প্রচ্ছদ / আধুনিক মাসায়েল / মাস্ক পরিধান করে নামায পড়ার হুকুম কী?

মাস্ক পরিধান করে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন

মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, করোনা ভাইরাসের কারণে এখন মাস্ক পরিধানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হল, মাস্ক পরিধান করে নামায পড়া যাবে কি?

উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم

কোন কারণ ছাড়া নাক মুখ ইত্যাদি কাপড় দ্বারা ঢেকে নামায পড়া মাকরূহ। তবে কোন ওজরের কারণে ঢাকলে মাকরূহ হবে না।
সেই হিসেবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষার পদ্ধতি হিসেবে কেউ যদি মাস্ক পরিধান করে নামায পড়ে তাহলে মাকরূহ হবে না।
তবে শর্ত হল, নাক ও কপাল জমিনে ঠেকাতে হবে। যদি মাস্কের কারণে নাক ও কপাল জমিনে না ঠেকে, তাহলে নামায হবে না।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ فِي الصَّلَاةِ»

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে সালাতরত অবস্থায় তার মুখমন্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৯৬৬, সুনানে আবূ দাউদ,হাদীস নং-৬৪৩]

فيكره التلثم وتغطية الأنف والفم فى الصلاة، لأنه يشبه فعل المجوس (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-350-351)
وإمساك فمه عند التثائب…… فإن لم يقدر غطاه بيده….. أو كمه لأن التغطية بلا ضرورة مكروهة (رد المحتار-2\176، الفقه الاسلامى وأدلته، كتاب الصلاة، آداب الصلاة عند الحنفية-1\760)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شِدَّةِ الحَرِّ، فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ وَجْهَهُ مِنَ الأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ، فَسَجَدَ عَلَيْهِ»

আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সাজদাহ্ করত। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১২০৮]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ” أُمِرَ النَّبِيُّ صلّى الله عليه وسلم أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْضَاءٍ، وَلاَ يَكُفَّ شَعَرًا وَلاَ ثَوْبًا: الجَبْهَةِ، وَاليَدَيْنِ، وَالرُّكْبَتَيْنِ، وَالرِّجْلَيْنِ “

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সাজদাহ্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৮১২] হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

فَسَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الطِّينِ وَالمَاءِ حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ الطِّينِ فِي أَرْنَبَتِهِ وَجَبْهَتِه

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা-পানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তাঁর কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২০৩৬]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী –তা’লীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

মেইলঃ ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

“আল্লাহ একজন আছেন আমি বিশ্বাস করি না” স্বামীর এমন কথার কারণে ঈমান ও বিয়ের হুকুম কী?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। মুফতি সাহেব! আমার নাম সুমি। আমি ঢাকা থাকি। আমার রনি নামের এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *