প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / রাসূল সাঃ এর পেশাব পবিত্র হওয়া ও এতদসংক্রান্ত প্রচলিত ঘটনার সত্যতা প্রসঙ্গে

রাসূল সাঃ এর পেশাব পবিত্র হওয়া ও এতদসংক্রান্ত প্রচলিত ঘটনার সত্যতা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন

রাসূল সাঃ পেশাব পবিত্র কি না? আর কোন সাহাবী নাকি রাসূল সাঃ এর পেশাব পান করেছেন। কিন্তু রাসূল সাঃ তাদের কোন ভর্ৎসনা করেননি। বরং তাদের সুসংবাদ জানিয়েছেন। এসব কথা হাদীসে এসেছে কি না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

হ্যাঁ রাসূল সাঃ এর পেশাব পবিত্র ছিল। নাপাক নয়।

নিম্ন বর্ণিত আলেমগণ এ মত পোষণ করে থাকেন

যথা-

১- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ- ফাতহুল বারী-১/২৭২।
২- আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ, উমদাতুল কারী-১/৩৫।
৩- ইমাম নববী রহঃ,শরহে মুহাজ্জাব-১/২৩৪।
৪- মোল্লা আলী কারী রহঃ, জমউল ওসায়েল শুরুস শামায়েল-২/২।
৫- হাফেজ জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ, খাসায়েলে কুবরা-১/৭১।
৬- আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ, ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৩১৮।
৭- নিহায়াতুল মুহতাজ প্রণেতা-১/২৪২।
৮-মুগনিয়ুল মুহতাজ-১/৭৯।
৯-শায়েখ মুহাম্মদ আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলবী, মাদারেজুন নবুওত-১/৪৩।
প্রমুখ।

নিম্ন বর্ণিত ওলামায়ে দেওবন্দও এ মতের প্রবক্তা

যথা-
১- হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ- নশরুততীব-১৩৫।
২- মুফতী আজীজুর রহমান সাহেব রহঃ, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ-১/৮৫, ২১১।
৩- শাইখুল হাদীস মাওলানা জাকারিয়া রহঃ, ফাজায়েলে আমল উর্দু-১৮৮।
৪- মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী রহঃ, মাআরেফুস সুনান-১/৯৮।
৫- মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানবী রহঃ, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল-৯/১৩৩।

আর পেশাব পান সম্পর্কিত যে বর্ণনার কথা বলা হচ্ছে তাও সঠিক। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ তার বিখ্যাত “আলখাসায়েসুল কুবরা” গ্রন্থে এ বিষয়ক একাধিক বর্ণনা এনেছেন। এবং এসব বর্ণনা বলেও মত প্রকাশ করেছেন।

যেমন একদা উম্মে আইমান রাঃ রাতের বেলা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় রাতের বেলা পাত্রে রাখা রাসূল সাঃ এর পেশাব পান করেছেন। সকালে এ সংবাদ শুনে রাসূল সাঃ তাকে ভর্ৎসনা না করে বললেন, “আজ থেকে তোমার আর পেটের পীড়া হবে না” অন্য বর্ণনায় এসেছে আর কোনদিন তুমি তৃষিত হবে না”।

এছাড়া হযরত উম্মে সালামা রাঃ এর দাসিও রাসূল সাঃ এর পেশাব পান করেছিলেন। কিন্তু রাসূল সাঃ তাদের ভর্ৎসনা করেননি। বরং তাদের সুসংবাদ জানিয়েছেন। {আলখাসায়েসুল কুবরা-১/৭১}

দেখুন আরবী ইবারত-

وَأخرج أَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو نعيم عَن أم أَيمن قَالَت قَامَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من اللَّيْل إِلَى فخارة فَبَال فِيهَا فَقُمْت من اللَّيْل وَأَنا عَطْشَانَة فَشَرِبت مَا فِيهَا فَلَمَّا أصبح أخْبرته فَضَحِك وَقَالَ أما أَنَّك لَا يتجعن بَطْنك أبدا وَلَفظ أبي يعلى إِنَّك لن تَشْتَكِي بَطْنك بعد يَوْمك هَذَا أبدا

وَأخرج الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ بِسَنَد صَحِيح عَن حكيمة بنت أُمَيْمَة عَن أمهَا قَالَت كَانَ للنَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قدح من عيدَان يَبُول فِيهِ ويضعه تَحت سَرِيره فَقَامَ فَطَلَبه فَلم يجده فَسَأَلَ عَنهُ فَقَالَ أَيْن الْقدح قَالُوا شربته برة خَادِم أم سَلمَة الَّتِي قدمت مَعهَا من أَرض الْحَبَشَة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لقد احتظرت من النَّار بحظار (الخصائص الكبرى، قسم الكرامات، فائدة-1/71، دار الكتاب

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *