প্রশ্নঃ
কোন অমুসলিম ভাই বা বোনকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে কি কোনো দায়বদ্ধতা আছে? দ্বীনে ইলম গ্রহণ এবং দ্বীনী ইলম দান সম্পর্কে কোন দায়বদ্ধতা আছে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা জানতে চাচ্ছি
Suraiya Suborna [email protected]
উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما
অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করা অত্যন্ত মহৎ ও বরকতময় কাজ। এর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, প্রায় সব নবী আলাইহিমুস সালামই এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমান যুগে মুসলমানদের দ্বীন থেকে দূরত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে মুসলমান ও অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বরং মুসলমানদের সামাজিক ও লেনদেনমূলক জীবনধারাই নতুন জাতিগোষ্ঠীর জন্য ইসলাম গ্রহণের পথে একটি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ কারণেই বর্তমান সময়ে মুসলমানদেরকে পুনরায় দীনের পথে নিয়ে আসার জন্য পরিশ্রম করাও এক মহান দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নবী ও সাহাবায়ে কিরামের সীরাত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁরা তাঁদের সময়ে উভয় শ্রেণির—মুসলমান ও অমুসলিম—উপরই দাওয়াতি পরিশ্রম করেছেন।
দ্বীনি কার্যাবলির ক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ব বা বিভাজন সৃষ্টি করা সঠিক নয়। আর বর্তমান সময়ে মুসলমানদের দীনের প্রতি উদাসীনতা থাকা সত্ত্বেও, যদি কিছু লোক যোগ্য ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে অমুসলিমদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এটিও গ্রহণযোগ্য ও বৈধ।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বীনের তাবলিগ প্রত্যেক যুগেই ফরজ; বর্তমান যুগেও তা ফরজ। তবে এটি ফরজে কিফায়া। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, সেখানে তার গুরুত্বও ততটুকুই হবে। আর যার মধ্যে যতটুকু যোগ্যতা রয়েছে, তার ওপর দায়িত্বও ততটুকুই বর্তায়।
আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের বিষয়টি কুরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় মা‘রূফ হলো ঈমান, আর সবচেয়ে বড় মুনকার হলো কুফর। প্রত্যেক মুমিন তার নিজ নিজ সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী এ বিষয়ে দায়বদ্ধ যে, আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত দ্বীনকে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর নির্দেশনা ও পদ্ধতি অনুসারে মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে থাকবে।”
(ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, কিতাবুল ইলম, বাবুত তাবলিগ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৩, প্রকাশনা: ফারুকিয়া)
শরঈ দলীলঃ
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلًا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ» ، قَالَ: فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلُّهُمْ يَرْجُو أَنْ يُعْطَاهَا، فَقَالَ: «أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ» . فَقَالُوا: يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَأَرْسِلُوا إِلَيْهِ فَأْتُونِي بِهِ» . فَلَمَّا جَاءَ بَصَقَ فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ، فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ، فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا؟ فَقَالَ: «انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ، وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيهِ، فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا، خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ»
সাহল ইবনে সা‘দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করলেন যে, কাকে ঐ পতাকা দেয়া হবে। যখন সকাল হল তখন সকলেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট গিয়ে হাযির হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা পোষণ করছিলেন যে, পতাকা তাকে দেয়া হবে। তারপর তিনি বললেন, আলী ইবনে আবু তালিব কোথায়? তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, কাউকে পাঠিয়ে তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস।যখন তিনি এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দু’চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দুআও করলেন।
এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাঁর চোখে কোন রোগই ছিলনা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে পতাকাটি দিলেন। আলী (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সাথে দুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বললেন, তুমি সোজা অগ্রসর হতে থাক এবং তাদের আঙ্গিনায় উপনীত হয়ে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দাও। তাদের উপর আল্লাহর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তাবে তাও তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম, তোমাদের দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়াত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙ্গের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।
সহীহুল বুখারী, হাদীস নং: ৩৪৩৬
أحكام القرآن ـ للجصاص (2 / 315):
“قال اللّه تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} قال أبو بكر: قد حوت هذه الآية معنيين: أحدهما: وجوب الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر، و الآخر أنه فرض على الكفاية ليس بفرض على كل أحد في نفسه إذا قام به غيره؛ لقوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ} وحقيقته تقتضي البعض دون البعض، فدلّ على أنه فرض على الكفاية إذا قام به بعضهم سقط عن الباقين، و من الناس من يقول: هو فرض على كل أحد في نفسه، و يجعل مخرج الكلام مخرج الخصوص في قوله: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ} مجازًا كقوله تعالى: {لِيَغْفِرَ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ} ومعناه ذنوبكم، و الذي يدل على صحة هذا القول أنه إذا قام به بعضهم سقط عن الباقين كالجهاد و غسل الموتى و تكفينهم و الصلاة عليهم و دفنهم، و لو لا أنه فرض على الكفاية لما سقط عن الآخرين بقيام بعضهم به.”
والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।
সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস Ahle Haq Media
