প্রচ্ছদ / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / মসজিদের পানির টেপ ছেড়ে অজু করলে কবীরা গোনাহ হয়?

মসজিদের পানির টেপ ছেড়ে অজু করলে কবীরা গোনাহ হয়?

প্রশ্ন

আমাকে একজন মাওলানা সাহেব বলেছেন যে, মসজিদের পানির টেপ ছেড়ে অজু করলে কবীরা গোনাহ হয়? মাওলানা সাহেবের একথাটি কতটুকু সঠিক? দয়া করে দলীলসহ জানাবেন ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

অযু করতে গিয়ে অতিরিক্ত পানি অপচয় করা জায়েজ নেই। এটা মাকরূহ।

আর মসজিদ মাদরাসার পানি এভাবে অপচয় করা অবশ্যই হারাম কাজ।

তাই উক্ত মাওলানা সাহেবের কথা একদম ফেলনা নয়।

তবে যদি কেউ আস্তে আস্তে পানির টেপ ছেড়ে দ্রুত অযুর অঙ্গ প্রতঙ্গগুলো ভালো করে ধৌত করে নেয়, তাহলে উক্ত অযুকারীকে অপচয়কারী বলে কবীরা গোনাহের অধিকারী বলার সুযোগ নেই।

তাই অযু করার ক্ষেত্রে পানির টেপ ছেড়ে রেখে অযু করা বর্জন করা উচিত।

সবচে উত্তম হয়, বদনা বা লোটা ইত্যাদির মাধ্যমে পানি নিয়ে অজু করা। যদি বদনা বা লোটা ইত্যাদি না থাকে, তাহলে এক অঙ্গ ধৌত করার জন্য পানি নিয়ে টেপ বন্ধ করবে। তারপর অপর অঙ্গ ধৌত করার সময় আবার পানির টেপ ছাড়বে। এভাবে অযু সমাপন করবে।

 

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّ بِسَعْدٍ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ ‏”‏ مَا هَذَا السَّرَفُ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ ‏”‏ ‏

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। তিনি বলেনঃ এই অপচয় কেন? সাদ(রাঃ) বলেন, উযূতেও কি অপচয় আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ যদিও তুমি প্রবহমান নদীতে থাকো। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫]

ويكره الإسراف فيه تحريما لو بماء النهر او المملوك به، أما الموقوف على من يتطهر به ومنه ماء المدارس فحرام (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-45)

فى الدر المختار: أما الموموف على من يتطهر به ومنه ماء المدارس فحرام

وفى رد المحتار: لأن الزياد غير مأذون بها، لأنه إنما يوقف ويساق لمن يتوضأ الوضوء الشرعى ولم يقصد إباحتها لغير ذلك، وينبغى تقييده بماء ليس بجار كالذى فى صهريج أو حوض أو نحو إبريق، أما الجارى كماء مدارس دمشق وجوامعها فهو من المباح كماء النهر (رد المحتار، زكريا-2\259، كرتاشى-1\133)

ومن الأدب أن لايسرف ولا يقتر، هكذا شمس الأئمة الحلوانى، هذا سنة (الفتاوى التاتارخانية-1\227، رقم-116)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

“জিকিরের দ্বারা জিহবা তরোতাজা থাকলে হাসতে হাসতে জান্নাত” এটা কি হাদীস?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম প্রিয় মুফতী সাহেব, মহান  আল্লাহর জন্যই  আপনাকে  অনেক  ভালবাসি। আপনার লেখা পড়ি ও প্রচার করি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, হাসতে হাসতে জান্নাত যাওয়ার হাদিস আমি এতদিন মানুষকে বলতে না করেছি আপনার লেখা পড়ে, এখন একটা দলিল পেয়েছি। দয়া করে জানাবেন দলিল ঠিক আছে কিনা, তাহলে এই হাদিস আমিও প্রচার করব ইনশাআল্লাহ। উত্তর وعليكم السلام ورحمة الله …

One comment

  1. সুন্দর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস