প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / ‘আহলে বাইত’ সম্পর্কে জানতে চাই

‘আহলে বাইত’ সম্পর্কে জানতে চাই

প্রশ্ন

Assalamuwalaikum Wa Rahmatullahi Wa Barkatuhu

Ahle Bayat Somporke Jante Chai Bekkha Soho. Ey Bepare Amader Upore Ki Hukum Achey?

Name : Mohammed Saiful Islam

Country : Bangladesh

Jazakallhul Khair……..

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আহলে বাইত হলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরের সদস্যবৃন্দ। আহল মানে বাসিন্দা আর বাইত মানে হল, ঘর। সেই হিসেবে আহলে বাইত বলতে নবীজীর ঘরের প্রতিটি সদস্যই ‘আহলে বাইত’।

কুরআনের আয়াতে কারীমায় ‘আহলে বাইত’ বলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘স্ত্রীগণ’ কে আহলে বাইত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে ‘আহলে বাইত’ শব্দটি দুইবার এসেছে। প্রথমবার এসেছে কুরআনে কারীমের ১১তম সূরা হুদে হযরত ইবরামীম আঃ এর আলোচনায়। কুরআনের ভাষ্য-

وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا سَلَامًا قَالَ سَلَامٌ فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ (69) فَلَمَّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمِ لُوطٍ (70) وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ (71) قَالَتْ يَا وَيْلَتَى أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَذَا بَعْلِي شَيْخًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ (72) قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (73

আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন-সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন!, কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত  প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল-ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও। সে বলল-কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা। তারা বলল-তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে আহলে বাইত তথা গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়। {সূরা হুদ-৬৯-৭৩}

উপরোক্ত আয়াতে হযরত ইবরাহীম আঃ এর স্ত্রী হযরত সারা আঃ  বিস্ময়বোধ করায় ফেরেস্তাগণ আহলে বাইত বলে সম্বোধন করে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

তাহলে কী দাঁড়াল? আল্লাহ তাআলার কুরআনের ভাষায় ‘আহলে বাইত’ হলেন মূলত স্ত্রীগণ।

তারপর কুরআনে কারীমের ৩৩তম সূরা আহযাবে আবার রাসূল সাঃ এর স্ত্রীগণকে আহলে বাইত সম্বোধন করা হয়েছে। দেখুন-

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (33

হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। {সূরা আহযাব-৩২,৩৩}

এ আয়াতে কারীমায় নবীজীর স্ত্রীগণের আলোচনায় তাদেরকে কতিপয় উপদেশ প্রদান করে আল্লাহ তাআলা, অবশেষে তা মানার হিকমত বলা হয়েছে তাদেরকে ‘আহলে বাইত’ সম্বোধন করে।

কুরআনে কেবল এ দু’টি স্থানেই ‘আহলে বাইত’ শব্দ এসেছে। যে উভয় স্থানে আল্লাহ পাক আহলে বাইত বলে স্ত্রীগণকেই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। সন্তান নয়। তবে আহলে বাইতের মাঝে সন্তানও প্রবেশ করে তবে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমেই নয়। প্রথমতঃ আহলে বাইত বলার দ্বারা স্ত্রীই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

কুরআনে কারীমে যেহেতু রাসূল সাঃ এর স্ত্রীগণকে ‘আহলে বাইত’ বলে সম্বোধন করেছে। রাসূল সাঃ এর স্ত্রীগণ রাসূল সাঃ এর আহলে বাইত একথা জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সন্তান সন্তুতিদের আহলে বাইত বলেনি। তখন হয়তো কারো ধারণা হতে পারে যে, রাসূল সাঃ এর সন্তানগণ আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত নয়।

এ কারণে যখন উক্ত আয়াতে কারীমা নাজিল হয়, তখন রাসূল সাঃ হযরত উম্মে সালমা রাঃ এর গৃহে ছিলেন। তখন মানুষের এ গলদ ধারণা দূর করার জন্য নিজের চাদরের নিচে হযরত ফাতিমা রাঃ, হযরত হাসান রাঃ, হযরত হুসাইন রাঃ এবং হযরত আলী রাঃ কে নিয়ে বললেন, এরাও আমার আহলে বাইত। তাদের থেকেও আল্লাহ তাআলা অপবিত্রতা দূর করে পরিপূর্ণ পুত-পবিত্র করতে চান। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৪২৪}

সহীহ মুসলিমে নিম্নোক্ত শব্দে উক্ত বর্ণনা এসেছে-

قَالَتْ عَائِشَةُ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ، مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ، فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ، ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ، ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا، ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَدْخَلَهُ، ثُمَّ قَالَ {إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} [الأحزاب: 33

সুতরাং কী বুঝা গেল?

রাসূল সাঃ এর আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত নবীজী সাঃ এর ‘স্ত্রীগণ’ একথা পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত।

আর রাসূল সাঃ এর সন্তান ও হযরত আলী রাঃ আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত একথা প্রমাণিত রাসূল সাঃ এর হাদীস দ্বারা।

এ কারণেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বিদা হল, রাসূল সাঃ এর আহলে বাইত রাসূল সাঃ এর সম্মানিতা স্ত্রীগণ এবং রাসূল সাঃ এর সন্তান ফাতিমা রাঃ, হযরত হাসান রাঃ, হযরত হুসাইন রাঃ এবং হযরত আলী রাঃ প্রমুখ।

আমাদের কাছে রাসূল সাঃ এর ঘরে থাকা সবাই আহলে বাইত।

আমাদের কাছে যেহেতু কুরআনও দলীল আবার হাদীসও দলীল। তাই আমরা কুরআন মেনে নবীজীর স্ত্রীগণকে ‘আহলে বাইত’ বিশ্বাস করি।

আর হাদীস অনুসরণ করে নবীজীর সন্তান সন্তুতি এবং হযরত আলী রাঃ কে ‘আহলে বাইত’ মানি।

আর শিয়া ধর্মাবলম্বীরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের স্ত্রীগণকে ‘আহলে বাইত’ এর অন্তর্ভূক্ত হওয়া অস্বিকার করে কুরআনের আয়াতকে অস্বিকার করছে।

আমাদের করণীয়

আহলে বাইত বিষয়ে আমাদের উপর দায়িত্ব হল। তাদের মোহাব্বত করা। তাদের ভালোবাসা। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা। তাদের কারো সমালোচনা না করা।

আহলে বাইত সম্পর্কে আরো জানতে হলে ক্লিক করুন!

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি?

প্রশ্নঃ সেলুনে চুল কাটার পর গোসল ফরজ কি? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم চুল কাটার …

2 comments

  1. আলহামদুলিল্লাহ,
    অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা, দেখলাম ভালো লাগলো, আপনাদের এ লেখাগুলি কি আমি আমার সাইটে পাবলিশ করতে পারবো? অনুমতি দিলে পাবলিশ করবো।
    ধন্যবাদ
    মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম।

    • আহলে হক মিডিয়া

      সূত্র উল্লেখ করে প্রকাশ করাতে কোন সমস্যা নেই। জাযাকাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *