প্রচ্ছদ / নামায/সালাত/ইমামত / সেজদা দিতে অক্ষম ব্যক্তির পিছনে সুস্থ্য ব্যক্তিদের ইক্তিদার হুকুম কী?

সেজদা দিতে অক্ষম ব্যক্তির পিছনে সুস্থ্য ব্যক্তিদের ইক্তিদার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: তারেক আজিজ
বিষয়ঃ উপস্থিত আম মুসল্লিদের মধ্যে ইমামতির যোগ্য ব্যক্তি যিনি (হাঃ মাওঃ) মাজুর, তিনি কি ইমামতি করতে পারবেন? অথবা আম ইমামের ইক্তেদা করতে পারবেন?

প্রশ্নঃ
আস-সালামু আলাইকুম।
আশা করি ভালো আছেন।
প্রশ্নঃ কারো যদি একটি “পা” না থাকার কারণে সে ব্যক্তি কৃত্রিম পা (প্লাস্টিক পা) ব্যবহার করে। এবং সেই পা দিয়ে চলাফেরাও করতে পারে। এখন কথা হলো নামাজের বেলায় রুকু সঠিকভাবে আদায় করা যায়, কিন্তু সিজদার বেলায় প্লাস্টিকের পা টি লম্বা করে বসে সিজদা দিতে হয় ( সিজদায় কপাল ও নাক জমিনে লাগে না)। প্রশ্ন হলো ঐ ( হাফেজ, আলেম) ব্যক্তির পিছনে গায়রে আলিম তথা আম মানুষের নামাজ আদায় হবে কী? কেননা আমরা জানি, নির্ধারিত ইমাম না থাকলে, যার যোগ্যতা বেশী সেই নামাজ পড়াবে।

আবার ঐ ব্যক্তি যদি দেখে যে, একজন আম মানুষ নামাজের ইমামতি করতেছেন (ধারণা অনুযায়ী যাদের ক্বেরাত সহীহ নয়, অথবা জেহরী নামাজে তা স্পস্ট হচ্ছে) তাহলে, তার পিছনে ইকতেদা করলে নামাজ সহীহ হবে কী?
ফরজ এবং তারাবীহ উভয় নামাজের হুকুম জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাঝাকাল্লাহ

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

সেজদায় কপাল ও নাক জমিনে না লাগিয়ে সেজদা করা ইশারায় সিজদাকারী। তাই তার পিছনে যারা রুকু ও সেজদা সঠিকভাবে করতে পারেন, তাদের নামায শুদ্ধ হবে না।

যিনি কুরআনে কারীম শুদ্ধ করে পড়তে পারেন, তার জন্য যার কিরাতে এমন ভুল হয়, যার দ্বারা অর্থের বিকৃতি ঘটে এমন ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা শুদ্ধ নয়।

তবে যদি মুক্তাদীও এমনি ভুল পড়ে থাকে, তাহলে এমন ভুল তিলাওয়াতকারীর পিছনে তাদের নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে।

 

وإن كان الإمام يصلى قاعدا بالإيماء لا يقدر على السجود وخلفه قوم قيام يركعون ويسجدون، وقوم قعود يركعون ويسجدون، لا يجوز صلاة القوم عندنا (الفتاوى التاتارخانية-2\254، رقم-2346)

ولا يصلى الذى يركع ويسجد خلف المؤمى (الجوهرة النيرة، كتاب الصلاة، باب الإمامة جديد دار الكتب ديوبند-1\74، امدادية ملتان-1\73)

ويصح  اقتداء القائم بالقاعد الذى يركع ويسجد لا اقتداء الراكع والساجد بالمؤمى (الفتاوى الهندية-1\85)

وقائم بقاعد يركع ويسجد  الخ (رد المحتار-2\336، الفتاوى الهندية-1\85، قاضى خان على هامش الهندية-1\89)

ولا تصح صلاته إذا أمكنه الاقتداء بمن يحسنه أو ترك جهده أو وجد قدر الفرض مما لا لثغ فيه هذا هو الصحيح المختار فى حكم الألثغ الخ (الدر المختار مع رد المحتار، زكريا-2\328، كرتاشى-1\582، هكذا فى الهندية، زكريا قديم-1\86، جديد-1\144)

الأصل فى هذه المسائل أن حال الإمام إن كان مثل حال المقتدى أو فوقه جازت صلاة الكل (الفتاوى الهندية، قديم-1\86، جديد-1\144)

ولا تجوز إمامة الألثغ الذى لا يقدرلى التكل ببعض الحروف إلا لمثله إذا لم يكن فى القوم من يقدر على التكلم بتلك الحروف فأما إذا كان من القوم من يقدر على التكلم بها فسدت صلاته وصلاة الإمام (الفتاوى الهندية، قديم-1\86، جديد-1\144)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মুসলমানের জন্য কাফেরের সাথে বিবাহ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন From: সারওয়ার বিষয়ঃ অমুসলিম বা কাফের এর সাথে সম্পর্ক করা যাবে কি না?? প্রশ্নঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস