প্রচ্ছদ / আহলে হাদীস / হানাফী মাযহাব মতে রুকু থেকে উঠে হাত বাঁধার কথা আছে: ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ এর দাবীটি কি ঠিক?

হানাফী মাযহাব মতে রুকু থেকে উঠে হাত বাঁধার কথা আছে: ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ এর দাবীটি কি ঠিক?

প্রশ্ন

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ ) স্যার এর সালাতে হাত বাধার বিধান বই তে পড়েছি যে হানাফি মাযহাবে রুকু থেকে উঠে আবার হাত বাঁধার কথা আছে?
প্রশ্ন তাহলে আমরা রুকুর পরে আবার হাত বাঁধি Na কেনো?

প্রশ্নকর্তা: আব্দুর রহমান রনি

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

কথা আছে একথা ঠিক। কিন্তু এটি মুফতাবিহী তথা প্রাধান্য পাওয়া কওল নয়। বরং এটি মারজূহ কওল। তবে যদি কেউ নফল নামাযে রুকু থেকে উঠে সেজদায় যাবার আগে তাকবীর ছাড়া মাসনূন অন্য কোন দুআ পড়ে, তাহলে এমতাবস্থায় হাত বেঁধে রাখা উত্তম।

কিন্তু ফরজ নামাযে যেখানে রুকু থেকে উঠে সেজদায় যাবার আগে রুকু থেকে উঠার এবং সেজদায় যাবার তাকবীর ছাড়া আর কোন জিকির নেই, সেসব স্থানে হাত বেঁধে রাখবে না। বরং হাত খোলা রাখবে। এটাই হানাফী মাযহাবের মত।

সুতরাং “হানাফী মাযহাবে রুকু থেকে উঠে হাত বাঁধার কথা আছে” একথা আমভাবে বলা ঠিক নয়। বরং ভুল কথা।

 

ড: আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ তার লিখিত ‘সলাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান’ বইয়ের ৮২ পৃষ্ঠায় ইবনে নুজাইম রহঃ (মৃত্যু ৯৭০ হিজরী) এর নামে ‘আলবাহরুর রায়েক এর উদ্ধৃতিতে যে ইবারত এনেছেন, তা আলবাহরুর রায়েকের সংকলক যাইনুদ্দীন বিন ইবরাহীম বিন নুজাইম রহঃ এর আলবাহরুর রায়েকের ইবারত নয়, বরং তা আলবাহরুর রায়েকের হাশিয়া যা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ লিখেছেন, যার নাম ‘মিনহাতুল খালেক আলাল বাহরির রায়েক’ উক্ত কিতাবের।

আরো মজার বিষয় হলো: ইবনে আবেদীন শামী মিনহাতুল খালেক এ যে বক্তব্য এনেছেন, তা তিনি উল্লেখ করেছেন আরেক ইবনে নুজাইম এর সংকলিত গ্রন্থ ‘আননাহরুল ফায়েক’ থেকে। যিনি হলেন যাইনুদ্দীন ইবনে নুজাইম রহঃ এর আপন ভাই। তার নাম সিরাজুদ্দীন উমর বিন ইবরাহীম বিন নুজাইম। মৃত্যু ১০০৫ হিজরী।

সুতরাং আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ এর উপরোক্ত গ্রন্থে ‘হানাফী আলেমদের নিকট রুকুর পর হাত বাঁধা’ সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে পেশ করা ইবারতটি আলবাহরুর রায়েকের নামে উদ্ধৃতকরণ সুষ্পষ্ট ভুল।

আমাদের কাছে এ বিষয়টি আশ্চর্য লেগেছে ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ এর মতো ব্যক্তিত্ব কেন একটি গায়রে মারজূহ কথাকে হানাফী মাযহাব প্রমাণের চেষ্টা করে এমন ইবারতের ভুল উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। অথচ আলবাহরুর রায়েকের মূল ইবারতে রুকুর পর সেজদার যাবার আগের দাঁড়ানো অবস্থায় হাত না বাঁধার বিষয়টিকে ইজমা তথা হানাফী মাযহাবে সর্বসম্মত মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা হযরতকে ক্ষমা করুন।

এরপর ইবনে আবেদীন শামী রহঃ এর বক্তব্যটি উদ্ধৃত করা হয়েছে, এর দ্বারাও কোনভাবে প্রমাণিত হয় না যে, হানাফী মাযহাবে রুকু থেকে উঠে হাত বাঁধার কথা বলা হয়ে থাকে। বরং সেখানে “রুকু থেকে উঠে সেজদায় যাবার আগের সময়টা দীর্ঘ সময় হয় না” একথা সর্বক্ষেত্রে সঠিক নয় তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারপর নফল নামাযে সুন্নাহসম্মত কোন দুআ পড়লে হাত বেঁধে রাখার সুযোগ আছে বলা হয়েছে।

সুতরাং এ ইবারতকেও আমভাবে হানাফী মাযহাবে রুকু থেকে উঠে হাত বাঁধার কথা বলা আছে দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ বহন করে না।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

والحاصل أن كل قيام فيه ذكر مسنون ففيه الوضع، وكل قيام ليس كذا ففيه الإرسال، وفى الحاشية: قلت: المراد بالذكر الطويل (شرح الوقاية-1/144)

فى درر الحكام: وَيُرْسِلُ يَدَيْهِ فِي قَوْمَةِ الرُّكُوعِ وَبَيْنَ تَكْبِيرَاتِ الْعِيدِ) فَالْحَاصِلُ أَنَّ كُلَّ قِيَامٍ فِيهِ ذِكْرٌ مَسْنُونٌ فَفِيهِ الْوَضْعُ وَكُلَّ قِيَامِ لَيْسَ كَذَلِكَ فَفِيهِ الْإِرْسَالُ،

وفى حاشية الشرنبلالى: (قَوْلُهُ وَيُرْسِلُ يَدَيْهِ فِي قَوْمَةِ الرُّكُوعِ) قَالَ فِي الْبَحْرِ وَهَذَا بِالْإِجْمَاعِ ثُمَّ قَالَ، وَذَكَرَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَنَّهُ يُرْسِلُ فِي الْقَوْمَةِ الَّتِي تَكُونُ بَيْنَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ عَلَى قَوْلِهِمَا كَمَا هُوَ قَوْلُ مُحَمَّدٍ، ……. ثُمَّ قَالَ وَعَلَى هَذَا فَالْمُرَادُ مِنْ الْإِجْمَاعِ الْمُتَقَدِّمِ اتِّفَاقُ أَبِي حَنِيفَةَ وَصَاحِبَيْهِ عَلَى الصَّحِيحِ (درر الحكام شرح غرر، كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، دار إحياء الكتب العربية-1/67)

فى البحر الرائق: وَأَجْمَعُوا أَنَّهُ لَا يُسَنُّ الْوَضْعُ فِي الْقِيَامِ الْمُتَخَلِّلِ بَيْنَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ؛ لِأَنَّهُ قَرَارٌ لَهُ وَلَا قِرَاءَةَ فِيهِ

وفى منحة الخالق على البحر الرائق: وَاعْلَمْ أَنَّ الْحَدَّادِيَّ قَيَّدَ الْإِرْسَالَ فِيمَا لَيْسَ فِيهِ ذِكْرٌ مَسْنُونٌ بِمَا إذَا لَمْ يُطِلْ الْقِيَامَ أَمَّا إذَا أَطَالَهُ فَيَعْتَمِدُ، وَفِي الْخُلَاصَةِ، وَكَذَا يُرْسِلُ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ فِي كُلِّ قِيَامٍ لَا ذِكْرَ فِيهِ وَلَا يُطَوِّلُ وَهَذَا يَقْتَضِي أَنْ يُزَادَ فِي الضَّابِطِ السَّابِقِ أَوْ يُطَوِّلَ وَاَللَّهُ تَعَالَى الْمُوَفِّقُ   (البحر الرائق، كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، آداب الصلاة، دار الكتاب الإسلامي-1/326)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

প্রধান মুফতী: জামিয়াতুস সুন্নাহ লালবাগ, ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

কুয়েতে প্যাকেটজাত গোস্ত খাওয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। আমি বর্তমানে কুয়েতে থাকি। আমার প্রশ্ন হলো এখানকার মার্কেটে যে সমস্ত প্যাকেটিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস