প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / দুই মাথা জোড়া লাগানো জমজ দুই মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দিবে?

দুই মাথা জোড়া লাগানো জমজ দুই মেয়েকে কিভাবে বিয়ে দিবে?

প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতি সাহেব আমার এক বন্ধু প্রশ্ন করেছিলো  যে  বর্তমান দেখা যায় অনেক সন্তান জন্ম নেয়  দুই মাথা এক সাথে জুড়া লাগানো দেহ আলাদা  এমন মেয়ের বিয়ের হুকুম কি হবে?

দেহ দুইটা এক সাথে বিয়ে হবে না আলাদা, আলাদা,  স্বামীর হুকুম কি হবে?

একটু বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি পূর্ণ শরীর আলাদা আলাদা হয়, শুধুমাত্র দুই মাথা সংযুক্ত হয়, তাহলে তারা উভয়ে আপন দুই বোন। দুইবোনকে একসাথে বিয়ে করা জায়েজ নেই।

এছাড়া একজনকে বিয়ে করলে অপরজনের সাথে পর্দা করা ফরজ। পর্দা রক্ষা করা এবং বিয়ে করা স্ত্রীর সাথে একান্ত সময় কাটানো সম্ভব নয়।

তাই অস্ত্রপাচার করে মাথা আলাদা করা ছাড়া এমনিতে দুইবোনকে একসাথে একজনের জন্য বা আলাদা আলাদা দুইজনকে দুই পুরুষের কাছে বিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।

তাই তাদের বিয়ে দেয়া যাবে না।

 

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ ………. وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ [٤:٢٣]

তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে …… এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা;[সূরা নিসা-২৩]

أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ انْكِحْ أُخْتِي بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ فَقَالَ أَوَتُحِبِّينَ ذَلِكِ فَقُلْتُ نَعَمْ لَسْتُ لَكَ بِمُخْلِيَةٍ وَأَحَبُّ مَنْ شَارَكَنِي فِي خَيْرٍ أُخْتِي فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ ذَلِكِ لاَ يَحِلُّ لِي قُلْتُ فَإِنَّا نُحَدَّثُ أَنَّكَ تُرِيدُ أَنْ تَنْكِحَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ قُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ لَوْ أَنَّهَا لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حَجْرِي مَا حَلَّتْ لِي إِنَّهَا لاَبْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَرْضَعَتْنِي وَأَبَا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ فَلاَ تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلاَ أَخَوَاتِكُنَّ

উম্মু হাবীবাহ বিনতে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন আবূ সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর? তিনি উত্তর করলেন, হাঁ। এখন তো আমি আপনার একক স্ত্রী নই এবং আমি চাই যে, আমার বোনও আমার সঙ্গে উত্তম কাজে অংশীদার হোক। তখন নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামউত্তর দিলেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনতে পেলাম, আপনি নাকি আবূ সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, আমি উম্মু সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যদি সে আমার প্রতিপালিতা কন্যা না হত, তাহলেও তাকে বিয়ে করা হালাল হত না।

কেননা, সে দুধ সম্পর্কের দিক দিয়ে আমার ভাতিজী। কেননা, আমাকে এবং আবূ সালামাহ্কে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং, তোমরা তোমাদের কন্যা ও বোনদেরকে বিয়ের জন্য পেশ করো না। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫১০১]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

“জিকিরের দ্বারা জিহবা তরোতাজা থাকলে হাসতে হাসতে জান্নাত” এটা কি হাদীস?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম প্রিয় মুফতী সাহেব, মহান  আল্লাহর জন্যই  আপনাকে  অনেক  ভালবাসি। আপনার লেখা পড়ি ও প্রচার করি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, হাসতে হাসতে জান্নাত যাওয়ার হাদিস আমি এতদিন মানুষকে বলতে না করেছি আপনার লেখা পড়ে, এখন একটা দলিল পেয়েছি। দয়া করে জানাবেন দলিল ঠিক আছে কিনা, তাহলে এই হাদিস আমিও প্রচার করব ইনশাআল্লাহ। উত্তর وعليكم السلام ورحمة الله …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস