হোম / অপরাধ ও গোনাহ / মসজিদে জমি দান করে মসজিদ নির্মাণের পর পুনরায় নিজের দখলে নেবার হুকুম কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

মসজিদে জমি দান করে মসজিদ নির্মাণের পর পুনরায় নিজের দখলে নেবার হুকুম কী?

প্রশ্ন

আচ্ছালামু আলাইকুম।
আমার প্রশ্ন : ১৯৪৬ সালে আমাদের পাড়ার লোকজন সবাই মিলে ছোট্ট একটি পাঞ্জেগানা প্রতিষ্টা করে। এজাহার মিঞা এবং ছৈয়দ আহমদ নামক ২ জন সহৃদয় ব্যক্তির মোখিক সম্মতিতে তাদের ১১০০ শতাংশ জায়গার উপর মাটির এবাদতখানাটি তৈরী হয়। এই ১১০০ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৮০০ শতাংশ জায়গা জনাব ছৈয়দ আহমদের এবং ৩০০ শতাংশ জায়গা এজাহার মিঞার।
১৯৪৬ সাল থেকে স্বাভাবিকভাবে এবাদতখানাটিকে নামায আদায় ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্টানাদি সম্পন্ন হয়ে আসছিল। ১৯৭২ সালে জনাব এজাহার মিঞা তাঁর চাচার সাথে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে এক দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন। সেই দ্বন্ধের ফলে এজাহার মিঞা (তখন তিনি দুবাই প্রবাসী) পাড়ার মুসল্লিদের উপর এই বলে চাপ সৃষ্টি করে যে, মসজিদে তার যে জায়গা আছে তা তাকে ফেরত দেওয়া হউক।
এজাহার মিঞার দাবী মতে পাড়ার মুসল্লীরা শরীয়তের ভয়ে মসজিদের ভেতরে তার অংশের জায়গায় নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকে। উপায়ন্তর না থাকায় মসজিদের পরিচালনা কমিটি সেভাবেই নামাজ আদায় করতে থাকে। শুধু দুই ঈদের নামাজের সময় এজাহার মিঞার জায়গা পর্যন্ত নামাযের কাতার করা হত।
১৯৮৭ সালে সময়ের ব্যবধানে মসজিদ বড় করা এবং জুমা আদায়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন হয়ে পড়লে মাটির মসজিদটি ভেংগে বড় এবং পাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমতাবস্থায় মসজিদটি পুনঃনির্মান কাজ শুরু করার প্রাক্কালে এজাহার মিঞার জায়গা ছেড়ে দেওয়া বিষয়টি সামনে আসে। পাড়ার মুসল্লীদের মতামত নেওয়া হয়।
সবাইর মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এজাহার মিঞাকে আবার ব্যাপারটা বোঝানো হবে এবং তাঁর প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বার বার বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করার পরেও এজাহার মিঞা তার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এজাহার মিঞার জায়গা ছেড়ে দিয়ে উল্টো দিকে মসজিদের লাগোয়া পুকুরের কিছু অংশ ভরাট করে মসজিদের পুনঃনির্মানকাজ শেষ করা হয়।
আজ বিভিন্ন কারণে এজাহার মিঞার সেদিনের সেই সিদ্ধান্তকে ইসলাম কিভাবে ব্যাখ্যায়িত করবে সেটা জানার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এতএব এজাহার মিঞা কি ইমানদার ছিল- না বেঈমান ,না মোনাফেক ? শরীয়তের ফায়সালা কি জানতে চাই।
ইতি —-
হাফিজ আহমদ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

মসজিদের জন্য যায়গা দেবার পর তাতে মসজিদ নির্মাণ করে নামায শুরু করার পর তা শরয়ী মসজিদে পরিণত হয়। উক্ত  জায়গার উপর ওয়াকফকারীর কোন মালিকানা বাকি থাকে না।
যায়গাদাতার জন্য উক্ত স্থান নিজের অধিকারে নেয়া, বা করায়ত্ব করার কোন অধিকার নেই।
যদি তা আবার পুনর্দখল করে, তাহলে তা কবিরা গোনাহ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
তাই এহেন ঘৃণ্য কাজ যিনি করেছেন, তিনি ফাসিক ও কবিরা গোনাহে লিপ্ত।

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ [٢:١١٤]

যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। [সূরা বাকারা-১১৪]

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ عُمَرَ تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُقَالُ لَهُ ثَمْغٌ وَكَانَ نَخْلًا فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ اسْتَفَدْتُ مَالًا وَهُوَ عِنْدِيْ نَفِيْسٌ فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ لَا يُبَاعُ وَلَا يُوْهَبُ وَلَا يُوْرَثُ وَلَكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ‘উমার (রাঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সদাকাহ করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সদাকাহ করতে চাই।’ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সদাকাহ কর যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) সেটি এভাবেই সদাকাহ করলেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৭৬৪]

فإذا تم ولزم لا يملك ولا يملك ولا يعار ولا يرهن،

وفى رد المحتار: لا يكون مملوكا لصاحبه ولا يملك أى لا يقبل التتمليك لغيره بالبيع ونحوه لا ستحالة تمليك الخارج عن ملكه (الفتاوى الشامية، كتاب الوقف-6/539)

رجل له ساحة لا بناء فيها أمر قوما أن يصلوا فيها بجماعة أبدا أو أمرهم بالصلاة مطلقا ونوى الأبد ففى هذين الوجهين صارة الساحة مسجدا لو مات لا يورث عنه (الفتاوى الهندية، كتاب الوقف، الباب الحادى عشر فى المسجد وما يتعلق به-، قديم-2/255، جديد-2/409، المحيط البرهانى-8/157، رقم-11499

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

এক পশুতে তিনজনের আকীকা ও কুরবানী একত্রে দেয়া যাবে কি?

প্রশ্ন নাম- Md: A.B.S আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ আশা করি আপনি অনেক ভাল এবং সুস্থ …