প্রশ্ন
আসসালামু -আলাইকুম।
আমার প্রশ্ন দু’টি আমার বাবা গত ১৬-০৫-১৮ তে ইন্তেকাল করেছেন।
তিনি এক লোককে ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ৫০,০০০|= টাকা লোন নিয়ে দেন। এতে বর্তমানে সুধসহ ৬৩,০০০|= টাকা ঋণ হয়।
ঐ লোক টাকা পরিশোধ করেননি তাই পূর্ণ টাকা ব্যংকে দেওয়া হয়নি। একবার আমার দুলাভাইয়ের জাকাতের কিছু টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচও করে যা পরবর্তীতে দেওয়া হয়নি।
এখন আমার প্রশ্ন হলো-
ক. ব্যাংকের ঐটাকার জন্য কি উনি গুনাহগার হবেন? যেহেতু অন্যকে সাহায্য করেছেন। আর সেটাকা কি এখন সুধসহ পরিশোধ করবে?
খ. জাকাতের টাকার ক্ষেত্রে এখন শরীয়তের হুকুম কি? কিভাবে আদায় করলে উনি দায় মুক্ত হবেন?
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সুদ দেয়া, নেয়া এবং সাহায্য করা সবই গোনাহের কাজ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন, সুদ গ্রহীতার উপর, সুদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান। [সহীহ মুসলিম-২/২৭, হাদীস নং-১৫৯৮, ইফাবা-৩৯৪৮, সুনানে তিরমিজী-১/২২৯, হাদীস নং-১২০৬]
সুতরাং আপনার বাবার জন্য এভাবে সুদভিত্তিক ঋণ পাইয়ে দেয়া তার জন্য জায়েজ ছিল না। গোনাহের কাজ করেছেন। তিনি তওবা করে মারা গেলে আশা করি রব্বে কারীম ক্ষমা করে দিবেন।
ব্যাংকের টাকা মূলত যার জন্য ঋণ নেয়া হয়েছে, তার আদায় করা আবশ্যক। আপনার বাবার উপর আবশ্যক ছিল না।
তবে ব্যাংকে যদি এ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে যে, ঋণগ্রহিতা না দেয়, তাহলে আপনার বাবা পরিশোধ করবেন। তাহলে আপনার বাবার উপরই এর ঋণ বর্তায়।
সেই হিসেবে আপনাদেরই সেটি আদায় করতে হবে।
যাকাতের টাকা খরচ করে ফেলা গোনাহের কাজ। উপরোক্ত টাকার যাকাত আদায় হয়নি।
এখন বিষয়টি আপনার দুলাভাইকে জানাতে হবে। তিনি যদি বলেন এখন আপনার বাবার রেখে যাওয়া মাল থেকে আদায় করতে, তাহলে আদায় করলে আপনার বাবা দায়মুক্ত হবেন।
অথবা যদি আপনার দুলাভাই বলেন, আমি মাফ করে দিলাম। তাহলেও আপনার বাবা দায়মুক্ত হবেন ইনশাআল্লাহ।
তবে উক্ত টাকা পরিমাণ যাকাতের টাকা আপনার দুলাভাইয়ের যাকাতের নিয়তে দান করতে হবে।
وأما المحتال عليه فلأنه يلزمه الدين (هداية، كتاب الحوالة، اشرفى-3/129)
ولو أحل المحال عليه المحتال على آخر جاز وبرئ الأول والمال على الآخر (رد المحتار، زكريا-8/7، كرتاشى-5/342)
قال أبو قتادة، صل عليه يا رسول الله وعلى دينه (صحيح البخارى، النسخة الهندية-1/305، رقم-2289)
ولو تصدق أى الوكيل بدفع الزكاة….. إذا أمسك دراهم الموكل ودفع من ماله ليرجع ببدلها فى دراهم الموكل صح، بخلاف ما إذا أنفقها أولا على نفسه مثلا، ثم دفع من ماله فهو متبرع (رد المحتار، زكريا-3/189، كرتاشى-2/369)
وفى العيون رجل دفع إلى رجل عشرة دراهم ليتصدق بها فأنفق بها على نفسه وتصدق بعشرة من مال نفسه عن الآمر لم يجز وفى الخانية: ويكون ضامنا للعشرة ولو كانت الدراهم عنده قائمة فلم يتصدق بها، وتصدق بغيرها جاز استحسانا، وفى الخانية: ويكون العشرة له بعشرته (الفتاوى التاتارخانية-12/312، رقم-17593، الفتاوى الهندية-3/644)
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
ইমেইল– [email protected]
আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস Ahle Haq Media
