প্রচ্ছদ / জায়েজ নাজায়েজ / প্রাইভেট মাদরাসায় বছর শেষে বেঁচে যাওয়া পুরো টাকা কি পরিচালক নিয়ে নিতে পারবে?

প্রাইভেট মাদরাসায় বছর শেষে বেঁচে যাওয়া পুরো টাকা কি পরিচালক নিয়ে নিতে পারবে?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

আমরা কয়েকজন মিলে একটি প্রাইভেট মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছি। যা ভাড়া বাসায় চলে। প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে আমরা বেশ কিছু টাকা খরচ করেছি। উক্ত মাদরাসায় ছাত্রীদের কাছ থেকে তাদের খাবার ও আবাসন ফী গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অনেক দারিদ্র ছাত্রীরা তা বহন করতে সক্ষম নয়। তাই তাদের জন্য কিছুটা ছাড় দেয়া হয়ে থাকে।

মাদরাসায় অনেকে দান সদকা করে থাকেন। মোটকথা ছাত্রীদের মাসিক ফী এবং দাতাদের অনুদানের উপর মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে।

বছর শেষে যদি কোন ঘাটতি থাকে, তাহলে আমরা প্রতিষ্ঠাতারা মিলে উক্ত টাকা নিজের পক্ষ থেকে ভর্তুকি প্রদান করে থাকি।

এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, যদি বছর শেষে খরচ পরবর্তী অতিরিক্ত টাকা উদ্বৃত্ব থাকে, তাহলে উক্ত টাকা আমরা প্রতিষ্ঠাতা ভাগ করে নিতে পারবো কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উপরোক্ত সূরতে মাদরাসার টাকা পয়সা কম হওয়ার অবস্থায় পরিচালকগণ তাদের নিজের পক্ষ থেকে ভর্তূকি দেয়াতো জায়েজ আছে। কিন্তু উদ্বৃত্ব থাকা পুরো টাকা পরিচালকদের গ্রহণ করা যথার্থ নয়।

কেননা, প্রশ্নে উল্লেখিত বিবরণ অনুপাতে মাদরাসা ছাত্রীদের ফি এবং দাতাদের অনুদানে চলে।

ছাত্রীদের ফী পরিচালকদের গ্রহণ করাতো জায়েজ আছে। কিন্তু ছাত্রীদের জন্য দান করা অর্থ পরিচালকদের নিজেদের জন্য গ্রহণ করা জায়েজ নয়।

এ কারণে ছাত্রীদের ফী এবং দাতাদের অনুদানের হিসাব সম্পূর্ণরূপে আলাদা রাখতে হবে।

শুধুমাত্র ফি থেকে বেঁচে যাওয়া টাকা পরিচালকগণ গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু ছাত্রীদের জন্য দান করা অর্থ পরিচালকগণ গ্রহণ করতে পারবেন না।

স্মর্তব্য যে, গরীব ছাত্রীদের জন্য দান করা অর্থ ছাত্রীদের অনুমোদনক্রমে তাদের নির্ধারিত ফি হিসেবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে।


وهنا الوکیل إنما یستفید التصرف من الموٴکل وقد أمره بالدفع إلی فلان فلا یملک الدفع إلی غیره کما لو أوصی لزید بکذا لیس للوصي الدفع إلی غیره، (رد المحتار، كتاب الزكاة، زكريا-3/189

وفيها – أي فی الیتیمة – سئل عمر الحافظ عن رجل دفع إلی الآخر مالاً، فقال له: ”هذا زکاة مالي فادفعها إلی فلان“ ، فدفعها الوکیل إلی آخر هل یضمن؟ فقال: نعم، له التعیین، (الفتاوى التاتارخانية-3/229

 السادس والعشرون: جعلت حجرتي لدهن سراج المسجد ولم یزد عليه صارت الحجرة وقفاً علی المسجد کما قال، ولیس للمتولي أن یصرف إلی غیر الدهن کذا فی المحیط، (البحر الرائق، كتاب الوقف، بيان ألفاظ الوقف-5/319

رجل دفع إلى رجل عشرة دراهم وأمره أن يتصدق بها فأنفقها الوكيل ثم تصدق عن الآمر بعشرة دراهم من ماله لا يجوز ويكون ضامنا للعشر ولو كانت الدراهم قائمة فأمسكها الوكيل وتصدق من عنده بعشرة جاز استحسانا وتكون العشرة له بعشرته (الفتاوى الهندية-3/644)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

বেতন বৈধ হবার জন্য ক্লাস না থাকলেও কি কলেজ শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন আসতে হবে?

প্রশ্ন আমি বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। আমি অন্যান্য বিসিএস ক্যাডারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস