প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / ‘তালাক দিবো’ এবং তুমি মুক্ত ইত্যাদি বলা এবং ছয় মাস শারিরীক মেলামেশা ছাড়া থাকলে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?

‘তালাক দিবো’ এবং তুমি মুক্ত ইত্যাদি বলা এবং ছয় মাস শারিরীক মেলামেশা ছাড়া থাকলে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম

আমি একটি আপনার কাছে প্রশ্ন করতে চাই।

১। আমাদের বিবাহ জীবন চার বছর পার হল এর মধ্যে প্রথমের দিকে দুই বছর দুই জনের মধ্যে টুকিটাকি সাংসারিক ঝামেলা ছিল তর্ক বিতর্ক একপর্যায়ে হয়তো আমি ওকে অনেক বার বলেছি তেমাকে তালাক দিব, সংসার করবো না, সংসার করলাম না, কোন সময় তালাক দিয় নাই। একথা গুলো বলার সময় আমার মনে কোন সময় তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল না। সব সময় মনে হইছে তালাক দিলে ওর কি হবে। ওতো অসহায় হয়ে যাবে তালাক হলে মেয়ে মানুষের বেশি সমস্যা হবে সবসময় এই কথা গুলো সব সময় আমার মনে হত।এর মধ্যে আমিও ওকে অনেক বার বলছি তুমি তালাক দেও তার পর একদিন ঝামেলা হলে ও আমাকে রাগের মাথায় এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক দেয়। পরে সে বলে আমি রাগ করে দিয়েছি পরে সে অনুতপতো হয় তওবা করে। আবার অনেক সময় ওর মামা বাড়ী,খালা বাড়ী আমাকে না বলে জাওয়ার কারনে, ও যখন ওদের বাড়িতে থাকতো তখন আমাদের বাড়িতে ফোন দিত না আরও অন্যান কিছু কারনে আমি ওকে বলেছি যে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম, তুমি স্বাধীন,তুমি মুক্ত  তোমার ইচ্ছে মতো চলাফেরা কর মূলত এগুলো ওর চলাফেরার কারনে বলেছি  তালাকের নিয়তে বলিনি ভয় দেখানো নিয়তে বলেছি।এগুলো হয়তো অনেক বার বলেছি।

২। ঝামেলার কারনে বা বিভিন্ন মনোমালিন্যর কারণে আমাদের মধ্যে ছয় মাস শারিরিক মেলা মেশা হয়নি কারন ও থাকতো রংপুর আমি চাকরি করতাম ফেনি এর মধ্যে ছয় মাসের মধ্যে একবার বাড়ি গিয়েছিলাম ওর সাথে আমার দেখাও হয়নাই মেলামেশা হয়নাই।ওকে আনতে আমার বাড়ি থেকে আমার বড় ভাই চাচা আনতে গিয়েছিল ও আসেনাই। কিন্তু মোবাইলে দু-এক  দিন পরপর বা সবসময় স্বামী / স্ত্রী সূলভ কথা হত।

এরপরে দুই পারিবার এক হয়ে আমাদের এক করে দেয় এর পর থেকে আমরা মিলেমিশে আছি। আমরা দুই জনে অনেক অনুতপ্ত হই আগে যা করছি সব ভুল করছি এবং তওবা করছি আর কোন দিন করবো না।

৩। উপরোক্ত বিবরনের কথা গুলোর মাধ্যমে যে তালাক পতিত হবে আমি জানতাম না।

৪। আমার স্ত্রী এখন আট মাসের অন্ত সতা। এখন উপরের বিবরণে আমাদের স্বামী / স্ত্রী তালাক হয়েছে না হয়নি যদি তালাক হয় তাহলে আমাদের কি করনিও

আনাগত সন্তানের কি হবে।

আমরা আবার কিভাবে এক হতে পারবো দয়া করে একটু বিস্তারিত জানাবেন

হুজুর একটু তাড়াতাড়ি জানাবেন খুব পেরেশানির মধ্যে আছি।

লিখে জানাতে না পারলে মোবাইলে জানাবেন  দয়া করে।

 

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উপরোক্ত বিবরণ অনুপাতে আপনার স্ত্রীর উপর কোন প্রকার তালাকই পতিত হয়নি।

সুতরাং পেরেশান হবার কিছু নেই।

 


صيغة المضارع لا يقع بها الطلاق الا اذا غلب فى الحال كما صرح به الكمال بن الهمام (الفتاوى الحامدية، كتاب الطلاق-38، رشيدة(

ولو قال: أطلقك لم يقع (الدر المنتقى، كتاب الطلاق، باب إيقاع الطلاق، قديم-1/389، جديد دار الكتب العلمية بيروت-2/14)

بخلاف كنم، لأنه استقبال فلم يكن تحقيقا بالتشكيك… ولو قال بالعربية: أطلق لا يكون طلاقا (الفتاوى الهندية، قديم-1/384، جديد-1/452)

وفى الدر المختار، بخلاف قوله طلقى نفسك فقالت أنا طالق، أو أنا اطلق نفسى، لم يقع لأنه وعد، (رد المحتار، كتاب الطلاق، باب تفويض الطلاق-4/559)

وَلَا شَيْءَ مِنْ الْكِنَايَةِ يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ بِلَا نِيَّةٍ أَوْ دَلَالَةِ الْحَالِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الْبَدَائِعِ، …………. ‌فَإِنَّ ‌سَرَّحْتُك ‌كِنَايَةٌ لَكِنَّهُ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ غَلَبَ اسْتِعْمَالُهُ فِي الصَّرِيحِ فَإِذَا قَالَ ” رهاكردم ” أَيْ سَرَّحْتُك يَقَعُ بِهِ الرَّجْعِيُّ مَعَ أَنَّ أَصْلَهُ كِنَايَةٌ أَيْضًا، وَمَا ذَاكَ إلَّا لِأَنَّهُ غَلَبَ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ اسْتِعْمَالُهُ فِي الطَّلَاقِ (رد المحتار-زكريا-4\530، كرتاشى-3/299)

 وفى الذخيرة: قال القدورى: ليست المغايرة بين العربية والفارسية من وجه آخر فقال: لو قال فى حال مذاكرة الطلاق بالعربية “خليتك” أنه يكون طلاقا ويتعين بدلالة الحال، ولو قال بالفارسية فى حال مذاكرة الطلاق أو فى حالة الغضب “بهشتم” لم يقع شيء حتى ينوى، وفى الحاوى: ولو قال عنيت بذلك الترك لها بالخروج يدين ديانة، ولا يدين قضاء، وقال محمد، ولو قال “هشتم” فى جواب “طلقنى” أو فى حالة الغضب فهى طالق، وإن لم يوجد ذلك لا يقع الطلاق مالم ينو به (الفتاوى التاتارخانية،كتاب الطلاق،الفصل الخامس في الكنايات،4/464،رقم-6680)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

ঈদের খুতবায় ইমাম ও মুসল্লিদের জন্য তাকবীরে তাশরীক পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন জনাব মুফতি সাহেব আমাদের এলাকায় ঈদের খুতবা হয় এমন। ইমাম সাহেব খুতবার শুরুতে মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস