প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা জব্দ করে মাদরাসায় দান করার বিধান

নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা জব্দ করে মাদরাসায় দান করার বিধান

প্রশ্ন

বরাবর
তালিমুল ইসলাম ইনিস্টিটিউট রিসার্স সেন্টার (মুফতি লুৎফুর রহমান হুজুর)
প্রশ্ন:-
সরকার কর্তৃক কিছু নিষিদ্ধ সময় থাকে, যখন জেলেদের জন্য নদী/সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধ৷ তারপরেও কিছু সংখ্যক জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরে৷ সরকারী বাহীনির কাছে ধরা পরলে,বাহীনির লোকেরা মাছগুলো জব্দ করে নেয়৷ এবং সাথে সাথে জেল-জরিমানা ইত্যাদি শাস্তি দেওয়া হয়৷

পরবর্তিতে জব্দকৃত মাছগুলো ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে কওমী মাদ্রাসায় অর্থাৎ মাদ্রাসার সদকা ফান্ডে দিয়ে দেয়৷ এখন জানার বিষয় হল,
ক. সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের এধরনের কর্মকান্ডের জন্য শাস্তি হিসেবে তাদের মাছগুলো জব্দ করা ও জেল-জরিমানা ইত্যাদি বিষয়ক রাষ্ট্রীয় আইন কি? এবং ইসলাম এধরনের শাস্তির ক্ষেত্রে কি বলে?
খ. জব্দ করার পর মাছগুলো রাষ্ট্রের কোন খাতে ব্যয় হবে৷ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন কি? এবং উক্ত মাছগুলোর ব্যয়ের খাত সর্ম্পকে ইসলাম কি বলে?
গ. মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উক্ত মাছগুলো সদকা ফান্ড অথবা গরিব ছাত্রদের জন্য গ্রহণ করতে পারবে কি না??
দলিলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন৷
নিবেদক
মুহা.মাছুম বিল্লাহ,হটহাজারী, চট্টগ্রাম

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

রাষ্ট্রীয় আইন

মৎস সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ১১ নং ধারায় আসছে যে,

(ক)     প্রথমবার আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি হবে কমপক্ষে ১ মাস হতে সর্বোচ্চ ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড    এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ১,০০০/- টাকা জরিমানা ।

(খ)     পরবর্তীতে প্রতিবার আইন ভঙ্গের জন্য কমপক্ষে ২ মাস হতে সর্বোচ্চ ১

বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ২,০০০/- টাকা জরিমানা ।

মৎস হ্যাচারি আইন ২০১০ এর ১১ নং ধারার ৪ নং উপধারা হিসেবে আইন হল, জব্দকৃত মাছ কর্তৃপক্ষ তা ধ্বংস বা, ক্ষেত্রমত, নিলামে বিক্রয় করিতে পারবে। তারপর তা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে।

শরয়ী বিধান

রাষ্ট্রীয় সকল জনকল্যাণ আইন মান্য করা আবশ্যক। সেই হিসেবে তা অমান্য করা অবশ্যই অপরাধ।

সেই  হিসেবে রাষ্ট্রীয় আইন মেনে নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে।

জনগণের প্রয়োজনে এভাবে ক্রয়বিক্রয় বন্ধ ও চালুর ঘোষণা দেবার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। এভাবে নিষিদ্ধ বিষয় ক্রোক করাও ইসলামী শরীয়তে জায়েজ রয়েছে।

জব্দকৃত সম্পদ রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র বা জনগণের কল্যাণী কাজে ব্যয় করতে পারে।

সেই হিসেবে মাদরাসায় দান করাও সম্পূর্ণরূপে জায়েজ।

তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা গ্রহণ করাতে শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই।


لوا ينبغى للسلطان أن يسعر على الناس لقوله عليه السلام “لا تسعروا فإن الله هو المسعر القابض الباسط الرزاق” ولا، الثمن حق العاقد فاليه تقديره فلا ينبغى للامام أن يتعرض لحقه الا اذا تعلق به دفع ضرر العامة (الهداية-4/472)

وكذا فى البدائع-5/129، وفى رد المحتار-6/399، سعيد)

كل من يسكن دولة فانه يلتزم قولا أو عملا بأنه يتبع قوانينها وحينئذ يجب عليه اتباع أحكامها الخ (بحوث فى قضايا فقهية معاصرة-166

ومن هنا صرح الفقهاء: بأن طاعة الإمام فيما ليس بمعصية واجبة… هذه الطاعة كما أنها مشروطة بكون أمر الحاكم غير معصية، فإنها مشروطة أيضا، بكون الأمر صادرا عن مصلحة لا عن هوى، أو ظلم لأن الحاكم لا يطاع لذاته وإنما يطاع من حيث أنه متول لمصالح العامة (تكملة فتح الملهم، باب واجب طاعة الأمراء-3/323-324)


قال الفقيه ابو الليث: اختلف الناس فى أخذ الجائزة من السلطان، قال بعضهم: يجوز مالم يعلم أنه يعطيه من حرام، قال محمد: وبه نأخذ مالم نعرف شيئا حراما لعينه (هندية، قديم-5/342، جديد-5/396)

إن عمر بن الخطاب كان يعطيهم العطاء ولا يزكيه (مصنف ابن ابى شيبة-6/528، رقم-10569)

غالب مال المهدى إن كان حلالا، لا بأس بقبول هديته وأكل ماله مالم يتبين أنه من حرام (مجمع الأنهر-4/186، بزازية على هامش الهندية-6/360، جديد-3/203، قاضي خان على هامش الهندية-3/400، جديد-3/289

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি?

প্রশ্নঃ সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم চুল কাটার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *