প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / ত্বাগুত কাকে বলে? ত্বাগুত কত প্রকার ও কী কী?

ত্বাগুত কাকে বলে? ত্বাগুত কত প্রকার ও কী কী?

প্রশ্ন

From: khalidsaifullah
বিষয়ঃ ত্বাগুত

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম,
আমার প্রশ্ন হলল,
ত্বাগুত কাহাকে বলে?
তাহা চিনিবার উপায় কি?
তাহার কি কোন স্তর আছে?
তাহা থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ত্বাগুতের আভিধানিক অর্থ হল, সীমালঙ্ঘণকারী। হক থেকে বিচ্যুত হয়ে বাতিলের দিকে ধাবিত। ঈমান থেকে বের হয়ে কুফরীর দিকে ধাবমানকে ত্বাগুত বলা হয়।

ত্বাগুত অনেক ধরণের হতে পারে। তবে ৫ প্রকার প্রসিদ্ধ। যথা-

ইবলিশ। সেই সমস্ত ত্বাগুতের মূল। মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে, কুফরী, নাস্তিকতা এবং জাহান্নামের দিকে আহবান করে।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতে সন্তুষ্ট থাকা। কেননা, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতে সন্তুষ্ট থাকে সেও ত্বাগুত।

যেমন ইরশাদ হচ্ছে-

مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ ۚ أُولَٰئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ [٥:٦٠]

যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা ত্বাগুতের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে। [সূরা মায়িদা-৬০]

অন্যের ইবাদতে সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে তাকে ত্বাগুত বলা যাবে না।

যে ব্যক্তি কোন ইলমে গায়েবের দাবী করে। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলমে গায়েবের দাবী কের সেই ত্বাগুত। যেমন গণক। কারণ গায়েবের বিষয় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানতে সক্ষম নয়।

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ  [٢٧:٦٥]

বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না [সূরা নামল-৬৫]

যারা মানুষকে তার নিজের ইবাদত করার আহবান করে। নিজেকে মানুষের উপকার ও অপকার এবং আখেরাতে মুক্তি ও শাস্তি প্রদানের মালিক মনে করে। এসব ভণ্ড ব্যক্তিরাও ত্বাগুতের অন্তর্ভূক্ত।

যারা আল্লাহর কুরআনের বিধানাবলীর উল্টো জমিনে ফায়সালা করে তারাও ত্বাগুতের অন্তর্ভূক্ত।

যারা আল্লাহর বিধানের বিপরীত মানবরচিত বিধানকে আল্লাহর বিধানের সমপর্যায়ের মনে করে, কিংবা মানুষের জন্য মানবরচিত বিধানকে অধিক উপকারী মনে করে, কিংবা আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে মানবরচিত বিধানকে মৌলিক মানদণ্ড মনে করে এরা সবাই ত্বাগুত।

তবে যদি আল্লাহর বিধানের সমপর্যায়ের মনে না করে বাধ্য হয়ে মানবরচিত বিধানে ফায়সালা করে তাহলে তাকে ত্বাগুত বলা যাবে না। কিন্তু যারা ইচ্ছেকৃত এবং স্বেচ্ছায় এভাবে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘণ করে মানবরচিত বিধান অনুপাতে ফায়সালা করে তারাও ত্বাগুত।

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا [٤:٦٠]

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে,যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে,যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। [সূরা নিসা-৬০]

যেহেতু ত্বাগুতের পরিচয় জানা হয়ে গেল। সুতরাং এসব থেকে বাঁচার পথ ও পন্থা আশা করি নিজেই বের করে নিতে পারবেন।

وَالطَّاغُوتُ: كُلُّ مَا تَجَاوَزَ بِهِ الْعَبْدُ حَدَّهُ مِنْ مَعْبُودٍ أَوْ مَتْبُوعٍ أَوْ مُطَاعٍ؛ فَطَاغُوتُ كُلِّ قَوْمٍ مِنْ يَتَحَاكَمُونَ إلَيْهِ غَيْرَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، أَوْ يَعْبُدُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، أَوْ يَتْبَعُونَهُ عَلَى غَيْرِ بَصِيرَةٍ مِنْ اللَّهِ، أَوْ يُطِيعُونَهُ فِيمَا لَا يَعْلَمُونَ أَنَّهُ طَاعَةٌ لِلَّهِ؛ فَهَذِهِ طَوَاغِيتُ الْعَالَمِ إذَا تَأَمَّلْتَهَا وَتَأَمَّلْتَ أَحْوَالَ النَّاسِ مَعَهَا رَأَيْت أَكْثَرَهُمْ [عَدَلُوا] مِنْ عِبَادَةِ اللَّهِ إلَى عِبَادَةِ الطَّاغُوتِ، وَعَنْ التَّحَاكُمِ إلَى اللَّهِ وَإِلَى الرَّسُولِ إلَى التَّحَاكُمِ إلَى الطَّاغُوتِ، وَعَنْ طَاعَتِهِ وَمُتَابَعَةِ رَسُولِهِ إلَى طَاعَةِ الطَّاغُوتِ وَمُتَابَعَتِهِ، (اعلام الموقعين عن رب العالمين-1/40)

قَوْله الطاغوت قَالَ عمر هُوَ الشَّيْطَان وَقَالَ عِكْرِمَة الكاهن وَقيل الطواغيت بيُوت الْأَصْنَام (فتح البارى، كتاب الإتصام، حرف الطاء المهملة، فصل ط ا-1/149)

قَوْله: (الطواغيت) ، جمع طاغوت، قَالَ ابْن سَيّده: الطاغوت مَا عبد من دون الله عز وَجل، فَيَقَع على الْوَاحِد وَالْجمع والمذكر والمؤنث، ووزنه: فعلوت، وَإِنَّمَا هُوَ: طغيوت، قدمت الْيَاء قبل الْغَيْن وَهِي مَفْتُوحَة وَقبلهَا فَتْحة فقلبت ألفا. انْتهى. قلت: يُعَكر عَلَيْهِ. قَوْله: (فَمنهمْ من يتبع الشَّمْس وَمِنْهُم من يتبع الْقَمَر) ، وَوجه ذَلِك أَنه يلْزم التّكْرَار، وَقَالَ الْقَزاز: هُوَ فاعول من: طغوت، وَأَصله: طاغوه، فحذفوا وَجعلُوا التَّاء كَأَنَّهَا عوض عَن الْمَحْذُوف، فَقَالُوا: طاغوت، وَإِنَّمَا جَازَ فِيهِ التَّذْكِير والتأنيث لِأَن الْعَرَب تسمي الكاهن والكاهنة طوغوتا، وَسُئِلَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم، فِيمَا رَوَاهُ جَابر بن عبد الله عَن الطاغوت الَّتِي كَانُوا يتحاكمون إِلَيْهَا، فَقَالَ: كَانَت فِي جُهَيْنَة وَاحِدَة، وَفِي أسلم وَاحِدَة، وَفِي كل حَيّ وَاحِدَة. وَقيل: الطاغوت الشَّيْطَان. وَقيل: كل معبود من حجر أَو غَيره فَهُوَ جبت وطاغوت. وَفِي (الغريبين) : الطاغوت الصَّنَم. وَفِي (الصِّحَاح) : هُوَ كل رَأس فِي الضلال. وَفِي (المغيث) : هُوَ الشَّيْطَان أَو مَا زين الشَّيْطَان لَهُم أَن يعبدوه، وَفِي (تَفْسِير الطَّبَرِيّ) : الطاغوت السَّاحر، قَالَه أَبُو الْعَالِيَة وَمُحَمّد بن سِيرِين، وَعَن سعيد بن جُبَير وَابْن جريج: هُوَ الكاهن. وَفِي (الْمعَانِي) للزجاج: الطاغوت مَرَدَة أهل الْكتاب.(عمدة القارى، كتاب مواقيت الصلاة، فصل فى السجود-6/83-84)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

চার রাকাত বিশিষ্ট্য নামাযে প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর দরূদ পড়ে ফেললে সাহু সেজদা লাগবে?

প্রশ্ন মোঃ রমজান আলী প্রশ্ন: চার রাকাত নামাজের প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু এর সাথে দরুদ শরীফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস