প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / বিট কয়েন বা ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনের হুকুম কী?

বিট কয়েন বা ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনের হুকুম কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম,

 

বিট কয়েন এক ধরণের ডিজিটাল মুদ্রা, যার কোন শারীরিক অস্তিত্ব নাই। বিট কয়েন এর হুকুম কি ? দিনে দিনে ইউরোপ আমেরিকা সহ বহু দেশে এই মুদ্রার প্রচলন বাড়ছে । ডলার এর বিনিময়ে এই ধরণের মুদ্রা (অনলাইন/ ডিজিটাল) কেনাবেচা করা জায়েয হবে কি ?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পাকিস্তানের করাচীর জামিয়াতুর রশীদের মুফতী মুহাম্মদ উয়ায়েস পারাচাহ সাহেব “ভার্চুয়াল কারেন্সিউকা শরয়ী হাইছিয়্যাত” গ্রন্থে ‘বিট কয়েন’ সহ অন্যান্য ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল মুদ্রাকে জায়েজ সাব্যস্ত করেছেন।

কিন্তু বিশ্বের গ্রহণযোগ্য উলামাগণ ইলেক্ট্রনিক/ভার্চুয়াল মুদ্রাকে নাজায়েজ সাব্যস্ত করেছেন।

সুতরাং কথিত এ ভার্চুয়াল মুদ্রা কেনাবেচা বা তাতে ইনভেস্ট করা কোনটিই জায়েজ নয়।

কারণ, এর মাঝে ফরেক্স ট্রেডিং এর মত সুদ, ধোঁকা, জুয়া, সবই বিদ্যমান।

সুতরাং তা জায়েজ নয়।

قال الله تعالی: وأحل اللہ البيع وحرم الربا الآية (البقرة: ۲۷۵) ،

 يأيهاا الذين آمنوا إنما الخمر والميسر والأنصاب والأزلام رجس من عمل الشيطن فاجتنبوه لعلکم تفلحون ( المائدة، ۹۰) ،

 وقال رسول الله صلی الله عليه وسلم: إن الله حرم علی أمتي الخمر والميسر (المسند للإمام أحمد، ۲: ۳۵۱، رقم الحديث: ۶۵۱۱) ،

﴿وَلَا تَأْکُلُوْا أَمْوَالَکُمْ بَينَکُمْ بِالْبَاطِلِ﴾ أي بالحرام، يعني بالربا، والقمار، والغصب والسرقة (معالم التنزيل ۲: ۵۰) ،

 لأن القمار من القمر الذي يزداد تارةً وينقص أخریٰ۔ وسمی القمار قمارًا؛ لأن کل واحد من المقامرين ممن يجوز أن يذهب ماله إلی صاحبه، ويجوز أن يستفيد مال صاحبه، وهو حرام بالنص (رد المحتار، کتاب الحظر والإباحة، باب الاستبراء، فصل في البيع، ۹: ۵۷۷، ط: مکتبة زکريا ديوبند)

وقال الله تعالی :ولا تعاونوا علی الإثم والعدوان (سورة المائدة، رقم الآیة: ۲)

বিটকয়েনের খারাপ দিক:

বিটকয়েন কোন স্থিতিশীল মূল্যের মুদ্রা নয়—কেনোনা এটি নিয়ন্ত্রন করার জন্য কোন অথোরিটি থাকেনা। তাই এর মূল্য অনেক বেশি উঠানামা করতে পারে। একটি ১০০ টাকার নোট যেমন সবসময় ১০০ টাকাই থাকে কিন্তু ১ বিটকয়েনের মান সর্বদা এক থাকে না। তাই হতে পারে অনেক সময় আপনাকে অনেক লস স্বীকার করতে হতে পারে।

 

বিটকয়েন অনেক জায়গায় গ্রহন যোগ্য নয়। আপনি অনেক ওয়েবসাইটে একে ব্যবহার করতে পারবেন না। সব বিক্রেতা এটি গ্রহণ করে থাকেন না। এতে আপনি ইচ্ছা মতো খরচ করতে পারবেন না। এর মানে অনেক জায়গায় আপনার কাছে বিটকয়েন থেকেও কিছু না থাকার বরাবর।

যেহেতু এই মুদ্রা শুধু মাত্র ইলেক্ট্রোনিক্যালি জমা থাকে, তাই আপনার কম্পিউটার বা কম্পিউটিং ডিভাইজ যদি ক্র্যাশ হয়ে যায় কিংবা আপনি যদি অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড ভুলে যান তবে, আপনার সকল কয়েন গায়েব হয়ে যাবে। এবং আপনি কখনোই এই কয়েন গুলো রিকভার করতে পারবেন না।

বিটকয়েন লেনদেন পুনরাবৃত্তি না করতে না পারা, সেবা গ্রহিতা সংশ্লিষ্ট সেবা না পেলে, মুদ্রা ফেরত পাওয়ার কোন উপায় নেই।

কিন্তু টাকা পয়সা বা ফিজিক্যাল মুদ্রার ক্ষেত্রে যা সম্ভব।

সর্ব দিক বিবেচনায় ডিজিটাল এ মুদ্রা ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই শরয়ী এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাম্য।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

তোকে তালাক দিলাম তিনবার বললে কয় তালাক পতিত হয়?

প্রশ্ন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব। আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি মোঃ …….., পিতাঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস