প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-৪) প্রসঙ্গ তালাক

ইসলামী শরীয়ত বিষয়ে কবি হাসান মাহমুদের অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতা (পর্ব-৪) প্রসঙ্গ তালাক

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আগের লেখাটি পড়তে ক্লিক করুন

হাসান মাহমুদ লিখেন:

সূত্র ১।  অর্থাৎ শারিয়া আইনে স্বামী তার স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক পুরো তালাক দিতে পারে। কিন্তু রসুলের কিছু হাদিসে আমরা দেখতে পাই উল্টোটা, যেমনঃ

(ক)

“এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন-তালাক একসাথে দিয়েছে শুনে রসুল (দঃ) রাগে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের প্রতি ঠাট্টা করছ? অথচ আমি এখনও তোমাদের মধ্যেই রয়েছি ! … (অনেক ইমামের নাম) এ-হাদিসকে মুসলিম শরিফের সূত্রে সঠিক বলেছেন” – সূত্র ২।

(খ)

“এক সাহাবি তার স্ত্রীকে একসাথে তিন-তালাক বলেছে শুনে রসুল (দঃ) বললেন − ‘এই তিন তালাক মিলে হল এক-তালাক। ইচ্ছে হলে এই তালাক বাতিল করতে পার।’ − সূত্র ৩।

এ-ব্যাপারে বিপরীত হাদিসও আছে, যেমন, “একই সঙ্গে তিন-তালাক দিয়ে নিষ্কৃতি লাভ করা যদিও রসুল (সঃ)-এর অসন্তুষ্টির কারণ, যা পূর্ববর্তী বর্ণনায় উলে”খ করা হয়েছে, এ-জন্য সমগ্র উম্মত একবাক্যে একে নিকৃষ্ট পন্থা বলে উলে”খ করেছে এবং কেউ কেউ নাজায়েযও বলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ পদক্ষেপ নেয়, তবে এর ফলাফলও তাই হবে বৈধ পথে অগ্রসর হলে যা হয়। অর্থাৎ তিন-তালাক হয়ে যাবে, এবং শুধু প্রত্যাহার নয়, বিবাহবন্ধন নবায়নের সুযোগও আর থাকবে না…

হুজুর (সঃ)-এর মীমাংসাই এ-ব্যাপারে বড় প্রমাণ যে, তিনি অসন্তুষ্ট হয়েও তিন-তালাক কার্যকরী করেছেন। হাদিস গ্রন্থে অনুরূপ বহু ঘটনার বর্ণনা রয়েছে” − সূত্র ৪।

অর্থাৎ, হাদিসে আমরা একই ব্যাপারে বিপরীত কথা পাচ্ছি, শারিয়া-সমর্থকদের মধ্যেই এ-ব্যাপারে মতভেদ আছে। এটা নূতন কিছু নয়, হাদিসে এ-রকম বহু স্ব- বিরোধীতা আছে। কিন্তু তালাকের মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বিপরীত সুন্নত আমাদের

জন্য যতটা লজ্জার কথা তার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। ভারতের মুসলিম ল’ বোর্ডও ২৬শে ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে বলেছে, “এই হঠাৎ-তালাক হল গুনাহ্।” তাঁরা এও বলেছেন, গুনাহ্ হলেও তাৎক্ষণিক তালাক বৈধ। এইসব উল্টোপাল্টা কথার জন্য সেখানে নারীরা উইমেন মুসলিম ল’ বোর্ড বানিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে-কর্ম গুনাহ, তার ফলাফল বৈধ হতে পারে না। [শারিয়া কি বলে-২০]

উত্তর

হাসান সাহেব কয়েকটি কথা এখানে উল্লেখযোগ্য। যথা-

১ এক হাদীসে একসাথে তিন তালাক দেয়ায় নবীজী ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

২ এক ব্যক্তি তিন তালাক দিলে নবীজী সেটিকে এক তালাক গণ্য করেছেন।

৩ কিছু হাদীসে একসাথে তিন তালাক দেয়াকে নবীজী অপছন্দ করলেও তা তিন তালাক বলেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

৪ হাদীসের এ বিপরীতমুখীতা নাকি লজ্জাজনক।

৫ যে কাজ গোনাহ তার ফলাফল বৈধ তথা সঠিক হতে পারে না।

আমরা এর আগে একবার বলেছি যে, যার যে কাজ তার সেই কাজ করা উচিত। নতুবা ভজঘট পাকাতে বাধ্য। বাংলায় প্রবাদ আছে, যার কাজ তাকে সাজে। অন্য করলেই ভ্যাজাল লাগে।

কবির নারীর অবৈধ প্রেমের কবিতা রেখে শরীয়া গবেষক হয়ে উঠা তাকে কেবল হাস্যস্পদই ব্যক্তিতেই পরিণত করেছে।

এর একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ তিনি তালাক বিষয়ক আলোচনা করতে গিয়েও করেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন যে,

“সুরা বাকারা আয়াত ২২৯ মাফিক তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে অন্তত দু’বার ‘তালাক’ উচ্চারণ করতে হয়, তারপর ইদ্দত পার হলে আর উচ্চারণ না করলেও তৃতীয় তালাক প্রয়োগ হয়ে বিয়ে বাতিল হয়ে যায়”।

এই উদ্ভট কথা তিনি কোথায় পেলেন? এমন আজগুবী কথাতো উক্ত আয়াতের কোথাও নেই।

তালাক দিতে হলে দুইবার দিতে হবে? আর দুই তালাক দেবার পর ইদ্দত শেষ হলে আরেক তালাক না দিলেও তিন তালাক পতিত  হয়?

আজীব! এমন মূর্খ ব্যক্তি কি করে শরীয়া আইনের ডিরেক্টর হন?

এ কথাতো আমাদের শরীয়া বিষয়ক প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্ররাও বলবে না।

কারণ, তালাকের মাসআলা হল, তালাক দুই প্রকার। যথা-

১ তালাকে রেজয়ী।

২-তালাকে বাইন।

তালাকে রেজয়ী একটি দিলে ইদ্দত শেষ হবার আগে উক্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা যায়।  আর যদি ফিরিয়ে না আনে তাহলে ইদ্দত শেষে উক্ত স্ত্রী তালাকে বাইন হয়ে স্বামী থেকে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এখন সে অন্য স্বামীর কাছেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

তবে যেহেতু এক তালাক হয়েছে, তাই প্রথম স্বামীও চাইলে আবার বিয়ে করতে পারে। তবে পরবর্তীতে আর দুই তালাকের মালিক থাকে।

এমনিভাবে দুই তালাকে রেজয়ী দিলেও একই টাইপের বিধান আরোপিত হয়। অর্থাৎ ইদ্দতের মাঝে ফিরিয়ে আনা যায়, আর না আনলে ইদ্দত শেষে তালাকে বাইন পতিত হয়ে স্বামী স্ত্রী আলাদা হয়ে যায়।

এখন আবার বিয়ে করার সুযোগ থাকে, আর স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে করারও সুযোগ থাকে।

আর তালাকে বাইন যদি এক তালাকের মাধ্যমেও প্রদান করা হয়, তাহলে প্রথম স্বামীর জন্যও নতুন করে বিয়ে ছাড়া ঘরসংসার করার সুযোগ থাকে না। চাই ইদ্দত শেষ হোক বা না হোক।

একথা বুঝলে কুরআনের সূরা বাকারা ২২৯ নং আয়াত একদম পানির মত পরিস্কার। এখানে তালাকে রেজয়ীর বিধান বর্ণিত হয়েছে। যে তালাক মূলত দুইটি। যাতে ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকে। কিন্তু ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে আর সেই সুযোগ বাকি থাকে না। বিয়ে করা ছাড়া। এক্ষেত্রে স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করার সুযোগ পেয়ে যায়।

কিন্তু হাসান সাহেব এ আয়াতের কোন অংশে পেলেন যে, দুই তালাকের পর ইদ্দত শেষে তিন তালাক হয়ে যায়? এটি তার পরিস্কার মূর্খতা ছাড়া আর কী?

এমন মূর্খতা নিয়ে তিনি যখন ইসলামের আইন বিষয়ে মতামত পেশ করতে বসে গেলেন তখন তিনি ভয়াবহ গবেষণাই পেশ করে নিজের অজ্ঞতার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করাটাই স্বাভাবিক। তিনি করেছেনও সেটা নিপূণভাবে।

আমি ইতোপূর্বে তার কোটকৃত বক্তব্য থেকে ৫টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছি। এর মাঝে প্রথম ৪টির আসল হাকীকত বুঝতে হলে আসলে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া জরুরী।

আসলে ব্যাপার কি?

এক শব্দ একাধিক বলে আমরা কখনো আলাদা অর্থ না বুঝিয়ে তাকীদ তথা আগের কথাকে শক্তিশালী করণার্তে ব্যবহার করি। আবার আরেকবার একাধিকবার বলে একাধিক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়ে থাকি।

যেমন, আমাদের রুমে একজন উস্তাজ ঢুকলেন। আমি বললাম, হুজুর আসছে। আবার আরেকজন উস্তাজ ঢুকলেন, আমি বললাম, হুজুর আসছে। তারপর আরেকজন উস্তাজ ঢুকলেন। আমি বললাম, হুজুর আসছে।

আমি তিনবার বললাম, “হুজুর আসছে”। একই শব্দ তিনবার উচ্চারণ করলাম। এক শব্দ হলেও এখানে তিনটির মাধ্যমে তিনটি অর্থ উদ্দেশ্য। মানে তিনটি স্বতন্ত্র ব্যক্তি উদ্দেশ্য।

আবার একজন বড় উস্তাজ রুমে ঢুকলেন। তখন আমরা উচ্ছাসে বলি: “হুজুর আসছে, হুজুর আসছে, হুজুর আসছে”।

এখানেও কিন্তু আমি এক শব্দই তিনবার বললাম। কিন্তু এর মাধ্যমে প্রতিটি বাক্যের দ্বারা আলাদা কোন অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং প্রথম কথাটির তাকীদে আমি আরো দুইবার তা উচ্চারণ করলাম।

খেয়াল করুন, আগের তিনবার “হুজুর আসছে” বলার দ্বারা তিন হুজুর উদ্দেশ্য ছিল। আর দ্বিতীয় উদাহরণে তিনবার “হুজুর আসছে” বলার কিন্তু এক হুজুর আসছেই উদ্দেশ্য।

যেমন বাংলায় এমন আমরা ব্যবহার করি। তেমনি আরবীতেও একই অবস্থা।

তালাকের ক্ষেত্রে মাসআলা হল, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে যে, “তুমি তালাক, তুমি তালাক, তুমি তালাক”। তিনবার বলল, যদি এ তিনবার বলার দ্বারা প্রতিটি দ্বারা আলাদা অর্থ উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। তাহলে এর দ্বারা তিন তালাকই পতিত হয়ে যায়।

আর যদি সে বলে যে, আমি বলছি তিনবার একথা ঠিক। কিন্তু প্রথম বলার দ্বারা তালাক উদ্দেশ্য ছিল। আর বাকি দুইবার বলার দ্বারা তাকীদ উদ্দেশ্য নিয়েছি।

এখন যেহেতু উক্ত শব্দে তাকীদ উদ্দেশ্য নেবারও  সুযোগ আছে। তাই মুফতী ফাতাওয়া দিবে যে, তার নিয়ত অনুপাতে আল্লাহর হাওয়ালা করে এক তালাকই পতিত হয়েছে ধরা হবে। বাকি যদি সে মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে এর দায়ভার তার উপরই ন্যাস্ত হবে।

কিন্তু এছাড়া তালাকের শব্দ যদি এমন দুই অর্থের সম্ভাবনা না রাখে। তাহলে কিন্তু সেই সুযোগ নেই যে, তিনবার বলে একবারের হুকুম আরোপ করা হবে।

যেমন কেউ বলল, আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম। কিংবা বলল, এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক।

এভাবে তালাক দিলে, কিন্তু তাকীদের সম্ভাবনা নেই। বরং প্রথমটির মাধ্যমে পরিস্কার তিন তালাক এবং দ্বিতীয় উদাহরণেও তিনটি বাক্য দ্বারা পরিস্কার তিন তালাক হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এখানে তালাকদাতা যদি বলে আমি তাকীদ উদ্দেশ্য নিয়েছি, তাহলে তার কথা সত্য বলে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। কারণ, এখানে তাকীদের সম্ভাবনাই নেই।

এটা বুঝলে এবার আপনি নিজেই বুঝবেন যে, হাদীসে আসলে বিপরীতমূখীতা আছে নাকি সঠিকই আছে। না বুঝার কারণে আমরাই ভুল বুঝছি।

আসলে হাদীসের যেসব বর্ণনায় আসছে যে, তিন তালাক দেবার পরও নবীজী এক তালাক গণ্য করেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সেখানে “তুমি তালাক, তুমি তালাক, তুমি তালাক” কিংবা তালাক, তালাক, তালাক বলে তালাক দেয়া হয়েছে।

যেহেতু তিনবার বলার পরও এখানে তাকীদের সম্ভাবনা আছে শব্দে। তাই তালাকদাতার স্বীকারোক্তি অনুপাতে এক তালাক গণ্য করা হয়েছে।

আর যেসব হাদীসে আসছে যে, তিন তালাক বলার পর তিন তালাকই গণ্য করা হয়েছে, সেখানে হয়তো এমন তাকীদের সম্ভাবনাসূচক শব্দে তালাক দেয়াই হয়নি বরং স্পষ্ট তিন তালাক শব্দে তালাক দেয়া হয়েছে, কিংবা সে তাকীদ উদ্দেশ্য নেয়নি, বরং প্রতিটি শব্দ দ্বারা আলাদা তালাক উদ্দেশ্য নিয়েছে। এ কারণে, তিন তালাকে তিন তালাকই গণ্য করা হয়েছে।

এখন বলুনতো, হাদীসে স্ববিরোধীতা নাকি হাসান সাহেবের মূর্খতা?

আমরাও কি বলতে পারি যে, এমন লজ্জাজনক জ্ঞান নিয়ে কেমন করে তিনি ইসলামিক আইন বিষয়ে ডিরেক্টরের আসনে আসীন হলেন?

গোনাহের ফলাফল সঠিক হতে পারে না?

চুরি করা গোনাহ। তাই কেউ চুরি করলে তাকে চোর হিসেবে ধরা হবে না?

ডাকাতী করা গোনাহ। তাই ডাকাত করলে ডাকাতী ধরা হবে না?

ব্যভিচার করা গোনাহ। তাই ব্যভিচার করলে উক্ত ব্যক্তিকে ব্যভিচারী হিসেবে ধরা হবে না?

এমন আহমকী জ্ঞান তিনি কার কাছ থেকে শিখলেন?

তিন তালাক একসাথে গোনাহ। অবশ্যই গোনাহ। এতে করে নবীজ ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু কেউ যদি দিয়ে ফেলে তাহলে হয়ে যায়। এটা একটা স্বতসিদ্ধ বিষয়। প্রতিদিনের সূর্য উঠার মতই বাস্তব একটা জিনিস।

এতটুকু জ্ঞান না থাকলে আপনার উচিত চুপ থাকা। বই লিখে নিজের মূর্খতা জাহির না করা।

 

তালাকের আইন মানি না?!

হাসান মাহমুদ লিখেন:

কখনো কখনো স্বামী পরে দাবি করে যে, আসলে তালাক দেবার নিয়ত তার ছিল না, ওটা রাগের মাথায় মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে ফল হয় না, কারণ হিসেবে যা বলা আছে তা নবী রসুল তো দূরের কথা কোনো বিবেকবান মানুষকেও শোভা পায় না।

“রসুল (সঃ) এরশাদ করেছেন তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যে, হাসি-তামাশার মাধ্যমে করা ও বাস্তবে করা দুই-ই সমান। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে তালাক…হাসি-ঠাট্টার ছলে হলেও এবং অন্তরে বিয়ে, তালাক ও তালাক-প্রত্যাহারের ইচ্ছা না থাকলেও মুখের কথা দ্বারা বিয়ে, তালাক এবং প্রত্যাহার বাস্তবায়িত হয়ে যাবে…জবরদস্তি অবস্থায় যদিও সে তালাক দিতে আন্তরিকভাবে সম্মত ছিল না, অক্ষম হয়ে তালাক শব্দ বলে দিয়েছে, তবুও তালাক হয়ে যাবে”।

আমরা এটা মানি না।

এ-আইনও আছে যে, স্বামী যদি অত্যাচারের চাপে, বা নেশার ঘোরে, বা রোগের কষ্টে অধীর হয়ে, বা হাসি-ঠাট্টায়, নোট লিখে বা টেলিফোনের অ্যান্সারিং মেশিনেও তালাক বলে রাখে তবু তালাক পুরো হয়ে যায়।

আমরা এটাও মানি না। [শারিয়া কি বলে-২১]

উত্তর

“আমরা” বলে হাসান সাহেব ঠিক কাকে বুঝাচ্ছেন? আপনি কে? আপনি যদি বলেন মুসলমান তাহলে মানার কথা। আর যেহেতু নবীর হাদীস উল্লেখ করে বলছেন, আপনি মানেন না। এর মানে আপনি মুসলমান নয়। আর অমুসলিম হয়ে আপনার মানা আর না মানা আমাদের কাছে কোন গ্রহণযোগ্য অবস্থান নেই।

কারণ, মুসলিম সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহ ও রাসূলের বিধানকে বিনা বাক্যব্যয়ে, বিনা যুক্ততর্কে মেনে নেয়। বুঝে আসলেও মানে, না বুঝে আসলেও মানে। তার নামই মুসলিম। মুসলিম মানেই আত্মসমর্পণ। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম ও বিধানের সামনে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ যে করতে পারে না। তিনি আর যা’ই কিছু হোন না কেন তিনি মুসলমান নয়।

আপনার উচিত নিজের পরিচয় পরিস্কার করা। আপনি মুসলিম নাকি ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়েছেন?

যে হাদীসটি সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১৮৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৩৬৩৫, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৪৬৫৪]

এতগুলো হাদীসের কিতাবে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সেই হাদীসকে আপনি স্পর্ধার সাথে বলে দিলেন যে, মানেন না। আপনাকে এ অধিকার কে দিয়েছে?

আপনার কত বড় স্পর্ধা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিবেকবান মানুষ নয় বলে কটূক্তি করেছেন।

যদি আপনি বলেন আপনি অমুসলিম তাহলে আপনি হাদীস মানেন না, নবীকে বিবেকবান নয় বলার মত স্পর্ধা দেখান। কিন্তু নিজেকে মুসলিম দাবী করে এমন স্পর্ধা, এমন ইসলাম বিদ্বেষী মনোবৃত্তি আপনার ভিতরকার মুরতাদ মনোবৃত্তিই প্রকাশ করে থাকে।

হাসান সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন, কেউ যদি ঠাট্টাচ্ছলে, কিংবা নেশার ঘোরে, কিংবা কারো চাপে পড়ে কাউকে খুন করে। তাহলে খুন হবে কি না?

যদি আপনি পৃথিবীর কোন মানুষ থেকে, কিংবা পৃথিবীর কোন আদালত থেকে খুন হয়নি বলে সিদ্ধান্ত আনতে পারেন, তাহলে আমি আপনাকে বিবেকবান থাকার সার্টিফাই করবো।

আর যদি বলেন, খুন হয়ে গেছে। তাহলে আমিও আপনার ভাষায় বলতে চাই যে, ঠাট্টাচ্ছলে খুন করলেও খুন হয়ে যায়, নেশার ঘোরে খুন করলেও খুন হয়ে যায়, কারো চাপে পড়ে খুন করলেও খুন হয়ে যায়। আমি এটা আমি মানি না। আর এমন কথা যে বলে তিনি কবি হবেতো দূরে থাক সেতো বস্তির ক্যানভাসার হবারও যোগ্যতা রাখে না।

এবার হলো?

সাক্ষী ছাড়া তালাক গণ্য করা কুরআন বিরোধী?

হাসান মাহমূদ সাহেব লিখেন:

স্বামীর তালাক উচ্চারণের সময় কোন সাক্ষী আছে কিনা তার ধার ধারা হয় না। কারণ শারিয়ার আইনটা হল,

“বিয়ে ব্যতীত অন্য সব-ব্যাপারে সমাধা করার জন্য সাক্ষী শর্ত নয়” − সূত্র ১০।

আরও দেখুন ঃ “তালাক সঙ্ঘটিত হওয়ার জন্য সাক্ষী শর্ত নহে” − সূত্র ১১।

এ-সব আইন কোরাণ শরীফের ঘোর বিরোধী। দেখুন আল্ কোরাণ সুরা ত্বালাক আয়াত ১ ও ২, আর সুরা বাকারা ২২৯ ও ২২৮ ঃ “তোমরা যখন স্ত্রীদিগকে তালাক দিতে চাও তখন ইদ্দত গণনা করিও। অতঃপর তাহার যখন ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাহাদিগকে উপযুক্ত পন্থায় ছাড়িয়া দিবে বা রাখিয়া দিবে এবং তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন সাক্ষী রাখিবে… তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখিবে তিন হায়েজ পর্যন্ত।”

তাই তাৎক্ষণিক-তালাক এবং তাৎক্ষণিক-দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ কোরাণ-বিরোধী। [শারিয়া কি বলে-২১]

উত্তর

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا [٦٥:١]

হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। [সূরা তালাক-১]

فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ۚ [٦٥:٢]

অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। [সূরা তালাক-২]

এ আয়াতে তালাকে রেজয়ী প্রদান করার আলোচনা আসছে।

এখানে তালাক দেয়ার জন্য জন্য সাক্ষী আবশ্যক বলা হয়নি। বরং তালাকে রেজয়ী প্রদান করলে ইদ্দতকালে তাকে ফিরিয়ে আনা বা আনা বিষয়ে দুইজন সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে।

সুতরাং আপনার আয়াত দিয়ে দলীল দেয়াটাই ভুল।

হ্যাঁ। আপনি শারিয়া আইন বলে যাকে ঠাট্টা করছেন, সেই শরিয়া আইনে আছে যে, তালাকের জন্য সাক্ষী রাখা এটি মুস্তাহাব। উত্তম কাজ। যেন মতভেদ হলে, সাক্ষীর মাধ্যমে সঠিক ফায়সালা করা যায়। কিন্তু তালাক সংঘটিত হবার জন্য সাক্ষী রাখার শর্তের কথা কুরআনের কোথাও বর্ণিত হয়নি।

এছাড়া এক হাদীসে আসছে:

أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ الْحُصَيْنِ، سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ، ثُمَّ يَقَعُ بِهَا وَلَمْ يُشْهِدْ عَلَى طَلَاقِهَا، وَلَا عَلَى رَجْعَتِهَا، فَقَالَ عِمْرَانُ: «طَلَّقْتَ بِغَيْرِ سُنَّةٍ، وَرَاجَعْتَ بِغَيْرِ سُنَّةٍ، أَشْهِدْ عَلَى طَلَاقِهَا، وَعَلَى رَجْعَتِهَا»

 ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর তার সাথে সহবাস করেছে, কিন্তু তাকে তালাক দেয়া এবং ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন সাক্ষী রাখেনি। ইমরান (রাঃ) বলেন, তুমি সুন্নাত নিয়মের বহির্ভূত তালাক দিয়েছো এবং সুন্নাত নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফিরিয়ে নিয়েছো। তুমি তাকে তালাক দেয়া ও ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সাক্ষী রাখো। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০২৫, সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-২১৮৬]

উক্ত হাদীস পরিস্কার প্রমাণ করে যে, তালাক পতিত হবার জন্য সাক্ষী জরুরী নয়। তবে সাক্ষী রাখা এটি সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি। যারা সাক্ষী ছাড়াই তালাক প্রদান করে, তারা একটি সুন্নাহকে অমান্য করে। কিন্তু এর কারণে তালাক পতিত হয় না এমন কথা হাদীসে বা কুরআনে বর্ণিত হয়নি।

সুতরাং তালাক সম্পন্ন হবার জন্য সাক্ষী রাখা শর্ত নয়, শরীয়তের এ বিধান কুরআন ও হাদীস সমর্থিত। আর সাক্ষী রাখার শর্ত করা কুরআন ও হাদীস বিরোধী কথা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে কবি সাহেব হাদীস ও কুরআন বিরোধী বক্তব্যকে কুরআনের বক্তব্য বলে ধৃষ্টতা কিংবা অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিন তালাক দিলেও আবার তালাকদাতা স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারে?

হাসান মাহমুদ লিখেন:

আচ্ছা, পুরো তালাকের পর স্বামী-স্ত্রীর পুনর্বিবাহের ওপরে কি কোরাণের অন্য কোনো নির্দেশ আছে যা দিয়ে আমাদের ইমামরা মা-বোনের ওপর এই অপমান আর অত্যাচার বন্ধ করতে পারেন ?

আছে। অবশ্যই আছে।

আবার সুরা বাকারা ২৩০-এর পরপরই আয়াত ২৩২। মওলানা মুহিউদ্দিন খানের অনুবাদ ঃ “আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ণ করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্বস্বামীদের সাথে পারস্পরিক

সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধা দান করো না।”

তাহলে ? মওলানারা কেন এ আয়াতটা প্রয়োগ তো দূরের কথা, উল্লেখ পর্যন্ত করেন না ? কোন শরিয়া বইতে এ আয়াতের উল্লেখ নেই কেন ? এ আয়াতের বিষয়ে তাঁর তাফহিমুল কুরাণ-এ তাঁদের নেতা মওলানা মউদুদিও তো না বলে পারেননি − “যখন কোনো স্বামী তাহার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং ইদ্দতের আগে তালাক প্রত্যাহার করে না, সেই দম্পতি যদি চায় তবে তাহাদের পুনর্বিবাহে বাধা দেয়া সেই নারীর আত্মীয়স্বজনদের উচিত নহে” −

http://www.quranenglish.com/tafheem_quran/002-10.htm

স্পষ্টতই, বাধা দেয়া আত্মীয়স্বজনের উচিত নহে হলে কারো জন্যই উচিত নহে। [শারিয়া কি বলে-২২]

উত্তর

হাসান মাহমুদ সাহেব যেহেতু সূরা বাকারা ৩০ নং আয়াতটা কথাও লিখলেন। এর মানে তিনি বুঝেও কুরআনের বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ফাঁদ তৈরীর অপচেষ্টা করেছেন।

কিংবা তিনি আসলেই এ সংক্রান্ত মাসআলা না বুঝার কারণে এমন গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন।

আসলে মাসআলা হল,

তিন তালাকের মাঝে প্রথম দুই তালাককে বলা হয় রেজয়ী তালাক। এ দুই তালাকের সময় স্ত্রী ইদ্দত যখন পালন করে তখন স্ত্রীকে ইচ্ছে হলে নতুন করে বিয়ে ছাড়াই ফিরিয়ে আনা যায়। আবার ইচ্ছে হলে ছেড়ে দেয়া যায়। মানে ইদ্দত শেষ হলে উক্ত স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করতে পারবে।

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ [٢:٢٢٩]

তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। [সূরা বাকারা-২২৯]

তবে যদি এক বা দুই তালাকের দেবার পর ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে এখন আর নতুন বিয়ে করা ছাড়া ফিরিয়ে আনতে পারে না। এখন ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন করে বিয়ে করে ফিরিয়ে আনতে হবে।

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ۗ [٢:٢٣٢]

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করে ফেলে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধা দান করো না। [সূরা বাকারা-২৩২]

ইসলাম যেহেতু চায় যে, স্বামী স্ত্রীর বন্ধন অটুট থাকুক। তাই এক বা দুই তালাক দেবার পর ইদ্দতকালে স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনাকেই অধিক সাপোর্ট করে।

সেই সাথে ইদ্দত শেষ হয়ে যাবার পরও যদি প্রথম স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তাহলে কেউ যেন তাদেরকে বাঁধা না দেয়। বরং এ বন্ধন নতুন করে অটুট রাখতে সহযোগিতা করে। এটাই কুরআনের নির্দেশনা।

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ۗ [٢:٢٣٢]

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করে ফেলে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধা দান করো না। [সূরা বাকারা-২৩২]

তবে যদি তালাক দু’টি দেবার পর তিন নাম্বারটাও দিয়ে দেয়। তাহলে উক্ত স্ত্রী আর স্বামীর জন্য হালাল থাকে না।

তবে যদি উক্ত স্ত্রী ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিয়ে হয়, কোন কারণে সেখান থেকেও তালাকপ্রাপ্তা হয়, তারপর ইদ্দত শেষ প্রথম স্বামী বিয়ে করার অধিকার পায়।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে।  [সূরা বাকারা-২৩০]

স্ত্রীকে কষ্ট দেবার মানসে এক তালাক দিয়ে তিন হায়েজের ইদ্দত শেষ হবার পূর্ব মুহুর্তে [যা তিন মাস হয়ে থাকে সাধারণত] ফিরিয়ে এনে, তারপর আবার তাকে তালাক প্রদান করে ইদ্দত শেষ হবার পূর্ব মুহুর্তে ফিরিয়ে আনা। এভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তালাক ও ইদ্দতের মাঝে স্ত্রীকে আটকে রেখে কষ্ট দেয়া জায়েজ নয়।

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوا ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ [٢:٢٣١]

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়। [সূরা বাকারা-২৩১]

এই হচ্ছে সূরা বাকারার ২২৯ থেকে ২৩২ নং আয়াতে বর্ণিত তালাক সংক্রান্ত বিধিবিধানের প্রকৃত চিত্র।

হাসান সাহেব উপরোক্ত আয়াতে কারীমাগুলোর কোন স্থানে পেলেন যে, পুরো তালাকের পর আবার উক্ত স্বামী স্ত্রী বিয়ে করতে পারে?

আসলে তিনি ‘পুরো তালাক’ বলতে কি বুঝাচ্ছেন?

যদি বলেন, এক বা দুই তালাক। তাহলে কথা কুরআন অনুযায়ী কথা ঠিক আছে।

আর যদি বলেন, ‘পুরো তালাক’ বলতে তিনি তিন তালাক বুঝাচ্ছেন, তাহলে তিনি স্পষ্টভাবেই অজ্ঞতার সাগরে নিপতিত আছেন। কারণ, তার কথা স্পষ্টতই সূরা বাকারার ২৩০ নং আয়াতের খেলাফ।

আসল বিষয় হল, হাসান মাহমুদ সাহেব কুরআনের অনুবাদ বুঝেন না। অন্ধভাবে অনুবাদ ফলো করেন। আসলে মুহিউদ্দীন খান সাহেবের অনুবাদে টাইপিং মিশটেক আছে।

বাকারা ২৩২ নং আয়াতের টাইপিং মিশটেকে অনুবাদ হয়েছে “নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ণ করতে থাকে”। অথচ আয়াতের فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ অর্থ হল,তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়’। যেমনটি ২৩১ নং আয়াতে উক্ত আয়াতাংশের অনুবাদে সঠিক লেখা হয়েছে।

কিন্তু হাসান সাহেব সম্ভবত এ অনুবাদের গলতী ধরতে না পেরে, কিংবা ইচ্ছেকৃতই ধুম্রজাল সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।

‘ইদ্দত পূর্ণ করতে থাকে’, আর ‘ইদ্দত শেষ করে ফেলে’ এর মাঝে পার্থক্য আছে।

তালাকে রেজয়ী অবস্থায় পূর্ণ করতে থাকা অবস্থায় বিয়েরই দরকার নেই। আর শেষ হয়ে গেলে বিয়ের দরকার।

আর তালাকে মুগাল্লাজা তথা তিন তালাক হয়ে গেলে ইদ্দত চলতে থাকুক বা শেষ হয়ে যাক, কোন অবস্থায়ই আর বিয়ের সুযোগ নেই। যা আগের ২৩০ নং আয়াতে আগেই বলা হয়েছে।

আসলে হাসান সাহেবরা দুইটা অনুবাদ পড়েই গবেষক বনে গেলে এমনই হয়।  নিজের কাজ রেখে অন্যের কাজে নাক গলাতে গেলে এমন হাস্যকর পরিস্থিতিরই কেবল উদ্রেক করে মানুষ।

সুতরাং বুঝা গেল যে, হাসান সাহেব যেটাকে কুরআন বিরোধী বলছেন, আসলেই সেটাই কুরআনের বিধান। আর যেটাকে কুরআনের বিধান বলছেন, সেটাই আসলে কুরআন বিরোধী।

সর্বশেষ মওদূদী সাহেবের যে কথা বলা হয়েছে, সেটির মানে কি আমাদের আগের বক্তব্যে পরিস্কার হবার কথা। মওদূদী সাহেব যদি বলতেন যে, তিন তালাক দেবার পর পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে কেউ বাধা দেয়া উচিত নয়, তাহলে এটি হাসান সাহেবের পক্ষের কথা হতো। কিন্তু মওদূদী সাহেবের কথার দ্বারা একথা পরিস্কার হয় না।

সুতরাং এটাও হাসান সাহেবের সমঝ ও জ্ঞানের দৈন্যতারই পরিচায়ক।

পরের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

আরও জানুন

কিয়ামত কি মহররমের দশ তারিখে হবে?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মহররম মাসের দশ তারিখ কিয়ামত হবে কি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস