প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / সামুদ্রিক জাহাজে নামাজ কসর পড়বে? নাকি পূর্ণ পড়বে?

সামুদ্রিক জাহাজে নামাজ কসর পড়বে? নাকি পূর্ণ পড়বে?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ!
একটি প্রশ্ন জানার ছিলো। আমি একটি জাহাজে চাকরি করি। চাকরির বয়স ৬মাস। মনের মধ্যে একটি বিষয়ে সংশয় কাজ করতেছিলো। তা হল, আমি যে জাহাজে থাকি সেখানের সব লোকেরা নামাজ কসর করে। কিন্তু আমার মন বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেনা। তাই আপনার নিকট জানতে চাই। জাহাজে থাকা অবস্থায় আমি মুকিম নাকি মুসাফির?  নামাজ পূর্ণ পড়বো? নাকি কসর কসর করবো? ফরজ নামাজ কসর পড়ার পর সুন্নত ও মুস্তাহাবের বিধান কী হবে? যেহেতু আমরা সেখানে অনেক সময় পাই। এবং সুন্নত, নফল পড়বো? নাকি ওমরী কাযা? দয়া করে দলিলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
দুলাল মিয়া, পটুয়াখালী।

بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما

উত্তর:

ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
জাহাজে অবস্থানকারী ব্যাক্তি মুসাফির হিসেবেই গণ্য হবে। যেহেতু জাহাজ স্থায়ী বসবাসের যোগ্য নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সামুদ্রিক জাহাজে যতদিন থাকার নিয়ত করুক। চাই তা একবৎসর হোক না কেন নিজস্ব বাসস্থানে ফিরে আসা পর্যন্ত মুসাফির হিসেবে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কসর করবে। এবং জাহাজ নিরাপদ স্থানে থাকলে , যথেষ্ট পরিমাণ সময় থাকলে সুন্নতে মুয়াক্কাদার গুরুত্ব দিবে। সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায়ের পর সময় থাকলে ওমরী কাযা আদায় করবে। অবশ্যই নফল আদায়ের চেয়ে ওমরী কাযা আদায় করা উত্তম। তবে ওমরী কাযার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নেই।

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتِ الصَّلاَةُ أَوَّلُ مَا فُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ، وَأُتِمَّتْ صَلاَةُ الْحَضَرِ‏.‏ (رواه البخاري ١٠٩٠)

”(أو) نوی (فیہ)(لکن فی غیر صالح)أو کنحو جزیرۃ قال ابن عابدین۔ قولہ: فیہ) أی فی نصف شھر۔۔۔قال فی المجتبی: والملاح مسافر إلا عند الحسن وسفینتہ ایضاً لیست بوطن، ظاہرہ ولو کان مالہ وأھلہ معہ فیھا ثم رأیتہ صریحا فی المعراج.(الدر المختار،کتاب الصلوٰۃ ٢/١٢٥،١٢٦،سعید)

”(أَوْ لَمْ یَکُنْ مُسْتَقِلًّا بِرَأْیِہِ) کَعَبْدٍ وَامْرَأَۃٍ (أَوْ دَخَلَ بَلْدَۃً وَلَمْ یَنْوِہَا) أَیْ مُدَّۃَ الْإِقَامَۃِ (بَلْ تَرَقَّبَ السَّفَرَ) غَدًا أَوْ بَعْدَہُ (وَلَوْ بَقِیَ) عَلَی ذَلِکَ (سِنِینَ) (قَوْلُہُ وَلَمْ یَنْوِہَا) وَکَذَا إذَا نَوَاہَا وَہُوَ مُتَرَقِّبٌ لِلسَّفَرِ کَمَا فِی الْبَحْرِ لِأَنَّ حَالَتَہُ تُنَافِی عَزِیمَتَہُ.”(الدر المختار مع رد، کتاب الصلوٰۃ، باب صلاۃ المسافر، ٢/١٢٦،سعید)

”(وَأَمَّا)الْمَکَانُ الصَّالِحُ لِلْإِقَامَۃِ: فَہُوَ مَوْضِعُ اللُّبْثِ وَالْقَرَارِ فِی الْعَادَۃِ نَحْوُ الْأَمْصَارِ وَالْقُرَی، وَأَمَّا الْمَفَازَۃُ وَالْجَزِیرَۃُ وَالسَّفِینَۃُ فَلَیْسَتْ مَوْضِعَ الْإِقَامَۃِ، حَتَّی لَوْ نَوَی الْإِقَامَۃَ فِی ہَذِہِ الْمَوَاضِعِ خَمْسَۃَ عَشَرَ یَوْمًا لَا یَصِیرُ مُقِیمًا کَذَا رُوِیَ عَنْ أَبِی حَنِیفَۃَ.” (بدائع الصنائع:١/٩٨، سعید)

”(وَیَأْتِی) الْمُسَافِرُ (بِالسُّنَنِ) إنْ کَانَ (فِی حَالَ أَمْنٍ وَقَرَارٍ وَإِلَّا) بِأَنْ کَانَ فِی خَوْفٍ وَفِرَارٍ (لَا) یَأْتِی بِہَا .”(الدر المختار، کتاب الصلاۃ، باب صلاۃ المسافر ٢/١٣١،سعید).فقط

واللہ اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

মুফতী শাহাদাত হুসাইন

সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ

তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সত্যায়নে

মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী।

পরিচালক  – তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

আরও জানুন

ইতিকাফের কাযা করার সময় কি রোযা রাখা শর্ত?

প্রশ্ন প্রশ্নকারীর নাম: লুৎফর রহমান ঠিকানা: খৈশাইর জেলা/শহর: নারায়ণগঞ্জ দেশ: বাংলাদেশ প্রশ্নের বিষয়: ইতিকাফ বিষয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস