হোম / কাফন-দাফন-জানাযা / দোতলা পাকা কবরের ব্যাপারে কবরস্থান কমিটির করণীয় কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

দোতলা পাকা কবরের ব্যাপারে কবরস্থান কমিটির করণীয় কী?

বিবরণ

একই কবরস্থানে উক্তরূপে বরাদ্দ নিয়ে ওয়ারিশ কবরটিকে একচালা ঘরের মত টাইলস ডিজাইন করে (মানে দোতলা ঘরের মত) পাকা করা হয়েছে। এরূপ কবর না রাখার জন্য কমিটিকে বলা হলেও কমিটি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

প্রশ্ন

উক্ত কবরটির ব্যাপারে শরঈ হুকুম কী? কমিটির করণীয় কী?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

এভাবে কবরকে পাকা করে ডিজাইন করা জায়েজ হয়নি।

তাই যদি বড় কোন ফিতনার আশংকা না হয়, তাহলে উপরোক্ত ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে কবরটিকে স্বাভাবিক কবর হিসেবে বাকি রাখা উচিত।

عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ، قَالَ: قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ «أَنْ لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ»

আবু হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী রা. আমাকে বলেন : আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করবো না,যে দায়িত্ব দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? যত মূর্তি -প্রতিকৃতি দেখবে সব ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবে, (স্বাভাবিক কবরের পরিচিতি জ্ঞাপক সামান্য উচ্চতা বেশি) কোনো উঁচু কবর দেখবে তা সব সমান করে দেবে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৯৬৯]

أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ حَدَّثَهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ بِرُودِسَ مِنْ أَرْضِ الرُّومِ، فَتُوُفِّيَ صَاحِبٌ لَنَا، فَأَمَرَ فَضَالَةُ بِقَبْرِهِ فَسُوِّيَ، ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْمُرُ بِتَسْوِيَتِهَا»

‘আমর ইবনুল হারিস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ আলী আল-হামদানী (রহঃ) তাকে এ হাদীসটি জানান। তিনি বলেছেন,‘আমরা ফাদালাহ ইবনু উবাই (রাঃ)-এর সাথে রোম দেশের রূযিস নামক স্থানে ছিলাম। আমাদের এক ব্যক্তি এখানে মৃত্যু বরণ করলো। তার কবর সম্পর্কে ফাদালাহ (রাঃ)-এর নির্দেশ মোতাবেক মাটি সমান করে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি বললেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩২১৯]

عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَقَالَ: ” أَيُّكُمْ يَنْطَلِقُ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلا يَدَعُ بِهَا وَثَنًا إِلا كَسَرَهُ، وَلا قَبْرًا إِلا سَوَّاهُ، وَلا صُورَةً إِلا لَطَّخَهَا؟ ” فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ. فَانْطَلَقَ، فَهَابَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ، فَرَجَعَ، فَقَالَ عَلِيٌّ: أَنَا أَنْطَلِقُ يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: ” فَانْطَلِقْ ” فَانْطَلَقَ ثُمَّ رَجَعَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَمْ أَدَعْ بِهَا وَثَنًا إِلا كَسَرْتُهُ، وَلا قَبْرًا إِلا سَوَّيْتُهُ، وَلا صُورَةً إِلا لَطَّخْتُهَا. ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” مَنْ عَادَ لِصَنْعَةِ شَيْءٍ مِنْ هَذَا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “

আলী রাঃ বলেন,একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযায় (মদীনার বাইরে) বের হলেন। তিনি বললেন : তোমাদের মধ্যে কে আছ মদীনার অভ্যন্তরে গিয়ে যত মূর্তি পাবে সব বিচূর্ণ করবে,যত কবর দেখবে সব সমান করে দেবে,এবং যত ছবি পাবে সব মুছে বা নষ্ট করে দেবে। তখন একজন সাহাবী বললেন : ইয়া রাসুলুল্লাহ,আমি যাব। কিন্তু তিনি মদীনাবাসীকে ভয় পেয়ে ফিরে আসলেন। তখন আলী রাঃ বললেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ,আমি যাব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,যাও। তখন আলী চলে গেলেন। পরে ফিরে এসে বললেন,আমি সকল মূর্তি ভেঙ্গে দিয়েছি,সকল কবর ভেঙ্গে সমান করে দিয়েছি এবং সকল ছবি মুছে নষ্ট দিয়েছি। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যদি কেউ পুনরায় এসকল কাজের কোনো একটি করে তাহলে সে মুহাম্মাদের উপর অবতীর্ণ ধর্মের সাথে কুফরী করল। [মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং- ৬৫৭]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি ইকামত দিবে নাকি দিবে না?

প্রশ্ন From: Md. Monirul Islam বিষয়ঃ একাকী নামাযে একামত বলা প্রশ্নঃ আমি যদি একাকী নামায …