হোম / আকিদা-বিশ্বাস / কাদিয়ানী থেকে মুসলমানঃ ফিরে আসার গল্প
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

কাদিয়ানী থেকে মুসলমানঃ ফিরে আসার গল্প

ব্রিগেডিয়ার (অব.) আহমদ নওয়াজ খান

এ অধম গুনাহগার লেখক আল্লাহ তাআলার অগণিত শোকর আদায় করছে। কারণ, দীর্ঘ ত্রিশ বছর কাদিয়ানী ফেতনায় আক্রান্ত থাকার পর অবশেষে রাব্বুল আলামীন তাঁর হাবীব হযরত মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসিলায় আমাকে আলোর সন্ধান দান করেছেন। আল্লামা ইকবাল রাহ.-এর কবিতা পড়ার সময় একদিন আমি অন্তরে আশ্চর্য ব্যাকুলতা অনুভব করি। এরপর রাব্বুল আলামীন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছুটা অধ্যয়নের সুযোগ করে দিলে (কাদিয়ানী ধর্মমতের) এসব ছদ্মবেশ, ভ-ামি ও জালিয়াতি বুঝতে আমার দেরি হয়নি। ফলে আমি তওবা করে মুসলমান হয়ে যাই।

আল্লাহ তাআলা সর্বদিক থেকেই আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সাত ছেলে এবং তিন মেয়ের মধ্যে তিন মেয়েই আর্মি মেডিকেলে কর্মরত। (দুজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাক্তার। একজন মেজর ডাক্তার।) তিন ছেলে আলহামদু লিল্লাহ সেনাবাহিনীতে। (দু’জন ব্রিগ্রেডিয়ার, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল।) দু’জন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। একজন আইপিএতে। আর একজন আলহামদু লিল্লাহ ইউএনওতে রয়েছে। আল্লাহর ফযলে এরা সবাই নিজ নিজ সন্তান-সন্ততিসহ নামাযী, রোযাদার এবং দোজাহানের সর্দার হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যিকার খাঁটি গোলাম। আলহামদু লিল্লাহ, ছয় সন্তানের সুন্নতি বিয়ে মসজিদে নববী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এ হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

সবই আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। কিন্তু সবচে বড় দৌলত হচ্ছে ঐ প্রশান্তি, যা কাদিয়ানী ধর্মমত থেকে তওবা করে ইসলামগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর লাভ করেছে। আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্য দোজাহানের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোকিত বলয়ে, প্রিয় নবীজির মুবারক আশ্রয় ও ছায়ায় চলে এসেছি।

কিয়ামতের পূর্বে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সশরীরে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন- এটা আমাদের ঈমান। সকল যুগের মুসলিম উম্মত নিরবচ্ছিন্নভাবে এ মুতাওয়াতির আকীদা লালন করে আসছে। কিন্তু মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অবস্থান হল, ‘হযরত ঈসা আ. ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর কবর কাশ্মিরের শ্রীনগরে অবস্থিত।’

তার মতে- ‘হাদীসে বর্ণিত আখেরি যামানায় হযরত ঈসা আ.-এর অবতরণের ভবিষ্যদ্বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ‘আমাদের নবীর উম্মতের মধ্য হতে হযরত ঈসার গুণে গুণান্বিত এবং তাঁর সঙ্গে পরিপূর্ণ সাদৃশ্যের অধিকারী এক ব্যক্তির জন্ম হবে। আসমান থেকে কেউ অবতরণ করবে না।’

(এ বিষয়ে দেখুন, মির্যা কাদিয়ানীর লিখিত গ্রন্থ- ইযালায়ে আওহাম, রূহানী খাযায়েন ৩/১২১-১২২; যমীমায়ে আনজামে আথম, রূহানী খাযায়েন ১১/ ২৮৫-২৮৬

কাশ্মীরে নাকি হযরত ঈসা আ.-এর কবর (?!)- এ সম্পর্কে কাদিয়ানীর বক্তব্য দেখুন- আলহুদা, রূহানী খাযায়েন ১৮/৩৬০-৩৬১; কাশফুল গিতা, রূহানী খাযায়েন ১৪/২১০-২১২; কিশতিয়ে নূহ, রূহানী খাযায়েন ১৯/১৬-১৭; কিশতিয়ে নূহ (বাংলা) ২৮ ও ২৯;  যমীমায়ে নুসরতুল হক, রূহানী খাযায়েন ২১/৪০১-৪০৪)

আমি বলতে চাই, মির্যা সাহেবের এই অবস্থান এবং তার এ দাবি যে, আমি (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী)-ই ঈসা আলাইহিস সালাম;১  এ দু’কথার মাঝে কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই। এ তর্ক আপাতত থাকুক যে, মুসলমানদের মত সত্য, না মির্যা কাদিয়ানীর মত। দেখার বিষয় হল, মির্যা সাহেবের মধ্যে আদৌ কি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে?

ধরে নেয়া যাক, ঈসা আলাইহিস সালাম-এর আগমনের উদ্দেশ্য হল, ‘তাঁর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এক ব্যক্তির আবির্ভাব’; (যদিও এটি পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ এবং সকল যুগের মুসলিম উম্মাহর মুতাওয়াতির আকীদা বিরোধী।) তবুও মির্যা সাহেবকে এর উদ্দিষ্ট ও প্রতিপাদ্য ব্যক্তি প্রমাণ করা সম্ভব নয়। দু’জনের গুণ-বৈশিষ্ট্যের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সাদৃশ্যের কণামাত্রও অনুপস্থিত। কুরআন ও সুন্নাহ্য় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর যেসকল বৈশিষ্ট্য ও উল্লেখযোগ্য কীর্তির সংবাদ এসেছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং মির্যা সাহেবের সাথে সেগুলো তুলনা করে দেখুন-

এক.

সাধারণত কুরআন ও সুন্নাহর যে স্থানে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর পবিত্র নাম এসেছে, সেখানে তাঁর নাম ‘ঈসা ইবনে মারয়াম’ অর্থাৎ ‘মারয়াম পুত্র ঈসা’ উল্লেখ হয়েছে। কুরআনে কারীমে তাঁর মামার নাম হারূন (ইনি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর ভাই হযরত হারূন আলাইহিস সালাম নন।) এবং তাঁর নানার নাম ইমরান বর্ণিত হয়েছে। [সূরা আলে ইমরান (৩) : ৩৫; সূরা মারয়াম (১৯) : ২৮] অথচ মির্যা কাদিয়ানীর পিতার নাম ‘গোলাম মুরতাযা’ আর মাতার নাম ‘চেরাগ বিবি’!

দুই.

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সিরিয়ার দামেশকে অবতরণ করবেন। মদীনা থেকে আল্লাহওয়ালাদের একটি জামাত এসে তাঁর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তাঁর যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রভূমি হবে মধ্যপ্রাচ্য। [সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৯৭, ২৯৩৭; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৮৫০৮] অথচ মির্যা সাহেব আপাদমস্তক একজন ভারতীয় লোক। ভারতবর্ষেই জীবন পার করেছেন। কখনো মধ্যপ্রাচ্যে পা-ও রাখেননি!

তিন.

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অবতরণের পর হজ¦ ও ওমরার সৌভাগ্য লাভ করবেন। মদীনা মুনাওয়ারায় হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারকে হাযির হবেন। ‘ফজ্জুর রাওহা’ নামক স্থান থেকে পবিত্র ইহরাম বাঁধবেন। জায়গাটি মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বদরের দিকে ষাট মাইল দূরত্বে অবস্থিত। [দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১২৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৭২৭১; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৪১৬২]

অথচ মির্যা সাহেব হজ্বও পালন করেননি! উমরাও আদায় করেননি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওযা মুবারকে হাযিরিও দেননি!২

চার.

ইহুদীদের সঙ্গে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম জিহাদ করবেন। এমনকি তখন একজন ইহুদীও পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। [দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯২৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৩৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৮০৬, ২৮৫৬]

এদিকে জিহাদ করা তো দূরের কথা, মির্যা সাহেব তো রীতিমতো জিহাদ রহিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন! আর ইহুদীদের সঙ্গে কাদিয়ানীদের সখ্যতাও বড় ঘনিষ্ঠ। যার নিদর্শন হচ্ছে, ইসরাইলের মতো দেশ, যেখানে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনি মুসলমানদেরকে উচ্ছেদ করে তাদের বসতবাড়ি দখল করা হচ্ছে; সেখানে ইসরাইলের বৃহত্তম শহর ‘হাইফা’তে এখনও কাদিয়ানী কেন্দ্র বিদ্যমান। শুধু তা-ই নয়; ইসরাইলের সরকারি বাহিনীতেও শত শত কাদিয়ানী যুবক কর্মরত!

পাঁচ.

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যখন অবতরণ করবেন, তখন সকল খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করে নিবে। সবাই ক্রুশের উপাসনা ত্যাগ করবে। [দ্র. সূরা নিসা (৪) : ১৫৯] ইসলাম ব্যতীত পৃথিবীর সব ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে। [দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৮২১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩২৪; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯২৭০] পৃথিবীর সর্বত্র মুসলমানদের উপস্থিতি এমন হবে, যেমন পানি টইটম্বুর পাত্রের অবস্থা। অথচ মির্যা সাহেবের যুগে খ্রিস্টবাদ প্রচণ্ড প্রতাপ ও প্রতিপত্তির অধিকারী হয়েছিল! মির্যা সাহেব নিজেও ছিলেন খ্রিস্টান রাজশক্তির জোরদার সমর্থক।৩  ইহুদীরাও ঐ সময় নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে!

ছয়

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম -এর আগমনের পর দুনিয়াতে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সকল যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিসমাপ্তি ঘটবে। [দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৪৮] অথচ মির্যা সাহেবের আবির্ভাবের পরই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে! শুধু ভারত আর পাকিস্তানই এ পর্যন্ত তিন থেকে চারবার পরস্পর যুদ্ধ করেছে! তার মৃত্যুর পর থেকে কত দেশে যে কতবার যুদ্ধ হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। (রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও দিন দিন ঘনিয়ে আসছে!)

সাত

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর অবতরণের পর পৃথিবীতে ধন-সম্পদের এত প্রাচুর্য ঘটবে যে, যাকাত-সদকা গ্রহণ করার মতো লোক থাকবে না। শুধু ধনী আর ধনী লোক থাকবে। কমবেশি প্রত্যেকে তখন সম্পদশালী হবে। গরিব-অভাবগ্রস্ত কাউকে দেখা যাবে না। [দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৫] অথচ মির্যা সাহেবের যুগে সমগ্র পৃথিবীতে, বিশেষ করে মুসলিম বিশে^ অভাব-দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। (আর সাম্প্রতিককালের পৃথিবীর অবস্থা তো সকলের জানা!)

আট

হযরত ঈসা আ. মদীনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করবেন এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওযায়ে আকদাসের পাশে দাফন হবেন। [দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৬১৭; আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, ১৪৯৬৭; ফাতহুল বারী ১৩/৩০৮, ৭/৬৬; উমদাতুল কারী ৮/২২৮] অথচ মির্যা সাহেবের মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের লাহোরে। আর কবর ভারতের কাদিয়ানে!

নয়

হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনার আলোকে পৃথিবীতে হযরত ঈসা আ.-এর মোট অবস্থানকাল হবে চল্লিশ বছর। অবতরণের পূর্বে ছিল তেত্রিশ বছর। অবতরণের পর থাকবেন সাত বছর। [দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান- ৬৮২১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩২৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৪০; তাফসীরে ইবনে কাসীর : সূরা নিসা (৪) : ১৫৫]

এর বিপরীতে মির্যা সাহেবের জন্ম ১৮৩৯/৪০ খ্রিস্টাব্দে। আটষট্টি বছর বয়সে ১৯০৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মুজাদ্দেদ দাবি করেছেন ১৮৮০ সালে। মাসীহ-এর দাবি ১৮৯১ সালে। আর নবী দাবি করেছেন ১৯০১ সালে। অতএব, কোনো হিসাবেই মির্যা সাহেবের বয়স চল্লিশ হয় না!

দশ

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর অবতরণের কিছুকাল পূর্ব হতেই কিয়ামতের চূড়ান্ত নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করবে। সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দাজ্জাল আবির্ভূত হবে। চল্লিশ দিনে সে পৃথিবী পরিভ্রমণ করবে। যার প্রথম দিন হবে এক বছরের মতো। দ্বিতীয় দিন এক মাসের মতো। তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের মতো। তারপর বাকি দিনগুলো স্বাভাবিক পর্যায়ের হবে। [দ্র. সহীহ মুসলিম- ২৯৩৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ২২৪০]

অথচ নিজেকে প্রতিশ্রুত ঈসা বলে দাবিকারী মির্যা সাহেবের ইন্তেকাল, তার পরবর্তী জানেশীন হাকীম নূরুদ্দীনের ইন্তেকাল, এরপরে তার আরো তিনজন খলীফা- মির্যা মাহমুদ, মির্যা নাসের এবং মির্যা তাহেরের ইন্তেকালের এত দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এসবের একটি নিদর্শনও অস্তিত্বে আসেনি!৪

অতএব, যদি (বাস্তবতার বিপরীতে) ধরেও নেয়া হয় যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ইন্তেকাল করেছেন, জীবিত আকাশে উত্তোলিত হননি এবং কিয়ামতের পূর্বে সশরীরে অবতরণ করবেন না; বরং ‘তাঁর সঙ্গে পরিপূর্ণ সাদৃশ্যের অধিকারী এ উম্মতের এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে’; তবুও মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর এতে কোনো লাভ হবে না। কেননা, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর সত্তা এবং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর গুণাবলির মাঝে আকাশ-পাতালের তফাত বিদ্যমান। মিলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

এসব প্রকাশ্য দলীল-প্রমাণের পরও কি কোনো বিবেকবান ও সচেতন ব্যক্তি মির্যা কাদিয়ানীকে একজন সত্য দ্বীন প্রচারক বা সংস্কারক ভাবতে পারে? তার বৃটিশ সরকারের ঘোরতর এজেন্ট হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতে পারে? যেসব কথা মির্যা কাদিয়ানী সম্পর্কে উল্লেখ করা হল, তা বিশাল ডেগের একটি চালের দানার ন্যায়। তার বইগুলো এজাতীয় উদ্ভট চিন্তাধারা ও বক্তব্য-বিবৃতিতে ভরপুর।

অতএব, মুসলমানদের আকীদা বিনষ্টকারী এসমস্ত বিষয়, যা মির্যা কাদিয়ানী তদানীন্তন ইংরেজ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আবিষ্কার করেছিল- দ্বীনী বিষয় মনে করে তার সত্যাসত্যের বিতর্কে অবতীর্ণ হওয়া প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন কাজ। মির্যা সাহেবের অবস্থান ব্রিটিশ সরকারের একজন ‘এজেন্ট’-এর বেশি প্রমাণিত হয় না। সুতরাং যারা ধর্মীয়ভাবে মির্যা কাদিয়ানীর প্রতারণার জালে শিকার হয়েছেন, তাদের সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত।

রব্বুল আলামীন আমার মত ঐসকল লোকের জন্যও এ থেকে মুক্তিলাভের উপায় সৃষ্টি করুন, যারা এখনো এ বিভ্রান্তির ফাঁদে আটকে রয়েছেন। হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খতমে নবুওতের প্রতি ঈমান আনা তাদের পক্ষে সহজ করে দিন। তাদেরকে চিন্তা-ভাবনার তাওফীক নসীব করুন এবং ঈমানের মহা দৌলতে ধন্য করুন- আমীন।

ভাষান্তর ও টীকা সংযোজন : মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম

১.  তার এ দাবির জন্য দেখুন, ইযালায়ে আওহাম, রূহানী খাযায়েন ৩/১২২, ৪৬৩-৪৬৪; ইতমামুল হুজ্জাহ, রূহানী খাযায়েন ৮/২৭৫; আরবাঈন-৪, রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৫৪; এক গলতি কা ইযালা, রূহানী খাযায়েন ১৮/২১০; একটি ভুল সংশোধন, পৃ. ৮; আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম, রূহানী খাযায়েন ৫/৫৫১; কিশতিয়ে নূহ, রূহানী খাযায়েন ১৯/৫০, ৫১; কিশতিয়ে নূহ (বাংলা) পৃ. ৬৫

২. এ সম্পর্কিত উদ্ধৃতির জন্য দেখুন, মির্যাপুত্র বশির আহমদ এমএ রচিত তার বাবার জীবনীগ্রন্থ ‘সীরাতুল মাহদী’ ১/৬২৩; (নতুন সংস্করণ)। মজার ব্যাপার হল, মির্যা সাহেবের ‘উম্মতিরাও’ বলে যে, তার ওপর হজ্ব ফরয হয়নি, তাই তিনি আদায় করেননি!! -অনুবাদক।

৩. জালেম ইংরেজ সরকারের সঙ্গে মির্যা কাদিয়ানীর দালালি ও চাটুকারিতার সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্ববিখ্যাত। এখানে এসম্পর্কিত তার কয়েকটি বক্তব্যের অনুবাদ লক্ষ্য করুন-

* সকল মুসলমানের মধ্যে আমিই হলাম ইংরেজ সরকারের প্রথম সারির হিতাকাক্সক্ষী। – তিরয়াকুল কুলূব, রূহানী খাযায়েন ১৫/৪৯১.

* মোটকথা, এরা (আমার অনুসারীরা) এমনই এক সম্প্রদায়, যারা বৃটিশ সরকারের নুন খেয়ে বেড়ে ওঠেছে এবং সুখ্যাতি অর্জন করেছে। যারা সরকারের দয়ার পাত্র। – মজমুআয়ে ইশতেহারাত ২/১৯৭.(নতুন সংস্করণ)

* আমার জীবনের সিংহভাগ কেটেছে এই ইংরেজ সরকারের সাহায্য ও সমর্থন কুড়িয়ে। আমি জিহাদের বিরুদ্ধে ও ইংরেজ সরকারের আনুগত্যের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণে গ্রন্থ রচনা করেছি এবং প্রচারপত্র বিলি করেছি, যেই গ্রন্থ ও প্রচারপত্রগুলো যদি এক স্থানে একত্র করা হয়, তাহলে তা দ্বারা ৫০টি আলমারি ভরে যাবে। – তিরয়াকুল কুলূব, রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৫.

* আমি এখানে মুসলমানদের নসীহত করছি, তাদের ওপর ফরয হল, তারা যেন খাঁটি মনে (বৃটিশ) সরকারের আনুগত্য করে। – লেকচার লুধিয়ানা, রূহানী খাযায়েন ২০/২৭২; লেকচার লুধিয়ানা (বাংলা) ২৯

* এই ইংরেজ সরকারের ছত্রছায়ায় যেই নিরাপত্তা আমরা লাভ করেছি, সেই নিরাপত্তা আমাদের না মক্কাতে পাওয়া সম্ভব, না মদীনাতে। – তিরয়াকুল কুলূব, রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৬.

৪.  আর এখন তো কাদিয়ানীদের পঞ্চম খলিফা মির্যা মাসরূরের যুগ। ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিকভাবে তারা নিজেদের শতবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে। সেই হিসেবে এ ধর্মমতের বয়স এখন একশ’ ত্রিশ বছর হতে চলেছে!

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

ইসলামের ইতিহাস পাঠ (পর্ব- ৬) খারেজীদের ষড়যন্ত্র

আবূ মুয়াবিয়া লুৎফুর রহমান ফরায়েজী আগের লেখাটি পড়ে নিন– একটি ভুল বুঝাবুঝি এবং অবশেষে সন্ধিচুক্তি …