প্রচ্ছদ / চিকিৎসা/তদবীর / কুরআনের আয়াত সম্বলিত তাবীজ কি নাজায়েজ?

কুরআনের আয়াত সম্বলিত তাবীজ কি নাজায়েজ?

প্রশ্ন

আছসালামু ওয়াইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ্

প্রিয় মুফতি সাহেব,
আপনার দীর্ঘ আয়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আল্লাহ্ রাব্বুল-আলামিন আমাদের দ্বীনের খেদমত কবুল করুন।

আমার প্রশ্ন হলো,
আমি কিছু লোককে দেখেছি তাঁরা কুরআনের সূরা নকশা লিখে তা তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করে অনেক মানুষের চিকিৎসা করে থাকে।

এটি জাযেয় আছে কি?

এবং কুরআন এর সূরা নকশা করার পদ্ধতি রাসূল (স) এর যুগে ছিলো কি না?

রাসূল (স) এর যুগে এটি না থাকলে কে এই পদ্ধতি বের করেন?

উত্তর গুলো পেলে অনেক উপকৃত হবো। আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআনের আয়াত বা হাদীসে বর্ণিত দুআ সম্বলিত তাবীজ উসীলা হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ আছে।

যেমন অসুস্থ্যতার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা উসীলা হিসেবে জায়েজ আছে।

যেমন ওষুধ সুস্থ্য করে দিবে এ আকীদা কুফরী, তেমনি তাবীজই সুস্থ্য করে দিবে এ আকীদা রাখাও কুফরী।

তবে ওষুধ কেবল উসীলা বিশ্বাস করে ব্যবহার যেমন যেমন জায়েজ, তেমনি জায়েজ তাবীজ ব্যবহারও জায়েজ।

সাহাবায়ে কেরামগণ থেকেই হাদীসে বর্ণিত দুআ তাবীজ হিসেবে ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়। সুতরাং এটাকে নব আবিস্কার বলার সুযোগ নেই।

 

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেনঃ (অর্থ) ‘‘আল্লাহর পূর্ণ কালেমাসমূহের দ্বারা তাঁর গযব ও তাঁর বান্দাদের খারাবী ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তার উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি।’’ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এ বাক্যগুলো তার বালেগ সন্তানদের শিখাতেন এবং নাবালেগদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৩]

لاب بأس بالمعاوذات إذا كتب فيها القرآن أو أسماء الله تعالى (رد المحتار، زكريا-9/523، كرتاشى-6/363)

أجمع العلماء على جواز الرقى عند اجتماع ثلاثة شروط: أن يكون بكلام الله تعالى أو بأسمائه وصفاته وباللسان العربى أو بما يعرف معناه من غيره وأن يعتقد أن الرقية لا تؤثر بذاتها بل بذات الله تعالى (فتح البارى، كتاب الطب، باب الرقى بالقرآن والمعوذات، أشرفية-10/420، دار الفكر بيروت-10/195، تحت رقم الحديث-5735)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

ইতিকাফের কাযা করার সময় কি রোযা রাখা শর্ত?

প্রশ্ন প্রশ্নকারীর নাম: লুৎফর রহমান ঠিকানা: খৈশাইর জেলা/শহর: নারায়ণগঞ্জ দেশ: বাংলাদেশ প্রশ্নের বিষয়: ইতিকাফ বিষয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস