প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / আল্লাহ তাআলার প্রথম আসমানে নাজিল হবার অর্থ কী?

আল্লাহ তাআলার প্রথম আসমানে নাজিল হবার অর্থ কী?

প্রশ্ন

From: Md Foysal Khan
বিষয়ঃ তাহাজ্জুদের সালাত

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম৷
তাহাজ্জুদের সালাতের সময় গভীর রাতে মহান আল্লাহ্ যখন প্রথম আসমানে আসেন আর ঈমানদারগণকে তাদের গুণাহ ক্ষমা করার কথা বলতে থাকেন তখন যে অংশে দিন সে অংশের কি হয়৷ পৃথিবী তো একই আসমানের নিচে৷ পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ত এখনও তাহাজ্জুদের সময় হতে পারে৷

এখন তারা প্রার্থনা করলে তাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কিন্তু আল্লাহ তো ১ম আসমানেই থাকবেন৷ তাহলে আমাদের জন্য থাকবেন না৷ আল্লাহ্ কুরআনে বলেছেন যে তিনি আরশে আছেন৷ ১ম আসমানে নামলে তো সর্বক্ষনই ওখানেই থাকার কথা৷ আসলে এই বিষয়টা আমি জানিনা৷ তাড়াতাড়ি উত্তর দিলে ভাল হত৷

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আরবী “নূজুল” শব্দের অর্থ ‘নেমে আসা’ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহর শানে এমন অর্থ করা মানানসই নয়। আল্লাহ তাআলা স্থান কাল পাত্র থেকে পবিত্র। সকল কিছুই তার অধীনে। তার কোথাও যেতে হয় না। তিনিই সকল কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছেন। তিনি মুহীত। তাই তার কোথাও যেতে হয় না। কোথাও নামতে হয় না।

স্রষ্টার ক্ষেত্রে ‘নুজুল” শব্দের হাকীকী অর্থ একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এ বিষয় নিয়ে আমাদের অতিরিক্ত ঘাটাঘাটি করা নিষেধ।

এখন প্রশ্ন হলো হাদীসে বর্ণিত আরবী ‘নুজূল’ শব্দের অর্থ কী?

এখানে নেমে আসাকে এমন অর্থ করা যেতে পারে:

১ আল্লাহর হুকুম নেমে আসে।

২ রহমাতের ফেরেশতাগণ নেমে আসে।

৩ আল্লাহর রহমাত নেমে আসে।

৪ আল্লাহ তাআলার তাজাল্লী নেমে আসে।

সুতরাং তাদের প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতা আর বাকি থাকে না।

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [٤٢:١١]

কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। [সূরা শোরা-১১]

 

وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ مُّحِيطًا [٤:١٢٦]

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই এবং আল্লাহ তাআলা যাবতীয় জিনিসকে (নিজ ক্ষমতায়) পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।  [সূরা নিসা-১২৬]

 

فَإِن أَكثر مَا عِنْد المتأول أَن هَذِه اللَّفْظَة تحْتَمل هَذَا الْمَعْنى فِي اللُّغَة وَلَيْسَ يلْزم من مُجَرّد إحتمال اللَّفْظ للمعنى أَن يكون مرَادا بِهِ فَإِنَّهُ كَمَا يحْتَمل هَذَا الْمَعْنى يحْتَمل غَيره وَقد يحْتَمل مَعَاني أخر لَا يعلمهَا (تحريم النظر فى كتب الكلام لابى محمد موفق الدين بن احمد محمد بن قدامة المقدسى-51)

وانما مذهب السلف عدم الخوض فى الصفات مع التنزيه العام وهم أبعد الناس عن حمل ما فى كتاب الله وما صح فى السنة على ما يوهم التشبيه، فاذا تكلموا انما يتكلمون بما يوافق التنزيه، وهم الذين يقولن فيما صح لفظه: أمروها كما جاء بدون تفسيره بل تفسير قراءته بلا كيف ولا معنى” كما تواتر ذلك عن السلف ولا سيما عن أحمد (حاشية السيف الصقيل فى الرد على ابن زفيل-136-137، علم الكلام-542، علامة زاهد الكوثرى)

وليس نزوله كنزول أجسام بنى آدم من السطح إلى الأرض بحيث يبقى السقف فوقهم، بل الله منزه عن ذلك (شرح حديث النزول لابن تيمية)

أما بأن المعنى ينزل أمره، أو الملك بأمره (فتح الملهم-6\78)

وقال القاضى:  المراد بنزوله دنو رحمته، ومزيد لطفه على العباد، وإجابة دعوتهم، وقبول معذرتهم، كما هو ديدن الملوك الكرماء والسادة الرحماء إذا نزلوا بقرب قوم ملهوفين محتاجين مستضعفين، وقد روى “يهبط من السماء العليا إلى السماء الدنيا” أى ينتقل من مقتضى صفات الجلال التى تقتضى: الأنفة من الأرذال، وعدم المبالاة، وقهر ا لعداة، والانتقام من العصاة، إلى مقتضى صفات الجمال  المقتضية للرأفة والرحمة، وقبول المعذرة، والتلطف بالمحتاج، واستقراض الحوائج، والمساهلة والتخفيف فى الأواممر والنواهى، والإغضاء عما يبدو من المعاصى، ولهذا قيل: هذا تجل صورى لا نزول حقيقى فارتفع الاشكال والله أعلم بالحال (فتح الملهم-6\80)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস