প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / শুধু নিজের ইতিকাফের নিয়তে ইতিকাফ করলে বাকি মুসল্লিদের ইতিকাফ আদায় হবে কি?

শুধু নিজের ইতিকাফের নিয়তে ইতিকাফ করলে বাকি মুসল্লিদের ইতিকাফ আদায় হবে কি?

প্রশ্ন

আব্দুল্লাহ মাহফুজ

সিলেট, শাহপরান  আ/এ

রমজানের শেষ দশকে যেই এতেকাফ করা হয় এই এতেকাফ তো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া,এখন যদি কেউ বলে যে আমি আমার পক্ষ থেকে এতেকাফ আদায় করছি,মহল্লার পক্ষ থেকে নয় এই বলে সে যদি এতেকাফে ঢুকে তাহলে কি মহল্লার পক্ষ থেকে এই এতেকাফ আদায় হবে?

অথবা সে যদি আদায় করেই ফেলে তাহলে এট কি মহল্লার পক্ষ থেকে আদায় হবে? নাকি হবেনা?

এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করলে  আল হয়।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

কিফায়া এর হাকীকত বুঝে আসলে আপনার মন থেকে এ প্রশ্নের ধোঁয়াশা দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

কোন কিছুর হুকুম যখন কিফায়া হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, মূলত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব, কিন্তু কিছু লোক আদায় করলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। এজন্য বাকিদের পক্ষ থেকে আদায়ের নিয়ত করার জরুরী নয়।

তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় হল, যিনি কাজটি আদায় করবেন, তিনি সওয়াব পাবেন। বাকিরা দায়িত্ব মুক্ত হবেন। কাজটি করার সওয়াব পাবেন না।

উদাহরণতঃ আপনারা ৫জন এক বাসায় থাকেন, বাসাটি পরিস্কার রাখা সবারই দায়িত্ব। এখন একজন পরিস্কার করে নিলেই কিন্তু সবার পক্ষ থেকে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবেন। যদিও অন্যদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব মুক্ত হবার নিয়ত না করে থাকেন। কিন্তু প্রশংসা কিংবা পুরস্কার কিন্তু অন্যরা প্রাপ্ত হবে না, বরং যিনি কাজ করেছেন তিনিই পুরস্কার বা বিনিময় প্রাপ্ত হবেন।

তেমনি মৃত ব্যক্তিকে কাফন দাফন করা সবার দায়িত্ব। কিছু লোক সেই দায়িত্ব পালন করলে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যারা কাফন দাফনে শরীক হল, তারা সওয়াব হবে, যারা শরীক ছিল না, তারা সাওয়াব পাবে না।

তেমনি এলাকার সবার উপরই রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদায়ে কিফায়া। এখন কিছু লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। যদিও অন্যদেরটা আদায়ের নিয়ত না করা হয়। বাকি সওয়াব পাবে ইতিকাফকারী। বাকিরা শুধু দায়িত্বমুক্ত হবেন ।

فى الدر المختار: (وَسُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ فِي الْعَشْرِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ) أَيْ سُنَّةُ كِفَايَةٍ كَمَا فِي الْبُرْهَانِ وَغَيْرِهِ لِاقْتِرَانِهَا بِعَدَمِ الْإِنْكَارِ عَلَى مَنْ لَمْ يَفْعَلْهُ مِنْ الصَّحَابَةِ

وفى رد المحتار: (قَوْلُهُ أَيْ سُنَّةُ كِفَايَةٍ) نَظِيرُهَا إقَامَةُ التَّرَاوِيحِ بِالْجَمَاعَةِ فَإِذَا قَامَ بِهَا الْبَعْضُ سَقَطَ الطَّلَبُ عَنْ الْبَاقِينَ فَلَمْ يَأْثَمُوا بِالْمُوَاظَبَةِ عَلَى تَرْكٍ بِلَا عُذْرٍ، وَلَوْ كَانَ سُنَّةَ عَيْنٍ لَأَثِمُوا بِتَرْكِ السُّنَّةِ الْمُؤَكَّدَةِ إثْمًا دُونَ إثْمِ تَرْكِ الْوَاجِبِ ة (رد المحتار، كتاب الصوم، باب الاعتكاف-3/430-431)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

চলন্ত বাসে কিভাবে নামায আদায় করবে?

প্রশ্ন চলন্ত বাসে যদি বাস থামিয়ে নামায পড়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে কিভাবে নামায আদায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস