প্রচ্ছদ / ক্রয়-বিক্রয় / সরকারী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে মুনাফা অর্জন কী শরীয়তসম্মত?

সরকারী সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে মুনাফা অর্জন কী শরীয়তসম্মত?

প্রশ্ন

From: গোলাম ছারোয়ার
বিষয়ঃ পেনশনের টাকা সংক্রান্ত

প্রশ্নঃ
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
মুহতারাম,
মুফতী সাহেব, সালাম বাদ আরজ এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছি। সরকারী চাকুরিজীবীদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা আছে। সরকার পেনশনের প্রাপ্য মোট টাকার সঞ্চয় পত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয়কৃত সঞ্চয় পত্রের উপর নির্ধারিত মুনাফা ঘোষণা করেছেন। যেমন, ১ লক্ষ টাকার ৩ বৎসরের মেয়াদে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে ৯৫০ (নয়শত পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত মুনাফা প্রদান করেন। সরকার আয় অনুপাতে মুনাফার হার কম বেশি করে থাকেন।
আমি একজন অবসর প্রাপ্ত বৃদ্ধ মানুষ। সরকারের নিকট থেকে প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করে কোন প্রকার ব্যবসা বাণিজ্যে লাগানো বর্তমান অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় বিধায়, সরকারের টাকা সরকারের নিকট রেখেই সরকার থেকে সঞ্চয় পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা গ্রহণ করা আমার জন্য জায়েজ হবে কিনা জানতে চাই? হযরতের মতামত জানার অপেক্ষায় আছি। দয়া করে জবাব দানে বাধিত করতে মর্জি করবেন।

আরজগুজার
গোলাম ছরওয়ার
ফুলগাজী, ফেনী।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রচলিত সঞ্চয়পত্র এর উপর প্রদত্ব টাকা সুদী লেনদেনের অন্তর্ভূক্ত। তাই এভাবে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করা মানেই হলো সুদের অংশীদার হওয়া। তাই তা জায়েজ হবে না।


قوله تعالى- وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

অনুবাদ-আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে করেছেন হারাম। {সূরা বাকারা-২৭৫}

قوله تعالى– يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ (278

অনুবাদ-হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় পাও। আর সুদের অংশকে ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। {সূরা বাকারা-২৭৮}

قوله تعالى– يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً

অনুবাদ-হে মুমিনরা! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না। {সূরা আলে ইমরান-১৩০}

عبد الله بن مسعود عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী, নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

হজ্জ কখন ফরজ হয়? হজ্জের মাসে নাকি হজ্জ নিবন্ধনের সময়?

প্রশ্ন االسابع الوقت اي وجود القدرة فيه وهي اشهر الحج او هو وقت خروج اهل …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস