প্রচ্ছদ / মুফতি লুতফুর রহমান ফরায়েজীর কলাম / আমরা কেন কথিত আহলে হাদিসের বিরুধিতা করি।

আমরা কেন কথিত আহলে হাদিসের বিরুধিতা করি।

আমরাও ইনসান!
অপবাদে কষ্ট পাই সুখের কথা শুনে হই আনন্দিত!
আমরা ইউটিউব চিনতাম না। চিনতাম না ফেইসবুক কি জিনিস! ইন্টারনেট ছিল এক নিষিদ্ধ জগত আমাদের কাছে।
ইন্টারনেটতো দূরে থাক, টিভি রেডিও পর্যন্ত ছিল আমাদের অধরা। মিডিয়া বলতে হাতের কাছে প্রতিদিনকার পত্রিকা।
আমাদের দুনিয়া ছিল কুরআন ও হাদীস এবং কুরআন ও হাদীসের বিধানাবলীর সুবিন্যস্ত রূপ ইসলামী ফিক্বহ। কিতাবের পাতা, উস্তাদদের ছায়া ছিল আমাদের জীবন। মাদরাসার দেয়াল পেড়িয়ে যখন বাইরে বের হই। তখনো আবার পড়াও, দ্বীনের জ্ঞান শিক্ষা দাও। ব্যস এইতো আমাদের পৃথিবী ছিল। আমরা কারো আগে পিছে ছিলাম না।
জানতাম না মিডিয়ার মাধ্যমে কিভাবে এগিয়ে চলছে বিশ্ব। কিভাবে দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মতবাদের পর মতবাদ উগড়ে দেয়া হচ্ছে।
আচমকা হঠাৎ। আমাদের নজর পড়ে ইন্টারনেটের সুবিশাল জগতে। ব্লগ সাইটের এক নতুন জগতের সাথে পরিচয় হয়। বিডিনিউজ২৪ এ সংবাদ দেখতে গিয়ে দেখতে পাই ব্লগ। ঢুকে পড়ি। ভিমরী খাই। একি? নব্বই ভাগ মুসলিমের দেশে মুসলিম নামধারী ব্যক্তিরা কিভাবে এত জঘন্য শব্দে ইসলাম ও মুসলমান এবং মুসলমানদের নবী ও শরয়ী বিধানাবলী নিয়ে অপমানজনক কথা বলতে পারে?
ধীরে ধীরে পরিচয় হল, নাগরিক ব্লগ, আমার ব্লগ ইত্যাদি ব্লগের সাথে। দেখতে পাই কতিপয় বিকৃত রূচির মানুষের ভয়ানক আস্ফালন। নাস্তিকতার আড়ালে যারা ইসলামকে কলূষিত করার ষড়যন্ত্র মত্ম।
জেগে উঠে ঈমানী জজবা। প্রতিজ্ঞা করি নাস্তিকদের মিথ্যা অপবাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে নাস্তিকদের এ নোংরা লিখনীকে।
হোচট খেলাম সোনার বাংলা ব্লগে ঢুকে। হায়! এতো দেখি আরেক কুরুক্ষেত্র। আমি যে জজবা নিয়ে। যে ঈমানের দীপ্তিতে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জেগে উঠার প্রেরণায় উজ্জীবিত হলাম। সেই ঈমান নাকি কোন ঈমান নয়। যে ইবাদতে কপাল ঠেকাই প্রতিদিন। সেই ইবাদত নাকি আমার প্রিয় নবীজী সাঃ এর ইবাদত নয়।
অপবাদ, মিথ্যা আর প্রতারণা যেভাবে নাস্তিকরা ইসলামের উপর করে যাচ্ছে, তার চেয়েও বেশি তোড়জোড়ে একদল মুসলিম, সহীহ হাদীসের নামে এদেশের তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে করে যাচ্ছে।
অবশেষে ঢুকে গেলাম ইউটিউবের সুবিশাল সম্রাজ্যে। নজরে পড়ল মতিউর রহমান মাদানীর হক্বের ঝান্ডাবাহী তাবলীগ জামাত বিরোধী প্রায় সাত ঘন্টাব্যাপী জঘন্য মিথ্যাচার নির্ভর ভিডিও। উপমহাদেশের মাটিতে নিজের তাজা খুন ঢেলে দিয়ে ইসলাম প্রচারকারী জামাত উলামায়ে দেওবন্দের বিরুদ্ধে বয়ানের পর বয়ান।
শুধু মতিউর রহমান নয়। তাকিয়ে দেখি শায়েখের পর শায়েখ। সে কি বক্তৃতার ফুলঝুরি!
পীর মাশায়েখ সবাই মুশরিক। উলামায়ে দেওবন্দ সবাই মুশরিক। তাবলীগ জামাতের অনুসারী সবাই মুশরিক। যারা মাযহাব মানে তারা সবাই গোমরাহ। চরমোনাই তরীকার সবাই মুশরিক?! ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরে! একি? নাস্তিকরা এদেশের মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর কয়টা বক্তব্য দিয়েছে? এর চেয়ে হাজার গুণ বেশি এদেশের আপামর তৌহিদী জনতার বিশ্বাস ও আমলের বিরুদ্ধে দেখলাম সহীহ হাদীসের ধ্বজাধারী ব্যক্তিদের বয়ানের বাহার। চ্যালেঞ্জের ফুলঝুরি।
এবার অফলাইনে তাকালাম। দেখি লিখিত বইয়েরও অভাব নেই! ইয়া আল্লাহ! কত বই। তাও আবার অনেক বই ফ্রী বিতরণ চলছে।
এবার টনক নড়ল আমাদের। মনের কষ্ট মনে চেপে রেখে নিজেকে ঈমানদার প্রমাণে সচেষ্ট হলাম। আমরা কুরআন ও সুন্নাহ মানি। আমরা বিদআতি নই। নই মুশরিকও। আমরা খাটি মুসলিম। নবীজী সাঃ এর রক্তভেজা দ্বীনের একনিষ্ট খাদিম প্রমাণে কলমের মোড় আমাদের ঘুরিয়ে দিতে হল।
ক্ষুদ্র থেকে শুরু করলাম আমরা। তুলে ধরতে শুরু করলাম সহীহ হাদীসের মুখোশের আড়ালের লুকানো নোংরা চেহারাগুলোকে। সৌদী রুমালের ঘুমটা দেয়া শায়েখদের সহীহ হাদীসের নামে করা অবিশ্বাস্য জালিয়াতিগুলো উঠে আসতে লাগল আমাদের লিখনী ও ভিডিওতে। এতদিন যারা সহীহ হাদীসের ধোঁয়া তুলে মিথ্যার ভাগাড় উগড়েছে, তাদের জাল হাদীসের ফিরিস্তি, তাদের হাদীসের নামে ভয়ানক জালিয়াতি, অপপ্রচার, ধোঁকা, প্রতারণার মুখোশ আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে লিখনী ও ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করতে লাগলাম।
এইতো সেদিন আমাদের যাত্রা। লিখনীর যাত্রা সর্বোচ্চ দুই তিন বছর। আর ভিডিও এর যাত্রাতো এই সেদিন।
কিন্তু এতেই ঘুম হারাম হয়ে গেল সহীহ হাদীসের প্রতারক ফেরিওয়ালাদের।
ব্যস! শুরু হল, নসীহত। গীবত করা হারাম। অন্যের দোষ বলা জায়েজ নয়। আমরা সবাই দ্বীনের খিদমাত করি। কারো বিরুদ্ধে না বলি ইত্যাদি ইত্যাদি।
সহীহ শায়েখরা সব হয়ে গেলেন সুফী সাহেব। আর তাদের সরল বোকা ভক্তরা হয়ে গেল গালিবাজ।
ইন্নালিল্লাহ। সে কি গালির বহর। মোবাইলে কল করে সহীহ গালি বর্ষণ। মেসেজে সহীহ গালির ফুলঝুরি। মন্তব্যে সহীহ গালি। সর্বত্র সহীত্ব নির্ভর গালিতে নোংরা করে যাচ্ছেন ঘোমটাধারী শায়েখের অবুঝ অন্ধ ভক্তরা।
আমরা শুধু অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রই। নিরব দর্শক হ্ওয়া ছাড়া আমাদের আর কি’বা করার আছে? কারণ আমরা কুরআন ও হাদীসের দলীল দেয়ার শিক্ষা পেয়েছি। বস্তির গালি নয়।
এক নতুন থিউরী আবিস্কার করলেন সহীহ বিদআতি বন্ধুরা। থিউরী হল, তারা প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাদের আকাবীরদের বিরুদ্ধে বললে, আমাদের আমলের বিরুদ্ধে বললে তা হয় দ্বীন প্রচার, আর আমরা তাদের মিথ্যা ও প্রতারণা তুলে ধরলে হয়ে যাই ফিতনাবাজ ও গীবতকারী।
কী আজীব মূলনীতি! এ যেন মাদায়ানবাসীর দাঁড়িপাল্লা। নিজে নিবার সময় এক পাল্লা, আর অন্যকে দেবার সময় আরেক পাল্লা!
আমরা উক্ত বন্ধুদের শুধু বলবো- যদি সমালোচনা সইতে না পারো, তবে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দাও কেন? ইট মারলে পাটকেলতো খাবেই।
আল্লাহ তাআলা মাদায়েনী থিউরীধারী সহীহ ফিতনার হাত থেকে আমাদের ঈমান ও আমলকে হিফাযত করুন। আমীন।

 

Lutfor Faraji সাহেবের কলাম থেকে

আরও জানুন

“রোহিঙ্গা” এটা কি উপহাস করার শব্দ? আপনার মনুষত্ব কোথায়??

রাস্তাঘাটে চলতে এখন মানুষের মুখে মুখে উপহাসচ্ছলে শুনতে পাই “ঐ রোহিঙ্গা! তুই কি রোহিঙ্গা নাকি?, …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস