 327-334

***

এ পর্যন্ত এই কয়টি উদ্ধৃতি পেশ করা হল। এসব উদ্ধৃতিতে আছে, জোডিয়াকাল লাইট cone (শঙ্কু) বা পিরামিড আকারে দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে প্রকাশিত হয়। হাদীস শরীফে সুবহে কাযিবের এ পরিচয়ই বর্ণিত হয়েছে। তাই এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ যাকে জোডিয়াকাল লাইট নাম দিয়েছেন তা হাদীস ও ফিকহের ভাষায় সুবহে কাযিব বৈ কিছু নয়। তথাপি স্বয়ং বিজ্ঞানীদের অনেকেই তা পরিষ্কারভাবেও বলে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, জোডিয়াকাল লাইট False Dawn (সুবহে কাযিব)। এরপর তো আর কোনো ধরনের তাবিলের সুযোগ থাকে না।

আরো লক্ষণীয় যে, জোডিয়াকাল লাইট কখন দেখা যায়- এ বিষয়টি যদিও একেক বিজ্ঞানী একেক ভাষায় ব্যক্ত করেছেন, তবে তাদের সকলের বক্তব্যের খোলাসা হল-

১. জোডিয়াকাল লাইট সূর্যোদয়ের পূর্বে দেখা যায়।

২. জোডিয়াকাল লাইট সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট বা ৮০ থেকে ১২০ মিনিট পূর্বে দেখা যায়।

৩. জোডিয়াকাল লাইট ভোরে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে দেখা যায়।

৪. জোডিয়াকাল লাইট Dawn তথা সুবহে সাদিক হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে দেখা যায়।

৫. জোডিয়াকাল লাইট true dawn বা সুবহে সাদিক-এর আগে দেখা যায়।

৬. সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে আসার আগে জোডিয়াকাল লাইট দেখা সম্ভব। ১৮° বা এর পর এটি দেখা যাওয়া সম্ভব নয়।

এই প্রতিটি বক্তব্য থেকেই একথা সুস্পষ্ট যে, জোডিয়াকাল লাইটই সুবহে কাযিব। এখানে যেসব বইপত্রের উদ্ধৃতি তুলে ধরা হল আপনি চাইলে অ্যাস্ট্রোনমির আরো অন্যান্য বই থেকেও বিষয়টি দেখে নিতে পারেন। জোডিয়াকাল লাইট সম্পর্কে এখানে যা যা উল্লেখ হয়েছে কম-বেশি এ কথাগুলোই অন্যান্য বইয়ে পাবেন। এর উল্টো কোনো তথ্য কোনো বইয়ে পাবেন না- ইনশাআল্লাহ। কোথাও এমন কোনো উদ্ধৃতি পাবেন না, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জোডিয়াকাল লাইট সুবহে কাযিব নয়; কিংবা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের অনেক আগে এটি নিঃশেষ হয়ে যায়। তেমনি এমন কোনো বক্তব্যও পাবেন না যে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের আলো cone (শঙ্কু) বা পিরামিড আকারে দিগন্তের উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে দেখা যায়। যেমনটি জোডিয়াকাল লাইটের পরিচয় হিসেবে সব বইয়েই উল্লেখ হয়েছে।

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এ সম্পর্কিত প্রতিটি বক্তব্যই আহসানুল ফাতাওয়ার বাস্তবতা বিরোধী সকল দাবি বাতিল হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা। তাদের এইসব বক্তব্যের অনিবার্য ফলাফল এই যে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটই সুবহে সাদিক। এটিকে সুবহে কাযিব বলা দিনকে রাত বলার নামান্তর। জোডিয়াকাল লাইটকে সুবহে কাযিব থেকে পূর্বে প্রকাশিত কোনো আলো আখ্যা দেওয়ার চেয়েও কঠিন ভুল এটি।

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট এটি স্বীকৃত যে, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট শুরু হয় ১৮ ডিগ্রিতে। আহসানুল ফাতাওয়ার মুসান্নিফও যেহেতু এটি সমর্থন করেন তাই এ বিষয়ে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্যগুলো এখানে উদ্ধৃত হয়নি। একথা স্পষ্ট যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এসব বক্তব্যের অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, বিজ্ঞানীরা যেটাকে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়ালাইট বলে- সেটা আমাদের ফিকহের পরিভাষায় যাকে সুবহে সাদিক বলা হয়- ওটার সঙ্গেই মেলে; সুবহে কাযিবের সঙ্গে নয়। কেননা ১৮°-এর আলো সুবহে সাদিকের হওয়া ব্যাপক মুশাহাদা ও চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ দ্বারা যেমন প্রমাণিত তেমনি মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তও এটিই। ফিকহ-ফতোয়ার কিতাবেও এমনটিই উল্লেখ হয়েছে। যেমনটি প্রবন্ধের প্রথম অংশে সম্মানিত পাঠকবৃন্দ পড়েছেন।

কিন্তু আহসানুল ফাতাওয়াতে বিরজান্দীসহ পরবর্তী কারো কারো স্পষ্ট ভুলের অনুসরণে ১৮ ডিগ্রিকে সুবহে কাযিবের সময় বলা হয়েছে। তাই ১৮ ডিগ্রিতে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট শুরু হওয়ার ব্যাপারে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও এটিকে সুবহে কাযিব আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো দ্বিধা বোধ করছেন না। আফসোস! এক বিরজান্দীর ভুলের অনুসরণ করে সুবহে সাদিক সম্পর্কিত মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্যকে তিনি সুবহে কাযিব বানিয়ে দিয়েছেন। ঠিক একইভাবে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট (সুবহে সাদিক) সম্পর্কিত আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্যকেও তিনি সুবহে কাযিবের সাথে লাগিয়ে দিয়েছেন। অনিচ্ছায় বিভ্রান্তি বশতঃ তাহরীফের এ এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত, যা আহসানুল ফাতাওয়াতে হয়ে গেছে।

আল্লাহ তাআলা হযরত রাহ.-এর এই ভ্রম ক্ষমা করে দিন এবং হযরতের ইলম দ্বারা উম্মতকে ফায়দা পৌঁছান। আর যে কোনো কারো ভুল-ভ্রান্তির অনুসরণ থেকে উম্মতকে হেফাযতে রাখুন- আমীন।

هذا، وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

[সামনের কিস্তিতে পড়ুন-

১. জোডিয়াকাল লাইট কি কেবল দু’ মাস দেখা যায়?

২. সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে কি আকাশ অন্ধকার থাকে না?

৩. জোডিয়াকাল লাইট বিষয়ে বাস্তবে কারা বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন?

৪. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়।

আরও জানুন

যৌন চাহিদা নিবারণে সেক্সডল বা সেক্সটয় ব্যবহারের শরয়ী বিধান

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। আমি আব্দুল্লাহ, গাজীপুর থেকে। আমার প্রশ্নঃ সেক্সটয় বা সেক্সডল নিয়ে। মুহতারাম, বর্তমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *