প্রচ্ছদ / জায়েজ নাজায়েজ / পুরুষের জন্য কোন ধাতুর আংটি কোন আঙ্গুলে পরিধান করা জায়েজ?

পুরুষের জন্য কোন ধাতুর আংটি কোন আঙ্গুলে পরিধান করা জায়েজ?

প্রশ্ন

From: শাকিলুল হুদা
বিষয়ঃ সাজসজ্জা/ পোশাক পরিচ্ছদ

প্রশ্নঃ
মুহতারাম,
আসসালামু আলাইকুম,
From: শাকিলুল হুদা, ধানমন্ডি-32
প্রশ্নঃ বর্তমানে পুরুষদের জন্য কত গ্রাম/ আনি রূপার আংটি পড়া জায়েজ? রূপার সাথে অন্য কোন ধাতুর মিক্সচার থাকলে সমস্যা হবে কি না? যদি পাথর থাকে তাহলে ওজনের পরিমানে কোন পার্থক্য হবে কি না? হলে এর সুরত কেমন হবে? যদি ওজনের পরিমান জায়েজের থেকে কিছু বেশি হয় তাহলে হারাম হবে কি না? কোন হাতের কোন আঙ্গুলে পড়তে হবে? আংটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে বড় উপকৃত হবো।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

সাড়ে চার গ্রামের কম ওজনের রূপার আংটি পুরুষের জন্য জায়েজ। অন্য কোন ধাতুর মিক্সার থাকলেও যদি তা মূলত রূপার আংটি হয়,অর্থাৎ রূপার দ্বারা পূর্ণ প্রলেপ থাকে, তাহলে ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। তবে রূপার পরিমাণ এক মিসকাল তথা সাড়ে চার গ্রামের বেশি হতে পারবে না। বেশি হলে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। [তুহফাতুল আলমায়ী-৫/১০৮]

পুরুষের জন্য রূপার আংটি ছাড়া অন্য কোন ধাতুর আংটি পরিধান করা জায়েজ নয়।

তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল ছাড়া যে কোন আঙ্গুলে পরিধান করা যাবে। উক্ত দুই আঙ্গুলে পরিধান করাও হারাম বা  মাকরূহে তাহরীমী নয়, বরং মাকরূহে তানযিহী বা অনুত্তম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের  কনিষ্ঠা আঙ্গুলিতে আংটি পরিধান করতেন। তাই এটি উত্তম আমল।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ شَبَهٍ، فَقَالَ لَهُ: «مَا لِي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ الْأَصْنَامِ» فَطَرَحَهُ، ثُمَّ جَاءَ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ، فَقَالَ: «مَا لِي أَرَى عَلَيْكَ حِلْيَةَ أَهْلِ النَّارِ» فَطَرَحَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ أَتَّخِذُهُ؟ قَالَ: «اتَّخِذْهُ مِنْ وَرِقٍ، وَلَا تُتِمَّهُ مِثْقَالًا

আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি পিতলের আংটি পরিহিত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি তাকে বলেনঃ আমি তোমার কাছ থেকে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি কেন? এ কথা শুনে লোকটি আংটি ছুঁড়ে ফেলে দিলো। অতঃপর সে একটি লোহার আংটি পরে এলে তিনি বলেনঃ আমি তোমার নিকট জাহান্নামীদের অলংকার দেখছি কেন? লোকটি এটিও ছুঁড়ে ফেলে দিলো। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কিসের আংটি ব্যবহার করবো? তিনি বলেনঃ রূপার আংটি ব্যবহার করো, তবে তা যেন এক মিসকাল এর অধিক না হয়। [সুনানে আবূ দাউদ-২/৫৮০, হাদীস নং-৪২২৩,সুনানে নাসায়ী-২/২৪৫, হাদীস নং-৫১৯৫, জামে তিরমিজী, হাদীস নং-১৭৮৫]

أَبُو ذُبَابٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «كَانَ خَاتَمُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حَدِيدٍ مَلْوِيٌّ عَلَيْهِ فِضَّةٌ»، قَالَ: فَرُبَّمَا كَانَ فِي يَدِهِ، قَالَ: «وَكَانَ الْمُعَيْقِيبُ عَلَى خَاتَمِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবূ জুবাব (রাঃ) তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটি রূপা মিশ্রিত লোহা দিয়ে তৈরী ছিল। রাবী বলেনঃ এটি কোন কোন সময় তাঁর হাতে থাকতো এবং কখনো কখনো তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটির সংরক্ষক মুআয়কীব (রাঃ) এর কাছে থাকতো। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৪২২৪, ইফাবা-৪১৭৬]

وفي الخجندي التختم بالحديد والصفر والنحاس والرصاص مكروه للرجال والنساء جميعا…ولا بأس بأن يتخذ خاتم حديد قد لوي عليه فضة أو ألبس بفضة حتى لا يرى كذا في المحيط (الفتاوى الهندية5\335)

عَلِيًّا يَقُولُ: نَهَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ القَسِّيِّ، وَالمِيثَرَةِ الحَمْرَاءِ، وَأَنْ أَلْبَسَ خَاتَمِي فِي هَذِهِ وَفِي هَذِهِ، وَأَشَارَ إِلَى السَّبَّابَةِ وَالوُسْطَى

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন রেশম, জিনের লাল গদী এবং এই আঙ্গুল এবং এই আঙ্গুলে আংটি ব্যবহার করতে। এই বলে তিনি তর্জণী ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করলেন। [জামে তিরমিজী, হাদীস নং-১৭৮৬, ইফাবা-১৭৯৩]

عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانَ خَاتَمُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذِهِ، وَأَشَارَ إِلَى الْخِنْصِرِ مِنْ يَدِهِ الْيُسْرَى

হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আংটি এর মাঝে ছিল। এ কথা বলে তিনি বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের প্রতি ইশারা করেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২০৯৫, ইফাবা-৫৩১২]

حَدَّثَنَا ثَابِتٌ أَنَّهُمْ سَأَلُوا أَنَسًا عَنْ خَاتَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ مِنْ فِضَّةٍ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُسْرَى الْخِنْصَرَ

সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত, লোকেরা আনাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আংটির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেনঃ আমি যেন এখনও তাঁর রূপার তৈরি আংটির উজ্জ্বল্য অবলোকন করছি। এই বলে তিনি তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠা অঙ্গুলী উঠালেন। [সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫২৮৪]

“عن أنس كان خاتم النبى صلى الله عليه و سلم فى هذه وأشار إلى الخنصر من يده اليسرى، وفي حديث علي نهاني صلى الله عليه و سلم أن أتختم في أصبعي هذه أو هذه، فأومأ إلى الوسطى والتي تليها. وروى هذا الحديث فى غير مسلم: السبابة والوسطى. وأجمع المسلمون على أن السنة جعل خاتم الرجل في الخنصر. وأما المرأة فإنها تتخذ خواتيم في أصابع. والحكمة في كونه في الخنصر أنه أبعد من الامتهان فيما يتعاطى باليد؛ لكونه طرفاً؛ ولأنه لايشغل اليد عما تتناوله من أشغالها، بخلاف غير الخنصر. ويكره للرجل جعله في الوسطى والتي تليها؛ لهذا الحديث، وهي كراهة تنزيه (شرح النووى على مسلم-14\71)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

ইকামতের বাক্য দুইবার করে বলা সঠিক নয়?

প্রশ্ন From: মোঃ সোহাগ হোসেন বিষয়ঃ ইকামত প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, আমাদের প্রায় প্রতি মসজিদেই ইকামত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস