প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / সালাফী আলেমদের আকিদাগত ভ্রান্তি ও মতবিরোধ [পর্ব-৪]

সালাফী আলেমদের আকিদাগত ভ্রান্তি ও মতবিরোধ [পর্ব-৪]

মুফতী ইজহারুল ইসলাম কাউসারী

৩য় পর্ব পড়ে নিন

আল্লাহ তায়ালার ছায়া: 

ইবনে বাজের বক্তব্য:

সালাফীদের বিখ্যাত শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে বাজের মতে আল্লাহ তায়ালার ছায়া রয়েছে। তিনি তার কিতাবে স্পষ্ট বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার ছায়া রয়েছে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর এই ছায়ার নীচে সাত শ্রেণির মানুষকে আশ্রয় দিবেন।

ইবনে বাজ তার মাজমুউ ফাতাওয়া ও মাকালাতে লিখেছেন,

প্রশ্ন: হাদীসে রয়েছে, যে দিন কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণির মানুষকে তার নিজ ছায়ার তলে স্থান দিবেন। আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে এই গুণ সাব্যস্ত করা যাবে যে, আল্লাহর ছায়া রয়েছে?

উত্তর:  হ্যা। যেমনটি হাদীসে রয়েছে।  কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তার আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। কিন্তু বোখারী মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তার নিজ ছায়ায় স্থান দিবেন। সুতরাং ” আল্লাহ তায়ালার শান অনুযায়ী আল্লাহর ছায়া রয়েছে। “

[মাজমুউ ফাতাওয়া ও মাকালাত, খ.২৮, পৃ.৪০২]

স্ত্রিনশট:

ইবনে উসাইমিনের বক্তব্য:

ইবনে উসাইমিনের মতে, এটি আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব ছায়া নয়। বরং আল্লাহর সৃষ্ট ছায়া। তিনি আকিদাতুল ওয়াসিতিয়া এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন,

” সে দিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্ট ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। কেউ কেউ ধারণা রাখে যে, এটি আল্লাহর নিজস্ব ছায়া। নিশ্চয় এটি বাতিল  ও ভ্রান্ত।  কেননা, এর দ্বারা সূর্য আল্লাহর উপরে হওয়া আবশ্যক হয়।”

[শরহু আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যা, খ.২, পৃ.১৩৬]

ইবনে উসাইমিন রিয়াজুস সালেহীন এর একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন। রিয়াজুস সালেহীনের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন,

“ছায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এমন ছায়া যা আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন সৃষ্টি করবেন। তার প্রিয় বান্দাদের যাকে ইচ্ছা এর নীচে ছায়া দান করবেন। এর দ্বারা আল্লাহর নিজের ছায়া উদ্দেশ্য নয়। ……যে ছায়া দ্বারা আল্লাহর নিজের ছায়া আছে বলে  বিশ্বাস রাখে সে গাধার চেয়েও নির্বোধ”

[শরহু রিয়াজিস সালেহীন, খ.৩, পৃ.৩৪৭]

স্ক্রিনশট:

শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আল-বাররাক এর বক্তব্য:

সালাফী শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসের আল-বাররাক বলেন,

“ছায়া হলো আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর দিকে ছায়ার সম্পৃক্ততা মুলত: ছায়ার মর্যাদা ও আল্লাহর মালিকানাধীন বোঝানো উদ্দেশ্য।  এই হাদীস থেকে বলা যাবে না যে, আল্লাহর নিজের ছায়া রয়েছে”

[ফাতহুল বারীর টীকা, ২য় খন্ড, পৃ.৫০৩]

স্ক্রিনশট:

শায়খ আলবানীর বক্তব্য:

সালাফীদের শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী কিয়ামতের দিনের ছায়া সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর ছায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর মালিকানাধীন ছায়া। যে ছায়ার মালিক আল্লাহ তায়ালা। এখানে আল্লাহর নিজের ছায়া উদ্দেশ্য নয়। তিনি লিখেছেন,

” আল্লাহর দিকে ছায়ার সম্পৃক্ততা আল্লাহর মালিকানা বোঝানোর জন্য। … এ ছায়া দ্বারা মুলত: আরশের ছায়া উদ্দেশ্য”

[মাউসুয়াতুল আলবানী, খ.১, পৃ.৩৬৬]

স্ক্রিনশট:

নিবেদন:

সহীহ আকিদার ভাইয়েরা, দয়া করে জানাবেন, কার বক্তব্য সঠিক। ইবনে বাজের না কি অন্যান্য শায়খদের? আর যে আল্লাহর ছায়া  সাব্যস্ত করে তার সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী?

আল্লাহর সীমা:

“ইবনে বাজের মতে আল্লাহর সীমা রয়েছে। তবে আল্লাহর সীমা তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না।”

আমরা কুরআন ও হাদীসের কোথাও এধরনের কোথা পাইনি। আল্লাহ পাক ভালো জানেন, ইবনে বাজ এধরনের কথা কোথায় পেলেন। সীমা থাকা সম্পূর্ণ সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। এটি আল্লাহর জন্য  সাব্যস্তের ব্যাপারে কেন এতো মরিয়া, আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। ত্বহাবী শরীফে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা সীমা-পরিসীমা থেকে পবিত্র।  এই স্পষ্ট বক্তব্যের বিকৃত ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন,

ইবনে বাজ তার মাজমুউ ফাতাওয়া তে বলেছেন,

” আল্লাহর সীমা রয়েছে, তবে  সেটা তিনিই জানেন, বান্দা  জানেন না”

[মাজমুউ ফাতাওয়া, খ.২, পৃ.৭৮]

স্ক্রিনশট:

ইবনে উসাইমিনের বক্তব্য:

ইবনে উসাইমিনের মতে হদ বা সীমা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি থেকে পৃথক। সৃষ্টি ও আল্লাহর মাঝে পার্থক্যের যে সীমা রয়েছে, সেটি আল্লাহর জন্য সত্য। অর্থাৎ ইবনে উসাইমিনের নিকট হদ বা সীমার অর্থ হলো, সৃষ্টি ও আল্লাহর মাঝে পার্থক্যের সীমা। 

[শরহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়া, খ.১,পৃ.৩৭৯]

স্ক্রিনশট:

ইবনে জিবরীনের বক্তব্য:

সালাফী শায়খ ইবনে জিবরীনের মতে আল্লাহ ও সৃষ্টির মাঝে একটি সীমা রয়েছে। এর মাধ্যমে সৃষ্টি ও আল্লাহর মাঝে পার্থক্য করা হয়।

[আর-রিয়াজুন নাদিয়্যা, খ.২, পৃ.১৫]

স্ক্রিনশট:

সালেহ আল-ফাউজানের বক্তব্য:

সালেহ আল-ফাউজানের মতে হদ বা সীমার অর্থ হলো, বাস্তবতা। অর্থাৎ আল্লাহর হদ আছে এর অর্থ হলো, আল্লাহ প্রকৃত পক্ষেই আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। 

সালেহ আল-ফাউজানের মতে, হদ দ্বারা কোন সীমা উদ্দেশ্য নয়। 

[শরহু লুময়াতিল ই’তেকাদ, পৃ.২৯৭]

স্ক্রিনশট:

আলবানী সাহেবের বক্তব্য:

হাম্বলী মাজহাবের একজন আলেম মাহমুদ ইবনে আবিল কাসিম দাশতী একটা কিতাব লিখেছেন। তার কিতাবের নামটা আশ্চর্যজনক। ইসবাতুল হদ্দি লিল্লাহি তায়ালা ও বিয়ান্নাহু কাইদুন ও জালিসুন আলাল আরশ ( আল্লাহর সীমার প্রমাণ এবং আল্লাহ তায়ালা যে আরশে বসে আছেন, এর প্রমাণ)। সৌদি আরবের কয়েকজন শেইখ আবার এই নিকৃষ্ট কিতাবটিও তাদের আকিদার কিতাব হিসেবে ছেপেছে। 

কিতাবের কভাপর পেইজ:

 

 আলবানী সাহেব দাশতীর এই কিতাব সম্পর্কে বলেন, 

” কুরআন ও সুন্নাহে (আল্লাহর সীমা ও বসার) কোন প্রমাণ নেই

[মাখতুতাতু দারিল কুতুবিজ জাহিরিয়া, পৃ.৩৭৬]

স্ক্রিনশট:

নোট:

সালাফীদের একটা মূলনীতি হলো, আমরা কুরআন ও সুন্নাহের বাইরে কোন কিছু আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করি না। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের কোথায় আল্লাহর সীমা সাব্যস্ত করা হয়েছে? এখানে এসে সালাফীদের এই মূলনীতি কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো?

৪র্থ পর্ব

আরও জানুন

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আব্বা আম্মা কি জান্নাতী?

ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *