হোম / ঈমান ও আমল / হজ্বের বরকত ও ফযীলত
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হজ্বের বরকত ও ফযীলত

আল্লামা মনজূর নূমানী রহঃ

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
যারা কাবা ঘরে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্ব করা ফরজ। আর কেউ তা পালন করতে অস্বীকার করলে করুক আল্লাহর তাতে কিছু আসবে যাবে না। আল্লাহ সমস্ত জগতবাসী হতে অমুখাপেক্ষী। সূরা আলে ইমরান ৩/৯৭

আয়াতটিতে হজ্ব ফরজ হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। হজ্ব শুধু সামর্থ্যবান লোকদের উপরই ফরজ এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে, আর আয়াতের শেষ অংশে ইরশাদ হয়েছে, হজ্ব করার শক্তি-সামর্থ্য থাকার পরও আজকাল অনেক ধনী যারা হজ্ব করে না, তাদের এই অন্যায় আচরণে আল্লাহ পাকের কোনো ক্ষতি হয় না। আল্লাহ তো মুখাপেক্ষিতার দোষ থেকে মুক্ত, চির অনপেক্ষ।

অবশ্য নেয়ামতের এমন না-শোকরি ও বেকদরির কারণে বান্দা নিজেই আল্লাহ পাকের রহমত থেকে বঞ্চিত হয় এবং এর পরিণাম খুবই খারাপ হয়। হাদীস শরীফে এসেছে,

مَنْ لَمْ يَمْنَعْهُ عَنِ الْحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ، أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ، أَوْ مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ، فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا، وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا: ناقش ابن حجر طرقه واسانيده فقال: عُلِمَ أَنَّ لِهَذَا الْحَدِيثِ أَصْلًا كما في التلخيص الحبير.
সুস্পষ্ট কোনো বাধা, শাসকের যুলুম কিংবা অসুবিসুখ না থাকার পরও যদি কেউ হজ্ব না করে, বুঝতে হবে, সে ইহুদী হয়ে মরুক বা খৃস্টান হয়ে মরুক, এতে কোনো পরোয়াই নেই! সুনানে দারেমী, হাদীস নং ১৮২৬

ভাই আমার! যদি অন্তরে ঈমান ও ইসলামের নূন্যতম মূল্য অবশিষ্ট থাকে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে সামান্য সম্পর্ক যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে এই হাদীস জানার পর সামর্থ্যবান কারো জন্যই হজ্ব থেকে উদাসীন থাকা কিছুতেই সঙ্গত হবে না।

হজ্বের বরকত ও ফযীলত

একটি হাদীসে এসেছে,

الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ، وَفْدُ اللهِ إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ، وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ.
হজ্ব বা উমরায় গমনকারী হলো আল্লাহ পাকের বিশেষ মেহমান, সে দুআ করলে আল্লাহ পাক তা কবুল করেন, ক্ষমা প্রার্থনা করলে ক্ষমা করে দেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৯২৪

আরেক হাদীসে এসেছে,

مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
যে ব্যক্তি হজ্ব পালন করবে, আর তাতে অভদ্র-অশ্লীল আচরণ থেকে এবং আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা ও নাফরমানী থেকে বিরত থাকবে, সে ব্যক্তি হজ্ব থেকে এমন নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে, জন্মের সময় একটি শিশু যেমন নিষ্পাপ অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে। সহীহ বোখারী, হাদীস নং ১৫২১

অন্য একটি হাদীসে এসেছে,

الحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ
যে হজ্ব নিষ্ঠার সঙ্গে যথানিয়মে আদায় করা হয় এবং যাতে কোনো প্রকার অনাচার যুক্ত হয় না, সেই ‘হজ্ব-এ মাবরুরের’ যথাযোগ্য পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না। সহীহ বোখারী, হাদীস নং ১৭৭৩

হজ্বের নগদ প্রাপ্তি

হজ্বের উসিলায় আখেরাতের ক্ষমা ও জান্নাত তো আমরা পাবোই ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আল্লাহ পাকের নূর ও তাজাল্লিতে ভরপুর কাবাঘরের দর্শন লাভের মাধ্যমে এবং হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও নবীজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা নগরীতে পৌঁছার মাধ্যমে একজন ঈমানদার ব্যক্তি যে বিপুল আধ্যাত্মিক সম্পদ এবং ঐশ্বরিক তৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ করে, দুনিয়াতে তার তুলনা কেবল জান্নাতি নেয়ামতের সঙ্গেই হতে পারে, অন্য কিছুর সঙ্গে নয়। মদীনা শরীফে গমন করা, রওজা মোবারকে হাজির হওয়া, নবীজীর দরবারে সরাসরি সালাত ও সালাম পেশ করা, নবীজীর স্মৃতি রোমন্থন করে মুহাব্বত ও ভালবাসার অশ্রু-সাগরে ¯œান করা, মদিনার অলিগলিতে ঘুরে-ঘুরে কখনো হাসা কখনো কাঁদা, পূন্যভূমির ঘ্রাণময় আলোবাতাশে দিল ও দেমাগ খোশবুদার বানিয়ে নেওয়া ইত্যাদি হলো একজন হাজীর নগদ প্রাপ্তি, যদি সে তা অনুভব করতে পারে।

আসুন! আল্লাহ পাকের দরবারে আমরা মোনাজাত করি, তিনি যেন আপন অনুগ্রহে আমাদেরকে হজ্বের এই স্বাদ ও নেয়ামত নসীব করেন, আমীন।

ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা পাঁচটি

কালিমা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব। এই পাঁচটি বিষয়কে ‘আরকানে ইসলাম’ বলা হয়। সুপ্রসিদ্ধ একটি হাদীসে নবীজী এরশাদ করেন,

بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ.
ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর। ১. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ-একথার সাক্ষ্য দেয়া, ২. যথাযথভাবে নামায পড়া, ৩. যাকাত আদায় করা, ৪. রমজান মাসের রোজা রাখা, ৫. কাবা শরীফের হজ্ব করা, যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ থাকে। সহীহ বোখারী, হাদীস নং ৮

এই পাঁচটি বিষয় ইসলামের বুনিয়াদ বা ভিত্তি হওয়ার অর্থ হলো, এগুলি ইসলামের মৌলিক ফরজ। এগুলির উপর ভালোভাবে আমল করার দ্বারা ইসলামের অন্যান্য বিষয়গুলির উপর আমল করার যোগ্যতা অর্জিত হয়। ইতিপূর্বে এই পাঁচটি বিষয়ের গুরুত্ব ও ফযিলত শুধু উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো মাসআলা বলা হয়নি। বিস্তারিত মাসআলা-মাসায়েল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নির্ভরযোগ্য কিতাব পড়ে বা মুত্তাকী-পরহেজগার আলিমগণের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

জেদ্দায় বসবাসকারী ব্যক্তির জন্য মক্কায় অবস্থান করা আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে গেলে ইহরাম বেঁধে যাওয়া কি আবশ্যক?

প্রশ্ন   জেদ্দায় বসবাসকারী ব্যক্তির জন্য মক্কায় অবস্থান করা আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে গেলে ইহরাম বেঁধে …