প্রচ্ছদ / কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা / জুতা ছাড়া নামায পড়ে আমরা কি ইহুদীদের অনুসরণ করছি?

জুতা ছাড়া নামায পড়ে আমরা কি ইহুদীদের অনুসরণ করছি?

প্রশ্ন

From: আশিক ইকবাল
বিষয়ঃ জুতা পরে নামাজ আদায়

প্রশ্নঃ
আসসালামোয়ালাইকুম,
এই দুটি হাদিসের উপর কেউ কি জুতা পরে নামাজ পড়ার বৈধ  আমল করছেন :
যখন তোমরা কেউ মসজিদে আসবে তখন সে দেখবে, যদি সে তার জুতায় কোনো ময়লা বা নাপাকি দেখতে পায়, তাহলে তা মুছে ফেলবে এবং জুতা পরেই সালাত আদায় করবে।
(আবু দাউদ, আস-সুনান, ১/১৭৫)
তোমরা ইহুদী-খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করবে; কারণ তারা জুতা পায়ে এবং জুতাজাতীয় চামড়ার মোজা পায়ে দিয়ে সালাত আদায় করে না।
( আবু দাউদ, আস-সুনান, ১/১৭৬)
এই দুই হাদিসের উপর আমল করার জন্য কি তারা ইবলিশ হবে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কতিপয় হাদীস শুধুমাত্র অনুবাদ পড়েই সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যায় না। বরং কতিপয় হাদীস ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

যেমন উপরোক্ত হাদীসগুলোও ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

যদি জুতা পবিত্র থাকে। কোন প্রকার ময়লা ও নাপাকী না থাকে, তাহলে এমন জুতা পরিধান করে যদি রুকু ও সেজদা সঠিকভাবে করা যায়, তাহলে এমন জুতা পায়ে নামায পড়া জায়েজ আছে। হাদীসে এ দিকেই ইশারা করা হয়েছে।

আর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন তূর পাহাড়ে গেলেন, তখন আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে জুতা খুলে ফেলতে আদেশ করেছিলেন।  [সূরা ত্বহা-১২]

এ কারণে ইহুদী ও খৃষ্টানরা মনে করতো যে, জুতা পরিধান করে নামায পড়া নিষিদ্ধ। মূলত ইহুদীদের এ ভুল ধারণা রদ করা, এবং তাদের বিরোধীতা হিসেবে হাদীসে এসেছে যে, তোমরা জুতা পরিধান করে নামায পড়, যাতে করে ইহুদী খৃষ্টানদের বিরোধীতা হয়।

অথচ বর্তমান ইহুদী ও খৃষ্টানরা নামাযই পড়ে না সুতরাং এ বিরোধীতার বিষয়টি আর বাকি নেই। তাই জুতা পরিধান করে নামায পড়ার সেই প্রয়োজনীয়তাই বাকি থাকছে না।

তাছাড়া বর্তমানে ইহুদী ও খৃষ্টানরা তাদের চার্চে জুতা সহকারে গমণ করে থাকে। সুতরাং বর্তমান সময়ে ইহুদী ও খৃষ্টানদের বিরোধীতা জুতা পরিধান করে নয়, বরং পরিধান না করে নামায পড়ার মাঝেই বিদ্যমান।

এ কারণে বর্তমানে জুতা পবিত্র হলে তা পরিধান করে নামায পড়া সর্বোচ্চ জায়েজ। সুন্নত বা জরুরী কোন আমল নয়।

তাছাড়া আগের কালের জুতা এবং বর্তমানের জুতা এক নয়। আগের যেসব জুতা ব্যবহৃত হতো, তা দিয়ে ভালোভাবে সেজদা করা যেতো। পা জমিনে লাগতো সেজদার সয়। কিন্তু বর্তমানের যেসব জুতা প্রচলিত এসব জুতায় পা ভিতরে থাকায় সেজদার সময় জমিনে লাগে না, বরং লটকে থাকে, এ কারণে সেজদা পূর্ণ হয় না।

এসব কারণে বর্তমানের বুট জাতীয় জুতা বা যা পড়লে সেজদায় পা জমিনে লাগে না এমন জুতা পরিধান করে নামায পড়লে নামায হবে না।

 

وقد علمت أنَّ النِّعال غير المِدَاس المعروف الآن في بلادنا، والصلاة في المِداس ربما لا تصح؛ لأنَّ القَدَمَ تبقى فيها معلَّقة، ولا تقع على الأرض، فلا تتم السجدة. …….. قلتُ: بل هي مباح، وحقيقة الأمر عندي: أنَّ موسى عليه الصَّلاةُ والسَّلامُ لمَّا ذهبَ إلى الطورِ {نُودِيَ يَا مُوسَى (11) إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ} [طه: 11 – 12] حَمَلَهُ اليهودُ على النهي مطلقًا، فلم يُجوِّزوا الصلاة في النعلين بحال، وغلطوا فيه فأصلَحهُ الشرع، وكشَفَ عن حقيقته مِنْ أَنَّها جائزة فيهما، وما زعموه باطل، ولذا وَرَدَ في بعض الروايات: «خالفوا اليهود» فَعُلِم أنَّ الأمرَ بالصلاةِ فيهما على ما في بعض الروايات، إنما هي لأجل تقرير مُخالفتهم، لا لأنها مطلوبة في نفسها………….وحاصلُ ما قررَهُ الشارع: أنَّ الصلاةَ في النعلين جائزة، سَوَاءٌ كان أمرُ الخلع لِمَا ذَكَرَهُ كعب، أو لِما يرشد إليه ألفاظُ القرآن، وليس كما زَعَمَهُ اليهود من عَدَمِ جَوَازِ الصلاةِ فيهما (فيض البارى لأنور شاه الكشميرى، كتاب الصلاة، باب الصلاة فى النعال-2/34-35، تحت رقم الحديث-386، العرف الشذى، كتاب الصلاة، باب ما جاء فى الصلاة النعال-1/127، تحت رقم الحديث-93، انوار البارى-12/165)

دل هذا الحديث على أن الصلاة في النعال كانت مأمورة لمخالفة اليهود، وأما في زماننا فينبغي أن تكون الصلاة مأمورًا بها حافيًا لمخالفة النصارى، فإنهم يصلون منتعلين لا يخلعونها عن أرجلهم (بذل المجهود، كتاب الصلاة، باب الصلاة فى النعل، مركز الشيخ أبي الحسن الندوي للبحوث والدراسات الإسلامية، الهند-3/599، تحت رقم الحديث-651، دار الكتب العلمية بيروت، لبنان-4/320-321)

فيه جواز الصلاة فى النعال والخفاف، أى إذا تحقق طهارتها، ويتمكن معها من تمام السجود، بأن يسجد على جميع أصابع رجليه، كما قله الخطابى (فتح الملهم بشرح صحيح الامام مسلم، كتاب الصلاة، باب جواز الصلاة فى النعلين، دار احياء التراث العربى، بيروت، لبنان-4/96-97)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

কুরবানীর জন্য মান্নত করা পশুতে কাউকে শরীক নিতে পারবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম হযরত.. একটি প্রশ্ন জানার ছিলো প্রশ্নটি হলো এক ব্যক্তির একটি গরু ছিলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস