প্রচ্ছদ / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / ‘তুমি আজাদ’ ‘তুমি মুক্ত’ ‘তুমি স্বাধীন’ ইত্যাদি শব্দ বললে কি স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়?

‘তুমি আজাদ’ ‘তুমি মুক্ত’ ‘তুমি স্বাধীন’ ইত্যাদি শব্দ বললে কি স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়?

প্রশ্ন

প্রশ্নকারীর নাম: মোঃ শফিকুল ইসলাম

ঠিকানা: উত্তর মির্জানগর রায়পুরা নরসিংদী।

জেলা/শহর: নরসিংদী

দেশ: বাংলাদেশ

প্রশ্নের বিষয়: তালাক

বিস্তারিত:
—————-
আসসালামু আলাইকুম।  কেমন আছেন। হযরত আমার একটা প্রশ্ন। একদিন আমি আর আমার স্ত্রী দুজন মিলে রুমে শুয়ে ছিলাম। তখন সে আমার জন্য অন্য আরেক ঘর থেকে খাবার আনার জন্য যাবে। তখন সে যেতে চাচ্ছে আমি হাত তার ধরে রেখেছি। তারপর আমি মজা করে বলেছি: ‘যাও তুমি আজাদ করে দিলাম আমার জন্য খানা নিয়ে আস’।

হযরত আমার অন্য কোন নিয়ত ছিল না। এতে কি তালাক হয়ে যাবে জানালে খুব উপকৃত হবো।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

‘তুমি আজাদ, তুমি মুক্ত, তুমি স্বাধীন’ ইত্যাদি শব্দ তালাক সংক্রান্ত কিনায়া বা ইংগিতবহ শব্দ।

তালাকের নিয়তে বা তালাক সংক্রান্ত আলোচনার সময় বললে এসব শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয়ে যাবে।

তালাকের নিয়ত ছাড়া এমনিতে বললে এর দ্বারা কোন তালাক পতিত হবে না।

তবে কোন এলাকায় যদি ‘তালাক’ শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘তুমি আজাদ, তুমি মুক্ত, তুমি স্বাধীন’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন বাংলাদেশে ‘ডিভোর্স, ছেড়ে দিলাম’ শব্দগুলো তালাকের বিকল্প বা সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে, তাহলে সেটি ‘সরীহ’ তালাক তথা পরিস্কার তালাক শব্দের অর্থেই ধরা হবে।

তখন উক্ত এলাকায় উপরোক্ত শব্দাবলী তথা ‘তুমি আজাদ, তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্ত’ ইত্যাদি ব্যবহার করলে তালাক হয়ে যাবে।

কিন্তু আমাদের দেশের অনেক স্থানেই ‘তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্ত, তুমি আজাদ’ ইত্যাদি শব্দকে তালাকের সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। বরং এটি কোন কাজ বা দায়িত্ব বিষয়ে মুক্ত হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে।

তাই এটি বলার দ্বারাই তালাক হয়ে যাবে বলার সুযোগ নেই। তবে যদি তালাকের নিয়তে বলে থাকে, তাহলেই কেবল তালাক হয়ে যায়।

সুতরাং আপনার প্রশ্নোক্ত কথার দ্বারা কোন তালাক পতিত হয়নি।

 

وَلَا شَيْءَ مِنْ الْكِنَايَةِ يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ بِلَا نِيَّةٍ أَوْ دَلَالَةِ الْحَالِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الْبَدَائِعِ، …………. ‌فَإِنَّ ‌سَرَّحْتُك ‌كِنَايَةٌ لَكِنَّهُ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ غَلَبَ اسْتِعْمَالُهُ فِي الصَّرِيحِ فَإِذَا قَالَ ” رهاكردم ” أَيْ سَرَّحْتُك يَقَعُ بِهِ الرَّجْعِيُّ مَعَ أَنَّ أَصْلَهُ كِنَايَةٌ أَيْضًا، وَمَا ذَاكَ إلَّا لِأَنَّهُ غَلَبَ فِي عُرْفِ الْفُرْسِ اسْتِعْمَالُهُ فِي الطَّلَاقِ (رد المحتار-زكريا-4\530، كرتاشى-3/299)

 وفى الذخيرة: قال القدورى: ليست المغايرة بين العربية والفارسية من وجه آخر فقال: لو قال فى حال مذاكرة الطلاق بالعربية “خليتك” أنه يكون طلاقا ويتعين بدلالة الحال، ولو قال بالفارسية فى حال مذاكرة الطلاق أو فى حالة الغضب “بهشتم” لم يقع شيء حتى ينوى، وفى الحاوى: ولو قال عنيت بذلك الترك لها بالخروج يدين ديانة، ولا يدين قضاء، وقال محمد، ولو قال “هشتم” فى جواب “طلقنى” أو فى حالة الغضب فهى طالق، وإن لم يوجد ذلك لا يقع الطلاق مالم ينو به (الفتاوى التاتارخانية،كتاب الطلاق،الفصل الخامس في الكنايات،4/464،رقم-6680)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

আরও জানুন

পশু জবাইয়ের সকল দো‘আ পড়া ছাড়া কি কুরবানী হয় না?

প্রশ্নঃ মুহতারাম। হুজুর পশু কুরবানীর যাবতীয় দোয়া নিয়ে একটা পোস্ট করলে উপকৃত হতাম। জাযাকাল্লাহু খাইর। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস