প্রচ্ছদ / জায়েজ নাজায়েজ / ওয়াজ করতে যেতে demand করে টাকা নেয়ার হুকুম কী?

ওয়াজ করতে যেতে demand করে টাকা নেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: মাহের ইসলাম
বিষয়ঃ ওয়াজ করে Demand করে টাকা নেয়া

প্রশ্নঃ
আমার এক বন্ধু জামাতে ইসলামীর সমর্থক।  তার কথা হল যে, আমাদের দেওবন্দী হুজুররা কোরআন বিক্রি করে আজ-কাল উপার্জন করেন। যেমন কিছু হুজুর আছেন যারা ওয়াজে আসার দাওয়াত গ্রহণের সময় টাকা demand করেন অনেক বেশি, এমন কি যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া লাগার কথা তার চেয়েও বেশি demand করেন। এই বিষয়ে আমি তাকে কি জবাব দিতে পারি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

উক্ত জামাত সমর্থক ভাই কেবল বিদ্বেষের কারণেই এমন কথা বলেছেন। মূলত মাসআলাগতভাবে এতে কোন সমস্যা নেই।

আর এটা কখনোই ওয়াজ বা কুরআন ও হাদীসের বিনিময় নয়, বরং সময় দেয়ার পারিশ্রমিক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি শুধুমাত্র বয়ান করার জন্যই নিজস্ব কাজকর্ম ফেলে দাওয়াতকৃত স্থানে গিয়ে সময় ব্যয় করেছে, সেই সময় ব্যয় করার পারিশ্রমিক হিসেবে সময়দাতা ব্যক্তি অর্থ চাইতেই পারে। কারণ, তার সময়ের মূল্য আছে।

জামাতে ইসলামীর বর্তমানে এমন একজন প্রসিদ্ধ বক্তার নাম বলা যাবে না, যারা চুক্তি করে টাকা নেয় না। কিন্তু দোষ শুধু দেওবন্দী আলেমদের উপর চাপানো অন্যায় কথা।

বাকি এভাবে চুক্তি করে টাকা নেয়াটা আকাবিরে উলামায়ে কেরামের অপছন্দনীয়। এমন না করা উচিত। কিন্তু কেউ করলে সে হারাম করছে বলার সুযোগ নেই।


قال فى الدر: ( و ) لا لأجل الطاعات مثل ( الأذان والحج والإمامة وتعليم القرآن والفقه ) ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن والفقه والإمامة والأذان .

و قال ابن عابدين : ( قوله ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن إلخ ) قال في الهداية : وبعض مشايخنا – رحمهم الله تعالى – استحسنوا الاستئجار على تعليم القرآن اليوم لظهور التواني في الأمور الدينية ، ففي الامتناع تضييع حفظ القرآن وعليه الفتوى ا هـ ، وقد اقتصر على استثناء تعليم القرآن أيضا في متن الكنز ومتن مواهب الرحمن وكثير من الكتب ، وزاد في مختصر الوقاية ومتن الإصلاح تعليم الفقه ، وزاد في متن المجمع الإمامة ، ومثله في متن الملتقى ودرر البحار .

وزاد بعضهم الأذان والإقامة والوعظ ، وذكر المصنف معظمها ، ولكن الذي في أكثر الكتب الاقتصار على ما في الهداية ، فهذا مجموع ما أفتى به المتأخرون من مشايخنا وهم البلخيون على خلاف في بعضه مخالفين ما ذهب إليه الإمام وصاحباه ، وقد اتفقت كلمتهم جميعا في الشروح والفتاوى على التعليل بالضرورة وهي خشية ضياع القرآن كما في الهداية ،

وقد نقلت لك ما في مشاهير متون المذهب الموضوعة للفتوى فلا حاجة إلى نقل ما في الشروح والفتاوى ، وقد اتفقت كلمتهم جميعا على التصريح بأصل المذهب من عدم الجواز ، ثم استثنوا بعده ما علمته ، فهذا دليل قاطع وبرهان ساطع على أن المفتى به ليس هو جواز الاستئجار على كل طاعة بل على ما ذكروه فقط مما فيه ضرورة ظاهرة تبيح الخروج عن أصل المذهب من طرو المنع ، فإن مفاهيم الكتب حجة ولو مفهوم لقب على ما صرح به الأصوليون بل هو منطوق ، فإن الاستثناء من أدوات العموم كما صرحوا به أيضا . (الدر المختار مع رد المحتار : 9/76 كتاب الاجارة )

এ প্রশ্নোরত্তরটিও পড়তে পারেন: ওয়াজে চুক্তি করে টাকা নেয়া বৈধ কি?

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

গাইরুল্লাহকে সেজদা করা ও ফাতিমা রাঃ এর মূর্তি বানিয়ে সেজদা দেয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন আস্সালামুআলাইকুম হযরত। কেমন আছেন? দ্বীনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বদাই আপনার পরিচালিত ওয়েবসাইট হতে সাহায্য নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস