প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘তুই তিন তালাক’ বললে কি স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে যায়?

স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘তুই তিন তালাক’ বললে কি স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে যায়?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম

বরাবর

জনাব মুফতী সাহেব।

(জরুরি ভাবে দয়া করে এই ফতোয়াটির সমাধান দিবেন)  প্লিজ প্লিজ প্লিজ সমাধান দিন হযরত।।

প্রশ্নঃ এক মহিলার স্বামীর সাথে বনিবনা হতোনা, স্বামী বৃদ্ধ ( স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর বয়স দ্বিগুণ ) ও বদমেজাজি, ঝগড়াঝাটি, গালিগালাজ করতো এবং স্ত্রীর শারীরিক হক আদায় করতোনা (অক্ষম)। ১৫ মাসের মধ্যে ১৪ মাস স্বামী স্ত্রীকে ছুঁয়েও দেখেনি,,,তাই স্ত্রী কোন মতে ১৫ মাস সংসার করে বাবার বাড়ি চলে আসে।  ৪/৫ মাস বাবার বাড়ি থাকার পর  তার পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ডিভোর্সের। সে মতে স্ত্রী স্বামীর কাছে ফোন করে তালাক চায় কিন্তু স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক দিতে রাজি হয়না বরং গালিগালাজ করে।

স্ত্রী তালাক চেয়ে তিন দিন কল করেছিল স্বামীর নিকট। আর সেই কল তিনটা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছে স্ত্রী।

তার মধ্যে একদিনের কলের কথা ছিল এমন:–

———————————

১) স্ত্রীঃ আপনি আমাকে তালাক দেন?

স্বামীঃ গালিগালাজ করে…!

২) একপর্যায়ে স্ত্রী বললোঃ আমি কি তিন তালাক গ্রহণ করতাম?

তখন স্বামী গালি দিয়ে বলে, তুই কোর্টে যা।

৩) স্ত্রী আবার বললো, আমি কি তিন তালাক গ্রহণ করতাম?

স্বামী বলে, আরে কোর্টে দিবি তো মা*গীর ঝি, মা*গী!

৪) তখন স্ত্রী বলে, কোর্টে তো আপনি যাইবেন।

স্বামী গালমন্দ করে বলে, আমি কি জন্য যাইতাম……

৫) এরপর স্ত্রী বলে যে, আমি মাদরাসায় গিয়ে (কোন হুজুরের মাধ্যমে) তিন তালাক গ্রহণ করমু, আপনি কি রাজি?

তখন স্বামী গালি দিয়ে বলে, তুই ৩ তালাক। ১২ তা. তুই যায়া কোর্টে  কর গিয়ে, (কালই কর অথবা দাখিল কর। মাঝখানের এটুকু কথা অস্পষ্ট তাই বুঝা যাচ্ছে না) কইরা পাঠাইয়া দে। আমারে বলোস কেন।

৬) স্ত্রী আবার বলে, আমি মাদরাসায় গিয়ে (কোন হুজুরের মাধ্যমে) তিন তালাক গ্রহণ করতাম?

স্বামী গালি দিয়ে বলে, মাদরাসায় হবে না, কোর্টে যাইতে হবে। এরপর আরো গালিগালাজ করে রেখে দেয়!

এই কথাবার্তার মধ্যে স্ত্রীকে ও তার বাবা-মা এবং মাদরাসা নিয়ে  অকথ্য ভাষায় সে গালমন্দ করেছে!!!

( এসব কথাবার্তার পর আড়াই বছর পর্যন্ত সে স্ত্রীর কোন খোঁজ খবর নেয়নি, আর কোন দেখা সাক্ষাত বা কথাবার্তাও হয়নি। আর তাই স্ত্রীর ধারণা হলো, স্বামী নিজ থেকে কখনো তালাক দিবে না, তাই স্ত্রীকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স করতে বলতেছে। এর কারণ হলো, হয়তো সে ভাবছে, যদি সে নিজে তালাক দেয় তাহলে যদি আমরা আবার কেইস করে বসি কিনা! হয়তো এই ভয় পাইতেছে এবং আমার মোহর বকেয়া দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া লাগবে। হয়তো এইসব চিন্তা করেই আমাকে দিয়েই ডিভোর্স করাতে চাচ্ছে। )

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আড়াই বছর আগের এই কথা বার্তার ভিত্তিতে স্ত্রী কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দিলে হবে কিনা??

যদি হয় তাহলে ডিভোর্স দেওয়ার সহী পদ্ধতি কি হবে?

অথবা স্ত্রী নিজেই নিজের উপর মৌখিক তালাক পতিত করলে হবে কিনা? হলে পদ্ধতিটি জানতে চাই।

৫) নং পয়েন্টের মধ্যে স্বামী বলেছে তুই ৩ তালাক, এতে তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে কিনা?

আশা করি দ্রুত সমাধান দিয়ে বিশেষভাবে উপকৃত করবেন।

জাযাকাল্লাহ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উপরোক্ত কথোকপথনের ৫ নং স্বামীর কথা অনুপাতে স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে স্ত্রী স্বামীর উপর হারাম হয়ে গেছে।

উপরোক্ত তিন তালাক পতিত হবার পর যেহেতু আড়াই বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। তাই ইদ্দতও শেষ হয়ে গেছে।

তাই স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করতে পারবে। শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই।

 

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ سورة [البعرة٢:٢٣٠


وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك (صحيح البخارى-2/792، 2/803)

 

عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك (سنن أبى داود-1/299، رقم-2199، سنن الكبرى للبيهقى، رقم-14720، سنن دار قطنى، رقم-143)

 

عن عائشة رضى الله عنها قاتل: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا طلق الرجل امرأته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره، ويذوق كل واحد منهما عسليلة صاحبه (سنن الدار قطنى، كتاب الطلاق، دار الكتب العلمية-4\21، رقم-3932)

 

وإن كان الطلاق ثلاثا فى الحرة، وثنتين فى الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها، ثم يطلقها، أو يموت عنها (الفتاوى الهندية-1\478، جديد-1\535)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস