প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / বেরেলবী বিদআতিদের শয়তানের প্রতি মোহাব্বতের চিত্র [১ম পর্ব]

বেরেলবী বিদআতিদের শয়তানের প্রতি মোহাব্বতের চিত্র [১ম পর্ব]

সংকলকলুৎফুর রহমান ফরায়েজী

প্রাককথা

হযরত আদম আঃ এর সময়কাল থেকেই মানবতার সাথে দুশমনী আর বিদ্বেষ শয়তানের রন্ধ্রে রন্দ্রে নিহিত। সে বিভিন্ন সুরত ও বাহানায় বনী আদমকে জাহান্নামী বানানোর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেনঃ

يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا ۗ إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ۗ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ [٧:٢٧]হে বনী-

আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে;যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি,যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। {সূরা আরাফ-২৭}

কুরআনতো শয়তানকে কাফেরদের অভিভাবক বলেছে। আর রেজাখানী মতাদর্শী বেদআতিরা শয়তানকেই নিজের অভিভাবক বানিয়েছে সামনের বর্ণনা দ্বারা একথা সুষ্পষ্টরূপে প্রমাণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

একথা সুষ্পষ্ট যে, শয়তান মানুষের দুশমন। একথা কারো অজানা নয়। আল্লাহ তাআলার ইজ্জতের কসম খেয়ে শয়তান বলেছে যে, “আমি আদম সন্তানকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করবো”। কুরআনে কারীম শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আদম সন্তানের প্রতি শয়তানের হিংসা, বিদ্বেষতো আদম আঃ এর জন্মলগ্ন থেকেই আছে। কিন্তু শয়তান আম্বিয়ায়ে কেরামের উপর সবচে’ বেশি ক্ষিপ্ত। এর কারণও স্পষ্ট। কারণ আম্বিয়ায়ে কেরামই শয়তানের মানুষকে বিভ্রান্ত করে জাহান্নামী বানানোর মিশনকে নস্যাৎ করে দিতে সবচে’ বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

শয়তানের অগণিত খারাবীর মধ্য থেকে একটি খারাবী এটাও যে, সে নিজের ব্যাপারে ইলমে গায়েবের দাবিদার ছিল। অর্থাৎ তার দাবি ছিল যে, সে ইলমে গায়েব জানতো।

কুরআনে কারীমে তার সে দাবি ও তা বাতিল হওয়াকে কি শব্দে বলেছেন দেখুন-

যখন হযরত সুলাইমান আঃ মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হয়ে যায়, তখন সে সময় যেহেতু জিনেরা বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করছিল, তাই হযরত সুলাইমান আঃ লাঠিকে দুই হাতে ধরে, তাতে ভর দিয়ে তার সিংহাসনে বসে যান। সেই হালাতেই তার রূহ কবজ হয়। এভাবেই তিনি বছরখানিক সময় বসে ছিলেন। জিনেরা তাকে বসে থাকতে দেখে জীবিত মনে করে কাজে গাফলতী না করে পুরোদমে কাজ করে যায়। অবশেষে সেই লাঠিকে উইপোকা খেয়ে ফেললে তিনি লাঠি ভেঙ্গে মাটিতে পরে যান। সেই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে ইরশাদ হয়-

فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلَىٰ مَوْتِهِ إِلَّا دَابَّةُ الْأَرْضِ تَأْكُلُ مِنسَأَتَهُ ۖ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ أَن لَّوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ [٣٤:١٤]

যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল। সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকলে তারা এই লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না। {সূরা সাবা-১৪}

কুরআনে কারীমে এখানে শয়তানের ইলমে গায়েব সম্পর্কে দাবির খন্ডন করলেন। যদি তারা গায়েবের খবর জানতো, তাহলে এভাবে কষ্ট করতো না সুলাইমান আঃ এর মৃত্যুর পরও।
রেজাখানী বেদআতিদের মুফতী আহমাদ ইয়ারখান লিখেছেনঃ

“জিনদের এ দাবি ছিল যে, তারা ইলমে গায়েব জানে, আজ তাদের জানা হল যে, তাদের এ দাবি ভুল। {নূরুল ইরফান-৬৮৬,পীর ভাই}

আর রেজাখানী মৌলভী নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী লিখেছেনঃ

সুলাইমান আঃ শয়তানদের এটার পূর্ণতার হুকুম দিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হয়ে যায়, তখন তিনি দুআ করলেন যে, তার মৃত্যু শয়তানদের কাছে যেন প্রকাশ না পায়। যেন তারা ইমারতটি পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত কাজে লেগে থাকে। আর তাদের যে, ইলমে গায়েবের দাবি ছিল সেটা যেন বাতিল সাব্যস্ত হয়। {খাযায়েয়িনুল ইরফান-৭৭৪.জিআউল কুরআন}
আপনারা দুইজন বেরেলবী রেজাখানী হযরতের লেখা পড়লেন, যাতে আল্লাহ তাআলা এবং সুলাইমান আঃ এর শয়তানের ইলমে গায়েব জানার বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করা উদ্দেশ্য ছিল। একারণে এমনটি করেছেন। এছাড়া কুরআনের আয়াত দ্বারাও একথা বুঝা যায় যে, এ ঘটনার পর শয়তানদের কাছে একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাদের ইলমে গায়েবের দাবিটি ঠিক নয়। বরং ভুল।

এবার আপনাদের সামনে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখতে চাই। শয়তানের ইলমে গায়েব নেই একথার প্রমাণ আল্লাহ তাআলা এবং সুলাইমান আঃ উভয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে শয়তান নিজেও তা স্বীকার করেছে।

কিন্তু আফসোসের বিষয় হল হাজার শতাব্দী পর সৃষ্টি হওয়া বেরেলবী রেজাখানী ফেরক্বার কথিত আলেমরা শয়তানের জন্য ইলমে গায়েব সাব্যস্ত করছে। শয়তান যে দাবি থেকে হাজার বছর আগেই নিজের অজ্ঞতা ও অক্ষমতার কথা প্রকাশ করেছে, সেই দাবিটি আজ শয়তানের জন্য সাব্যস্ত করতে শয়তানের পক্ষে ওকালতী করতে মাঠে নেমেছে রেজাখানী বেদআতি গ্র“পটি।

যদি আমার কথা আপনার বিশ্বাস না হয়, তাহলে এ প্রবন্ধটি শেষ পর্যন্ত পড়–ন। তারপর দেখুন বর্তমান জমানার রেজাখানী মতাদর্শীরা কতটা কঠোরতা ও দৃঢ়তার সাথে শয়তানের জন্য ইলমে গায়েব জায়েজ ও প্রমাণিত বলে বিশ্বাস করে।

#

এ প্রবন্ধে শয়তানের সাথে রেজখানী গ্র“পের মোহাব্বতের কথা এবং শয়তানকে সাপোর্টদানকারী বিষয় বর্ণনা করবো। রেজাখানীদের পক্ষ থেকে শয়তানের সাপোর্টে যত কথা তাদের বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে তা আমি একত্র করে দিলাম। দেখতে পাবেন রেজাখানীরা শয়তানের কামালিয়্যাত কতভাবে প্রকাশ করেছে।

এখানে লক্ষ্যনীয় যে, রেজাখানীদের কিতাব থেকে শয়তানের জন্য সাব্যস্ত করা যেসব বৈশিষ্ট আছে, যাতে ইলমে গায়েব, প্রতিটি স্থানে হাজির নাজির হওয়া, মুআহহিদ, আবেদ, আলেম, তাসাররুফ ইত্যাদি বৈশিষ্ট ও রয়েছে। তা বহুত কষ্ট করেও যদি শয়তানের বৈশিষ্ট বলে প্রমাণ করা হয়, তাহলে এসব আর বৈশিষ্ট হিসেবে বাকি থাকে না। কারণ আহমাদ রেজা খান সাহেব লিখেছেনঃ

“ব্যাস! একথা বুঝে নিন যে, ঐ সিফাত তথা বৈশিষ্ট যা মানুষ ছাড়া অন্যের জন্য হতে পারে, তা মানুষের জন্য বৈশিষ্ট নয়, আর যা অমুসলিমের জন্যও হতে পারে, সেটা মুসলমানদের জন্য বৈশিষ্ট নয়। {মালফুজাত-৪/৩১৩}

আহমাদ রেজা খান সাহেবের এ বক্তেব্যের দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট যে, বেরেলবী রেজাখানীরা যেসব বৈশিষ্ট শয়তানের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, বেরেলবী রেজাখানী মূলনীতি অনুযায়ী সেসব এখন আর মানুষ ও মুসলমানদের জন্য বৈশিষ্ট হতে পারে না।

সুতরাং বক্ষ্যমান প্রবন্ধে ইলমে গায়েব, হাজির নাজিরসহ যেসব বিষয় বেরেলবী কিতাবে শয়তানের বৈশিষ্ট হিসেবে মানা হয়েছে, তা আর তাদের মূলনীতি অনুযায়ী মানুষ ও মুসলমানদের জন্য বৈশিষ্ট নয়।

আর যেসব আক্বিদার মাধ্যমে বেরেলবী রেজাখানীরা আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আওলিয়ায়ে কেরামকে আল্লাহ তাআলা মর্যাদায় সমাসিন করার নাপাক প্রচেষ্টা করেছেন, সেগুলো আর তাদের জন্য বৈশিষ্ট হিসেবে বাকি রইল না। [আল্লাহ তাআলা আমাদের আক্বিদা বিষয়ে ভ্রান্তিতা থেকে হিফাযত করুন। আমীন]

আমাদের প্রশ্ন হল, কোন মূলনীতির ভিত্তিতে তারা নবীদের জন্য সেসব বিষয় বৈশিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা তারা গায়রে মুসলিম শয়তানের জন্যও বৈশিষ্ট বলে সাব্যস্ত করেছেন?

এ প্রবন্ধটি পড়ার পর আপনাদের কাছে ৩টি পথ আছে। যথা-

১-

হয়তো উদ্ধৃতিকৃত বক্তব্যগুলোকে ভুল বলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিবেন।

কিন্তু মনে রাখবেন! এরকম সান্ত্বনাটা সাময়িক হতে পারে। স্থায়ী নয়। কারণ রেজাখানী কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত কিতাবসমূহ চিৎকার করে নিজেদের বাস্তবতাকে প্রকাশ করছে। একবার কিতাবগুলো উল্টে নিজের মনের সন্দেহ দূর করে নিন।

২-

অথবা এ কিতাবগুলোর লেখকদের বেরেলবিয়্যাত থেকে বাহির করে দিবেন।

এক্ষেত্রে আমরা আপনাদের যাচাই বাছাই করার সুযোগ দিচ্ছি যে, একটু গবেষনা করে দেখুনতো এসব কিতাবের লেখকদের রেজাখানী মতাদর্শ থেকে বের করে দিলে আপনারা রেজাখানী মতাদর্শ কাদের কাছ থেকে শিখলেন?

৩-

আর যদি তৃতীয় পথ অবলম্বন করে এসব বেরেলবী ওলামাদের শয়তানী মাযহাবের ধারক-বাহক সাব্যস্ত করে তাদের থেকে আলাদা হতে চান। তাহলে আসুন! আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত দেওবন্দীরা আপনাদের স্বাগতম জানায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদের হক জানা ও গ্রহণের যোগ্যতা নসীব করুন। আর শয়তানী মাযহাব থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

শয়তানের সমর্থনে নবীদের অপমান

মৌলবী আহমাদ ইয়ারখান বেরেলবী লিখেনঃ

“যদি শয়তান না হতো, তাহলে দুনিয়া ও দ্বীনের কিছুই হতো না। কেননা তখন না বাদশার প্রয়োজন হতো, না পুলিশের। না কোর্ট কাচারীর না সেনা ছাউনী ইত্যাদির দরকার হতো। এমনিভাবে না পয়গম্বরদের প্রয়োজন হতো, না ওলী ও পীরদের প্রয়োজন হতো, দোজখ ও আজাবের ফেরেস্তারা থাকতো বেকার। {তাফসীরে নাঈমী-১/২৪৮}

তাহলে কী দাঁড়াল? রেজাখানীদের কাছে পৃথিবী সৃষ্টির কারণ হল শয়তান। তার কারণেই দ্বীন দুনিয়া বাকি আছে। বলতে গেলেই শয়তানই হচ্ছে সবকিছুর রূহ। শয়তান আছে বলেই সব আছে! [নাউজুবিল্লাহ]

তাদের এ আক্বিদার মাধ্যমে তাদের এ বক্তব্যও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাদের মতে নবীদের নবুওয়ত, ওলীদের ওয়ালায়াত, পীরদের বুযুর্গী সবই শয়তানের কারণে পেয়েছে। [নাউজুবিল্লাহ]

যদি শয়তান না হতো তাহলে এসব নবী, ওলী, পীর বুযুর্গরা বেকার বসে থাকতেন?! [নাউজুবিল্লাহ]

সহীহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদা কখনোই এমন জঘন্য আক্বিদা রাখতে পারেন না। এটা রেজাখানী বেরেলবীদের নসীবেই আছে।

শয়তান কি নবীদের গোমরাহ করতে পারে? নাউজুবিল্লাহ!

মৌলবী আহমাদ ইয়ারখান নাঈমী বেরেলবী লিখেছেনঃ

“কোন ব্যক্তি নিজের থেকে শয়তানকে দূরে চলে যাওয়ার, এবং নিজের তাক্বওয়া এবং পরহেযগারীর উপর ভরসা করবে না। দ্বিতীয় এই যে, শয়তান বড় থেকে বড়দের মহিলাদের দিয়ে ফাঁসায়। {তাফসীরে নাঈমী-১/২৬১}

সুনিশ্চিতভাবে এখানে কতিপয় পাঠকরা এ প্রশ্ন তুলবেন যে, এখানে নবীদের খাটো করা হল কোথায়? এখানেতো নবীদের কোন কথাই নেই। এ সকল হযরতদের কাছে অনুরোধ হল, যদি শাহ ইসমাঈল শহীদ রহঃ এর ইবারতের মাঝে “বড়” শব্দ দিয়ে নবীগন উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে গুস্তাখে রাসূল, কাফের ইত্যাদি ফাতওয়া বেদআতি ভাইদের পক্ষ থেকে লাগানো যায়, তাহলে আমার ধারণায় এখানেও “বড় বড়” শব্দ দিয়ে নবীগণের অপমানও গুস্তাখীর কারণে মুফতী ইয়ারখান বেরেলবীকে তাদের নিজেদের ফাতওয়াই জারি করা উচিত। কারণ এখানে বড় বড় লোকদেরও শয়তান নারী দিয়ে ফাঁসায় বলে নবীগণকেও নারী দিয়ে শয়তান ফাঁসায় [নাউজুবিল্লাহ] মর্মে বক্তব্য আহমাদ ইয়ার খান দিয়েছে। তাই সেও শাহ ইসমাঈল শহীদ রহঃ বেদআতিদের যে ফাতওয়ায় দোষী হয়েছেন, ঠিক একই ফাতওয়া পাওয়ার যোগ্য নয় কি?

এখানে শয়তানের ফযিলত বর্ণনা করতে নবীগণের অপমান করা হয়নি? নবীগণের অপমানের সাথে এখানে শয়তানকে সমর্থন করা হল না? যেন শয়তানের শয়তানী কোন দোষনীয় কাজই নয়। এটাতো নবীদের নবুওয়ত, ওলীদের বুযুর্গী ইত্যাদির কারণ। তাহলে কি দাঁড়াল? পুরোটাই হয়ে গেল শয়তানের ফযীলত।

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান সাহেব আরেক স্থানে লিখেনঃ

“বড় থেকে বড় ব্যক্তিরাও যেন নিজেদের শয়তান থেকে নিরাপদ মনে না করে”। নূরুল ইরফান-৫৫৫}

শয়তান নবীগণ থেকে ভুলত্রুটি করাতে পারে [নাউজুবিল্লাহ]

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান গুজরাটি সাহেব লিখেনঃ

“শয়তান নবীদের গোমরাহ করতে পারে না, এবং তাদের থেকে গোনাহ করাতে পারে না। কিন্তু তাদের থেকে ভুল-ত্র“টি করাতে পারে। {নূরুল ইরফান-৪৭৯}

বাহ! শয়তানী ক্ষমতাকে কিভাবে স্বীকার করা হচ্ছে!

আম্বিয়ায়ে কেরামের পরিশুদ্ধ মনকে ভুলিয়ে শয়তান ভুল-ত্র“টি করাবেতো দূরে থাক, শয়তানতো নবীগণের কাছেও ভীরতে সাহস পায় না। কারণ নবীজী সাঃ এর সাহাবী হযরত ওমর রাঃ এর ক্ষেত্রেই বর্ণিত যে, শয়তান ওমর রাঃ দেখলে পালিয়ে যায়, যদি সাগরেদকে দেখেই শয়তান পালায়, তাহলে যিনি তার উস্তাদ তাকে দেখলে শয়তান কি করবে? তাহলে কি নবীজী সাঃ এর চেয়ে শয়তানের কাছে হযরত ওমর রাঃ বড়? নাউজুবিল্লাহ!

একথা স্পষ্ট যে, যদি এটা মেনে হয় যে, শয়তান নবীদের থেকে ভুল-ত্র“টি করিয়েছেন, তাহলে কাফেরদের থেকে এ প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, তাহলে কুরআন নাজিলের সময় নবীজী সাঃ শয়তানের দ্বারা ভুলে বলেন নিতো? নাউজুবিল্লাহ। ভুলে এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত বলে ফেলেন নিতো?

এ আক্বিদা রাখলে কুরআনের অকাট্যতা ও নির্ভূলতা আর বাকি থাকে কোথায়?

কিন্তু আহমাদ ইয়ারখান সাহেব কুরআনের ব্যাপারে একথাও বলেছেন যে, এটারও সম্ভাবনা আছে যে, রাসূল সাঃ কতিপয় আয়াত ভুলে গেছেন। {মালফুযাত-৩/৯}

আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেছেন-

مَا نَنْسَخْ مِنْ آَيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (১০৬)

আমি কোন আয়াত রহিত করলে, অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? {সূরা বাকারা-১০৬}

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ওলামায়ে দেওবন্দ এর মাসলাক হল, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যেসব আয়াত ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে, সেসব আয়াত সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত অকাট্য। এতে সম্ভাবনার কিছু নেই।

আহমাদ ইয়ার খান সাহেব “সম্ভাবনা আছে” বলে পূর্ণ কুরআনের উপর যে সন্দেহ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, আর শিয়াদের জন্য যে রাস্তা সুগম করার প্রয়াস চালিয়েছেন ইনশাআল্লাহ এতে তিনি অবশ্যই ব্যর্থ থাকবেন। এ আক্বিদার কারণে তার মনের পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট হয়ে গেল।

শয়তান নবীদের মত আওয়াজ বের করতে পারে! নাউজুবিল্লাহ

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান বেরেলবী লিখেনঃ

“ইবলীস নবীদের আকৃতিতো ধারণ করতে পারে না, কিন্তু তাদের আওয়াজকে নিজের আওয়াজের সাথে সাদৃশ্য করে দিতে পারে”। {নূরুল ইরফান-৫৩১}

আরেক স্থানে লিখেছেনঃ

“শয়তান নিজের আওয়াজকে রাসূল সাঃ এর আওয়াজের সাথে সাদৃশ্যায়ন করতে পারে”। {মাওয়ায়েজে নাঈমিয়্যাহ-১/১৪১}

রাসূলে কারীম সাঃ এর খুবসুরত এবং মিষ্টি কণ্ঠ যা সাহাবায়ে কেরামের মনের প্রশান্তি ছিল। যা শুনে তারা উদভ্রান্ত মনকে করতেন শান্ত। সেই সুমধুর মিষ্টি আওয়াজ সুনিশ্চিতভাবে আল্লাহ তাআলা কোন সাহাবী, ওলী-বুযুর্গদের দেননি। কিন্তু বেরেলবী রেজাখানীদের এ ব্যাপারে কেমন ঈমান বিধ্বংসী আক্বিদা যে, এ সুন্দর আওয়াজ নাকি ইবলিসকেও আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন! নবীজীর সুমধুর আওয়াজের সাথে ইবলিশের আওয়াজ সাদৃশ্য হতে পারে?! নাউজুবিল্লাহ!

আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে রাসূল সাঃ এর আওয়াজ ইবলিসেরতো দূরে থাক, পৃথিবীর কেউ পায়নি বলেই বিশ্বাস করি।

শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নবীগণও নিরাপদ নয়?!

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান বেরেলবী লিখেনঃ

“কোন ব্যক্তি কোন স্থানে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে নিরাপদ নয়। আদম আঃ আল্লাহ তাআলার কাছে মকবুল বান্দা ছিলেন। তিনি জান্নাতের নিরাপদ স্থানে ছিলেন। তারপরও শয়তান সেখানেও তার প্রতারণা করে ফেলে।” {নূরুল ইরফান-২৪১, পীর ভাই কোম্পানী, আল আরাফ, আয়াত নং-২০}

তিনি আরো লিখেনঃ

“সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন। কেননা যদিও তারা শয়তান তাদের উপর ভরবে এর থেকে নিরাপদ ছিলেন, কিন্তু শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে তারা নিরাপদ ছিলেন না। {নূরুল ইরফান-৭৯০}

এখানে সকল আম্বিয়ায়ে কেরামকে ওয়াসওয়াসা থেকে অনিরাপদ বলা হয়েছে। একথা শুনে নিন বেরেলবীদের কাছে ওয়াসওয়াসা কি জিনিস?

মৌলবী আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আহমাদ কাদেরী বেরেলবী লিখেনঃ

“পরিভাষায় ঐ খেয়ালকে বলা হয়, যা শয়তানের পক্ষ থেকে মানুষের অন্তরে আসে তার নাম ওয়াসওয়াসা”। {তাফসীরুল হাসানাত-২/৪৬৭}

মুফতী ইক্তিদার আহমাদ গুজরাটি বেরেলবী লিখেনঃ

“ইবলিস চারদিক থেকে হযরত আদম আঃ কে ওয়াসওয়াসা দিয়ে ঘিরে ফেলে। {তাফসীরে নাঈমী-১৬/৮৯৮, আহমাদ ইয়ারখান}

হযরত আদম আঃ শয়তানের প্রতারণায় [নাউজুবিল্লাহ]

মুফতী ইক্তিদার আহমাদ গুজরাতি সাহেব লিখেনঃ

“ইবলিসের ওয়াসওয়াসা এবং তাঁর ভুল ও ভুলে যাওয়া, কান্না, তওবা করা এবং স্থায়ী জীবনের লোভ, স্থায়ী বাদশাহী পাওয়ার লালসায় পড়ে যাওয়া, ইবলিসের প্রতারণায় আসা। তার প্রবঞ্চনায় ঢুকে পরা।ÑÑÑÑ এ সবই তাঁর মানুষ হওয়ার প্রমাণ। [তাফসীরে নাঈমী-১৬/৮৯৯}

রাসূল সাঃ কে শয়তানী ইলম দেয়া হয়েছে [নাউজুবিল্লাহ]

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান লিখেনঃ

“সারা জাহানের ইলম হুজুর সাঃ কে দেয়া হয়েছে। সারা জাহানের মাঝে হযরত আদম আঃ, ফেরেস্তা, মালাকুল মওত এবং শয়তান প্রমূখও আছে। জাআল হক্ব-৮১}

নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ তাআলা এমন বদবখত আক্বিদা থেকে আমাদের হিফাযত করুন।

“শয়তানী ইলমকে নবীর জন্য প্রমাণ মেনে, সেই সাথে শ্রেষ্ঠ নবী সাঃ এর জন্যও তা সাব্যস্ত করে রেজাখানী হযরত কী পরিমাণ জঘন্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে একবার ভেবে দেখবেন কি?

নাপাক শয়তানী ইলম তথা জাদু-টোনা, প্রতারণা, ঝগড়া-ফাসাদ করানোর জ্ঞান, গোনাহ-গোমরাহিতে নিপতিত করার পদ্ধতি, অশ্লিলতা, নোংরামী বিস্তারের ইলম নবীজী সাঃ এর জন্য প্রমাণিত করা নবীজী সাঃ সম্পর্কে কতটা ধৃষ্টতার পরিচায়ক একবার চিন্তা করুন। এরকম নাপাক ও জঘন্য ইলম রাসূল সাঃ এর জন্য মানাটা কোন ধরণের ভালবাসার পরিচয়?

শুধু তাই নয়, একদিকে রাসূল সাঃ এর জন্য শয়তানী ইলম আছে বলে দাবি করা, অপরদিকে শয়তানের জন্য ইলমে গায়েব দৃঢ়তার সাথে জায়েজ ও প্রমাণিত দাবি করছে। দেখুন কী বলেন তারা?-

শয়তানেরও ভবিষ্যতের জ্ঞান আছে!

মুফতী আহমাদ ইয়ারখান সাহেব লিখেনঃ

“শয়তানকেও ভবিষ্যতের গায়েবের বিষয়ে ইলম দেয়া হয়েছে। {নূরুল ইরফান-২৪১, পীর ভাই কোম্পানী লাহুর}

আল্লাহ তাআলার জন্য খাস ইলমে গায়েবকে রাসূল সাঃ এর জন্য দাবি করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে রেজাখানী বেদআতি দল ইলমে গায়েব কার কার মাঝে বন্টন করছে দেখুন।

রেজাখানী বেদআতি গ্র“প শয়তানের জন্য ইলমে গায়েব সাব্যস্ত করে নিজেদের কাদের দলের অন্তর্ভূক্ত করলো আশা করি পাঠকরাই নির্ণিত করবেন।

রাসূল সাঃ এর জন্য শয়তানের নাপাক ইলম সাব্যস্তকারী, এবং শয়তানের জন্য ইলমে গায়েবকে জায়েজ মান্যকারী দলটির আরো ধৃষ্টতা দেখুন। ওদের দাবি রাসূল সাঃ এর কাছে শয়তানের নাপাক ইলম এর সাথে সাথে শয়তানের চেয়ে বেশি খারাপ ইলম জানা আছে। [নাউজুবিল্লাহ]

নবীজী সাঃ এর ইলমকে শয়তানের ইলমের সাথে সাদৃশ্যায়ন

“শয়তান হল অসুস্থ্য, আর রাসূল সাঃ হলেন চিকিৎসক, যখন অসুস্থ্যতার শক্তি এত,তাই নবীজীর ইলম তার চেয়ে বেশি হওয়া দরকার। {তাফসীরে নূরুল ইরফান-২৪১, আল আরাফ,আয়ত নং-১৭}

রাসূল সাঃ এর ইলমকে কিভাবে শয়তানের ইলমের সাথে সাদৃশ্য করা হচ্ছে। যদি একাজটি অন্য কেউ করতো,তাহলে কুফরীর ফাতওয়া দিয়ে দিত সাথে সাথেই। কিন্তু রেজাখানীদের মূলনীতি মনে হয় যে, শুধু অন্যদের জন্য কুফরীর ফাতওয়া বরাদ্দ, তাদের সকল কিছুই মাফ।

শুধু তাই নয়। শয়তান শুধু ইলমে গায়েবই জানে না, বরং শয়তান সে খবর দেয় তাও নাকি সত্য! দেখুন কি বলেন হযরতরা!

শয়তানের ইলমে গায়েব

আল্লাহ তাআলা শয়তানকে এমন ইলমে গায়েব দিয়েছেন যে, সে ভবিষ্যতের ব্যাপারে যা বলেছে, বর্তমানে তাই দেখা যাচ্ছে। {নূরুল ইরফান-১৫৩, সূরা নিসা, আয়াত নং-১১৯}

জানা নেই রেজাখানী মতাদর্শীরা শয়তানের সমর্থনে কোন ষ্টেশনে গিয়ে ব্রেক কষে। তবে তাদের ভিতরগত হালাত বুঝার জন্য আশা করি এতটুকুই যথেষ্ঠ।

শয়তানে অতীতে যেসব সংবাদ দিয়েছে, বেরেলবীদের দাবি অনুপাতে তা সবই প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু শয়তানের ব্যাপারে তাদের আক্বিদা এতটুকুই নয়, বরং দুই কদম এগিয়ে বলে-

শয়তান মানুষের অন্তরের ভাবনাও জানে

“ইবলিসের দৃষ্টি পুরো পৃথিবীর উপর। সে একই সাথে সবাইকে দেখে। সমস্ত মুসলমানদের ইচ্ছে এমনকি মনের ভাবনাও জানে। {তাফসীরে নাঈমী-৩/১১৪, রাসায়েলে নাঈমিয়া-২৩১}

নবীগণের মনের ইচ্ছে, এবং ভাবনাও শয়তানের জন্য সাব্যস্ত করে রেজাখানী দল কিভাবে নিজেদের শয়তানের সমর্থনকারী দল হিসেবে প্রকাশ করছে।

আর শয়তানের ইলমে গায়েবের ব্যাপারে তাদের আক্বিদা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শয়তানের সমস্ত জ্ঞানের ব্যাপারে কী পরিমাণ গভীরতা, তা রেজাখানীদের কলম থেকেই দেখুনঃ

এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, শয়তান তার বেদ্বীনী ও গোমরাহী ছড়ানোর জন্য সে একা নয়,বরং তার সাথে তার চ্যালা চামুন্ডারাও আছে। যারা শয়তানকে তার খারাবী ছড়াতে সহায়তা করে থাকে। যেমন কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ۗ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ [٧:٢٧]

সে [শয়তান] এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি,যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। {সূরা আরাফ-২৭}

এ আয়াত সুষ্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, শয়তান একা নয়, বরং তার সাথে আছে অনেক চ্যালা চামুন্ডা। যারা শয়তানের কাজে সহায়তা করে থাকে।

শয়তানের ইলমী প্রশস্ততা

“যখন এ প্রতারণাকারী [শয়তান] শয়তানের ইলমের প্রশস্তার এ অবস্থা। তাহলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হিদায়াতের পথপ্রদর্শক বান্দা, হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম, আওলিয়ায়ে কেরামের ইলমের ব্যাপারে কি আর বলবো? {তাফসীরে নাঈমী-৩/১১৪}

শয়তানের ইলমের প্রশস্ততার আক্বিদার অনুসারী রেজাখানীদের শয়তানের আশেক ছাড়া আর কি বলা যায়? শয়তানের ইলমের প্রশস্ততা বলে নবীদের ইলমের প্রশস্ততা প্রমাণের এমন নোংরা নজীর উপমাহীন।

শয়তানের প্রশংসায় রেজাখানীরা এতটুকুতেই ক্ষান্ত হয়নি, শয়তানের ইলমে গায়েব শুধু জানেই না, বরং আল্লাহ তাআলা তাকে দান করেছেন মর্মে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।

শয়তানের কাছে ইলমে গায়েব

“আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে ইলমে গায়েব দান করেছেন”। {তাফসীরে নাঈমী-৮/৩৩৬}

বেরেলবী রেজাখানীরা মনে এর চেয়ে বেশি মোহাব্বতের শব্দ শয়তানের জন্য খুঁজছিল। কিন্তু রেজাখানীদের কাছে এর চেয়ে ভাল শব্দ আর ছিল না। যা লিখে তারা শয়তানের সমর্থন দিতে পারে। একটি শব্দ বাকি ছিল, সেটা হল শয়তানের ইলমে গায়েব হল “আল্লাহ প্রদত্ব ইলম”। দেখুন শয়তানের প্রতি মোহাব্বতের আতিশয্যে উক্ত শব্দও জোরে দিল অবশেষে।

শয়তান ও খোদাপ্রদত্ব ইলমে গায়েব

“যখন শয়তানকে ইলমে গায়েব প্রদত্ব করা হল, তখন মকবুল বান্দাদের জন্য এটা প্রদত্ব মানা কিভাবে শিরক হতে পারে?”। {তাফসীরে নাঈমী-৮/৩৩৬}

কোথায় আব্বাস আর কোথায় গাব গাছ?

বেরেলবী রেজাখানীদের এসব বক্তব্য দেখলে মনে হয় যে, রাসূল সাঃ এর ইলমে গায়েব প্রমাণ করা শয়তানের ইলমে গায়েব প্রমাণের উপরই নির্ভরশীল। নাউজুবিল্লাহ।

শয়তানের সাথে মোহাব্বত ও সমর্থনের আরেকটি উদ্ধৃতি দেখুন-

শয়তানের প্রশস্ত জ্ঞান ও ইলমে গায়েব

“আল্লাহ তাআলা শয়তানকে এত প্রশস্ত ইলম এবং শক্তি দান করেছেন যে, সে প্রতারণার পদ্ধতি জানতো, আল্লাহ তাআলা শয়তানকেও ইলমে গায়েব দিয়েছিলেন”। {নূরুল ইরফান-৭৫১}

শয়তানের ইলম কি নবীর ইলম থেকে বেশি?

আহমাদ রেজা খাঁ সাহেব লিখেনঃ

“রাসূল সাঃ এর ইলম অন্যদের থেকে বেশি। ইবলিসের ইলম মাআজাল্লাহ রাসূল সাঃ এর ইলম থেকে কিছুতেই বেশি নয়। {খালেসুল ইতিক্বাদ-৬, মাকতাবায়ে রেজাইয়্যাহ}

আহমাদ রেজা খান সাহেবের উক্ত বক্তব্য দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট যে, শয়তানের ইলম প্রশস্ত। কিন্তু প্রশস্ততর নয়। অর্থাৎ তার চেয়ে বেশি ইলম আছে। তবে খুব বেশি নেই।

শয়তানের মত অভিশপ্তের জন্য “প্রশস্ত ইলম” এবং “খোদা প্রদত্ব ইলম” ও “ইলমে গায়েব” এর দাবিদার বেরেলবী রেজাখানী বেদআতি হযরতদের আক্বিদার নিম্নতা ও বেঈমানীরর চিত্র খেয়াল করুন।

২য় পর্ব

আরও জানুন

কবরে ‘মুনকির নকীর’ কোন সুওয়াল জওয়াব করবে না?

ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস