প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / “মুক্ত করে দিলাম, স্বাধীনতা দিলাম, ভালো না লাগলে চলে যেতে পারো” বলার দ্বারা কি তালাক হয়?

“মুক্ত করে দিলাম, স্বাধীনতা দিলাম, ভালো না লাগলে চলে যেতে পারো” বলার দ্বারা কি তালাক হয়?

প্রশ্ন

প্রশ্নকারীর নাম: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা: গাজীপুর

জেলা/শহর: গাজীপুর

দেশ: বাংলাদেশ

প্রশ্নের বিষয়: তালাক প্রসঙ্গে

বিস্তারিত:
—————-
আসসালামু আলাইকুম।
আলমগীর হোসেন
গাজীপুর থেকে
বিষয়: তালাক প্রসঙ্গে।

১.আমি বিবাহ করি বিগত  এক বছর পূর্বে।  আমি চাকরির সুবাদে দুরে থাকি। আর আমার স্ত্রী বাড়িতে থাকে। প্রতি মাসে দুইবার অথবা তিনবার আমি বাড়ি যাই। বিবাহের পর থেকেই  টুকিটাকি বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে অনেক সময় আমার কথা কাটাকাটি হয়। গত দুইমাস আগে আমার স্ত্রী আমার অনুমতি ব্যতীত অন্য একটা ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে। বিষয়টা আমি জানতে পেরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি। এক কথা দুই কথায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে আমি তাকে বলি যে, আচ্ছা ঠিক আছে তোমার যা ইচ্ছে তুমি তাই করো। আমি তোমাকে আর কিছু বলব না। তোমাকে আমি মুক্ত করে দিলাম। তোমাকে স্বাধীনতা দিলাম।৷ ( মুক্ত করে দিলাম কথাটা আমি একবার বলেছি। কিন্তু স্বাধীনতা দিলাম কথাটা দুইবার অথবা তিনবার বলেছি)। (তবে এইদিন ঝগড়া করার সময় মুক্ত করে দিলাম কথাটা কি আমি বলেছিলাম কিনা এটা আমার স্পষ্ট মনে নেই। কিন্তু আমার স্ত্রী বলেছে আমি নাকি তাকে এই  কথা বলেছি। তাই আমার স্ত্রী যেভাবে বর্ণনা দিয়েছে আমি সেভাবেই লিখেছি। তবে  এই কথাগুলো যদি আমি বলেও থাকি, তালাক দেওয়ার নিয়তে বলি নাই। কারণ এই শব্দ উচ্চারণ করার দ্বারায় যে তালাক হয়, তা আমার জানাই ছিলো না। আর না জানার কারণেই এসব কথা বলার পরেও আমি তার সাথে সংসার করেই যাচ্ছি।

২.পরবর্তীতে গত এক সপ্তাহ আগে একটা বিষয় নিয়ে (আমার  স্ত্রী এবং আমি) আমাদের দুজনের মাঝে আবার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ( কথা হচ্ছিল ফোনে ) তখন রাত প্রায় ১১ টা বাজে। সে আমাকে এমন একটা কথা বলে,  যে কথায় আমি অনেক কষ্ট পাই। পরে ফোন কেটে দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে যাই। সকালেও তার সাথে কোনো কথা হয় নাই। দুপুর ১২ টায় আমি তার ফোনে একটা মেসেজ পাঠাই। মেসজে লিখেছি যে, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমার সাথে সংসার করাটা আমার আর হবেনা। এই মেসেজ দেখে সে আমাকে ফোন দেয় এবং আমার কাছে ক্ষমা চায়। বলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। কিন্তু আমি তাকে বলি যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবেনা। তোমার যা ইচ্ছে তুমি তাই করো, আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম। এখন থেকে তুমি স্বাধীন ভাবে চলতে পারো। ( এইদিন এই কথাগুলো একবারই বলেছি ) কিন্তু এই কথাগুলো শুধুমাত্র কষ্ট পেয়ে বলেছি এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য। তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে না। এছাড়াও আমি তাকে অনেকবার বলেছি যে, তোমার যদি আমাকে ভালো না লাগে তাহলে তুমি চলে যেতে পারো। আর এসব কথার দ্বারায় যে তালাক হতে পারে তাও আমি জানতাম না। আমি জানতাম শুধু  তালাক শব্দ মুখে উচ্চারণ করার দ্বারায় কেবল তালাক হয়। তালাক দেওয়ার যদি ইচ্ছে বা নিয়ত থাকতো, তাহলে তো আমি এই সব্দ ব্যবহার না করে সরাসরি তালাক বলে দিতাম।
সম্মানিত মুফতি সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হচ্ছে উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমার স্ত্রীর উপর কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে? যদি তালাক পতিত হয়ে থাকে তাহলে কয় তালাক পতিত হয়েছে? এবং এখন আমাদের করণীয় কি?
উক্ত বিষয়ের সঠিক মাসালাটা জানিয়ে বাধিত করবেন। কারণ আমি সারাজীবন গুনাহের বুঝা নিয়ে জীবন যাপন করতে চাইনা। আমি গুনাহ থেকে বাচতে চাই। দয়াকরে একটু তাড়াতাড়ি জানাবেন। কারণ এটা নিয়ে অনেক পেরেশানিতে আছি।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

“মুক্ত করে দিলাম, স্বাধীনতা দিলাম, ভালো না লাগলে চলে যেতে পারো” ইত্যাদি শব্দাবলী তালাক বিষয়ক ছরীহ শব্দ নয়। বরং কেনায়ী শব্দ।

আর কেনায়ী শব্দের বিধান হলো, যদি তালাকের নিয়তে উচ্চারণ করা হয়, তাহলেই কেবল তা তালাক হিসেবে গণ্য হয়।

যেহেতু আপনার বক্তব্য অনুপাতে উপরোক্ত শব্দাবলী তালাকের নিয়তে বলেননি, তাই এর দ্বারা কোন প্রকার তালাক পতিত হয়নি।

তাই পেরেশান হবার কিছু নেই।

তবে যদি আপনার এলাকায় উপরোক্ত শব্দ তালাকের জন্যই ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যেমন আমাদের দেশে ‘ছেড়ে দিলাম’ শব্দটি স্ত্রীর বিষয়ে তালাকের জন্যই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমন হলে উপরোক্ত ‘মুক্ত করে দিলাম এবং স্বাধীনতা দিলাম’ শব্দটি তিনবার বলার দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাকই পতিত হয়ে গেছে।

এখন আর আপনারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে বাকি নেই। পৃথক থাকা আবশ্যক।

 

وَلَا شَيْءَ مِنْ الْكِنَايَةِ يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ بِلَا نِيَّةٍ أَوْ دَلَالَةِ الْحَالِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الْبَدَائِعِ، …………. ‌فَإِنَّ ‌سَرَّحْتُك ‌كِنَايَةٌ لَكِنَّهُ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ غَلَبَ اسْتِعْمَالُهُ فِي الصَّرِيحِ فَإِذَا قَالَ ” رهاكردم ” أَيْ سَرَّحْتُك يَقَعُ بِهِ الرَّجْعِيُّ مَعَ أَنَّ أَصْلَهُ كِنَايَةٌ أَيْضًا، وَمَا ذَاكَ إلَّا لِأَنَّهُ غَلَبَ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ اسْتِعْمَالُهُ فِي الطَّلَاقِ (رد المحتار-زكريا-4\530، كرتاشى-3/299)

 وفى الذخيرة: قال القدورى: ليست المغايرة بين العربية والفارسية من وجه آخر فقال: لو قال فى حال مذاكرة الطلاق بالعربية “خليتك” أنه يكون طلاقا ويتعين بدلالة الحال، ولو قال بالفارسية فى حال مذاكرة الطلاق أو فى حالة الغضب “بهشتم” لم يقع شيء حتى ينوى، وفى الحاوى: ولو قال عنيت بذلك الترك لها بالخروج يدين ديانة، ولا يدين قضاء، وقال محمد، ولو قال “هشتم” فى جواب “طلقنى” أو فى حالة الغضب فهى طالق، وإن لم يوجد ذلك لا يقع الطلاق مالم ينو به (الفتاوى التاتارخانية،كتاب الطلاق،الفصل الخامس في الكنايات،4/464،رقم-6680)

 

مثل اذهبى فيحتاج إلى النية……… وإن نوى فهى واحدة بائنة (رد المحتار، زكريا-4/551، كرتاشى-3/314)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস