প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / আমরা কেন ফিরক্বায়ে আহলে হাদীসের বিরোধীতা করি?

আমরা কেন ফিরক্বায়ে আহলে হাদীসের বিরোধীতা করি?

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পৌত্তলিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত এ উপমহাদেশে যেদিন থেকে একমাত্র মুক্তির ও জান্নাতী ধর্ম ইসলাম প্রবেশ করে। তখন থেকেই দ্বীনী মাসায়েলে একতার প্লাটফর্মে ছিল উপমহাদেশের সমস্ত মুসলমান। মসজিদে, ঈদগাহে, জানাযা ও তারাবীহ জামাতে কোন বিবাদ ছিল না। ছিল না মসজিদের মত পবিত্র স্থানে কোন বিভক্তির নোংরা আঁচড়। ধনী দরিদ্র সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আদায় করতো নামায।

কিন্তু ইংরেজরা সেই একতা সইতে পারেনি। তাদের পুরনো থিউরী “ডিবাইট এন্ড রোলস” বাস্তবায়ন করতে শুরু করে কার্যক্রম। রাজনৈতিক সকল মতাদর্শী যেখানে এক কাতারে একতাবদ্ধ হতো সেই মসজিদের একতার কাতারে ফিতনা বিভক্তি ঢুকানোর জন্য শুরু হল ষড়যন্ত্র। সৃষ্টি করল “আহলে হাদীস” নামক একটি সুন্দর নামের আড়ালে বিষধর এক সর্প। যাদের ছোবলে আজ মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে মসজিদে। ছড়িয়ে পড়ছে দ্বন্দ বছরের দু’টি আনন্দের স্থান ঈদগাহ থেকে নিয়ে জীবনের সবচে’ শোকাতুর সময়ের জানাযা নামায পর্যন্ত।

রাসূল সাঃ থেকে নিয়ে সূত্র পরম্পরায় ইসলাম আসার পর থেকে নিয়ে এ উপমহাদেশে যে আমল চলে আসছে সেই আমল ও আকিদার বিপরীত যেসব ভ্রান্ত আকিদার বিজ বপন করে আমাদের একতাকে বিনষ্ট করে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ সৃষ্টি করছে এসব নামধারী আহলে হাদীস/লামাযহাবী/শব্দধারী মুসলিম জামাতের লোকেরা তার একটি ঝলক তাদের কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে নিচে উপস্থাপন করা হল। আশা করি এর দ্বারা সবার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে এ ফিরক্বার মানসিকতা কতটা জঘন্য ও ঈমান বিধ্বংসী।

কথিত আহলে হাদীস নামধারীদের প্রকাশিত বই থেকেই তাদের উম্মতের বিভক্তকারী আকিদা ও আমল ও বিদ্বেষমাখা কথাগুলো হুবহু উদ্ধৃত করা হচ্ছে।

সারা পৃথিবীর মানুষ এই কালিমা পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ ও মুহাম্মদকে দুই ভাই বানিয়ে ফেলেছে। [তথ্যসূত্র-ইসলামের মূলমন্ত্র কালিমা তয়্যেবাহ লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, পৃষ্ঠা-৯, লেখক-আব্দুল্লাহ আল ফারুক বিন আব্দুর রহমান]

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” উচ্চারণ করলে বা লিখলে শিরকী অর্থ প্রকাশ পায়। [প্রাগুক্ত-৬৯]

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সুন্নাত পরিত্যাগ করা ও অপছন্দ করা। [প্রাগুক্ত-২১৭]

“প্রচলিত কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ এর ভুল সংশোধন”। [মাযহাবীদের গুপ্তধন, লেখক, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পৃষ্ঠা-৩৩]

হানাফী মাযহাবের আলেম/ওলামাগণের ইজমা [একমত হওয়া] মান্য করা হলে তারা বিদআত হানাফী মাযহাব পালনকারী জনগণ বিদআতী কাজ করে চলেছেন তাদের পরিণাম জাহান্নাম। {ফিক্বহে ইসলাম বনাম দ্বীন ইসলাম-১৭৯, লেখক-ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমাদ}

কোন নবী বা অন্যকোন সৎ আমলকারীর কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ নেই। {দ্বীন ইসলামের  জানা অজানা, পৃষ্ঠা-১২৭, লেখক-ড. ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ]

হযরত উমর রাঃ এর খেলাফতকালের প্রথম দুই বা তিন বছর কুরআনী তালাকের বাস্তব প্রচলন থাকার পরেও একত্রিত তিন তালাককে তিন তালাক বায়েন গণ্য করার প্রথা চালু হয় মূলতঃ কিছু যুক্তির দোহাই পেড়ে। …… কিন্তু প্রশ্ন হল, আমরা কি [উমর রাঃ এর] যুক্তির অনুসরণ করব? না সুন্নাহর অনুসরন করব? [তালাক ও তাহলীল-৩৮, মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আলগালিব]

“সাহাবীদের কথা প্রমাণযোগ্য নয়”। {ফাতাওয়ায়ে নজীরিয়া-পৃ.১/৩৪০, লেখক মিয়া নজীর হুসাইন দেহলবী]

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ এর শেষ বয়সে স্বৃতি ভ্রম ঘটে। [তাওহীদ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত সহীহুল বুখারী-১/৩৫৭]

‘ফিকাহর পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে না পারলে কোন হানাফী আলেমগণ কুরআন ও সুন্নার ধারে কাছেও যাবেন না। অর্থাৎ তারা কুরআন হাদীস চর্চা করেন না, তাই তাই কুরআন হাদীসৈর জ্ঞান তাদের নেই। ফিকাহ শাস্ত্রে যা পেয়েছেন তা নিয়েই তারা সন্তুষ্ট, কেউ কুরআন হাদীসের কথা বললেই মারমুখো হয়ে আক্রমণ করতে আসে, এটা হল কাফিরদের চরিত্র। [ফিকহে ইসলাম বনাম দ্বীন ইসলাম-২৭, লেখক ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দীন আহমাদ]

‘যারাই আলেমগনের তাকলীদ করবে তারাই মুশরিক হবে। [ তাওহীদী এটম বোম, পৃ.৪৫, লেখক- মাওলানা আব্দুল মান্নান সিরাজনগরী (বগুড়া)]

‘বাবা যদি হানাফী হয়, তাহলে ছেলেও হানাফী হানাফী হয় এবং বাবা যদি মাফিঈ হয় তাহলে ছেলেও শাফিঈ হয়। যে কারণে এইভাবে মাযহাবের অনুসরণ করা শিরক ও কুফর হয়ে গিয়েছে। [আমাদের মাযহাব কি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত?-২২, মুহাম্মদ ইকবাল বিন ফাখরুল]

১০

পাঞ্জাবীকে সুন্নাতী পোশক বলে চালিয়ে দিতে চাইলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা অপবাদ হবে। …….. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিক্ষা করা পছন্দ করতেন না। কিন্তু ভিক্ষুকরা তথাকথিত মৌলভীদের সুন্নাতী পোশাক পাঞ্জাবী ও টুপিকে ভিক্ষাবৃত্তির উপায়/মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে। {দ্বীন ইসলামের জানা অজানা, পৃ-২২৬, লেখক-ড.ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ]

মুসলমানদের মধ্যে টুপি পাগড়ি নিয়েও বিদআতি আকীদা চালু আছে। টুপি, পাগড়ী মাথায় দিলে ভাল লাগে, সুন্দর লাগে; অতএব তা ব্যবহার করুন এবং সব সময়েই ব্যবহার করুন। তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু টুপি, বাগড়ী পড়া সুন্নাতী কাজ মনে করলে কিংবা সওয়াবের আশা করলে তা হবে বিদআত। [প্রাগুক্ত-২২৮]

১১

“যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট এক ইমামের তাকলীদকে ওয়াজিব করে নিবে তাকে তাওবাহ করানো হবে, অন্যথায় হত্যা করতে হবে। [অধ্যাপক ডক্টর রঈসুদ্দীন সম্পাদিত ‘চার মাযহাবের নির্দিষ্ট কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করতে মুসলিম কি বাধ্য?, পৃষ্ঠা, ৪৩, শায়েখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম সম্পাদিত ‘মুসলিম কি চার মাযহাবের কোন একটির অনুসরণে বাধ্য?, পৃষ্ঠা, ৩২]

 ১১

“হানাফী মাযহাবের মাসআলা কাফির হিন্দুদের পঞ্চভ্রাতাদের মাসআলার চাইতেও জঘন্য-ঘৃণ্য। [তাওহীদী এটম বোম,পৃ. ৭৩, লেখক- মাও.আব্দুল মান্নান সিরাজনগরী (বগুড়া), অনুরূপ” আমি কেন মুসলিম হইলাম” সুজাউল হক, ৫-১৭]

১২

“মাযহাবী ভিন্নতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুর্বল অথবা জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে”। [পর্যালোচনা ও চ্যালেঞ্জ, লেখক-আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম, পৃষ্ঠা-৮]

 ১৩

‘জন্মগত সূত্রে ইমাম আবূ হানীফাহ ছিলেন শীআ। সকল মুহাদিদসগণ শীআদেরকে ঘৃণা করত। তাই মুহাদ্দিস যারা শীআ নন তাদের হাদীস তারা গ্রহণ করত না। ইমাম আবূ হানীফাহ তাই মুহাদ্দিসগণের হাদীস গ্রহণ করেননি। আর এজন্য তার হাদীসের জ্ঞান ছিল খুবই নগণ্য। [আব্দুর রউফ রচনাবলী-১, পৃষ্ঠা-৯১]

১৪

“ইমাম আবু হানীফা ও ফিক্বহের প্রতিষ্ঠাতা আবু হানীফা এক নয় কারণ ফিক্বহের উদ্দেশ্য সৎ ছিল না, ফিক্বহের উদ্দেশ্য হলো মানুষের শয়তানী ইচ্ছাকে পূর্ণ করা এবং সরকারী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গের রায়কে বাস্তবায়িত করা।”[মাওলানা আব্দুর রউফ রচনাবলী-১, পৃষ্ঠা-২২৩, লেখক-মাওলানা আব্দুর রউফ, সাবেক আমীর আহলে হাদীস তাবলীগে ইসলাম]

১৫

কথিত মাওলানা আব্দুর রউফ সাহেব তার “ইমাম আবু হানীফা বনাম আবু হানীফা” নামক বইয়ের ২২৯ পৃষ্ঠায় লিখেছে- “ আবু হানীফা বে-ঈমান হয়ে মারা গেছে” , ২৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছে-” ইমাম আবু হানীফা কাফির হয়ে মারা গেছে”, ২৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে- “কুফাতে এ উম্মতের জন্য ক্ষতিকর যত লোক জন্ম নিয়েছে তার মধ্যে আবু হানীফার মত ক্ষতিকর আর কেউ নেই।” ২৩২ পৃষ্ঠায় লিখেছে-” ইসলামের প্রতি আবু হানীফার কোন শ্রদ্ধাই ছিল না।”

১৬

তাবলীগ জামাত শিরক জনিত আক্বীদার জালে আবদ্ধ এক ফেরকা, এদের নিসাবী কিতাব কুরআন ও সহীহ হাদীস পরিপন্থী জাল ও জঈফ হাদীসে ভরপুর। তাবলীগী নিসাবের কিতাবে জাল হাদীস ও কিচ্ছা কাহিনী এবং বিভিন্ন শিরকি কথা ছাড়া আর কিছুই নেই। কুরআন ও সহীহ হাদীসের দু’ একটা কথা থাকলেও সেসবের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। {সহীহ আক্বীদার মানদন্ডে তাবলীগী নিসাব-লেখক মুরাদ বিন আমজাদ}

১৭

“পর্যালোচনা ও চ্যালেঞ্জ” নামে আকরামুজ্জান বিন আব্দুস সালাম বাইতুল মুকাররমের সম্মানিত খতীব উবায়দুল হক রহঃ এর ব্যাপারে চরম বিষোদগার করে।

১৮

নামায তরককারী মুরতাদ। [জামাআতে সালাত ত্যাগকারীর পরিণাম-২৭, লেখক-খলীলুর রহমান বিন ফযলুর রহমান, আত-তাওহীদ প্রকাশনী]

তার মালিকানা ক্ষুন্ন হয়। [প্রাগুক্ত-২৭]

সালাত পরিত্যাগকারী আত্মীয় স্বজনের উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। [প্রাগুক্ত-২৮]

বেনামজীর জন্য মক্কা মদীনার সীমানায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। [প্রাগুক্ত-২৮]

সালাত পরিত্যাগকারীর যাবহকৃত পশুর গোশত ভক্ষণ হারাম। [প্রাগুক্ত-২৯]

মৃত্যুর পর তারা যানাযা পড়া যাবে না। [প্রাগুক্ত-২৯]

সালাত ত্যাগকারীর জন্য মুসলিম মহিলা বিবাহ করা হারাম। [প্রাগুক্ত-৩০]

১৯

‘রমযান মাসে ক্বারীগণের রাত জেগে কুরআন পাঠ করা যা সালফে সালিহীনদের কাজ ছিল না। এটা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর শিক্ষা ছিল না। [মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআন পাঠের সওয়াব পৌঁছে কি?, লেখক-খলীলুর রহমান বিন ফযলুর রহমান-৩৯]

২০

তাবলীগ জামাত শিরক জনিত আক্বীদার জালে আবদ্ধ এক ফেরকা, এদের নিসাবী কিতাব কুরআন ও সহীহ হাদীস পরিপন্থী জাল ও জঈফ হাদীসে ভরপুর। তাবলীগী নিসাবের কিতাবে  জাল হাদীস ও কিচ্ছা কাহিনী এবং বিভিন্ন শিরকি কথা ছাড়া আর কিছুই নেই। কুরআন ও সহীহ হাদীসের দু একটা থাকলেও তা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। {সহীহ আক্বীদার মানদন্ডে তাবলীগী নিসাব-লেখক মুরাদ বিন আমজাদ}

সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা!

এরকম আরো অসংখ্য গালাগাল ও বিষোদগার মাখা হল এসব কথিত আহলে হাদীসদের বই ও লেকচার। রাসূল সাঃ থেকে সূত্র পরম্পরায় নবীর জবানে বলা সেই শ্রেষ্ঠ যুগ থেকে চলে আসা আমলকে বাতিল ও ভ্রান্ত সাব্যস্ত করে, এ উপমহাদেশসহ সারা বিশ্বে হাজার কোটি মুসলমানদের আমল হয় না বলে ফাতওয়া দিয়ে ফিতনা ও বিভক্তি সৃষ্টি করাই হল যাদের মিশন। হাজারো কোটি আলেম উলামা, ফক্বীহ, মুজতাহিদ, মুফতী,মুহাদ্দিস, শাইখুল হাদীসদের কাফির মুশরিক ফাতওয়া দিয়ে সমাজে সৃষ্টি করছে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি। ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভক্তির বিষবাষ্প।

মসজিদে, ঈদগাহে, তারাবীহ জামাতে,সর্বত্র ফিতনা সৃষ্টিকারী, বিবাদ সৃষ্টিকারী এ ভয়ানক জামাত থেকে সতর্ক থাকা সকল মুসলমানদের জন্য জরুরী। তাদের দৃঢ় হাতে প্রতিহত করা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। তাই আসুন শক্ত হাতে দমন করি এ ফিতনাবাজ দলকে। বয়কট করি তাদের সামাজিকভাবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এ ফিতনা সৃষ্টিকারী জামাতের ষড়যন্ত্র থেকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের হিফাযত করুন। আমীন।

 

আরও জানুন

জার্মানীর সিটিজেনশীপের জন্য মুখে মুখে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: মোঃ ওবায়দুল হক বিষয়ঃ মুখে অন্য ধর্ম গ্রহণ প্রশ্নঃ অাস্সালামুঅালাইকুম। প্রিয় মুফতি সাহেব। …