প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার আকীকা করা যাবে?

সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তার আকীকা করা যাবে?

প্রশ্ন

এখন তো আধুনিক যুগ, ৫/৭ মাসের মধ্যেই পেটের বাচ্চা ছেলে নাকি মেয়ে সেটা বোঝা যায়,

এখন প্রশ্ন হচ্ছে গর্ভকালীন সময়ে এমন বাচ্চার আকিকা করা যাবে কিনা??

( মোঃ ইব্রাহীম

বি-বাড়িয়া নাসিরনগর হরিপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের পক্ষ থেকে )

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আকীকার সম্পর্ক জন্ম হবার পরের সাথে। নিয়ম হলো, সপ্তম দিনের দিন আকীকা করা। এতে সম্ভব না হলে, চৌদ্দতম দিন, এতে সম্ভব না হলে একুশতম দিন আকীকা করা।

এছাড়া অন্য সময়েও আকীকা দেয়া যায়।

কিন্তু জন্ম হবার আগে আকীকা দেবার কোন সুযোগ নেই।

 

عن سمرة بن جندب أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- قال « كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمى

হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-প্রত্যেক বালকের পক্ষ থেকে আক্বিকা হল বন্ধক স্বরূপ, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করবে, এবং তার মাথা মুন্ডাবে, এবং তার নাম রাখবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৪০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৪৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৯৬৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০০৮৩}

عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يفعل ففي إحدى وعشرين

হযরত উম্মে কুরজ বলেন, আব্দুর রহমান বিন আবী বকরের পরিবারের এক মহিলা বলেন, আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে, তখন আমরা তার পক্ষ থেকে একটি ভেড়া জবাই করেছি। তখন হযরত আয়শা রাঃ বললেন-এমনটি, বরং পদ্ধতি হল-ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি সমান পর্যায়ের বকরী আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিবে [আক্বিকা]।

তারপর এটিকে রান্না করবে, তবে এর হাড্ডিকে ভাঙ্গবে না। তারপর তা নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে, এবং দান করবে।

একাজগুলো করবে সপ্তম দিন, সেদিন সক্ষম না হলে চৌদ্দতম দিন, সেদিনও সক্ষম না হলে একুশতম দিন করবে আক্বিকা। [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯২}

عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ غُلَامٍ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ، تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ، وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ، وَيُسَمَّى

সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আকীকার সাথে দায়বদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবেহ করতে হয়, তার মাথা কামাতে হয় এবং নাম রাখতে হয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩১৬৫]

عن عائشة رضى الله عنها قالت: عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن والحسين يوم السابع الخ (اعلاء السنن-17\115)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস